
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আধিপত্যবাদী কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগে পড়েছে বিশ্ব। অথচ ক্ষমতায় ফিরে প্রথম ভাষণেই তিনি বলেছিলেন, কেউ আমাদের পথের বাধা হতে পারবে না। তাঁর ওই ঘোষণায় হাততালিতে ফেটে পড়েছিলেন সমর্থকেরা। প্রথমে যখন তিনি পানামা খাল দখলে নেওয়ার হুমকি দেন, তখন এতটা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। কিন্তু এখন গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তাঁর তোড়জোড়ে ইউরোপীয় নেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তরকালে আন্তর্জাতিক মাঠে ক্ষমতার দাপট একটা কাঠামোর মধ্যে থাকত। তবে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সব মানদণ্ড ভেঙে দিচ্ছেন ট্রাম্প। শপথ গ্রহণের পর তাঁর প্রথম বক্তব্যেই এর রেশ ছিল। তিনি উল্লেখ করেন ঊনবিংশ শতকের এক মার্কিন মতাদর্শ—ম্যানিফেস্ট ডেসটিনির কথা। ওই মতবাদ অনুসারে, মার্কিন আদর্শ প্রচার তাঁদের ঈশ্বরপ্রদত্ত দায়িত্ব।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বহু বিতর্কিত আগ্রাসন ও দখল অভিযানের উদাহরণ আছে। তবে গত শতকে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট কখনো মিত্র দেশের ভূখণ্ড দখলের হুমকি দেননি। কারও নাম উল্লেখ না করে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বলেছেন, বিশ্ব যে পথে আগাচ্ছে, যেখানে কোনো নিয়মের বালাই নেই, যেখানে আন্তর্জাতিক আইন পদদলিত হচ্ছে। বিশ্বে যেন এখন একমাত্র আইন—শক্তিশালীদের সাম্রাজ্যবাদী মানসিকতা।
কানাডাকে অঙ্গরাজ্য বানাতে চাওয়া, ইউক্রেনে যুদ্ধ থামানোর নামে খনিজ হাতিয়ে নেওয়া, গাজায় কথিত একতরফা শান্তি চাপানো, ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে সস্ত্রীক তুলে আনা—মার্কিন প্রেসিডেন্ট আক্ষরিক অর্থেই বৈশ্বিক রীতিনীতি, কূটনীতি সবকিছুকেই উপেক্ষা করছেন। তবে গ্রিনল্যান্ড ইস্যু নিয়ে দ্বন্দ্ব চলতি সপ্তাহের আলোচনার ইস্যু। যুক্তরাষ্ট্র যদি আসলেও বলপ্রয়োগে গ্রিনল্যান্ড দখলের পথে যায়, তাহলে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ হুমকিতে পড়তে পারে।
তবে ট্রাম্পের সমর্থকেরা এখনো ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির পক্ষে জোরালো অবস্থান নিচ্ছেন। গ্রিনল্যান্ড দখলের পথে গেলে জাতিসংঘ সনদ লঙ্ঘন হবে কি না—এর জবাবে রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান র্যান্ডি ফাইন বলেন, জাতিসংঘ বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়েছে। তারা যা বলে তার উল্টোটাই বোধ হয় ভালো। তিনি সম্প্রতি ‘গ্রিনল্যান্ড অ্যানেক্সেশন অ্যান্ড স্টেটহুড অ্যাক্ট’ নামের একটি বিল কংগ্রেসে জমা দিয়েছেন।
ট্রাম্পের আধিপত্যবাদের সর্বশেষ রেশ দেখা যায় নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীকে লেখা এক চিঠিতে। সেখানে তিনি সরাসরি বলেন, তাঁকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়নি। তাই তিনি কেবল শান্তি প্রতিষ্ঠায় অগ্রাধিকার দিতে বাধ্য নন। এখন মার্কিন স্বার্থই তাঁর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।
আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণের বিষয়ে ট্রাম্পের সোজা বক্তব্য, তিনি নিজের বিবেচনার ওপর বেশি গুরুত্ব দেন। এ কারণেই মার্কিন মিত্ররা কখনো প্রশংসা, কখনো কূটনৈতিকভাবে তাঁর মত বদলাতে চেষ্টা করছে। তবে তারা সফল হবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

বিশ শতকের বিজয়ী ছিল যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর দেশটি শুধু অতুলনীয় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শক্তির অধিকারীই হয়নি, বরং সাংবিধানিক সরকারব্যবস্থা ও স্বাধীনতার মতো বহু কাঙ্ক্ষিত মূল্যবোধেরও প্রতীক হয়ে উঠেছিল। কিন্তু সেই অবস্থান স্থায়ী হয়নি।
১২ ঘণ্টা আগে
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি ঘোষণার পর ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং এ বছরের নির্বাচনে আবারও ক্ষমতায় ফেরার প্রত্যাশী নাফতালি বেনেত বেশ ক্ষুব্ধ ছিলেন। তেহরান ও ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক চুক্তি ঘোষণার পর তিনি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এমন একটি...
১৬ ঘণ্টা আগে
একসময় প্রযুক্তি খাতের চাকরিতে টিকে থাকতে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের বলা হতো, ‘কোডিং শিখুন।’ কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যুগে সেই সমীকরণ দ্রুত বদলে যাচ্ছে। এখন বিশ্বের বড় বড় এআই গবেষণাগার ও প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো দার্শনিকদের খুঁজছে।
১ দিন আগে
সপ্তাহ দুয়েক আগে বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের ইলন মাস্কের নেতৃত্বাধীন স্পেসএক্স তাদের শেয়ারের একটি অংশ নাসডাকে তালিকাভুক্ত করেছে। কোম্পানিটির সম্ভাব্য মূল্য ধরা হচ্ছে ২ ট্রিলিয়ন ডলারের উপরে। এটি ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইপিও বা প্রাথমিক শেয়ার ছাড়ার ঘটনা।
২ দিন আগে