
‘ফল্গুধারা’ বলে বাংলায় ভাব প্রকাশের একটি শব্দ আছে। খানিকটা অপ্রচলিত হলেও কখনো কখনো শব্দটির দেখা মেলে। এটি আমার বেশ প্রিয় একটি শব্দ। এর অর্থ গহিনে প্রবাহিত ধারা; যে ধারা প্রবহমান, কিন্তু অদৃশ্য বা অপ্রকাশ্য। প্রেম কিংবা দুঃখ অনেকের জীবনেই ফল্গুধারার মতো প্রবাহিত। ফল্গু একটি নদী, পৌরাণিক নদী। ভারতের বিহার রাজ্যের গয়ায় এই নদী বিহার করে বলে ধারণা করা হয়। পবিত্রতার জন্য এর নামডাক আছে। দেবতাদের শাপেতাপে সে মাটির ভেতর প্রবেশ করে অন্তঃসলিলা হয়ে গেছে। ফলে তার প্রবাহ আর দৃশ্যমান নয়।
আমাদের দেশে নারীদের অবস্থাও কতকটা এই ফল্গু নদীর মতো। তারা আছে। তাদের প্রবাহ আছে, নিরবধি। কিন্তু অদৃশ্য। আবার খানিক দৃশ্যমানও বটে কখনো কখনো বিদ্যুৎ চমকের মতো। কিংবা ফল্গু যেমন অভিশপ্ত হওয়ার আগে দৃশ্যমান ছিল। পুরুষশাসিত সমাজে নারীদের এই টানাপোড়েন আজকের নয়। আর নয় বলেই লিপিবদ্ধ ইতিহাসে প্রাচীনতম কবি হয়েও এনহেদুয়ান্নার নামে এখন কোনো কথা হয় না কেন তেমন? কারণ, এনহেদুয়ান্নার সমকাল হয়তো তাঁর পক্ষেই ছিল। কিন্তু গত প্রায় ৪ হাজার ৩০০ বছরের বেশি সময়ে সে পরিবেশ তাঁর উত্তরসূরি নারীদের হাতের বাইরে চলে গেছে। আর গেছে বলেই পরবর্তী কালের গার্গী, বাক অম্ভৃণি, মরিয়ম, কুক্কুরীপা, ইউ সিয়েনচি, ইজুমি শিকিবু, রামি, বাউনিয়া, মীরা বাই প্রমুখ নারীদের কথা আমরা প্রায় ভুলে গেছি। অথচ খেয়াল করলে দেখবেন, ব্রহ্ম ও আত্মাবিষয়ক দার্শনিক আলাপে যজ্ঞবল্কের চোখে চোখ রেখে প্রায় কুপোকাত করে দেওয়া গার্গী, দেবী বন্দনায় যাঁর সূক্ত আওড়ানো হয়—সেই গার্গীর আলাপ প্রায় কোথাও নেই। কারণ একটাই, যজ্ঞবল্ক পুরুষ ঋষি বলে গার্গীর চেয়ে প্রভাবশালী। আবার সচেতনভাবে খেয়াল করলে দেখবেন, সেই সময়ের সমাজে পুরুষ ও প্রতাপশালী ঋষি যজ্ঞবল্ক গার্গীর লিঙ্গগত পরিচয় স্বীকার করে নিয়েই তাঁর সঙ্গে বাহাসে লিপ্ত হচ্ছেন। কিন্তু এখন আর তাঁর উত্তরসূরি পুরুষেরা নারীদের লিঙ্গগত পরিচয় ছাপিয়ে বাহাস করার সে সুযোগই দিচ্ছেন না।
এখানেই হাসিবা আলী বর্ণার ‘গহিনের স্রোতধারা’ নামের বইখানির গুরুত্ব। বর্ণা আমাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, তাঁরাও আছেন কিন্তু!
কবি কিংবা সাংবাদিক হিসেবে চিনতাম হাসিবা আলী বর্ণাকে। কিন্তু সেই সূত্র ধরেও নয়। একেবারে ভিন্ন সূত্র ধরে তাঁর সঙ্গে আমাদের আড্ডার বয়স খুব কম নয়। একদিন তাঁর ওয়ালে দেখলাম ‘গহিনের স্রোতধারা’ নামে এক বইয়ের প্রচ্ছদ। মলাটে লেখা ‘এশিয়ার নারীসাধকদের জীবন ও কবিতা’। এ রকম বিষয়ের বইয়ে স্বাভাবিক একটা আগ্রহ আছে আমার। সেই আগ্রহ থেকেই সংগ্রহ করা হলো। পড়াও হলো বেশ দীর্ঘ সময় নিয়ে। এ বই নিয়ে আসলে আমার যা বলার ছিল, তা লেখক তাঁর মুখবন্ধে এবং সৈয়দ তারিক তাঁর ভূমিকায় বলে দিয়েছেন। তাহলে আমি কী বলি বা লিখি?
আমার বলার কথা এই, বর্ণার ‘গহিনের স্রোতধারা’ একখানা হ্যান্ডবুক। সব সময় হাতের কাছে রাখা, চট করে দেখে নেওয়ার মতো বই। নারী বিষয়ে আমাদের দেশে স্বতঃস্ফূর্তভাবে লেখা বইয়ের সংখ্যা কম। আমাদের দেশে ‘নারীবিষয়ক’ বা নারীদের নিয়ে বই লেখার অনেক উদ্দেশ্য-বিধেয় আছে বা থাকে। কিন্তু বর্ণা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁর পূর্বজ ৩৬ জন নারীকে নিয়ে লিখেছেন। সেসব নারী ঐতিহাসিক। কিন্তু তাঁদের সম্পর্কে আমরা যারা সাধারণ পাঠক আছি, তারা বেশ কম জানি। আর কম জানি বলেই তাঁদের স্বীকার করে নেওয়া বা তাঁদের চর্চার মধ্যে রাখা আমাদের পক্ষে কঠিন। বর্ণা সেই সব ঐতিহাসিক নারীদের সম্পর্কে আমাদের মতো সাধারণ পাঠকের জানার পথটা খুলে দিয়েছেন, সুগম করেছেন। যারা এ দেশে জ্ঞানকাঠামোর সঙ্গে নারীদের ঐতিহাসিক যোগাযোগের ধারাবাহিক আলোচনা জানতে আগ্রহী, ‘গহিনের স্রোতধারা’ তাদের জন্য হতে পারে প্রথম পাঠ।

আগেই বলেছি, ৩৬ জন নারীর একেবারে সংক্ষিপ্ত জীবনী আছে এতে। অবশ্য জীবনী না বলে একে ‘কিছু তথ্য’ বলা চলে। সেই নারীরা হলেন এনহেদুয়ান্না, গার্গী বাচক্লবী, বাক অস্তৃণি, সুমানগালমাতা, পটাচারা, সকুলা, মরিয়ম, ফাতেমা, আন্ডাল, রাবেয়া বসরি, কুক্কুরীপা, লক্ষ্মীঙ্করা, ইয়েশে সোগ্যাল, ইউ জুয়ানজি/ইউ সিয়েনচি, উ কাইলান/উ চাইলান, ইজুমি শিকিবু, কাও ওয়েনি/খাও ওয়েনি, লি নক কিউ, মাহসাতি গানজাভি, সান বুয়ার, আক্কা মহাদেবী, ঝাও জুয়ানজিং/চোউ শেনচিং, মুক্তা বাই, জনা বাই, লাল্লা/লাল্লা যোগেশ্বরী, রামি/রামমণি/রজকিনি, জুসামি চিকাকো, আয়েশা আল বাউনিয়া, কানহোপাত্র, মীরা বাই, জয়নেপ হাতুন, চন্দ্রাবতী, জাহান আরা বেগম, রূপা ভবানী, ফুকুদা চিয়ো-নি, সহজো বাই।
আমার একটি প্রস্তাব আছে হাসিবা আলী বর্ণার কাছে। তিনি এই বইয়ের কলেবর আরও বাড়াতে পারেন কি না? অন্তত এই ৩৬ জন বা আরও কিছু নাম যোগ করে, তাঁদের সম্পর্কে আরও বিস্তৃত তথ্য যোগ করা যায় কি না; কিংবা সংখ্যাটা কমিয়ে হলেও বিস্তৃত তথ্য যোগ করা যায় কি না।

নীল সাগরের বুক। সবুজ সুরম্য, আহা কী সুন্দর ছোট্ট একটি দ্বীপ! প্রকৃতির সেকী অনুপম আয়োজন। এর ভিতরে এ কোন স্বর্গ গড়ে তুলেছে মানুষ! না কি দেবতা! না কি দানব!
৪ দিন আগে
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে সাংবাদিক মুহাম্মাদ শফিউল্লাহর বই ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: মরদেহ গণনার কয়েকটি দিন’ প্রকাশ পাচ্ছে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এ। বইটি প্রকাশ করছে দেশের প্রথমসারির প্রকাশনা সংস্থা ঐতিহ্য। প্রচ্ছদ এঁকেছেন ধ্রুব এষ।
৫ দিন আগে
ছায়ানটের নিজস্ব মিলনায়তনে আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় সম্মেলক গান ‘আমাদের চেতনার সৈকতে’ দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। একে একে পরিবেশিত হয় গান ও কবিতা। এর আগে একুশের চেতনা নিয়ে বক্তব্য দেন ছায়ানট সভাপতি ডা. সারওয়ার আলী।
১৫ দিন আগে
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে স্বরচিত কবিতাপাঠের আসর ও অমর একুশে বক্তৃতার আয়োজন করেছে বাংলা একাডেমি। একাডেমির নজরুল মঞ্চে স্বরচিত কবিতাপাঠের এই আসর ও অমর একুশে বক্তৃতার আয়োজন করা হয়।
১৫ দিন আগে