Ajker Patrika

সময়ের প্রয়োজনে: দেয়ালে আঁকা জুলাই

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
সময়ের প্রয়োজনে: দেয়ালে আঁকা জুলাই
জুলাই গ্রাফিতি। ছবি: সংগৃহীত

২০২৪ সালের জুলাই বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে এক গভীর পরিবর্তনের মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে এবং থাকবে। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ধীরে ধীরে একটা বৃহত্তর গণআন্দোলনে রূপ নেয়। জুলাইয়ের দিনগুলোতে রাজপথ যেমন প্রতিবাদের প্রধান মঞ্চ হয়ে উঠেছিল, তেমনি শহরের দেয়ালগুলোও হয়ে উঠেছিল মানুষের ক্ষোভ, স্বপ্ন, শোক, প্রতিরোধ ও ভবিষ্যতের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশের এক উন্মুক্ত ক্যানভাস। যে দেয়াল এতদিন কেবল স্থাপত্যের অংশ ছিল, সেই দেয়ালই হঠাৎ কথা বলতে শুরু করে ওঠে। রং, রেখা, শব্দ, প্রতীক, ব্যঙ্গচিত্র ও স্লোগানের মাধ্যমে দেয়ালগুলো একটা সময়ের রাজনৈতিক অভিঘাত এবং মানুষের সম্মিলিত চেতনাকে ধারণ করেছিল।

মূলত কিশোর-তরুণ শিক্ষার্থীরা এই দেয়ালচিত্র ও দেয়াললিখনগুলোর কারিগর ছিল। সেসময় পথ চলতে চলতে আমি অসংখ্য ছেলেমেয়েকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থেকে দেয়াল অঙ্কন করতে দেখেছি। এবং এদের কেউই প্রশিক্ষিত আর্টিস্ট বা কবি, লেখক এগুলো ছিল না। তবু তাদের চিন্তার গভীরতা, অনুভূতির গভীরতা, শব্দ ও বাক্যের পরিমিতিবোধ, স্যাটায়ার করার সূক্ষ্মতা, ছবি আঁকার দক্ষতা- এ যেন অনেককালের অভিজ্ঞ কোনো চিত্রকর বা কবির স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশ। হয়তোবা পরিস্থিতি মানুষকে রাতারাতি বদলে দেয়। তার জ্ঞানের সীমা, বোঝার সীমা, কথা বলার সীমাকে সীমালঙ্ঘনে উদ্বুদ্ধ করে। কিন্তু কেন করে? জহির রায়হানের মতো বলতে হয়, সময়ের প্রয়োজনে!

জুলাই গ্রাফিতি। ছবি: সংগৃহীত
জুলাই গ্রাফিতি। ছবি: সংগৃহীত

আন্দোলনের সময় বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দেয়ালে , পার্ক, বাসাবাড়ি, অফিসের দেয়ালে, রেলস্টেশন, বাসস্টপেজ বা শপিংমলের দেয়ালে- যেখানেই একটু দেয়াল, সেখানেই দেয়ালচিত্র, সেখানেই কিছু মেসেজ, প্রতিবাদ আর এক হওয়ার ডাক। যে অসংখ্য দেয়ালচিত্র তখন করা হয়েছিল, সেগুলোর একটা গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ছিল তাদের তাৎক্ষণিকতা। এগুলো কোনো গ্যালারির জন্য তৈরি করা হয়নি, কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদনের অপেক্ষা করেনি, কিংবা দীর্ঘ পরিকল্পিত কোনো প্রদর্শনীরও অংশ ছিল না। ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেই শিল্পীরা, শিক্ষার্থীরা এবং সাধারণ মানুষ দেয়ালকে ব্যবহার করেছেন নিজেদের বক্তব্য জানানোর টুল হিসাবে। ফলে এই শিল্পকর্মগুলো হয়ে উঠেছিল জীবন্ত, পরিবর্তনশীল এবং চলমান একটা রাজনৈতিক ভাষা।

একটা দেয়ালে লেখা কোনো বাক্য পরদিন আরও বড় হয়ে উঠেছে; কোনো প্রতিকৃতি নতুন অর্থ পেয়েছে; কোনো স্লোগানের পাশে যুক্ত হয়েছে নতুন চিত্র বা প্রতীক। দেয়াল যেন প্রতিদিনের আন্দোলনের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকেও পুনর্লিখিত করেছে।

এই দেয়ালচিত্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী বিষয় ছিল “প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের ভাষা”। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা, সহিংসতা, বৈষম্য, অন্যায় এবং ভয়কে অতিক্রম করে কথা বলার জন্য দেয়াল হয়ে উঠেছিল একটি শক্তিশালী বিকল্প মাধ্যম। যখন মানুষের চলাচল, সমাবেশ কিংবা বক্তব্য নানা ধরনের বাধার মুখোমুখি হচ্ছিল, তখন একটা দেয়ালে কয়েকটা শব্দ লিখে দেওয়া কিংবা একটা প্রতীক এঁকে দেওয়া হয়ে উঠেছিল রাজনৈতিক অবস্থান প্রকাশের শক্তিশালী উপায়। দেয়ালের ভাষা তাই তখন অলংকারমূলক হয়ে বসে থাকেনি; বরং তা হয়ে উঠেছিল রাজনৈতিক বক্তব্যের দৃশ্যমান বহিঃপ্রকাশ।

এর আগে আমরা সুবোধকে দেখেছি। সেখানেও শব্দ ও ছবির কম্বিনেশন ছিল। তারও আগে দেয়াল লিখনে ছিল, “কষ্টে আছি- আইজুদ্দিন”। নতুন প্রজন্ম যখন পথে নেমেছে তখন দেয়ালকেই বেছে নিয়েছে কথা বলার, একত্রিত হওয়ার ডাক দেয়ার মাধ্যম হিসাবে।

বিশেষভাবে লক্ষ্য করার মতো বিষয় হলো, এসব দেয়ালচিত্রে শব্দ ও ছবির সম্পর্ক। প্রচলিত সাইনবোর্ড বা বিজ্ঞাপনের ভাষার বিপরীতে আন্দোলনের দেয়ালচিত্রে শব্দ নিজেই যেন একটা চিত্রে পরিণত হয়েছিল। স্লোগান, প্রশ্ন, প্রতিবাদী বাক্য, ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য কিংবা একটা মাত্র শক্তিশালী শব্দ- সবকিছুই দেয়ালের দৃশ্যমানতার অংশ হয়ে উঠেছিল। আবার অনেক ক্ষেত্রে একটা মুখ, একটা চোখ, মুষ্টিবদ্ধ হাত, রক্তের প্রতীক, পাখি, ফুল, ভাঙা শিকল বা অন্যান্য প্রতীক বহু কথার পরিবর্তে একটা ছবিতে বক্তব্য প্রকাশ করেছে। অর্থাৎ দেয়ালচিত্র এখানে শুধু ছবি না, বরং ভাষা, প্রতীক ও রাজনৈতিক সচেতনতার সম্মিলিত কাঠামো হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।

জুলাই আন্দোলনে দেয়ালচিত্রের আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল এর গণমানুষের সাথে সম্পৃক্ততা। প্রাতিষ্ঠানিক শিল্পচর্চায় শিল্পী ও দর্শকের মধ্যে যে দূরত্ব প্রায়ই তৈরি হয়, আন্দোলনের দেয়াল সেই দূরত্ব ভেঙে দিয়েছিল। এখানে দর্শক শুধু দর্শক ছিল না; সে লেখক, অংশগ্রহণকারী এবং কখনও কখনও সহশিল্পীও ছিল। একজন একটা বাক্য লিখেছে, আরেকজন তার পাশে ছবি এঁকেছে, অন্য কেউ সেই ছবির ওপর নতুন বক্তব্য যুক্ত করেছে। ফলে একটা দেয়ালচিত্র কখনও একক শিল্পীর কাজ হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকেনি; তা হয়ে উঠেছে সম্মিলিত সৃষ্টির ফল। একটা জোটবদ্ধ টিমওয়ার্ক। এই সম্মিলিত নির্মাণই দেয়ালচিত্রকে আন্দোলনের সামাজিক চরিত্রের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত করেছে।

দেয়ালচিত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল এর দৃশ্যমান হওয়া ও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতা। একটা প্রতিবাদী দেয়ালচিত্র নির্দিষ্ট একটা স্থানে তৈরি হলেও তার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে মুহূর্তের মধ্যে আলোড়িত করেছিল সেই সময়ের মানুষদেরকে। ফলে স্থানীয় একটা দেয়াল বৈশ্বিক ডিজিটাল পরিসরের অংশ হয়ে উঠতে পেরেছিল। রাজপথের অভিজ্ঞতা, দেয়ালের ছবি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম- এই তিনটা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটা নতুন ধরনের রাজনৈতিক দৃশ্যভাষা তৈরি করেছিল। দেয়ালে আঁকা একটা প্রতীক কিংবা লেখা একটা বাক্য অনলাইনে পুনরুৎপাদিত হয়ে আরও বৃহত্তর মানুষের কাছে পৌঁছেছে। ফলে দেয়ালচিত্র শুধু ঘটনাস্থলের শিল্প ছিল না; তা আন্দোলনের ভিজ্যুয়াল আর্কাইভ হিসেবেও কাজ করেছে।

