
অ্যাথলেটিকসে দূরপাল্লার দৌড় নিয়ে খুব একটা আলোচনা হয় না কখনো। রিনকী বিশ্বাস রেকর্ডের পর রেকর্ডের জন্ম না দিলে এবারও কি হতো! সে ক্ষেত্রে ‘না’র পাল্লাই হয়তো ভারী হবে।
৩০০০, ৫০০০ ও ১০০০০ মিটার—খালি পায়ে দৌড়ে তিনটি ইভেন্ট রেকর্ডময় করেছেন রিনকী। সোনা জিতেছেন ১৫০০ মিটারেও, তবে রেকর্ড গড়তে পারেননি। চার ইভেন্টের চারটি সোনা তাঁকে এনে দিয়েছে পরশু শেষ হওয়া সামার অ্যাথলেটিকসের সেরা নারী খেলোয়াড়ের পুরস্কারও।
জাতীয় কোনো প্রতিযোগিতায় এমন অনুভূতি এবারই প্রথম রিনকীর জন্য। গতকাল আজকের পত্রিকার সঙ্গে আলাপে ১৯ বছর বয়সী নৌবাহিনীর এই অ্যাথলেট বলেন, ‘অনুভূতি বলে বোঝানোর মতো নয়, আমি খুব খুশি। অনেক ভালো লাগা কাজ করছে, দূরপাল্লার দৌড় দিয়ে আমি সেরা খেলোয়াড় হয়েছি। এখন মানুষ দূরপাল্লার দৌড়েও চোখ রাখবে। পরিবারের সবাই অনেক খুশি।’
ছোটবেলা থেকে খেলাধুলা ভালো লাগত রিনকীর। দৌড়বিদ হবেন তেমন ভাবনা অবশ্য ছিল না শুরুতে। নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় বেড়ে ওঠা এই অ্যাথলেটের প্রতিভা প্রথমে নজর কাড়ে কোচ দীলিপ চক্রবর্তীর। রিনকী বলেন, ‘দূরপাল্লার দৌড়বিদ হওয়ার পেছনে বিশেষ কোনো কারণ নেই। বেশি দূর পর্যন্ত দৌড়াতে পারতাম আমি। কোচের অধীনে অনুশীলন করে জেলা থেকে এসে জুনিয়র মিটে খেলেছিলাম। সেখানে ১৫০০ মিটারে রেকর্ড গড়ে নৌবাহিনীতে আসি।’
দূরপাল্লার দৌড়ে ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হয় সব অ্যাথলেটকে। রিনকী শুরুতে খানিকটা হতাশ হয়ে পড়লেও পরে খুঁজে পান আত্মবিশ্বাস, ‘অনুশীলন করাটা অনেক কষ্টের। কিন্তু পরিশ্রম না করলে তো আর হবে না। ধৈর্যটাও জরুরি। শুরুতে অনেক চ্যালেঞ্জের ছিল ধৈর্য ধরাটা। কোচকেও বলেছিলাম আমাকে দিয়ে হবে না। এরপর নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস জন্ম নেয়। বাকিরা কষ্ট করছে, আমাকেও কষ্ট করতে হবে। মাঠে যেহেতু নামব, তখন জিতেই ফিরব।’
মেয়েদের খেলা নিয়ে সমাজে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির দেখা মেলে হরহামেশাই। রিনকীরও শুনতে হয়েছে তেমন কথা। তবে পাশে পেয়েছেন পরিবারকে, ‘পরিবার থেকে সব সময় সমর্থন পেয়ে এসেছি। গ্রামে যখন খেলাধুলা করতাম, অনেকে অনেক কথা বলত। পরিবার সে সব কানে নিত না। কখনো বলেনি খেলাধুলা করো না। আমার বাবা মাছ ব্যবসায়ী, মা গৃহিণী। আমাকে যথেষ্ট সমর্থন দিয়ে এসেছেন তাঁরা।’
দূরপাল্লার দৌড়বিদদের বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পাঠানো হয় না বলতে গেলে। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে রিনকী খুলতে চান সেই দুয়ারও, ‘নৌবাহিনীতে আছি। ভালো রেজাল্ট করলে হয়তো তারা আমার চাকরিটা স্থায়ী করবে। দিন শেষে ভালো অ্যাথলেট হতে চাই। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশকে কিছু উপহার দিতে চাই। ফেডারেশন থেকে সে রকম সুযোগ-সুবিধা পেলে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন অ্যাথলেট হওয়া সম্ভব।’
