ট্রেনের ধাক্কায় মাঝেমধ্যেই দুমড়েমুচড়ে যাচ্ছে বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল কিংবা অন্যান্য যানবাহন। ঘটছে প্রাণহানিও। শুধু তা-ই নয়, কখনো কখনো ট্রেনের সঙ্গে যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটছে। রেললাইনে কাটা পড়ে মৃত্যু, অন্য বাহনের সঙ্গে ট্রেনের ধাক্কা কিংবা সংঘর্ষে মৃত্যুর মিছিল বেড়ে চলেছে। গত পাঁচ বছরে শুধু রেলের হিসাবেই এমন মৃত্যুর সংখ্যা সাড়ে তিন শতাধিক। যদিও বেসরকারি হিসাবে এর সংখ্যা দুই গুণের বেশি। দু-এক দিন পরপর ঘটছে দুর্ঘটনা; তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মৃত্যুর সংখ্যা এক বা দুজন হওয়ায় তা গণমাধ্যমে বড় শিরোনামে আসে না। একসঙ্গে অনেক মানুষের মৃত্যু, কিংবা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি হলে তখনই কেবল গণমাধ্যমে আসছে সেসব খবর।
বাসের সঙ্গে তো ট্রেনের সংঘর্ষ হওয়ার কথা নয়। কারণ, একটি সড়কপথের বাহন, অন্যটি রেলপথের। দুটি চলে দুই পদ্ধতিতে। দুটির গতি এবং পথ ভিন্ন। তাহলে সংঘর্ষ কেন? উত্তর হলো, দুটির পথ ভিন্ন হলেও বাংলাদেশে দুই ধরনের যানবাহনই চলছে এক পথে। রেললাইনের দুই পাশের জমি দখল করে বানানো হয়েছে সড়কপথ, যেন সড়কের বুক চিড়ে বয়ে চলেছে রেললাইন। রেললাইনের দুই পাশের ২০ ফুট জমিতে সব সময় ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে, তা ভঙ্গ করে লাইনের ওপর দিয়ে একই সঙ্গে চলছে সড়কপথের যানবাহন। সড়কপথের যানবাহন রেললাইনের ওপর উঠে গেলে ঘটছে দুর্ঘটনা, প্রাণহানি।
রেললাইনের মাঝখান দিয়ে যানবাহন পারাপারের জন্য বানানো হয়েছে লেভেল ক্রসিং। এখানেই ঘটে দুর্ঘটনা। এই মুহূর্তে বাংলাদেশে রেললাইন রয়েছে ৩ হাজার ১৮ কিলোমিটার। আর লেভেল ক্রসিংয়ের সংখ্যা ২ হাজার ৬০০। তার মানে প্রায় প্রতি কিলোমিটারে একটি করে লেভেল ক্রসিং রয়েছে। রেলের তথ্য বলছে, দেশে বর্তমানে অবৈধ লেভেল ক্রসিং আছে ১ হাজার ৩০০। তবে বাস্তবতা ভিন্ন। গ্রামগঞ্জে যে হারে লেভেল ক্রসিং চোখে পড়ে তাতে এর সংখ্যা ১ হাজার ৫০০ ছাড়াবে। ট্রেন চলাচল নির্বিঘ্ন করতে রেলওয়ে যেসব লেভেল ক্রসিং নিজেরা বানিয়েছে, সেগুলো বৈধ। আর যেসব ক্রসিং রেল বানায়নি বা রেলের কাজেও লাগে না, সেগুলো রেলের ভাষায় অবৈধ। তার মানে রেল ছাড়াও অন্য কেউ রেললাইনের ওপর ক্রসিং বানায়!
