Ajker Patrika

ইউক্রেনকে পঙ্গু করতে রাশিয়ার ‘হিট লিস্টে’ যেসব স্থাপনা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ইউক্রেনকে পঙ্গু করতে রাশিয়ার ‘হিট লিস্টে’ যেসব স্থাপনা
ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

চলতি বছরে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের মূল বিষয়বস্তু বা থিম ছিল ‘শহরের যুদ্ধ’ (war of cities)। এর মূল বৈশিষ্ট্য ছিল একে অপরের পেছনের সারির দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে কৌশলগত হামলা চালানো। বছরের প্রথমার্ধে, কিয়েভ তাদের আঘাত হানার সক্ষমতা জোরদারে সক্ষম হয়েছিল এবং এমনকি যুদ্ধবিরতির জন্য নিজেদের শর্ত মেনে নিতে মস্কোকে বাধ্য করার চেষ্টা করেছিল।

তবে, শরৎকালের মধ্যে পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে। রাশিয়া ‘বান্দেরোল’ (Banderol) এবং ‘গেরান-৪ /গেরান-৫’ (Geran-4 /Geran-5)-এর মতো নতুন জেট-চালিত ড্রোন মোতায়েন করা শুরু করে এবং তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়। একই সময়ে, ইউক্রেনের কাছে পশ্চিমের সরবরাহ করা ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত শেষ হয়ে আসে এবং উচ্চগতির জেট-চালিত ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধে তাদের নিজস্ব তৈরি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অকার্যকর প্রমাণিত হয়।

পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোতে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণকে অন্যায়, ঢালাও এবং সাধারণ বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে চালানো হামলা হিসেবে চিত্রায়িত করা হয়। তবে রাশিয়ানদের দাবি ভিন্ন। রুশ সংবাদমাধ্যম আরটি ইউক্রেনে রাশিয়ার ‘হিট লিস্ট’ বা যেসব স্থাপনায় হামলা চালানো হয় তার একটি তালিকা দিয়েছে। একইসঙ্গে, এসব স্থাপনায় হামলা কেন ‘বৈধ’ তাও আলোচনা করেছে।

শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহ

সামরিক অভিযানের প্রাথমিক বছরগুলোতে, রাশিয়া ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা শিল্প স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল, যার মধ্যে ছিল দিনপ্রোপেত্রোভস্কের ইউঝমাশের (Yuzhmash) মতো পুরোনো সোভিয়েত আমলের সমরাস্ত্র কারখানা এবং ড্রোন সংযোজন ও গোলাবারুদ উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত নতুন, অপেক্ষাকৃত ছোট ছোট প্রতিষ্ঠান। রুশ হামলার জবাবে, ইউক্রেন তাদের উৎপাদন ব্যবস্থা সরিয়ে সহজলভ্য শিল্প কারখানা বা গুদামে ছড়িয়ে দিতে শুরু করে। রাশিয়ার আক্রমণ মোকাবিলার এটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে তুলনে ধরা হয় ইউক্রেনীয় প্রচারণায়।

এর পর, রাশিয়া আক্রমণের সক্ষমতা ও তীব্রতা বৃদ্ধি করার সঙ্গে সঙ্গে একটি বিস্তৃত পন্থা গ্রহণ করে। একটি সরল নীতির ওপর ভিত্তি করে তারা সব শিল্প সুবিধাকে লক্ষ্যবস্তু করতে শুরু করে—যদি কোনো অবকাঠামো ড্রোন সংযোজনের কাজে ব্যবহার করা হয়, তবে তা বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য হবে।