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলার ইচ্ছার কারণেই এখন থেকে জুতো পরে নিয়মিত অনুশীলন করবেন রিনকী, ‘আসলে খালি পায়ে খেলতে আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। যদিও চোটে পড়ার ঝুঁকি থাকে। কিন্তু জুতা পরলে অস্বস্তি লাগে। এজন্য পায়ে লিকো প্লাস্টার লাগাই। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় খেলতে হলে জুতা লাগে। তাই এখন থেকে জুতা পরে অনুশীলনের চেষ্টা করব।’
স্প্রিন্টারদের জন্য অ্যাথলেটিকসে তারকা হওয়া তুলনামূলক সহজ। দূরপাল্লার দৌড়বিদদের জন্য অসম্ভব কিছু নয় বলে জানান রিনকী, ‘প্রথম থেকে যেহেতু লং রানে মনোনিবেশ করেছি, তাই বাকি সে সব ইভেন্ট নিয়ে সেভাবে ভাবিনি। তারকা হওয়া নয়, ভালো করার স্বপ্ন নিয়ে এগোচ্ছি। তবে চেষ্টা করলে দূরপাল্লার দৌড়েও তারকা হওয়া সম্ভব।’

শেষ বাঁশি বাজার পর স্পেনের ফুটবলাররা যখন জয়ের আনন্দে মেতে ওঠেন, তখন পর্তুগাল শিবিরে নেমে আসে হতাশা। রোনালদো ধীর পায়ে মাঠ ছেড়ে টানেলের দিকে হাঁটতে থাকেন। সম্প্রচারে টেলিভিশনের ক্যামেরাও অনুসরণ করে তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ। করিডর পেরিয়ে ড্রেসিংরুম পর্যন্ত সেই দৃশ্যই ছিল ম্যাচ-পরবর্তী সবচেয়ে আবেগঘন মু
২০ মিনিট আগে
ম্যাচটা যত শেষের দিকে গড়িয়েছে, অতিরিক্ত সময়ের সম্ভাবনাই তত জোরালো হয়েছে। কিন্তু স্পেন যেন শেষ মুহূর্তের জন্যই জমিয়ে রেখেছিল সবচেয়ে বড় আঘাতটা। যোগ করা সময়ে মিকেল মেরিনোর গোল পর্তুগালের সব প্রতিরোধ ভেঙে দিয়েছে। ডালাসে ১–০ গোলের জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে স্পেন, আর থেমে গেছে রোনালদোদের বিশ
১ ঘণ্টা আগে
সবুজ গালিচায় তিনি যখন বল নিয়ে ছোটেন, প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের বুকে তখন অবধারিতভাবেই কাঁপন ধরে। শরীরী শক্তি, অতিমানবীয় গতি আর গোলপোস্টের সামনে বরফশীতল মানসিকতা—সব মিলিয়ে আর্লিং হালান্ড যেন আধুনিক ফুটবলের এক নিখুঁত বিজ্ঞাপন।
২ ঘণ্টা আগে
নেইমার কাঁদছেন, অঝোরে কাঁদছেন। তাঁর সঙ্গে রিও ডি জেনিরো, সা পাওলোসহ পুরো ব্রাজিলই কি নয়? কাঁদছে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকা ব্রাজিল সমর্থকেরা। বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে এভাবে বিদায়। শেষ ষোলো থেকে ব্রাজিল সর্বশেষ কবে বিদায় নিয়েছে? ১৯৯০ বিশ্বকাপ, সেই ৩৬ বছর আগে।
২ ঘণ্টা আগে