
টানা ৩৫ দিন পর্যন্ত ইরানি ভূখণ্ডের ভেতরে কোনো মার্কিন বিমান বিধ্বস্ত হয়নি। কিন্তু গতকাল ইরানের হামলায় একটি মার্কিন এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে এবং এর একজন ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অন্যজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। এই মুহূর্তে নিখোঁজ সেই সেনাকে খুঁজে পেতে মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং পুরস্কারের আশায় থাকা ইরানি বেসামরিক নাগরিকদের মধ্যে এক রুদ্ধশ্বাস প্রতিযোগিতা চলছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম ইরানি ভূখণ্ডের ভেতরে কোনো মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে ওয়াশিংটন। এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানটি সাধারণত একজন পাইলট এবং পেছনের আসনে থাকা একজন ‘ওয়েপন সিস্টেম অফিসার’ দ্বারা পরিচালিত হয়। মার্কিন বাহিনী ইতিমধ্যে একজনকে উদ্ধার করলেও অন্যজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
বিমানটি ভূপাতিত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোতে একটি ঘোষণা প্রচার করা হয়—‘সম্মানিত ও শ্রদ্ধেয় দেশবাসী, যদি আপনারা শত্রুপক্ষের পাইলটদের জীবিত ধরে পুলিশ বা সামরিক বাহিনীর হাতে তুলে দিতে পারেন, তবে আপনাদের মূল্যবান পুরস্কার দেওয়া হবে।’ এই ঘোষণাটি মূলত নিখোঁজ সেনার কাছে পৌঁছানোর জন্য ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এক প্রতিযোগিতার জন্ম দিয়েছে।
ইরানের হাতে মার্কিন বন্দীদের অতীত ইতিহাস
যদি ইরান নিখোঁজ সেই বিমান সেনাকে আটক করতে সক্ষম হয়, তবে এটিই তেহরানের হাতে মার্কিনিদের বন্দী হওয়ার প্রথম ঘটনা হবে না। এর আগেও কয়েকবার ইরান মার্কিন সামরিক ও কূটনৈতিক কর্মীদের আটকে রেখেছিল।
প্রায় পাঁচ দশক আগে, ১৯৭৯ সালের ৪ নভেম্বর ইরানের ক্ষমতাচ্যুত শাহ চিকিৎসার জন্য নিউ ইয়র্কে পৌঁছালে একদল আয়াতুল্লাহ-পন্থী ছাত্র তেহরানে মার্কিন দূতাবাসে ঢুকে পড়ে। তারা কূটনীতিক, সামরিক অ্যাটাশে এবং মেরিন গার্ডসহ ৬৬ জন মার্কিনিকে জিম্মি করে। তাদের মধ্যে ৫২ জনকে দীর্ঘ ৪৪৪ দিন আটকে রাখা হয়েছিল। ১৯৮১ সালের ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগানের উদ্বোধনী ভাষণের ঠিক কয়েক ঘণ্টা পর তারা মুক্তি পান।
ওই ঘটনার প্রায় ৪০ বছর পর, ২০১৬ সালের ১২ জানুয়ারি কুয়েত থেকে বাহরাইন যাওয়ার পথে মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি ছোট ‘রিভারাইন কমান্ড বোট’ পারস্য উপসাগরের ফার্সি দ্বীপের কাছে ইরানি জলসীমায় ঢুকে পড়ে। নয়জন পুরুষ এবং একজন নারীসহ মোট ১০ জন মার্কিন সেনাকে বন্দুকের মুখে আটক করে ইরানি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এরপর তাদের চোখে পট্টি বেঁধে ফার্সি দ্বীপের সামরিক স্থাপনায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভাদ জারিফের মধ্যে কয়েক দফা ফোনালাপের পর ১৫ ঘণ্টা পর তারা অক্ষত অবস্থায় মুক্তি পান। আটকের সময় ইরানিরা সেনাদের বডি আর্মার খুলে ফেলতে এবং হাঁটু গেড়ে বসে মাথার পেছনে হাত রাখতে বাধ্য করে। পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ ও ছবি তোলা হয়েছিল। মুক্তির শর্ত হিসেবে তাদের ক্যামেরার সামনে হাসিমুখে খাবার খেতে এবং একজন ক্যাপ্টেনকে ইরানের তৈরি করা একটি ক্ষমা প্রার্থনা পত্র পড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। তবে পর্দার আড়ালে মার্কিন সরকার আলোচনার মাধ্যমে আগেই তাদের শর্তহীন মুক্তি নিশ্চিত করেছিল, যা সেনারা জানতেন না।
পরবর্তীতে মার্কিন নৌবাহিনীর তদন্তে দেখা যায়, উন্নত ম্যাপিং প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও সেনারা তাদের অবস্থান বুঝতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। ভাইস অ্যাডমিরাল কেভিন এম ডনেগান এই ঘটনাকে নেতৃত্বের ব্যর্থতা এবং অপ্রস্তুত ইউনিটের বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির ফল হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।
ব্রিটিশ সেনাদের আটক হওয়ার ঘটনা
তবে কেবল যুক্তরাষ্ট্র নয়, ব্রিটেনের সামরিক সদস্যরাও ইরানের হাতে বন্দী হয়েছিলেন। ২০০৭ সালের মার্চ মাসে পারস্য উপসাগরে বণিক জাহাজ পরিদর্শনের সময় ১৫ জন ব্রিটিশ নাবিক ও মেরিনকে বন্দুকের মুখে আটক করে ইরানি নৌবাহিনী। ব্রিটেন দাবি করেছিল তারা ইরাকি জলসীমায় ছিল, কিন্তু ইরান অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগ আনে। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না; এর আগে ২০০৪ সালেও আটজন ব্রিটিশ সেনাকে তিন দিন আটকে রাখা হয়েছিল। তাদেরও চোখে পট্টি বেঁধে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং ইরানের টেলিভিশনে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়েছিল।

আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে একজন সেনার জীবন কেবল একটি সংখ্যা নয়, বরং জাতির মর্যাদা ও সামরিক শক্তির প্রতীক। ইরানে ভূপাতিত এফ-১৫এ যুদ্ধবিমানের একজন ক্রুকে উদ্ধার করতে মার্কিন বাহিনীর বিশাল কর্মযজ্ঞের কথা জানা যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তথ্য অনুযায়ী, কয়েকশ কমান্ডো, বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান এই উদ্ধার
২ ঘণ্টা আগে
ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করেনি। কিন্তু এক মাসেরও বেশি সময় পার হয়ে যাওয়ার পর স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, এই যুদ্ধে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রই এগিয়ে। ইরানের ভূখণ্ডে সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে অবিরাম বোমাবর্ষণ চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। হাজারো মানুষ নিহত...
৫ ঘণ্টা আগে
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে যখনই ইরানের সামরিক সক্ষমতার বিষয়টি নিয়ে কথা ওঠে, তখনই আলোচনা গিয়ে ঠেকে একটি নামেই—কুদস ফোর্স। নামটি পরিচিত, দৃশ্যমান এবং তেহরানের আঞ্চলিক প্রভাব বোঝাতে সুবিধাজনক।
৬ ঘণ্টা আগে
এই যুদ্ধ ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের দিকে আরও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ করে তুলবে। সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পারমাণবিক বোমা নিষিদ্ধ-সংক্রান্ত ফতোয়া তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই শেষ হয়ে গেছে। ৪৪ কেজি উচ্চ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হাতে থাকা আইআরজিসি এখন উত্তর কোরিয়ার উদাহরণ অনুসরণ করতে চাইবে...
২০ ঘণ্টা আগে