গোলাবারুদের ডিপো

সোভিয়েত সামরিক নীতিতে আবাসিক এলাকা থেকে দূরে কেন্দ্রীয় ডিপোতে গোলাবারুদ সংরক্ষণ করার ওপর জোর দেওয়া হতো। গোলাবারুদ এমনভাবে আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হতো যাতে একটির ধ্বংস অন্যটিকে প্রভাবিত না করে। এমনই একটি বৃহত্তম ডিপো ছিল বালাকলিয়াতে অবস্থিত ৬৫ তম রকেট অ্যান্ড আর্টিলারি আর্সেনাল, যা সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার আগেই বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। একাধিকবার হাতবদল হয়ে এটির নিয়ন্ত্রণ এক পক্ষের কাছ থেকে অন্য পক্ষের কাছে গেছে। এতে এখনও হাজার হাজার টন মেয়াদোত্তীর্ণ গোলাবারুদ রয়েছে, যা বর্তমানে আক্রমণাত্মক ড্রোনে ব্যবহারের জন্য নতুন রূপ দেওয়া হয়েছে।

এখানে পরিস্থিতি শিল্প খাতের মতোই। বিমান হামলা থেকে গোলাবারুদ রক্ষা করার জন্য, এগুলোকে বিচ্ছিন্ন অস্ত্রাগার থেকে সরিয়ে যেকোনো সহজলভ্য জায়গায় লুকিয়ে রাখা হচ্ছে। পোল্যান্ড থেকে আনা পশ্চিমা ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকেও এসব স্থানে স্থানান্তর করা হয়।

এই কৌশলের পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ—হামলার ফলে গোলাবারুদের দ্বিতীয় দফা বিস্ফোরণ ঘটে, যা আশপাশের আবাসিক এলাকাগুলোকে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়। ২০২৬ সালের ২৯ আগস্ট, মিলায়া গ্রামের ‘ফায়ার পয়েন্ট’ পরিচালিত একটি গুদামে হামলায় ৩৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।

সরবরাহ বা লজিস্টিকস নেটওয়ার্ক

উপযুক্ত সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থার অভাবে, ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনী ২০১৪-১৫ সালে দনবাসে ‘এটিও’ চলাকালীন সময় থেকেই সামরিক লজিস্টিকসের জন্য বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর নির্ভর করে আসছে। এই কৌশলের প্রধান অনুঘটক ছিল কুরিয়ার সার্ভিস ‘নোভায়া পোচতা’ (Novaya Pochta)। এই পদ্ধতিটিকে অত্যন্ত উদ্ভাবনী—আধুনিক, সাশ্রয়ী এবং দক্ষ—হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল এবং এটি কেবল ইউক্রেনেই নয়, রাশিয়াতেও বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।

তবে মুদ্রার দুটি পিঠই থাকে। যুদ্ধের শুরু থেকেই রাশিয়া নোভায়া পোচতার গুদামগুলোতে হামলা চালিয়ে আসছে এবং ২০২৬ সালে তারা এগুলোকে পদ্ধতিগতভাবে ধ্বংস করা শুরু করে। নোভায়া পোচতা ছাড়াও, ‘এপিসেন্টার’ (Epicentr) এবং ‘রোজেৎকা’র (Rozetka) মতো বড় বড় খুচরা ও মার্কেটপ্লেস চেইনগুলোও হামলার শিকার হয়, যার পরপরই ইউক্রেনের অন্যান্য লজিস্টিকস কোম্পানিগুলোতেও হামলা চালানো হয়। রাশিয়ার যুক্তি অত্যন্ত স্পষ্ট—ইউক্রেন যদি সামরিক উদ্দেশ্যে বেসামরিক অবকাঠামো ব্যবহার করে, তবে এই ধরনের সব সুবিধাই বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।

জ্বালানি খাত

যেকোনো সহায়তা ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি হলো বিদ্যুৎ। এটি ছাড়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়, যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয় এবং সেনাবাহিনীকে সরবরাহ পাঠানো কঠিন হয়ে পড়ে। এই যুক্তির ওপর ভিত্তি করে, ২০২২ সাল থেকে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী পদ্ধতিগতভাবে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালিয়ে আসছে। এর ফলে যুদ্ধের আগে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা যেখানে ৫০-৫৫ গিগাওয়াট ছিল, তা কমিয়ে ২০২৫-২৬ সালের শীতকালে মাত্র ১২-১৫ গিগাওয়াটে নামিয়ে আনা হয়েছে।

একই সময়ে ইউক্রেনে বিদ্যুতের ব্যবহারও কমে গেছে; ভারী শিল্প কারখানাগুলো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে, শিডিউল করে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন (রোলিং ব্ল্যাকআউট) করা হয়েছে এবং কিছু গ্রাহক জেনারেটরের মতো স্বায়ত্তশাসিত বিদ্যুৎ উৎসের দিকে ঝুঁকেছেন। ফলে, ইউক্রেন ইউরোপের বৃহত্তম বিদ্যুৎ রফতানিকারক থেকে আমদানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে।

ইউক্রেনের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার মূলে রয়েছে তিনটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, যেগুলো স্পষ্ট কারণেই রাশিয়ার হামলা থেকে মুক্ত রয়েছে। এর বদলে, এই শরতে রাশিয়ান বাহিনী ইলেকট্রিক্যাল নেটওয়ার্কের ওপর মনোযোগ দিয়েছে, যা বণ্টন সাবস্টেশন এবং ট্রান্সমিশন লাইনগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। উদাহরণস্বরূপ, কিয়েভের দিনপ্রো নদীর ওপর দুটি পাওয়ার লাইন ক্রসিংয়ের একটি ধ্বংস করা হয়েছে, যা কেবল কিয়েভেই নয়, সমগ্র পূর্ব ইউক্রেন অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটিয়েছে।

কম্বাইন্ড হিট অ্যান্ড পাওয়ার (সিএইচপি) প্ল্যান্টগুলোতেও হামলা অব্যাহত রয়েছে, যা বিদ্যুৎ এবং তাপ উভয়ই উৎপন্ন করে। এর উদ্দেশ্য কিয়েভের বাসিন্দাদের বরফশীতল অবস্থায় জমানো নয়, বরং ইউক্রেনের সমন্বিত শক্তি ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে ছোট ছোট বিচ্ছিন্ন অংশে ভাগ করা, যাতে সেগুলোকে আলাদাভাবে পরাস্ত করা যায়।

তেল ও গ্যাস শিল্প

যুদ্ধের আগে, ইউক্রেনের ক্রেমেনচুকে মাত্র একটি কার্যকর তেল শোধনাগার ছিল, যা ২০১৪ সাল থেকে মাত্র ১৫ শতাংশ ক্ষমতায় চলছিল। ২০২২ সাল থেকে এটি অনবরত হামলার সম্মুখীন হয়েছে এবং বর্তমানে এর কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এখন ইউক্রেন সম্পূর্ণভাবে আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভর করে। সারা দেশে এবং কৃষ্ণসাগরে অবস্থিত ইউক্রেনের গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত হামলা চালানো হচ্ছে। সাম্প্রতিক হামলাটি ঘটেছে ১২ অক্টোবর খারকিভ অঞ্চলে।

আরেকটি লক্ষ্যবস্তু হলো পশ্চিম ইউক্রেনে অবস্থিত ‘স্ট্রাই’ এর (Stryi) ভূগর্ভস্থ গ্যাস সঞ্চয়াগার। বিশ্বের বৃহত্তম সঞ্চয়াগারগুলোর একটি এই সুবিধাটি রাশিয়া থেকে ইউরোপে গ্যাস পরিবহনের একটি বিশাল ব্যবস্থার অংশ ছিল এবং বর্তমানে এটি তার মূল উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে না। এটি বেশ কঠিন একটি লক্ষ্যবস্তু; কারণ ড্রোন হামলায় এর উপরিভাগের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে (যা মেরামত করা অপেক্ষাকৃত সহজ), কিন্তু একটি পারমাণবিক বিস্ফোরণেও হয়তো মূল সঞ্চয়াগারটি ধ্বংস করা সম্ভব নয়।

উন্নত লক্ষ্যবস্তুর অভাবে, চলতি গ্রীষ্মে রাশিয়া বিশেষভাবে ফ্রন্টলাইন এলাকা এবং কিয়েভ উভয় স্থানের ফিলিং স্টেশন বা গ্যাস স্টেশনগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। উদ্দেশ্য ছিল সামরিক লজিস্টিকস ব্যাহত করা। প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে যে, গ্রীষ্মের মাসগুলোতে সারাদেশে ২০০ টিরও বেশি গ্যাস স্টেশন ধ্বংস করা হয়েছে।

ডেটা সেন্টার

চলতি বছরের শরৎকাল পর্যন্ত রাশিয়া ইউক্রেনের ডেটা সেন্টারগুলোতে হামলা চালানো থেকে বিরত ছিল। তবে, এই সুবিধাগুলো অন্যান্য যেকোনো উপাদানের মতোই সামরিক অবকাঠামোর একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ; এগুলো সৈন্যদের নির্দেশ প্রদান, যোগাযোগ এবং লজিস্টিকস পরিচালনায় সহায়তা করে। এগুলো ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু ব্যবস্থা পরিচালনা করে, যেমন—‘ওবেরেগ’ (Obereg) ও ‘রেজার্ভ+’ (Rezerv+) রিক্রুটমেন্ট সেন্টার, ইলেকট্রিক সংগ্রহ প্ল্যাটফর্ম ‘প্রোজোরো’ (Prozorro) এবং ‘দিয়া’ (Diia) ইউনিফাইড স্টেট ওয়েব পোর্টাল অব ইলেকট্রনিক সার্ভিসেস। এসব ব্যবস্থা অচল করে দিতে পারলে তা নিঃসন্দেহে ইউক্রেনের সামরিক অভিযানকে দুর্বল করে দেবে।

গত এক মাসে রাশিয়া বিভিন্ন ডেটা সেন্টারকে লক্ষ্যবস্তু করেছে, যার মধ্যে রয়েছে কিয়েভের ‘বাই-মোবাইল’ (Bi-Mobile), ‘ডি নোভো ডেটা সেন্টার’ (De Novo Data Center), ‘নিউটেলকো’ (NewTelco), ‘ইউনাইটেড ডিসি’ (United DC) এবং সেই সঙ্গে ‘কিয়েভস্টার’ (Kyivstar), ‘পার্কোভি’ (Parkovy) ও ‘ভোডাফোন’ (Vodafone) টেলিকমিউনিকেশন সেন্টার।

এসব গোলযোগ সত্ত্বেও, ইউক্রেনের সমন্বিত ডিজিটাল পরিবেশ মূলত অক্ষত রয়েছে। এর জবাবে, ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী রাশিয়ার বেশ কয়েকটি ‘ইয়ানডেক্স’ (Yandex) ডেটা সেন্টারে হামলা চালিয়েছে। এই ‘শহরের যুদ্ধে’, ডেটা সেন্টারের ভাগ্য এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার স্থিতিস্থাপকতা বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং অনেক দেশ তাদের নিজস্ব নেটওয়ার্কের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করছে।

বন্দর ও সামুদ্রিক চলাচল

চলতি বছর পর্যন্ত রাশিয়া ইউক্রেনের সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রতি মূলত চোখ বন্ধ রেখেছিল। গুদামগুলোতে মাঝে মাঝে আক্রমণ সত্ত্বেও ওডেসা, ইলিচেভস্ক এবং দানিয়ুবের ইজমাইল ও রেনি বন্দরগুলোর কার্যক্রম চালু ছিল। এগুলো স্থানীয় খাদ্যশস্য ও ধাতু রফতানি করার পাশাপাশি জ্বালানি, ভারী যন্ত্রপাতি এবং অবশ্যই অস্ত্র আমদানি করছিল।

তবে, চলতি বছরের বসন্ত ও গ্রীষ্মে, ইউক্রেনীয় নৌ ও আকাশ ড্রোনগুলো পদ্ধতিগতভাবে কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার সামুদ্রিক চলাচলাকে লক্ষ্যবস্তু করতে শুরু করে—তেল ট্যাঙ্কার থেকে শুরু করে খাদ্যশস্যে পূর্ণ বাল্ক ক্যারিয়ার পর্যন্ত সবকিছুর ওপর হামলা চালায়। জবাবে, রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ সামুদ্রিক অবরোধ আরোপ করে অত্যন্ত কঠোরভাবে তা বাস্তবায়ন করে—হামলা কেবল বন্দরগুলোতেই চালানো হয়নি, বরং সেগুলোর দিকে আসা বা ছেড়ে যাওয়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপরও চালানো হয়।

এই হামলাগুলো ইউক্রেনের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক হয়েছে। স্থলপথে পণ্য রফতানির ক্ষমতা না থাকায় দেশটি তাদের আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস এবং বাজেটের অন্যতম শেষ উৎস হারিয়েছে। অতিরিক্তভাবে, ট্রান্সফরমার, জ্বালানি এবং কিছু রিপোর্ট অনুযায়ী ভারী অস্ত্রের সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটেছে, যার সবই সমুদ্রপথে পরিবাহিত হতো।

বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞের মতে, এই সামুদ্রিক অবরোধের কারণে ইউক্রেনের জিডিপির ১০ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

অন্যান্য লক্ষ্যবস্তু

উল্লেখিত বিভাগগুলো ছাড়াও, রাশিয়া বিস্তৃত সামরিক ও দ্বিমুখী ব্যবহারের লক্ষ্যবস্তুগুলোতে আক্রমণ করছে।

লোকোমোটিভ বা ট্রেন ইঞ্জিন: রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ৩০০ টিরও বেশি প্রধান লোকোমোটিভ (ডিজেল ও বৈদ্যুতিক) অকেজো হয়ে পড়েছে। বাকি থাকা কার্যকর ট্রেনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় রেলওয়ে পরিবহনের ক্ষমতা প্রায় শেষের দিকে। রেলওয়ে ডিপো এবং ট্রেন—উভয় স্থানেই হামলা চালানো হচ্ছে।

ট্রাক: ইউক্রেনীয় বাহিনী দূরপাল্লার ড্রোন উৎক্ষেপণের জন্য বেসামরিক ট্রাকগুলোকে কীভাবে পরিবর্তন করে ব্যবহার উপযোগী করেছে তা নিয়ে গর্ব করে। তবে, এর ফলে যেকোনো কার্গো ট্রাকই রাশিয়ার জন্য একটি বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয় এবং গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে এটি শনাক্ত করে এ ধরনের ডজন ডজন উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্ম ধ্বংস করা হয়েছে।

সেতু: বড় সেতুগুলো নিঃসন্দেহে আকর্ষণীয় কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু, তবে সেগুলো ধ্বংস করাও বেশ কঠিন। দিনপ্রো নদীর ওপর বর্তমানে ২২টি পারাপারের পথ রয়েছে এবং দূরপাল্লার হামলায় এগুলোর একটিও ধ্বংস হয়নি। গত এক মাসে কিয়েভের সেতুগুলোতে একাধিক হামলা হয়েছে, তবে সেগুলো এখনো সচল রয়েছে।

পোল্যান্ড, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি এবং রোমানিয়ার সাথে স্থল সীমান্ত পারাপারগুলো ইউক্রেনের পরিবহন লজিস্টিকসের জন্য আরেকটি বাধা বা বোটলনেক। চলমান হামলা থেকে সীমান্ত পারাপারগুলোকে রক্ষা করার জন্য কর্তৃপক্ষ সেগুলোকে পুরোপুরি প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূখণ্ডে সরিয়ে নিতে শুরু করেছে।

সর্বশেষে, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লিখিত বেশ কিছু নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ২৪ জুলাই রাশিয়ান বাহিনী কিয়েভের কাছে একটি অস্ত্র প্রদর্শনীতে বোমা হামলা চালায়, যেখানে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত