
আর মাত্র একটি ম্যাচ। তারপরই শেষ হবে ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ। ১০৩টি ম্যাচ, ৩৮ দিনের প্রতিযোগিতা এবং ৪৬টি দলের বিদায়ের পর ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ট্রফিটির লড়াইয়ে টিকে আছে মাত্র দুটি দল—বর্তমানে বিশ্বের এক নম্বর দল আর্জেন্টিনা এবং দুই নম্বর দল স্পেন। ১৯৬৬ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের মঞ্চে দুই দেশ একে অপরের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ফাইনাল নিছক একটি শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ নয়; এটি আধুনিক ফুটবলের দুই বিপরীত দর্শনের সংঘর্ষ, বর্তমানের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলারের সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ ফাইনাল এবং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য মহাতারকার আনুষ্ঠানিক অভিষেকের মঞ্চ।
তবে এই ফাইনালকে বোঝার জন্য শুধু মাঠের ৯০ মিনিটের দিকে তাকালে চলবে না। কারণ, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ শুরু থেকেই ছিল বিতর্ক, বাণিজ্যিকীকরণ, রাজনৈতিক প্রভাব, নতুন পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং অসাধারণ ফুটবলের এক অদ্ভুত মিশ্রণ। সেই অর্থে ফাইনালটি কেবল দুটি দলের নয়, পুরো টুর্নামেন্টেরই প্রতিচ্ছবি।
বিশ্বকাপ শুরু হয়েছিল পাঁচ সপ্তাহ আগে, নানা বিতর্কের মধ্য দিয়ে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো আয়োজিত এই সম্প্রসারিত বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো অংশ নেয় ৪৮টি দল। ফলে আগের তুলনায় অনেক নতুন দেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলেও একই সঙ্গে কিছু নিম্নমানের ও একঘেয়ে ম্যাচও দর্শকদের হতাশ করেছে। কিন্তু এই সম্প্রসারণই আবার ফুটবলকে নতুন গল্পও দিয়েছে। মাত্র ৪ লাখ ৯০ হাজার জনসংখ্যার কেপ ভার্দে স্পেনের সঙ্গে ড্র করেছে এবং আর্জেন্টিনার কাছে হেরেছে অতিরিক্ত সময়ে। বড় দলের আধিপত্যের মধ্যেও ছোট একটি দেশের এমন প্রতিরোধ এই বিশ্বকাপের অন্যতম উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে।

টুর্নামেন্ট শুরুর আগে আরেকটি বড় আশঙ্কা ছিল দর্শক উপস্থিতি নিয়ে। উচ্চ টিকিটমূল্য এবং যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ ভ্রমণ ব্যয়ের কারণে অনেকেই ধারণা করেছিলেন স্টেডিয়ামগুলো ফাঁকা থাকবে। বাস্তবে ঘটেছে উল্টোটা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রবাসী সম্প্রদায়ের উপস্থিতিতে অধিকাংশ ম্যাচই ছিল দর্শকপূর্ণ। তবে প্রধান আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র সমালোচিত হয়েছে সোমালিয়ার একজন রেফারিকে নিষিদ্ধ করা এবং ইরান জাতীয় দলকে দেশটিতে রাতযাপনের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্তের জন্য।
এবারের বিশ্বকাপের নতুনত্বগুলোর সবই সমানভাবে প্রশংসিত হয়নি। প্রতি অর্ধের মাঝামাঝি সময়ে রাখা তথাকথিত ‘হাইড্রেশন ব্রেক বা পানি পানের বিরতি’কে অনেকেই খেলোয়াড়দের বিশ্রামের চেয়ে টেলিভিশনের জন্য তৈরি এক ছদ্মবেশী বাণিজ্যিক বিরতি হিসেবে দেখেছেন। আবার ফাইনালে আয়োজন করা হচ্ছে বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম হাফটাইম শো। শাকিরা, ম্যাডোনা, বিটিএস এবং জাস্টিন বিবারের মতো তারকাদের পারফর্ম করার কথা রয়েছে। সাধারণত ফুটবলের বিরতি ১৫ মিনিট হলেও এই অনুষ্ঠানের কারণে বিরতি প্রায় ২৫ মিনিট পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্টেজ স্থাপন ও সরিয়ে নেওয়ার সময়ই মূলত এই অতিরিক্ত সময়ের কারণ। ফুটবলপ্রেমীদের একটি বড় অংশ মনে করছে, এতে খেলার স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হবে।
ফাইনালে আরও একটি রাজনৈতিক মাত্রা যোগ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতির মাধ্যমে। তিনি শুধু দর্শক হিসেবেই গ্যালারিতে থাকবেন না। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, ট্রাম্পই বিজয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে দেবেন, যেমনটি তিনি ক্লাব বিশ্বকাপেও করেছিলেন।

বিশ্বকাপ চলাকালেই ইনফান্তিনো নতুন বিতর্কের জন্ম দেন। অভিযোগ ওঠে, ট্রাম্পের একটি ফোনকলের পর যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনকে দেখানো লাল কার্ড প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়, ফলে তিনি বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলতে পারেন। যদিও শেষ পর্যন্ত বেলজিয়াম যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলে হারায়। অনেকের মতে, ফুটবলের মতো খেলায় রাজনৈতিক প্রভাবের এটি একটি উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত।
ইনফান্তিনো অবশ্য নতুন করে বিতর্কিত হননি। বিশ্বের বিভিন্ন শক্তিশালী ও কর্তৃত্ববাদী নেতার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বহুদিন ধরেই সমালোচনার বিষয়। কিন্তু তার হাত ধরে ফুটবলে যে বিপুল অর্থ প্রবাহিত হয়েছে, সেই আর্থিক বাস্তবতা তাকে এখনো শক্তিশালী অবস্থানে রেখেছে। আগামী বছরও তার পুনর্নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। একইভাবে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্লদিও ‘চিকি’ তাপিয়া চুক্তি থেকে অবৈধ কমিশন নেওয়ার অভিযোগে তদন্তের মুখে রয়েছেন, যদিও তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আর্জেন্টিনা যদি বিশ্বকাপ জেতে, সমর্থকদের একটি বড় অংশ হয়তো এসব অভিযোগ ভুলে যেতে প্রস্তুত থাকবে।
তবে মাঠের বাইরের এই সমস্ত বিতর্কের পরও শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপকে সংজ্ঞায়িত করবে মাঠের ফুটবল। আর সেখানেই স্পেন ও আর্জেন্টিনা যেন দুই বিপরীত পৃথিবীর প্রতিনিধি। সাবেক লিভারপুল কোচ য়ুর্গেন ক্লপ একসময় নিজের ফুটবলকে ‘হেভি মেটাল’ এবং প্রতিপক্ষের নিয়ন্ত্রিত ফুটবলকে ‘ধ্রুপদী অর্কেস্ট্রা’ বলে তুলনা করেছিলেন। এই ফাইনাল যেন সেই উপমার সবচেয়ে নিখুঁত বাস্তব রূপ।
স্পেনের দর্শন ধৈর্য, নিয়ন্ত্রণ এবং সমষ্টিগত বুদ্ধিমত্তার ওপর প্রতিষ্ঠিত। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার শক্তি আগ্রাসন, শারীরিক আধিপত্য, আবেগ এবং লিওনেল মেসির ব্যক্তিগত প্রতিভাকে কেন্দ্র করে নির্মিত। স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ব্যক্তিকেন্দ্রিক ফুটবলের যুগেও দলগত ফুটবলের প্রতি আস্থা রেখেছেন। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে তিনি খেলোয়াড়দের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘তাদের দলে সেরা খেলোয়াড়দের সমাবেশ রয়েছে, কিন্তু আমরাই সেরা দল।’
তাঁর দর্শন আরও পরিষ্কার হয়ে ওঠে আরেকটি মন্তব্যে। তিনি বলেন, তিনি সুপারস্টার নন, বরং ‘স্বাভাবিক মানুষ’ নির্বাচন করেন। বাস্তবতাও সেটিই বলে। এই স্পেন দলে তারকাখচিত রিয়াল মাদ্রিদের একজন খেলোয়াড়ও নেই। অথচ দলটি টুর্নামেন্টের সবচেয়ে পরিপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ ফুটবল খেলেছে। দলের তরুণ প্রতীক লামিন ইয়ামাল। চোট কাটিয়ে আবারও নিজের ছন্দ ফিরে পেয়েছেন তিনি। মাত্র ১৯ বছর বয়সে পাও কুবারসির সঙ্গে তিনি বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে তৃতীয় ও চতুর্থ সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হতে যাচ্ছেন। তবে স্পেনের প্রকৃত প্রাণভোমরা অন্য একজন, রদ্রিগো ‘রদ্রি’ এরনান্দেস।
রদ্রি আলোচনার কেন্দ্রে থাকেন না। তিনি ড্রিবল করে গ্যালারি মাতান না। কিন্তু পুরো স্পেনের খেলার ছন্দ তাঁর পা দিয়েই নিয়ন্ত্রিত হয়। এই বিশ্বকাপে তার ৬৯৪টি সফল পাস অন্য যেকোনো ফুটবলারের চেয়ে একশোরও বেশি। প্রতিটি আক্রমণ, প্রতিটি রক্ষণ, প্রতিটি ছন্দ পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দু তিনি।
স্পেনের পুরো দর্শনই বলের দখল ধরে রাখার ওপর দাঁড়িয়ে। তাদের বিশ্বাস সহজ—বল যদি নিজেদের পায়ে থাকে, প্রতিপক্ষ গোল করার সুযোগই পাবে না। প্রতিপক্ষকে দৌড় করিয়ে ক্লান্ত করা, ছোট ছোট পাসের জালে তাদের আটকে ফেলা এবং সুযোগ তৈরি হওয়া পর্যন্ত ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করা, এটাই স্পেনের ফুটবল। ২০১০ সালে বিশ্বকাপ জয়ের সময় যে ‘টিকি-টাকা’ ফুটবল পুরো একটি প্রজন্মকে শাসন করেছিল, সেই দর্শনেরই আধুনিক সংস্করণ খেলছে বর্তমান স্পেন। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দলটি উইঙ্গারদের গতি ও সরাসরি আক্রমণের ওপর বেশি নির্ভর করছিল, এই গ্রীষ্মে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের চোট দে লা ফুয়েন্তেকে আবারও পুরোনো দর্শনে ফিরিয়ে এনেছে। সেই পরিবর্তনই এখন তাদের শিরোপার অন্যতম দাবিদার বানিয়েছে।
ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালে দ্বিতীয় গোলটি যেন সেই দর্শনের শিল্পিত প্রকাশ। গোটা মাঠজুড়ে অসংখ্য পাসের পর দানি ওলমো গোল করেন। সেটি যেন ফুটবল মাঠে প্রয়োগিক জ্যামিতির এক নিখুঁত প্রদর্শনী। স্পেনের এই বোঝাপড়া হঠাৎ তৈরি হয়নি। দে লা ফুয়েন্তে ২০২২ সালে জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার আগে দীর্ঘদিন বয়সভিত্তিক দলগুলোর কোচ ছিলেন। ফলে বর্তমান স্কোয়াডের বড় অংশ বহু বছর একসঙ্গে খেলেছে। তারা যেন না দেখেই বুঝতে পারে, সতীর্থ কোথায় থাকবেন, কোথায় পাস চাইবেন এবং কখন ফাঁকা জায়গায় দৌড়াবেন।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনা যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দর্শনের প্রতিনিধি।
স্পেন যেখানে বলের নিয়ন্ত্রণ দিয়ে ম্যাচ পরিচালনা করতে চায়, আর্জেন্টিনা সেখানে ম্যাচের গতি, আবেগ এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করে। তাদের ফুটবল অনেক বেশি শারীরিক, অনেক বেশি সংঘাতপূর্ণ এবং অনেক বেশি প্রত্যক্ষ। ম্যাচের প্রথম বাঁশি থেকেই তারা প্রতিপক্ষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রতিটি বলের জন্য লড়াই করে, প্রতিটি ডুয়েল বা দ্বৈরথে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেয়। মাঠের কঠিন, রুক্ষ এবং অনেক সময় অপ্রিয় কাজগুলো করতে তারা দ্বিধা করে না। পুরো টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি ফাউলও করেছে তারাই, যা তাদের খেলার চরিত্রকে আরও স্পষ্ট করে।

এই আক্রমণাত্মক পদ্ধতির একটি কৌশলগত উদ্দেশ্যও রয়েছে। প্রতিপক্ষকে শারীরিকভাবে ক্লান্ত করে দেওয়া, তাদের স্বাভাবিক ছন্দ ভেঙে দেওয়া এবং ম্যাচকে এমন এক বিশৃঙ্খল অবস্থায় নিয়ে যাওয়া, যেখানে হঠাৎ করেই লিওনেল মেসির জাদু খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। ৩৯ বছর বয়সী মেসি আর আগের মতো টানা ৯০ মিনিট মাঠজুড়ে ছুটে বেড়ান না। বরং তিনি ম্যাচের বড় অংশে হাঁটেন, চারপাশ পর্যবেক্ষণ করেন এবং শক্তি সঞ্চয় করেন। বাইরে থেকে দেখলে মনে হতে পারে তিনি খেলার বাইরে রয়েছেন, কিন্তু বাস্তবে তিনি প্রতিপক্ষের রক্ষণে কোথায় ফাঁক তৈরি হচ্ছে, সেটিই খুঁজে বেড়ান। একবার সেই মুহূর্তটি এলে একটি পাস, একটি ড্রিবল কিংবা একটি শটে পুরো ম্যাচের চিত্র বদলে দেন।
এই কারণেই অনেকেই বলেন, আর্জেন্টিনার বাকি দশজন খেলোয়াড় যেন মেসির জন্য যুদ্ধ করেন। তারা মাঠের সমস্ত পরিশ্রম, ট্যাকল, প্রেসিং, সংঘর্ষ এবং রক্ষণাত্মক দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নেন, যাতে মেসি নিজের সৃজনশীলতা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেন। আর্জেন্টিনার সংবাদপত্র লা ন্যাসিওন লিখেছে, মেসি এতটাই বিনয়ী এবং সাধারণ মানুষের মতো একজন মানুষ যে সতীর্থরা তার জন্য ব্যক্তিগত স্বার্থ বিসর্জন দিতেও দ্বিধা করেন না। কোচ লিওনেল স্কালোনির সবচেয়ে বড় সাফল্য এখানেই। তার আগের কোচরা কখনোই মেসিকে ঘিরে ভারসাম্যপূর্ণ দল গড়ে তুলতে পারেননি। স্কালোনি সেই অসম্ভব কাজটিই করেছেন।
এই দলের হয়তো স্পেনের মতো নিখুঁত টেকনিক্যাল সৌন্দর্য নেই। কিন্তু আবেগ, আত্মবিশ্বাস এবং শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতায় তারা অনন্য। লা ন্যাসিওনের ভাষায়, ‘আর্জেন্টিনা কখনো উদ্বিগ্ন হয় না। তারা কখনো মরিয়া হয়ে পড়ে না।’
এই মন্তব্য কেবল আবেগের প্রকাশ নয়, পুরো টুর্নামেন্টেই তার প্রমাণ মিলেছে। রাউন্ড অব ১৬-তে মিসরের বিপক্ষে নির্ধারিত সময় শেষ হতে মাত্র ১১ মিনিট বাকি থাকতে তারা ২-০ গোলে পিছিয়ে ছিল। সেখান থেকেই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন করে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয়। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও ৮৫ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে ছিল তারা। কিন্তু শেষ মুহূর্তে আবারও ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয়। রাউন্ড অব ৩২-এ কেপ ভার্দে তাদের অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রতিপক্ষের একটি লাল কার্ডের সুবিধাও কাজে লাগায় আর্জেন্টিনা।
এই ধারাবাহিক প্রত্যাবর্তনের কারণেই অনেকের কাছে মনে হয়েছে, যেন ভাগ্যও তাদের পক্ষেই আছে। আবার সমালোচকদের একটি অংশ অভিযোগ তুলেছে, ফিফাও নাকি আর্জেন্টিনাকে সুবিধা দিচ্ছে। যদিও এমন অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই।
এই সমালোচনার জবাব দিয়েছেন স্বয়ং মেসি। তিনি বলেন, ‘আরও একবার আমরা নিজেদের বিশ্বের সেরা দুটি দলের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত করেছি। এটি প্রমাণ করে যে আমরা যা কিছু করেছি তার কোনোটিই আকস্মিক বা ভাগ্যের জোরে হয়নি এবং কেউ আমাদের কিছু উপহার হিসেবে দেয়নি।’
ফাইনালের কৌশলগত লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন একজন মানুষ, রদ্রি। স্পেনের পুরো খেলার ছন্দ তার পা দিয়ে পরিচালিত হয়। ফলে আর্জেন্টিনার প্রথম লক্ষ্যই হবে তাকে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া। রদ্রিকে থামাতে হলে কেবল বল কেড়ে নিলেই হবে না, তাঁকে যেন আরাম করে বল গ্রহণ করতে না দেওয়া হয়। এজন্যই ধারণা করা হচ্ছে, ম্যাচের শুরু থেকেই তাঁর ওপর থাকবে নিরবচ্ছিন্ন শারীরিক চাপ।
আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের নজর যে রদ্রির গোড়ালির দিকে থাকবে, সেটি অনেকটাই অনুমেয়। এই বিশ্বকাপে রদ্রির ৬৯৪টি সফল পাস অন্য যেকোনো ফুটবলারের চেয়ে শতাধিক বেশি। অর্থাৎ, তাঁকে থামানো গেলে স্পেনের আক্রমণ তৈরির মূল কারখানাটিই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
অন্যদিকে স্পেনও জানে, আর্জেন্টিনা ইচ্ছাকৃতভাবেই ম্যাচকে শারীরিক সংঘর্ষে নিয়ে যেতে চাইবে। তাই তাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হবে মাথা ঠান্ডা রাখা এবং প্ররোচনায় পা না দেওয়া। এই কারণেই স্লোভেনিয়ান রেফারি স্লাভকো ভিনচিচের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শুরু থেকেই তাকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখতে হবে। অতিরিক্ত আগ্রাসন নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে ফাইনালের ছন্দ দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
ফাইনালের আগে রদ্রিও স্বীকার করেছেন যে এটি সাধারণ কোনো ম্যাচ হবে না। তাঁর ভাষায়, ‘রোববারের ম্যাচটি সম্পূর্ণ ভিন্ন হবে। এটি অনেক বেশি শারীরিক শক্তির ম্যাচ হতে যাচ্ছে এবং আমাদের সেই প্রস্তুতি রাখতে হবে।’ তবে তিনি একই সঙ্গে আত্মবিশ্বাসও দেখিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি অনুযায়ী কীভাবে নিজেদের বদলাতে হয়, আমরা জানি। রক্ষণ, পাল্টা আক্রমণ কিংবা আক্রমণাত্মক ফুটবল, সব ধরনের পরিস্থিতিতেই আমরা মানিয়ে নিতে পারি। আমরা একটি অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ দল এবং এ কারণেই আজ আমরা এখানে পৌঁছেছি।’
এই ফাইনালের আরেকটি বড় আকর্ষণ লিওনেল মেসি ও লামিন ইয়ামালের মুখোমুখি হওয়া। এটি শুধু দুই ফুটবলারের লড়াই নয়, বরং দুই যুগের প্রতীকী সংঘর্ষ। মেসিকে নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। গত দুই দশক ধরে তিনি বিশ্ব ফুটবলকে শাসন করেছেন। অনেকের কাছে তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলার।
অন্যদিকে লামিন ইয়ামাল এখনো মাত্র ১৯ বছরের এক তরুণ। অথচ এই বয়সেই তিনি এমন সব অর্জন করেছেন, যা বহু খেলোয়াড় পুরো ক্যারিয়ারেও পান না। বার্সেলোনার হয়ে তিনটি লা লিগা, স্পেনের হয়ে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ এবং এখন অভিষেক বিশ্বকাপেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ।
মেসি ও ইয়ামালের তুলনা তাই অমূলক নয়। দুজনেই বার্সেলোনা থেকে উঠে এসেছেন। দুজনেই একই প্রান্তে খেলেন। দুজনেরই অসাধারণ ড্রিবলিং প্রতিভা রয়েছে। তবে ইয়ামাল কখনোই নিজেকে নতুন মেসি বলতে রাজি হননি। তিনি বরাবরই নিজের পরিচয় গড়ে তোলার কথা বলেছেন।
এই বিশ্বকাপে আসার আগে ইনজুরির কারণে তার ফর্ম কিছুটা কমে গিয়েছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে তিনি আবার নিজের সেরা ছন্দ ফিরে পেয়েছেন। ফলে ফাইনালে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের অন্যতম প্রধান দুশ্চিন্তার কারণও তিনি। এই দ্বৈরথকে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলেছে ২০০৭ সালের সেই বিখ্যাত ছবিটি, যেখানে তরুণ মেসিকে একটি শিশুকে গোসল করাতে দেখা যায়। পরে জানা যায়, সেই শিশুটি ছিল লামিন ইয়ামাল।
ফুটবলপ্রেমীদের অনেকের কাছেই এটি যেন এক প্রতীকী মুহূর্ত। কেউ একে ভাগ্যের অদ্ভুত সংযোগ বলেন, কেউ বলেন ফুটবলের ব্যাটন হস্তান্তরের পূর্বাভাস। তবে বাস্তবতা হলো, এই মুহূর্তে স্পেনের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ মেসি, আর আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ইয়ামাল।
দুই দলের যাত্রাপথ বিশ্লেষণ করলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তারা একই গন্তব্যে পৌঁছালেও পথ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। আর্জেন্টিনা এই বিশ্বকাপের একমাত্র দল যারা এখন পর্যন্ত প্রতিটি ম্যাচ জিতেছে। পরিসংখ্যানের দৃষ্টিতে এটি নিখুঁত এক অভিযান। কিন্তু ফলাফল যতটা সহজ দেখায়, বাস্তবে তাদের পথ ততটাই কঠিন ছিল। নকআউট পর্বের একাধিক ম্যাচে বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল আলবিসেলেস্তেরা। কেপ ভার্দে তাদের অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত নিয়ে যায়। মিসরের বিপক্ষে নির্ধারিত সময় শেষ হতে মাত্র ১১ মিনিট বাকি থাকতেও তারা দুই গোলে পিছিয়ে ছিল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও ৮৫ তম মিনিট পর্যন্ত হারতে বসেছিল। কিন্তু প্রতিবারই তারা ফিরে এসেছে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার অদম্য মানসিকতা যেন এই দলের সবচেয়ে বড় পরিচয়।
স্পেনের গল্পটি ভিন্ন। তারাও অপরাজিত, যদিও গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে ড্র করেছিল। শুরুতে দলটি কিছুটা ধীরগতির মনে হলেও টুর্নামেন্ট যত এগিয়েছে, ততই নিজেদের সেরা রূপ প্রকাশ করেছে। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় ছিল তাদের সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ পারফরম্যান্স। তবে স্পেনও নকআউটে সহজ পথ পায়নি। রাউন্ড অব ১৬ ও কোয়ার্টার ফাইনাল, দুই ম্যাচেই শেষ মুহূর্তে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নেমে জয়সূচক গোল করেন মিকেল মেরিনো। অর্থাৎ দুই ফাইনালিস্টের মধ্যেই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মানসিক দৃঢ়তা রয়েছে।
এই দুই দলের পার্থক্য বোঝাতে একটি পরিসংখ্যানই যথেষ্ট।
এই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার চেয়ে বেশি গোল আর কেউ করেনি। তাদের গোলসংখ্যা ১৯। অন্যদিকে স্পেনের চেয়ে কম গোলও কেউ হজম করেনি। পুরো টুর্নামেন্টে তারা মাত্র একটি গোল খেয়েছে। অর্থাৎ, ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বিধ্বংসী আক্রমণভাগ এবং সবচেয়ে শক্তিশালী রক্ষণভাগ।
এখানেই ম্যাচের প্রকৃত সৌন্দর্য।
স্পেনের শক্তি ম্যাচকে নিজেদের গতিতে নিয়ে যাওয়া। তারা প্রতিপক্ষকে বল স্পর্শ করতেই দিতে চায় না। ধৈর্য, পাসিং এবং অবস্থানগত শৃঙ্খলা দিয়ে তারা ধীরে ধীরে প্রতিপক্ষের শক্তি নিঃশেষ করে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা চায় ম্যাচকে ভেঙে ফেলতে। তারা চায় ছোট ছোট সংঘর্ষ, শারীরিক চাপ, দ্রুত ট্রানজিশন এবং আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি করতে, যেখানে মেসি বা অন্য কোনো আক্রমণভাগের খেলোয়াড় হঠাৎ করেই পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন।
এক অর্থে এটি শুধু দুটি দলের লড়াই নয়, ফুটবলের দুটি দর্শনের পরীক্ষাও। একদিকে নিয়ন্ত্রিত, পরিকল্পিত, জ্যামিতিক সৌন্দর্য। অন্যদিকে বিশৃঙ্খলার মধ্যেও লুকিয়ে থাকা সৃজনশীলতা।
ফাইনালের আগে কাগজে-কলমে সামান্য এগিয়ে রাখা হচ্ছে স্পেনকে। কারণ, তাদের খেলার ধরন বেশি নিয়ন্ত্রিত, রক্ষণভাগ আরও সুসংগঠিত এবং মাঝমাঠে রদ্রির উপস্থিতি পুরো দলকে ভারসাম্য দেয়। পাশাপাশি লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে দীর্ঘদিন একসঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতা স্পেনের বোঝাপড়াকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
তবে আর্জেন্টিনাকে অবমূল্যায়ন করার সুযোগ নেই। এই দলটি ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছে, তারা শেষ বাঁশি বাজার আগে কখনো হাল ছাড়ে না। পুরো টুর্নামেন্টে যতবারই তাদের কোণঠাসা মনে হয়েছে, ততবারই তারা ফিরে এসেছে। মেসির উপস্থিতি এমন এক মানসিক শক্তি, যা পরিসংখ্যান দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। তার সঙ্গে রয়েছে এমিলিয়ানো মার্তিনেসের নির্ভরযোগ্য গোলকিপিং, কঠোর পরিশ্রমী মিডফিল্ড এবং স্কালোনির সুচিন্তিত দলগত ভারসাম্য।
তবে এই ফাইনালকে ঘিরে আলোচনার সবটাই মাঠের ফুটবল নয়।
এই বিশ্বকাপকে যেমন অসাধারণ কিছু ম্যাচ স্মরণীয় করে রাখবে, তেমনি বিতর্কও এর উত্তরাধিকারের অংশ হয়ে থাকবে। ৪৮ দলের সম্প্রসারিত আসর যেমন নতুন দেশকে স্বপ্ন দেখিয়েছে, তেমনি কিছু নিম্নমানের ম্যাচও উপহার দিয়েছে। হাইড্রেশন বিরতি অনেকের চোখে টেলিভিশনের জন্য বানানো বাণিজ্যিক বিরতিতে পরিণত হয়েছে। প্রথমবারের মতো আয়োজিত হাফটাইম শো ফুটবলপ্রেমীদের একাংশের কাছে খেলার ঐতিহ্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হয়েছে। ফুটবলের ১৫ মিনিটের বিরতি বাড়িয়ে প্রায় ২৫ মিনিট করার সম্ভাবনাও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ড প্রত্যাহারের অভিযোগ, কর্তৃত্ববাদী নেতাদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং ফুটবলের অতিরিক্ত বাণিজ্যিকীকরণ নিয়ে প্রশ্ন। একই সঙ্গে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্লদিও "চিকি" তাপিয়ার বিরুদ্ধে অবৈধ কমিশন নেওয়ার অভিযোগও বিশ্ব ফুটবলের প্রশাসনিক অস্বচ্ছতার আরেকটি উদাহরণ হয়ে সামনে এসেছে, যদিও তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তবু ইতিহাস বলে, শেষ পর্যন্ত মানুষ বিতর্কের চেয়ে স্মৃতিকে বেশি মনে রাখে।
১৯৭০ বিশ্বকাপ মানেই পেলের ব্রাজিল।
১৯৮৬ মানেই মারাদোনা।
২০১০ মানেই স্পেনের টিকি-টাকা।
২০২২ মানেই মেসির পূর্ণতা।
সম্ভবত ২০২৬ বিশ্বকাপকেও মানুষ মনে রাখবে এই ফাইনালের জন্যই। মনে রাখবে ৪৮ দলের নতুন যুগ, কেপ ভার্দের রূপকথা, স্পেনের নিখুঁত দলগত ফুটবল, আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন, রদ্রির ছন্দ নিয়ন্ত্রণ, মেসির শেষ মহান অধ্যায় এবং লামিন ইয়ামালের সম্ভাব্য নতুন যুগের সূচনা।
শেষ পর্যন্ত এই ম্যাচে জিতবে হয়তো একটি দল, কিন্তু জয়ী হবে ফুটবলও। কারণ, নব্বই মিনিট শেষে ট্রফি উঠবে হয় স্পেনের হাতে, নয় আর্জেন্টিনার হাতে। কিন্তু বিশ্ব ফুটবল ফিরে তাকাবে আরও বড় একটি প্রশ্নের দিকে। ভবিষ্যৎ কি এখনও দলগত নিয়ন্ত্রণের? নাকি একজন প্রতিভাবান মানুষের পায়েই ইতিহাস শেষবারের মতো নতুন করে লেখা সম্ভব?
হয়তো সেই উত্তরই লুকিয়ে আছে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সবুজ ঘাসে। এবং দাবানলের ধোঁয়া যদি আকাশ ঢেকে না ফেলে, তবে রোববারের সেই রাতটি আধুনিক ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় রাত হয়ে থাকার সব উপাদানই বহন করছে।
তথ্যসূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট ও সিএনএন

ভারতের রাজনীতিতে ‘রামরাজ্য’ এখন বহুল ব্যবহৃত একটি শব্দ। আদর্শ রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতীক হিসেবে প্রায়ই এই ধারণার উল্লেখ করেন বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা। তবে বাল্মীকি রামায়ণে বর্ণিত রামরাজ্য আসলে কেমন ছিল? সেখানে ন্যায়বিচার, শাসকের দায়িত্ব এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব সম্পর্কে কী বলা...
১০ ঘণ্টা আগে
ভারতের উত্তর প্রদেশে স্থাননামের পরিবর্তনকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাচ্ছে যোগী আদিত্যনাথ সরকার। যোগীর উদ্যোগে মুসলিম বা ইসলামি ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত বলে বিবেচিত একের পর এক শহর, জনপদ ও গ্রামের নাম পরিবর্তন করে হিন্দু ধর্মীয়, পৌরাণিক বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নামে রাখা হচ্ছে...
১১ ঘণ্টা আগে
ইসরায়েল যখন অবহেলিত হয়, তখন নাকি নরকের ক্রোধও তুচ্ছ হয়ে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এতটাই জনপ্রিয় ছিলেন যে, তিনি মজা করে বলতেন—চাইলেই তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রীও হতে পারেন। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে ইতিহাসের চোখের...
১৫ ঘণ্টা আগে
চীনের তুলনায় স্টেলথ যুদ্ধবিমানের ক্ষেত্রে ভারতের সক্ষমতার ঘাটতি নিয়ে নতুন এক মূল্যায়ন প্রকাশিত হয়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, চীনের হাতে প্রায় ৫০০ পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান আছে, কিন্তু ভারতের নেই একটিও।
১৯ ঘণ্টা আগে