ইলা মিত্রকে শামসুর রাহমান প্রথম দেখেন কলকাতার এক অতিসাধারণ আটপৌরে ফ্ল্যাটে। রমেন মিত্র আর তিনি থাকতেন সেখানে। পাশেই থাকতেন লেখক, সাংবাদিক রণেশ দাশগুপ্ত—লেনিন স্কুলের এক কোণে ছোট্ট একটি ঘরে। সে ঘরটিকে দেখে শামসুর রাহমানের মনে হয়েছিল, এ বুঝি দস্তয়েভ্স্কির ‘নোটস ফ্রম আন্ডারগ্রাউন্ডে’র নায়কের ভূগর্ভস্থ হতশ্রী সংকীর্ণ কামরা। রণেশ দাশগুপ্তকে শামসুর রাহমান বললেন, ‘ইলা মিত্রের সঙ্গে দেখা করতে চাই।’
খুশিমনে তাঁকে সে বাড়িতে নিয়ে গেলেন রণেশ দাশগুপ্ত। কমিউনিস্ট আন্দোলনের কিংবদন্তি নেত্রী ইলা মিত্রকে দেখে শিহরিত হলেন শামসুর রাহমান। নাচোলের সাঁওতাল কৃষকদের ‘রাণীমাতা’র সংগ্রামী জীবন ভেসে উঠল কবির চোখে।
এরপর আরও কয়েকবার দেখা হয়েছে ইলা মিত্রের সঙ্গে। তাঁকে নিয়ে লেখালেখির ইচ্ছেও হয়েছে। তাঁর মনে পড়েছে, বহু বছর আগে প্রগতিশীল সংগ্রামী কবি গোলাম কুদ্দুস ইলা মিত্রকে নিয়ে একটি সুদীর্ঘ কবিতা লিখেছিলেন। সেখানে গোলাম কুদ্দুস ইলা মিত্রকে ‘স্তালিন নন্দিনী’ ফ্যাসিস্ট কারাগারে নিহত ‘ফুচিকের বোন’ বলে সম্বোধন করেছিলেন। মুর্তজা বশীর ইলা মিত্রকে বিষয়বস্তু করে একটি তেলচিত্র আঁকেন, তার অনুপ্রেরণা ছিল শামসুর রাহমানের কবিতা ‘তাঁর শয্যার পাশে’। ইলা মিত্রকে নিয়ে আলাউদ্দিন আল আজাদ যে গল্পটি লেখেন, তার নাম ছিল ‘কয়েকটি কমলালেবু’। গল্প লিখেছিলেন দীপেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। দৈনিক সংবাদে পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণে নিহত শহীদ সাবের ইলামিত্রকে নিয়ে লিখেছিলেন দীর্ঘ কবিতা। কিন্তু সে কবিতাটি কোথাও পাওয়া যায়নি।
শামসুর রাহমান কি ইলা মিত্রকে নিয়ে কবিতা লিখেছিলেন? তিনি বলছেন, ‘আমি আজ অবধি ইলা মিত্রকে নিয়ে কোনো কবিতা লিখিনি। যদি বেঁচে থাকি হয়তো একদিন কবিতায় তাঁকে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করব। সম্ভবত সেই কবিতা হঠাৎ তিন-চার দিনের মধ্যে রচিত হতে পারে কিংবা তিন-চার মাস পরেও হতে পারে। কবিতার জন্মের কোনো নিশ্চয়তা নেই।’
সূত্র: শামসুর রাহমান গদ্যসংগ্রহ, পৃষ্ঠা ২৪০-২৪৪

একাত্তরের জানুয়ারিতে ছুটি নিয়ে করাচি থেকে ঢাকায় এসেছিলেন পাকিস্তান বিমানবাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান। ২৫ মার্চের কালরাতে তিনি ছিলেন নরসিংদীর পৈতৃক বাড়িতে। সে রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পৈশাচিক গণহত্যা দেখে তিনি সিদ্ধান্ত নেন দেশের জন্য কিছু করার।
৭ দিন আগে
স্মৃতিচারণা করে ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক বলেন, ‘যতদূর মনে পড়ে তখন দুটো-আড়াইটা হবে। ইউনিভার্সিটি, মেডিকেল কলেজ এবং পরিষদ ভবনসংলগ্ন এলাকা তখন ধোঁয়াচ্ছন্ন রণক্ষেত্র। মেডিকেল কলেজ হোস্টেলের ১নং রুম কন্ট্রোল রুমে পরিণত হয়। মাওলানা তর্কবাগীশ, ধীরেন দত্ত, শামসুদ্দীন ও কংগ্রেস পার্টির সদস্যরা পরিষদ বয়কট...
১২ দিন আগে
সাঈদ হায়দার স্মৃতিচারণা করেছেন এভাবে: ‘দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলো, সংঘর্ষের তীব্রতা কমল না। প্রতিবাদমুখর ছাত্র-জনতাকে পুলিশ লাঠি চালিয়ে শান্ত করতে পারল না। তারা গুলি চালালো, গুলি চালালো মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসের সামনের রাস্তায়। জব্বার আর রফিক প্রাণ হারালো।
১৪ দিন আগে
মোহাম্মদ সুলতান ছিলেন ভাষা আন্দোলনের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারী এবং একুশের প্রথম সংকলনের প্রকাশক। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম যেকোনো মূল্যে ১৪৪ ধারা ভাঙতে হবে। এ বিষয়ে আলোচনার জন্য আমরা রাত ১টায় ফজলুল হক হল ও ঢাকা হলের মধ্যবর্তী সিঁড়িতে এক বৈঠকে মিলিত হই।
১৯ দিন আগে