Ajker Patrika

প্রযুক্তিবিশ্বে যে উদ্যোগগুলো মুখ থুবড়ে পড়েছে

ফিচার ডেস্ক
প্রযুক্তিবিশ্বে যে উদ্যোগগুলো মুখ থুবড়ে পড়েছে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের জয়জয়কারের যুগে প্রতিদিন নতুন নতুন স্টার্টআপ ও প্রযুক্তি বাজারে আসছে। তবে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল মার্কেট ইন্টেলিজেন্সের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪২ শতাংশ এআই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত তাদের করপোরেট প্যারেন্ট কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে বন্ধ হয়ে যায়। অপর্যাপ্ত তহবিল, প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ, তীব্র প্রতিযোগিতা কিংবা দুর্বল ব্যবহারকারী চাহিদার কারণে এআই খাতে তৈরি হচ্ছে এক বিশাল ‘কবরস্থান’। আলোচিত কিছু এআই পণ্য ও প্রজেক্টের ব্যর্থতার খতিয়ান নিচে তুলে ধরা হলো।

বড় প্রযুক্তি জায়ান্টদের হোঁচট

অডিওমেশনের বিকল্প হিসেবে গড়ে ওঠা রিলে টুলটি বড় প্ল্যাটফর্মগুলোর কারণে টিকতে পারেনি। ফলে চলতি বছরের আগস্টে এটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। একইভাবে চ্যাটবট প্ল্যাটফর্ম ক্যারেক্টার ডট এআই মাত্র পাঁচ বছরের মাথায় দেউলিয়া ঘোষণা হয়। ২০২১ সালে গুগলের সাবেক গবেষক নোম শাজের এবং ড্যানিয়েল ডি ফ্রেইটাস প্ল্যাটফর্মটি প্রতিষ্ঠা করেন। ব্যবহারকারীরা এতে নিজেদের পছন্দমতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চরিত্র বা বট তৈরি করে গল্প বা রোল-প্লে করতে পারত। আইনি জটিলতা, বিতর্ক এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতাদের গুগলে ফিরে যাওয়ার পর নানা সংকটে পড়ে কোম্পানিটি। মজার বিষয় হলো, বর্তমানে ডিজনি মাত্র ২০ মিলিয়ন ডলারে এর মেধা সম্পদ ক্রয়ের প্রাথমিক দরদাতা হিসেবে রয়েছে।

ব্যর্থতার মুখোমুখি ওপেনএআই

সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানিগুলোর একটি হওয়া সত্ত্বেও ওপেনএআইকেও কিছু ব্যর্থতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। চ্যাটজিপিটিকে একটি ‘সুপার অ্যাপ’ বানানোর চেষ্টা ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করায় তা দ্রুত ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এ ছাড়া ওয়েব ব্রাউজার চ্যাটজিপিটি এটলাস এক বছরের কম সময়ে বন্ধ হয়ে যায়। ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম সোরা উচ্চ পরিচালনা ব্যয় ও ব্যবহারকারী ধরে রাখার চ্যালেঞ্জের মুখে এ বছরের মার্চে বন্ধ হয়ে যায়। অ্যাপলের বহুল প্রতীক্ষিত সুলি সিরি এআইয়ের প্রকাশ বারবার পেছানোয় আইফোন ১৬-এর বিপণন নিয়ে ২৫ কোটি ডলারের আইনি সেটেলমেন্ট করতে হয়। অন্যদিকে, মাইক্রোসফটের এআই ‘ফটোগ্রাফিক মেমোরি’ ফিচার রিকল প্রাইভেসি ও নিরাপত্তার চরম সমালোচনার মুখে পড়ে।

ব্যর্থ হার্ডওয়্যার ও অন্যান্য স্টার্টআপ

এআই হার্ডওয়্যারের বাজারে সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা ছিল হিউম্যান এআই পিন। ব্যাটারিতে আগুন লাগার ঝুঁকিসহ নানা পারফরম্যান্স সংকটের কারণে ডিভাইসটি বন্ধ হয়ে যায় এবং এর সম্পদ এইচপির কাছে বিক্রি করতে হয়। আরেকটি হাইপড ডিভাইস র‍্যাবিট আরওয়ান অসম্পূর্ণ কার্যকারিতার কারণে সমালোচনার মুখে পড়ে। এ ছাড়া গুগলের নোটবুকএলএমের সাবেক ডেভেলপারদের তৈরি এআই অডিও অ্যাপ হুক্স, শত শত মডেলের তুলনামূলক প্ল্যাটফর্ম ইয়াপ এবং জনপ্রিয় রোল-প্লে অ্যাপ ফিগস এআই পর্যাপ্ত বাজার বা তহবিলের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। প্রযুক্তির এই দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে প্রমাণিত হয়, শুধু এআই প্রযুক্তির আধিক্যই সাফল্যের নিশ্চয়তা দেয় না। আসলে বাস্তবমুখী উপযোগিতা ও ব্যবহারকারীর আস্থাই টিকে থাকার মূল চাবিকাঠি।

সূত্র: টেক ক্রাঞ্চ

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত