কোরবানির ঈদ এগিয়ে এলেও চামড়া খাতের জন্য এবার বিশেষ ঋণ দিচ্ছে না ব্যাংকগুলো। ৩ বছর আগের এ খাতের বিতরণ করা ঋণ ছিল যথাক্রমে ২৫৯ কোটি, ৪৪৩ কোটি এবং ৬১০ কোটি টাকা। তবে বিশেষ ঋণ বন্ধ থাকলেও ব্যাংক ও গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে সাধারণ ঋণ বিতরণের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু চামড়া ব্যবসায়ীদের মাঝে বিশেষ সুবিধায় ঋণ বিতরণ না হলে চামড়া সংগ্রহে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্র জানায়, সাধারণত প্রতিবছর ২ শতাংশ রেওয়াতি সুবিধার মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক চামড়া খাতে ঋণের জন্য ব্যাংকগুলোকে বিশেষ নির্দেশ দেয়। এ বছর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো মাত্র ২৭০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে। এ প্রস্তাব ব্যবসায়ীরা প্রত্যাখ্যান করেছেন। শেষ পর্যন্ত প্রক্রিয়াগত জটিলতায় এবার চামড়া খাতের ঋণ বিতরণ হচ্ছে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২১ সালে চামড়া খাতের জন্য মাত্র ২ শতাংশ এককালীন পরিশোধের মাধ্যমে ঋণ পুনঃ তফসিল করে ১০ বছরের জন্য ঋণ নিয়মিত করার সুযোগ দেওয়া হয়। সেই সুযোগে গত বছর ব্যাংকের ঋণ বরাদ্দ ছিল ২৫৯ কোটি টাকা। ২০২২ সালে ছিল ৪৪৩ কোটি, ২০২১ সালে ৬১০ কোটি, ২০২০ সালে ৭৩৫ কোটি, এবং ২০১৯ সালে ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। এদিকে চামড়া খাতে সব মিলিয়ে বিতরণ করা ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা। খেলাপি ঋণ প্রায় ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। এর প্রায় ৯০ শতাংশই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর।
বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) চেয়ারম্যান মো. শাহীন আহমেদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘চামড়া পচনশীল পণ্য হওয়ায় দ্রুত সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে হয়। সারা দেশ থেকে বিভিন্ন আড়তের মাধ্যমে সংগৃহীত চামড়া কিনতে নগদ টাকা প্রয়োজন হয়। এ জন্য ঈদ মৌসুমে খণ্ডকালীন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চামড়া সংগ্রহ করে আড়তদারেরা। কিন্তু ট্যানারিমালিকদের নিজস্ব মূলধন দিয়ে সারা বছর ব্যবসা করলেও কোরবানির সময় বেশি বাড়তি নগদ অর্থের জন্য বিশেষ ঋণ প্রয়োজন। এবার ব্যাংকগুলো ২৭০ কোটি ঋণ দিতে আগ্রহী, যা যথেষ্ট নয়। এ জন্য গ্রাহক-ব্যাংকের সম্পর্কের বিশেষ ছাড়ে ঋণের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ চলমান রয়েছে। এখন ঈদের সময় বাকি রয়েছে। নগদ ঋণ সহায়তা না হলে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’
বিটিএর তথ্য অনুযায়ী, ট্যানারিমালিক ও বাণিজ্যিক রপ্তানিকারক মিলিয়ে সংগঠনটির সদস্য প্রায় ৮০০। সারা দেশে ১ হাজার ৮৬৬টি বৃহৎ ও মাঝারি আড়ত রয়েছে। এগুলোর বাইরেও ছোট আকারে অনেক আড়ত রয়েছে, যারা মৌসুমি উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে ঈদুল আজহার সময় চামড়া সংগ্রহ করে।
জনতা ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ট্যানারি ব্যবসায়ীরা ২ শতাংশ দিয়ে ঋণ নবায়ন করতে চান না। এ কারণে ঋণের জন্য অর্থ বরাদ্দ দিলেও তা বিতরণ করা সম্ভব হয় না।
চামড়ার আড়তদার নুর ইসলাম বলেন, এ শিল্পের বেশির ভাগ কাঁচা চামড়া সংগৃহীত হয় ঈদুল আজহার সময়। কিন্তু সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে প্রতিবছর প্রায় ৩০ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়। জাতীয় প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের পাশাপাশি এ খাত থেকে গত অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়েছে প্রায় ১ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার। এ জন্য চামড়া খাতে বিশেষ নজর দিতে হবে।
বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্টস ব্যবসায়ী আজম মিয়া বলেন, ব্যাংকগুলো শুধু ট্যানারিমালিক ও রপ্তানিকারকদের ঋণ দেয়। কাঁচা চামড়া ব্যবসায় জড়িত অন্যদের ঋণ দেয় না। চাহিদা অনুযায়ী টাকা পেলে চামড়া নষ্ট কম হতো।

দেশের ব্যাংকিং খাতে সবচেয়ে বড় সমস্যা খেলাপি ঋণ। খেলাপি ঋণ আদায়ে মামলা করেও ব্যাংকগুলোর কোনো লাভ হচ্ছে না। আইনি জটিলতা, দীর্ঘসূত্রতা এবং স্থগিতাদেশের কারণে ব্যাংকের পাওনা আদায় কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
৫ ঘণ্টা আগে
দেশে তরুণ-তরুণীদের উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে এবার সহায়ক শক্তি হিসেবে পাশে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে ‘উদ্যোগ’ নামে একটি বিশেষ প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। উদ্যোক্তার ক্যারিয়ার গড়তে যাদের বড় স্বপ্ন আছে, বাস্তবসম্মত পরিকল্পনাও আছে, কিন্তু পুঁজির অভাবে থমকে আছে—এমন উদ্যোগে গতি দেবে নতুন
৫ ঘণ্টা আগে
আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণ ব্যয় হিসাব করেই ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ করা হয় বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। আজ বৃহস্পতিবার মহাখালীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
১৩ ঘণ্টা আগে
আইএফসি হলো বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বেসরকারি খাতবিষয়ক শাখা। ব্র্যাক ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে এই আনসিকিউরড ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সলিউশন (ডব্লিউসিএস) সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এই ঋণের মূল লক্ষ্য হলো নারী উদ্যোক্তাদের পরিচালিত ব্যবসা এবং কৃষি খাতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক সহায়তা...
১৩ ঘণ্টা আগে