এই দৃশ্যভাষা আন্দোলনকে বেগবান করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। কোনো রাজনৈতিক আন্দোলন শুধু যুক্তি ও দাবির মাধ্যমে বিস্তার লাভ করে না; তার জন্য প্রয়োজন আবেগ, একাত্মতা এবং সম্মিলিত পরিকল্পনাও। দেয়ালচিত্র সেই আবেগকে ধারণ করেছে। একজন মানুষ যখন নিজের অনুভূতির সঙ্গে দেয়ালে আঁকা কোনো প্রতীক বা বাক্যের মিল খুঁজে পেয়েছে, তখন ব্যক্তিগত অনুভূতি একটা বৃহত্তর সমষ্টিগত অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। ফলে ভয়, ক্ষোভ, বেদনা কিংবা আশার মতো ব্যক্তিগত অনুভূতিগুলো একটা যৌথ রাজনৈতিক চেতনায় রূপান্তরিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে।

দেয়ালচিত্রের এই ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ শিল্প এখানে প্রতিবাদের পরে আসেনি; প্রতিবাদের মধ্যেই জন্ম নিয়েছে। আন্দোলনের সঙ্গে সঙ্গে তৈরি হওয়া এই শিল্পকর্মগুলো ঘটনাকে শুধু নথিবদ্ধ করেনি, বরং ঘটনার অর্থ বিনির্মাণেও অংশ নিয়েছে। কোন মৃত্যু কিভাবে স্মরণ করা হবে, কোন অন্যায়কে কিভাবে দেখা হবে, কোন স্বপ্নটাকে সামনে রাখা হবেÑএসব প্রশ্নের উত্তর নির্মাণে দৃশ্যশিল্প সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। তাই দেয়ালচিত্রকে কেবল আন্দোলনের প্রতিচ্ছবি হিসেবে দেখলে এর রাজনৈতিক শক্তির একটা বড় অংশ অদৃশ্য থেকে যায়। এগুলো ছিল আন্দোলনের চালিকাশক্তি।

তবে এই দেয়ালগুলোর গল্প শুধু প্রতিবাদের না; এগুলো শোকেরও দেয়াল। আন্দোলনের সহিংসতায় প্রাণ হারানো মানুষদের স্মরণ, তাদের মুখ বা নামকে দৃশ্যমান করা এবং তাদের মৃত্যুকে বিস্মৃতির বিরুদ্ধে দাঁড় করানো- এসব কাজও দেয়ালচিত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছিল। একটা মুখ যখন দেয়ালে আঁকা হয়, তখন সেই ব্যক্তি কেবল সংবাদ বা পরিসংখ্যানের অংশ থাকেন না; তিনি একটা দৃশ্যমান মানবিক উপস্থিতিতে পরিণত হন। এই অর্থে দেয়ালচিত্র ছিল স্মৃতির রাজনৈতিক ক্ষেত্র- যেখানে হারিয়ে যাওয়া মানুষদের উপস্থিতি পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। তারা কীভাবে মারা গেল, তারা তখন কী বলছিল, তাদের মৃত্যুকে মেনে নিয়েই আমাদের দাবি এখন কী কী- এসবই ছিল দেয়ালচিত্রের পরতে পরতে আঁকা ও লেখা। অসংখ্য দেয়ালচিত্র মিলে যেন একটা সিনেমা। একটা সিনেমারই ভিন্ন ভিন্ন দৃশ্য ভিন্ন ভিন্ন দেয়ালে আঁকা। যার একটাই দাবি: পরিবর্তন।

একই সঙ্গে এসব চিত্রে ভবিষ্যতে সুন্দর ও বৈষম্যহীন একটা সমাজের আকাঙ্ক্ষাও প্রবলভাবে প্রকাশ পেয়েছে। প্রতিবাদী শিল্প কেবল “কিসের বিরুদ্ধে” তা বলেনি; “কিসের পক্ষে এবং কেন এই পক্ষে” সেই ব্যাখ্যটাও উপস্থাপন করেছে। স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার, সমতা, মর্যাদা, নিরাপত্তা , বাকস্বাধীনতা এবং একটা পরিবর্তিত সমাজের স্বপ্ন বিভিন্ন প্রতীক ও উপমার মধ্যে দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে। তাই জুলাইয়ের দেয়ালচিত্রকে শুধু রাজনৈতিক ক্ষোভের দৃশ্যমান রূপ হিসেবে দেখলে তা অসম্পূর্ণ হবে। এগুলো একইসাথে একটা নতুন ভবিষ্যৎ কল্পনারও দৃশ্যমান অনুশীলন।

বাংলাদেশের শিল্প-ইতিহাসের দিক থেকেও ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের দেয়ালচিত্র বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশের রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে দেয়াললিখন ও পোস্টারের দীর্ঘ সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু ২০২৪ সালে দেয়ালচিত্র, ডিজিটাল সংস্কৃতি, মিম, গ্রাফিতি, পোস্টার, আলোকচিত্র এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পারস্পরিক সম্পর্ক- সবমিলে একটা নতুন ধরনের সমকালীন প্রতিবাদী দৃশ্যভাষার বয়ান তৈরি করে। এবং এটা প্রাতিষ্ঠানিক শিল্পের সীমানাকে প্রশ্ন করে এবং দেখিয়ে দেয় যে শিল্পের রাজনৈতিক শক্তি কেবল জাদুঘর বা গ্যালারির ভিতর সীমাবদ্ধ না। কখনও কখনও একটা সাধারণ দেয়ালই হয়ে উঠতে পারে একটা দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী সমকালীন শিল্পমাধ্যম।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই দেয়ালচিত্রগুলো ভয়ের সংস্কৃতির বিপরীতে নির্ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করেছিল। দেয়ালে কিছু লেখা মানে নিজের অবস্থান প্রকাশ্যে রেখে দেওয়া। মুছে ফেলার সম্ভাবনা জেনেও আবার আঁকা, ঢেকে দেওয়া ছবির ওপর আবার ছবি আঁকা, লেখার ওপর আবার লেখা, মুছে যাওয়া স্লোগানের পাশে নতুন স্লোগান তৈরি করা- এই ধারাবাহিকতা নিজেই প্রতিরোধের একটা রূপ। দেয়াল তখন শুধু বার্তা বহন করে না; তার ওপর বারবার লেখা ও মুছে ফেলার প্রক্রিয়াই প্রতিরোধের শক্তিকে আরো বাড়িয়ে তোলে।

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের দেয়ালচিত্র তাই বাংলাদেশের সমকালীন শিল্প ও রাজনৈতিক ইতিহাসের একটা গুরুত্বপূর্ণ দলিল। এগুলোকে কেবল আন্দোলনের সময়ে আঁকা ছবি হিসেবে সংরক্ষণ করাই বা স্মরণ করাই যথেষ্ট না। এগুলোকে দেখতে এবং পড়তে হবে সামাজিক ইতিহাস, রাজনৈতিক বাস্তবতা, জনসম্পৃক্ত শিল্পচর্চা এবং বিকল্প ভিজ্যুয়াল কমিউনিকেশনের দলিল হিসেবে। কারণ একটা সময়ে দেয়ালে যা লেখা থাকে, তা প্রায়ই সেই সময়ের মানুষের মনের ভেতরেও লেখা থাকে। মনের লেখাটাই দেয়ালে পরিষ্ফূট হয়ে ওঠে।

পরিশেষে বলা যায়, জুলাইয়ের আন্দোলনে রাজপথ মানুষকে একত্রিত করেছিল, কিন্তু দেয়াল সেই ঐক্যকে দৃশ্যমান একটা ভাষা দিয়েছিল। দেয়ালচিত্র ক্ষোভকে প্রতীকে, শোককে স্মৃতিতে, ব্যক্তিগত অনুভূতিকে সমষ্টিগত চেতনায় এবং গণমানুষের বিচ্ছিন্ন কণ্ঠকে একটা দৃশ্যমান সম্মিলিত ভাষায় রূপান্তরিত করেছিল। তাই ২০২৪-এর জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস লিখতে গেলে রাজপথের দেয়াললিখনগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। দেয়ালচিত্রকে একটা গুরুত্বপূর্ণ শিল্পভাষা হিসাবে মর্যাদা দিতে হবে। কারণ সেই দেয়ালগুলো শুধু কিছু রং ও শব্দকে ধারণ করেনি- তারা ধারণ করেছে একটা সমাজের একটা সময়ের অস্থিরতা, প্রতিবাদ, ক্ষত, সাহস এবং পরিবর্তনের স্বপ্নকে। জুলাইয়ের দেয়ালগুলো নিছক ক্যানভাস ছিল না; তারা ছিল সময়ের সাক্ষী, প্রতিবাদের মুখপাত্র এবং এক পরিবর্তনশীল বাংলাদেশের দৃশ্যমান প্রামাণ্যচিত্র।

লেখক: লুবনা চর্যা, কবি ও শিল্পী

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত