শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

সেকশন

 

পুতিনের পঞ্চম তারপর...

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:৩৬

আব্দুর রাজ্জাক রাশিয়ার নির্বাচনে পুতিন জয়লাভ করবেন, এ ব্যাপারে কারও মনে কোনো সন্দেহ ছিল না। শুধু একটা বিষয়ে সবার মনে একটু দ্বিধা ছিল, প্রদত্ত ভোটের কত ভাগ পুতিন পাবেন। পুতিনের জনপ্রিয়তা সব সময়ই ৭০ ভাগের ওপরে থেকেছে, ক্ষমতায় আসার পর থেকেই।

গত নির্বাচনের আগে পুতিনের জনপ্রিয়তা ছিল ৭৩ ভাগ। এবারের নির্বাচনের পর সর্বকালের রেকর্ড ছাড়িয়ে পুতিন পেয়েছেন ৮৭ শতাংশ ভোট। রাশিয়া ২০২২ সালের ২২ এপ্রিল ইউক্রেনে বিশেষ অভিযান চালানোর পর থেকে অনেকে বলেছিলেন, এবার পুতিন তাঁর জনপ্রিয়তা রাশিয়ার মধ্যেই হারাবেন। বাস্তবে দেখা গেল, পুতিনের জনপ্রিয়তা আরও বেড়ে গেছে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার ঘোষিত বিশেষ অপারেশন এখন যুদ্ধে রূপ নিয়েছে, পুতিন নিজেই এটা ঘোষণা করেছেন। সারা বিশ্বের টনক নড়েছে, ইউক্রেন থেকে রাশিয়া তার সেনা অপসারণ করবে না। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ সহজে শেষ হবে না। জয় না পাওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধ বন্ধ করবে না রাশিয়া।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আমেরিকা আগের মতো ইউক্রেনকে সমরাস্ত্র দিয়ে এগিয়ে আসছে না। এদিকে আমেরিকার নির্বাচন আসন্ন, অনেকে মনে করছেন ট্রাম্প আবার প্রেসিডেন্ট হবেন, এই ট্রাম্প বারবারই বলে আসছেন, তিনি প্রেসিডেন্ট থাকলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ হতো না। এদিকে ন্যাটো প্রকারান্তরে বলে দিয়েছে, রাশিয়াকে সামরিক যুদ্ধে পরাজিত করা সম্ভব নয়। রাশিয়া-ইউক্রেনের সাধারণ সমরাস্ত্রের অনুপাত হলো ৭: ১। এ ছাড়া রাশিয়ার রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্র, সাবমেরিনসহ বিভিন্ন ধরনের অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র, এই অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রের মোকাবিলা করতে পারে একমাত্র আমেরিকা।

সারা বিশ্ব বুঝে নিয়েছে, রাশিয়ায় পুতিনের শাসন চলবে আরও বেশ কয়েক বছর। সপ্তাহ তিনেক আগে আমেরিকার পক্ষ থেকে মস্কোকে সাবধান করা হয়েছিল রাশিয়ায় চোরাগোপ্তা হামলা হতে পারে। কিন্তু এই বক্তব্যের সপক্ষে তেমন কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যভিত্তিক উপাত্ত ছিল না। রাশিয়া এটাকে তেমন গুরুত্বপূর্ণ কিছু মনে করেনি। পুতিনের বিজয়, আমেরিকার সাবধান বাণীর পরে ২২ মার্চ ঘটে গেল মস্কোর অদূরে ক্রোকাস কনসার্ট হলে প্রলয়ংকরী হত্যাকাণ্ড। ১৩৩ জন মানুষের প্রাণ গেল, শত শত লোক আহত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে।

রাশিয়ার মানুষ মনে করছে, পুতিনের বিজয়ে ইউক্রেনের বন্ধুরা এই হামলার পেছনে আছে। যদিও এই হামলার দায় আইএস স্বীকার করেছে, কিন্তু রাশিয়ার জনগণ সেটা বিশ্বাস করছে না। তারা ভাবছে, এর পেছনে আইএসের পাশাপাশি আরও কেউ আছে।

পুতিনের ভূমিধস বিজয়, তাঁর বিরুদ্ধে ধর্মীয় কোনো উসকানি কাজ না করা ইত্যাদি কারণেই আইএসকে সামনে এনে মস্কোর অদূরে ক্রোকাস কনসার্ট হলে হামলা করা হলো। এখানে মনে করিয়ে দেওয়া যেতে পারে, এই আইএসের জন্ম দিয়েছিল আমেরিকা। সিরিয়ায় আইএসকে পরাজিত করেছে রাশিয়া। আমেরিকা তালেবান সৃষ্টি করেছিল, আবার তালেবানকে দমন করার নামে আফগানিস্তান দখল করেছিল। যে চার ব্যক্তি আইএস সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে, তারা সবাই মুসলিম নামধারী, মাখমাদারাসুল নাসিরিদিনভ, রিভোজিদিন ইসলামভ, সামসোদ্দিন সাফোজিজোদা, রোস্তভ নাজারভ—এই চারজন, আইএস সদস্য তাদের ওয়েবসাইটে এই দায় স্বীকার করেছে।

রাশিয়ার জনগণ এই ‘আইএস নাটক’ সহজভাবে নিচ্ছে না। রাশিয়ার জনগণের মুখে মুখে প্রচারিত হচ্ছে, এই আইএস যারা সৃষ্টি করেছে, তারাই ইউক্রেনকে সহযোগিতা করার জন্য এ কাণ্ড ঘটিয়েছে।

গাজায় ইসরায়েল যে গণহত্যা চালাচ্ছে, এই গণহত্যার প্রত্যক্ষ মদদদানকারী হচ্ছে আমেরিকা ও ইউকে। এই গণহত্যার বিপক্ষে, ফিলিস্তিনের পক্ষে সরাসরি সমর্থন দিচ্ছে রাশিয়া। সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরবসহ সবাই এখন রাশিয়ার কর্মকাণ্ডকে সমর্থন দিচ্ছে। এসব দেখে আইএস, অর্থাৎ উগ্র মৌলবাদী সংগঠন দিয়ে রাশিয়ায় আক্রমণ করার অর্থ, বিশ্বের মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরানো।

রাশিয়া যেন মুসলিম বিশ্বের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখায়, ফিলিস্তিনসহ মুসলমানদের প্রতি রাশিয়ার মনোভাব নেতিবাচক হয়, এই আক্রমণ ছিল তার অপচেষ্টা। রাশিয়ার জনগণের মনোভাব দেখে মনে হচ্ছে, যেসব কুশীলব এই নাটক সাজিয়েছে, সেটা তারা মেনে নিচ্ছে না। যতই জলবৎ তরলং সরল অঙ্ক মেলানো হোক না কেন, সরল অঙ্ক মেলানো অত সহজ নয়। তাই তো পুতিন ঘোষণা করেছেন, এই হামলার মূলে তিনি যাবেন। এই হামলার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের শাস্তি পেতেই হবে।

রাশিয়ার অর্থনীতি বর্তমান সময়ে যথেষ্ট শক্তিশালী। আমেরিকাসহ পশ্চিমা বিশ্বের এত নিষেধাজ্ঞা, এত অবরোধের পরেও রাশিয়ার অর্থনীতির ভিত পেছনের সব সময়ের চেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। সারা বিশ্বের একটি কথা মনে রাখা প্রয়োজন, জ্বালানি, খাদ্যপণ্য, ভোগ্যপণ্যসহ সব মিনারেল রিসোর্স রয়েছে রাশিয়ায়। বলতে গেলে এখনো সবচেয়ে বড় দেশ বিশ্বের মধ্যে রাশিয়া।

জনসংখ্যা মাত্র সাড়ে ১৪ কোটি। এই সাড়ে ১৪ কোটির মধ্যে বেশির ভাগ মানুষ বিজ্ঞানমনস্ক সুশিক্ষিত ও দেশপ্রেমিক। রাশিয়াকে পরাজিত করা আপাতত সম্ভব হচ্ছে না কারোর পক্ষেই। এই বাস্তব সত্যটা যদি সারা বিশ্ব মেনে নেয়, সেটা মঙ্গল হবে সারা বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের জন্য।

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, পাল্টা আক্রমণের মহড়া চলছে, এর মধ্যেই রাশিয়া ভূমধ্যসাগরে অত্যাধুনিক কিনঝাল হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী যুদ্ধজাহাজ প্রেরণ করেছে। এ ঘটনায় ইসরায়েলের কিছুটা উত্তেজনা কমবে, মধ্যপ্রাচ্যে হয়তো কোনো একটা চুক্তির মধ্যে এসে যুদ্ধ বন্ধ হতেও পারে।

কোনো যুদ্ধের ক্ষেত্রে যদি সমান সমান প্রতিরোধ না করা হয়, দুই পক্ষেরই যদি সমান সমরাস্ত্র না থাকে, তাহলে শান্তি আসে না। একপক্ষ দুর্বল ও অন্যপক্ষ শক্তিশালী হলে যুদ্ধে জয়-পরাজয় ঘটে, স্থায়ী সমাধান হয় না। বোদ্ধারা মনে করেন, পুতিনের পদক্ষেপটি ঠিকই আছে।

লেখক: প্রকৌশলী

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    পঠিতসর্বশেষ

    এলাকার খবর

     

    বাড়তি ভাড়ার খড়্গ আম রপ্তানিতে

    সাক্ষাৎকার

    ট্রলকে কখনোই পাত্তা দিই না, আমার যোগ্যতা আমি জানি

    উপাচার্য-শিক্ষকদের দ্বন্দ্বে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীরা

    মুজিবনগর সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গি

    ইউরোপে অভিবাসন: কপাল পুড়ছে বাংলাদেশিদের

    বিদ্যুৎ নিয়ে সরকারের অনেক চ্যালেঞ্জ

    মিয়ানমার জান্তার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যোগ দিচ্ছেন পশ্চিমা স্বেচ্ছাসেবী যোদ্ধারা

    পুলিশের কিশোর গ্যাং বিরোধী র‍্যালিতে গ্যাং লিডার মিজান

    ১০৪ পদে কর্মী নেবে ঢাকা কর অঞ্চল-১৯

    ‘কহো না পেয়ার হ্যায়’ সিনেমার হৃত্বিকের সেই ভাই এখন যেমন আছেন