বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

সেকশন

 

চাক'রা চাকমা নয়, এরা একটি জনগোষ্ঠী 

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৬:৪৯

বান্দরবানের বাইশারি ভেতর চাক পাড়া। ছবি: আজকের পত্রিকা 'চাক' শব্দটি ভুল মনে করে অনেকে 'চাক'-এর সঙ্গে 'মা' যুক্ত করে দিয়ে চাকমা লিখে দেন। কিন্তু চাক পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী। এরা চাকমা নয়। এরা চাক জনগোষ্ঠী। 
 
চাকদের নিয়ে সরকারি কোনো জরিপ নেই। তবে ধারণা করা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী জনসংখ্যার দিক দিয়ে চতুর্থ জনগোষ্ঠী হলো চাক। সর্বশেষ চাকদের দেওয়া তথ্যমতে, এদের জনসংখ্যা আড়াই হাজার। এই জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা রয়েছে, আছে নিজস্ব বর্ণমালা। চাক ভাষাকে তু বলা হয়। এরা মূলত বুদ্ধ ধর্ম অনুসারী। 

বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে ১৪টি পাড়ায় চাকদের বাস। রাঙামাটি বা খাগড়াছড়ি জেলায় চাকদের কোনো একক পাড়া নেই। কয়েকটি পরিবার বিক্ষিপ্তভাবে শহরের অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের সঙ্গে বসবাস করে।

২০১১ সালের জরিপমতে, চাকদের জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার। এদের সংখ্যা বর্তমানে বেড়েছে বলে মনে করেন চাকরা। তাঁদের ধারণা, এদের সংখ্যা এখন ৪ থেকে ৫ হাজার।

শত প্রতিকূলতা জয় করে এগিয়ে যাচ্ছে চাক জনগোষ্ঠী। এই জনগোষ্ঠী থেকে ১০ জনের বেশি স্নাতকোত্তর পাস, ৫০ জনের অধিক স্নাতক পাস করেছেন। এ ছাড়া ৬ জন এমবিবিএস ডাক্তার আছেন। এদের মধ্যে একজন বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার। বাকিরা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যুক্ত আছেন। 

বান্দরবানের বাইশারি ভেতর চাক পাড়া। ছবি: আজকের পত্রিকা স্নাতক পাসের পর সরকারি বিভিন্ন বিভাগে চাকরি করছেন অনেকে। বাকিরা এনজিওতে কর্মরত আছেন। সরকারি চাকরিজীবী সব মিলে ১০০ জনের বেশি হতে পারে বলে দাবি চাকদের। অনেকে বেসরকারি সংস্থায় বা শহর ও দেশের বিভিন্ন জেলায় কলকারখানা বা ফার্মে চাকরি করেন। চাকমাদের মতে, তাদের শিক্ষার হার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ বা তারও বেশি হতে পারে। 

তাদের নেই কোনো চেয়ারম্যান। ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড সদস্য আছেন চারজন। চাকদের সর্বোচ্চ প্রতিনিধি বান্দরবান জেলা পরিষদের সদস্য ক্যনে ওয়ান চাক। 

এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা পরিষদের সদস্য ক্যনে ওয়ান চাক বলেন, বিভিন্ন প্রতিকূলতায় চাকরা তাদের অস্তিত্ব ধরে রেখেছে। চাকরিতে বিশেষ কোটা না থাকায় লেখাপড়া শেষ করে বেকার থাকছে আমাদের ছেলেরা। অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হওয়ার কারণে ব্যবসাও করতে পারছে না। সরকারের সহযোগিতা পেলে আমরা আরও এগিয়ে যেতে পারব। সে জন্য আমাদের বিশেষ কোটা দরকার। 

চাক সম্প্রদায়ের নেতা চিংহ্লা মং চাক বলেন, চাকরা যুগ যুগ ধরে সরকারি সুযোগ-সুবিধায় বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে। পাকিস্তান আমলে দুটি এবং পার্বত্য চুক্তির পর তিনটি চাক গ্রাম উচ্ছেদের শিকার হয়েছে। আরও িতন-চারটি চাক গ্রাম উচ্ছেদের আশঙ্কা রয়েছে। প্রভাবশালী ভূমিদস্যু কর্তৃক রাবারবাগান কোম্পানি এ উচ্ছেদের নেতৃত্ব দিচ্ছে। এগুলো বন্ধ করা দরকার। রাষ্ট্র যদি নৃগোষ্ঠীদের পাশে থাকে, তাহলে তাদের অস্তিত্ব নিয়ে সংগ্রাম করতে হবে না।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

    যাত্রীর জ্যাকেটের ভেতরে মিলল ২ কোটি টাকার স্বর্ণ

    যাত্রীর জ্যাকেটের ভেতরে মিলল ২ কোটি টাকার স্বর্ণ

    আলীপুরে জেলেদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১৫

    আলীপুরে জেলেদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১৫

    গাড়ি সাইড না দেওয়ায় ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকে সাংসদের চড়

    গাড়ি সাইড না দেওয়ায় ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকে সাংসদের চড়

    ভেড়ামারায় লালন শাহ সেতুতে সড়ক দুর্ঘটনায় শ্রমিক নিহত

    ভেড়ামারায় লালন শাহ সেতুতে সড়ক দুর্ঘটনায় শ্রমিক নিহত

    কালীগঞ্জে মা-বাবার সামনে পিকআপের চাকায় পিষ্ট হলো মেয়ে

    কালীগঞ্জে মা-বাবার সামনে পিকআপের চাকায় পিষ্ট হলো মেয়ে

    উখিয়ায় র‍্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ী নিহত

    উখিয়ায় র‍্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ী নিহত

    যাত্রীর জ্যাকেটের ভেতরে মিলল ২ কোটি টাকার স্বর্ণ

    যাত্রীর জ্যাকেটের ভেতরে মিলল ২ কোটি টাকার স্বর্ণ

    তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনে শক্তিশালী আইন জরুরি

    তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনে শক্তিশালী আইন জরুরি

    মাগুরায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জলাবদ্ধতায় ভোগান্তি শিক্ষার্থীদের

    মাগুরায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জলাবদ্ধতায় ভোগান্তি শিক্ষার্থীদের

    ইভ্যালির ব্যবসায় ভুল স্বীকার রাসেলের

    ইভ্যালির ব্যবসায় ভুল স্বীকার রাসেলের

    সেই গার্দিওলাকেই ফেরাতে চায় বার্সেলোনা!

    সেই গার্দিওলাকেই ফেরাতে চায় বার্সেলোনা!

    আলীপুরে জেলেদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১৫

    আলীপুরে জেলেদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১৫