কী ভয়াবহ ব্যাপার, রেললাইনের ওপর নিজের প্রয়োজনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা রাস্তার মাঝখানে কেটে পারাপারের সুবিধা করতে লেভেল ক্রসিং বানিয়ে নিয়েছে। এই অবৈধ ক্রসিংয়ের সংখ্যা বৈধ ক্রসিংয়ের চেয়েও বেশি। কী তাজ্জব না? একটি দেশের পুরো রেলব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করে মানুষ নিজের প্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসা, নিজেদের মালামাল পরিবহন, হেঁটে সহজে অফিসে প্রবেশের মতো সুবিধার জন্য লেভেল ক্রসিং বানিয়ে নিয়েছে নিজেদের ইচ্ছামতো। শুধু তা-ই নয়, নিজ বাসাবাড়িতে সহজে প্রবেশ করার জন্য ব্যক্তি পর্যায়েও রাস্তা কেটে লেভেল ক্রসিং বানানোর নজির আছে আমাদের দেশে। ফলে দুর্ঘটনা বাড়ছে প্রতিদিন, বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। খোদ রাজধানীতেই গত পাঁচ মাসে ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছে ১৯ জন।
ঘন ঘন ক্রসিংয়ের কারণে সক্ষমতা থাকলেও ট্রেন উচ্চগতিতে চলতে পারে না। গতি কমিয়ে চলতে হয়, যেন দুর্ঘটনা না হয়। এই সব ক্রসিংয়ের কারণে মাশুল দিতে হয় রেলযাত্রীদের। কেননা, সব লেভেল ক্রসিং যৌক্তিক নয়, বহু অযৌক্তিক চাহিদাতেও গড়ে উঠেছে লেভেল ক্রসিং। যার কারণে ট্রেনের গতি কমার পাশাপাশি বেড়েছে দুর্ঘটনা। এসব অবৈধ লেভেল ক্রসিংয়ে কোনো গেটম্যান নেই, নেই কোনো সতর্কব্যবস্থাও। ফলে হরহামেশাই ঘটছে দুর্ঘটনা।
রেলের হিসাবে ২০১৪ সালে লেভেল ক্রসিংয়ে কাটা পড়ে মারা গেছে ৫৪ জন। ২০১৫ সালে মারা গেছে ৩০ জন। ২০১৬ সালে মারা গেছে ১৩ জন। ২০১৮ সালে মারা গেছে ১৭। আর ২০১৯ সালে মারা গেছে ২০ জন। বেশির ভাগ সময়ই এ ধরনের দুর্ঘটনার জন্য রেল অবৈধ লেভেল ক্রসিংগুলোকেই দায়ী করে থাকে। প্রতিবছরের হিসাবে এ বছর দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এর সংখ্যা আরও বাড়বে। ১৯ ডিসেম্বর ২০২০, জয়পুরহাটে লেভেল ক্রসিংয়ে কাটা পড়ে মারা যায় ১২ জন মানুষ। ২০২১ সালে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছে রেল কর্মকর্তারাই। এরপরও অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এসব লেভেল ক্রসিংয়ের বিরুদ্ধে কখনোই কোনো ব্যবস্থা নেয়নি রেল কর্তৃপক্ষ।
রেলের হিসাবমতে, সারা দেশে অবৈধ লেভেল ক্রসিং সবচেয়ে বেশি বানিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। তাদের লেভেল ক্রসিংয়ের সংখ্যা ৫১৬টি, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) অবৈধ লেভেল ক্রসিং ১১টি। ইউনিয়ন পরিষদের অবৈধ লেভেল ক্রসিংয়ের সংখ্যা ৩৬৩টি। পৌরসভা অবৈধ লেভেল ক্রসিং বানিয়েছে ৮০টি। সিটি করপোরেশনের অবৈধ লেভেল ক্রসিংয়ের সংখ্যা ৩৪টি। জেলা পরিষদ অবৈধ লেভেল ক্রসিং বানিয়েছে ১৩টি। চট্টগ্রাম বন্দর অবৈধ লেভেল ক্রসিং বানিয়েছে ৩টি। বেনাপোল বন্দরেরও ১টি অবৈধ লেভেল ক্রসিং রয়েছে। আর সর্বশেষ জয়পুরহাটে যে ১২ জন লোক মারা গেল, সেখানে চিনিকল কর্তৃপক্ষের রয়েছে ৩টি অবৈধ লেভেল ক্রসিং।
মাত্র ৩ হাজার কিলোমিটার রেলপথে যদি বাড়ি বাড়ি পৌঁছানোর জন্য একটি করে লেভেল ক্রসিং হয়, তবে দুর্ঘটনা বাড়বে—এটাই স্বাভাবিক। এই লেভেল ক্রসিং শুধু দুর্ঘটনাই বাড়াচ্ছে না, পুরো রেলব্যবস্থাকে ফেলছে হুমকির মুখে। অথচ কী আজব তামাশা! রেললাইন কেটে কে কখন ক্রসিং বানাচ্ছে, রেলপথ মন্ত্রণালয় তা জানেই না, অনেক সময় জেনেও ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
অবৈধ লেভেল ক্রসিংগুলো যদি সত্যিই মানুষের প্রয়োজন হয়ে থাকে, তাহলে সেগুলোকে বৈধতা দেওয়া হোক। আর অযৌক্তিক লেভেল ক্রসিংগুলোকে বন্ধ করে দেওয়া হোক। ট্রেনের গতি বাড়ানোর জন্য কমানো হোক লেভেল ক্রসিংয়ের সংখ্যা। আবার বৈধ ক্রসিংয়ের হাজারটি চলছে গেটম্যান ছাড়া। সেখানে লোকবল নিয়োগ দিয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হোক।
পৃথিবীর সব দেশের নিরাপত্তা গতি আর প্রযুক্তির দিকে নজর দেওয়া হলেও বাংলাদেশের রেলওয়ে চলছে সেই ব্রিটিশ আমলের পুরোনো পদ্ধতিতে। অবৈধগুলোকে বৈধতা দিয়ে আর লোকবল নিয়োগ দিলেই লেভেল ক্রসিংয়ে মানুষের মৃত্যু কমবে না। এ জন্য দরকার আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন ক্রসিংব্যবস্থা। অটোমেটিক সিগন্যালিং ব্যবস্থা। লেভেল ক্রসিংয়ে প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা। আধুনিক রেলব্যবস্থায় ক্রসিংয়ে তিন স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকে, অথচ আমরা পড়ে আছি এখনো মান্ধাতা আমলের সিগন্যাল পদ্ধতি নিয়েই। যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ, সাংবাদিক, সুশীল সমাজ সবাই বলছেন, প্রতিদিন বলছেন, লেভেল ক্রসিং কমিয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য। কিন্তু সে কাজটি যেন হয়ে উঠছে না।
গত ১০ বছরে উন্নয়নে খরচ করা হয়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকা। চলছে ৪৩টি উন্নয়ন প্রকল্প, যার সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা। বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ; তবু কমছে না মৃত্যুর সংখ্যা। টাকা খরচ হচ্ছে ঠিকই, তবে কেন জানি লেভেল ক্রসিং আধুনিকীকরণে মনোযোগ নেই রেলের। তবে কি এভাবেই চলবে রক্তক্ষরণের উন্নয়ন?
লেখক: নাজমুস সালেহী গণমাধ্যমকর্মী

গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে সর্বশেষ (৫৪ তম) সাক্ষীর জেরা শুরু হয়েছে। এই মামলাটির বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ।
০৬ অক্টোবর ২০২৫
‘দুই দিন আগেই বাড়ি থেকে পাথরঘাটায় চলে এসেছি। এখন পুরোনো জাল সেলাই করছি। এক সপ্তাহের বাজারও করে এনেছি। আজ বিকেলে সাগর মোহনায় যাব, গভীর রাত থেকে জাল ফেলব।’ কথাগুলো বলছিলেন বরগুনা সদরের বাইনচটকী এলাকার জেলে হোসেন আলী। গতকাল বুধবার সকালে বরগুনার পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে কথা হয় তাঁর...
১২ জুন ২০২৫
ভারতের স্থলবন্দর নিষেধাজ্ঞার পর সীমান্তে আটকে থাকা তৈরি পোশাক, খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের ট্রাকগুলো ফেরত আনছেন রপ্তানিকারকেরা। তবে যেসব ট্রাক বন্দরে ঢুকে গিয়েছিল, সেগুলো ভারতে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এসব ট্রাক ঢুকতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে।
১৯ মে ২০২৫
আধুনিক যুগের সবচেয়ে বিস্ময়কর প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারগুলোর একটি হচ্ছে গৌতম বুদ্ধের দেহাবশেষের সঙ্গে সম্পর্কিত ঐতিহাসিক রত্নসম্ভার। গতকাল বুধবার হংকংয়ে বিখ্যাত আর্ট নিলাম কোম্পানি সাদাবি’স-এর এক নিলামে এগুলো তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
০৮ মে ২০২৫