
জাতীয় নারী দলের সাবেক নির্বাচক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু ও নারী বিভাগের সাবেক ইনচার্জ প্রয়াত তৌহিদ মাহমুদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলম। নিজের ক্যারিয়ার শেষ করে দেওয়ার পেছনে কোচিং স্টাফ এবং খেলোয়াড়ের ভূমিকা ছিল বলেও দাবি করেছেন জাহানারা। বছর দুয়েক আগে মঞ্জুর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন সাবেক অধিনায়ক রুমানা আহমেদও। কাল রাতে আজকের পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাহানারার বিস্ফোরক অভিযোগসহ বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের করুণ চিত্র তুলে ধরলেন রুমানা। তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রানা আব্বাস।
রানা আব্বাস, ঢাকা

প্রশ্ন: জাহানারা আলমের বিস্ফোরক অভিযোগের পর যে প্রশ্ন সামনে চলে আসছে, বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটের ভেতরের ছবিটা তাহলে এতটাই করুণ?
রুমানা আহমেদ: এতটা খারাপ হতো না, যদি কথাগুলো তারা শুনত। যদি আমাদের বিষয়গুলো তারা দেখত, তাহলে এতটা খারাপ হতো না। অভিভাবকের কাছে সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়েছে। জাস্ট শোনার দরকার শুনেছে, কিন্তু কোনো প্রতিকার করা হয়নি। আমাদের কষ্টগুলো দেখেনি, এটা কোন ধরনের সংস্কৃতি?
প্রশ্ন: জাহানারা যেসব অভিযোগ সামনে এনেছে, সেগুলো নিয়ে আপনার মতামত কী?
রুমানা: এর মধ্যে দুই-একটি হালকা বিষয় আছে, যেমন—সালমাকে সাল্লু বলে ডেকেছে জ্যোতি। হয়তো খারাপ লাগা থেকে বলেছে জাহানারা। এগুলো বড় কোনো অভিযোগ না। তবে বেশির ভাগ অভিযোগ ভ্যালিড। এটা শুধু আমাদের কথা না, অনেকেরই। বর্তমানে জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা কেউ মুখ খুলতে চাইবে না। কারণ, তারা চুক্তিবদ্ধ, ক্যারিয়ার নষ্ট করতে চাইবে না। কিন্তু এর বাইরে অনেক ক্রিকেটার আছে তারা বলতে পারে।
প্রশ্ন: যদ্দূর জানি, আপনি এসব ব্যাপারে যথেষ্ট সোচ্চার ছিলেন, কথা বলেছেন।
রুমানা: আমি বরাবরই সোচ্চার ছিলাম, প্রতিবাদ করেছি। তাতে আমি ভুগেছি। আমাকে দল থেকে যেভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে, তা তো দেখেছেনই। বোর্ডের চোখে গুড ফর নাথিং হয়েছি! আমার সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়েছে, যেন দেশের নারী ক্রিকেটে আমার কোনো অবদানই নেই!

প্রশ্ন: জাহানারার অভিযোগের পর স্বাভাবিকভাবে যে প্রশ্ন আসবে, এ রকম আরও কত ভিকটিম আছে দলে?
রুমানা: দলে এমন অনেক খেলোয়াড় আছে, যারা নিজের ক্যারিয়ারের কথা বেশি চিন্তা করে, তারা সহজে বলবে না। তারা (ভিকটিম হলেও) মন খারাপ করে, সিনিয়রদের সঙ্গে শেয়ার করে যে আপু আমার সঙ্গে এমন হয়েছে...এই বিষয়টা ওভাবে সামনে আসে না বা আসেনি। জাহানারার প্রথম কথাগুলো কিন্তু বোর্ডের পক্ষ থেকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। একজন সিনিয়র ক্রিকেটার যে লম্বা সময় সার্ভিস দিয়েছে, তার কথাগুলো শোনা উচিত ছিল, গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল।
প্রশ্ন: নারী দলের সাবেক নির্বাচক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জুর আচরণগত সমস্যার কথা দুই বছর আগেই কিছুটা প্রকাশ্যে এসেছিল। এখন তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এসেছে, এটা তো ভয়ংকর!
রুমানা: ওনার একটা বাজে অভ্যাস ছিল। জুনিয়র-সিনিয়র (নারী ক্রিকেটারদের) যাকেই জিজ্ঞেস করবেন, বলবে, তিনি টাচ করে কথা বলতে পছন্দ করতেন।
প্রশ্ন: ওই সময় আপনারা তাঁর বিরুদ্ধে সবাই অভিযোগ করেননি?
রুমানা: কার কাছে অভিযোগ দেব? যাকে (নারী বিভাগের ইনচার্জ প্রয়াত তৌহিদ) দেব, তিনি তো ওনার কলিজার টুকরা ছিল! অভিযোগ দিয়ে লাভ নেই। আমাদের কেন দল থেকে সরাল, বলতে পারেন? কোন পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে আমাকে বাদ দিল? আমি নিয়মিত পারফর্ম করেছি, আমাকে দলে রাখল না অথচ একজন আনফিট মেয়েকে নিয়ে গেল খেলাতে। কারণ জানতে চাইলে তৌহিদ ভাই আমার সঙ্গে মশকারা করেন। হেসে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি মারা গেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে আর কিছু বলব না। তবে তিনি আমাদের জন্য ভালো কিছু করে যাননি। আমাদের গুহায় ফেলে দিয়েছেন, আমাদের পরিশ্রম মাটিতে মিশিয়ে দিয়ে গেছেন।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটের অন্ধকার দিক যেভাবে উন্মোচিত হচ্ছে, মেয়েদের ক্রিকেটের জন্য এটা বিরাট ধাক্কা।
রুমানা: এভাবেই তো চলছে। জাহানারা সিনিয়র ক্রিকেটার হিসেবে মুখ খুলেছে। কিন্তু যারা জুনিয়র ক্রিকেটার, অ্যাবিউজ হবে, ওরা কি মুখ খুলতে পারবে? অনেক জুনিয়র ক্রিকেটার তো অ্যাবিউজ হলে বুঝতেও পারবে না। দলে এখন এতটাই ক্রিকেটারের সংকট, দুধের শিশুকেও নিতে হচ্ছে!
প্রশ্ন: অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির বিরুদ্ধেও অনেক অভিযোগ এসেছে।
রুমানা: এই মুহূর্তে জ্যোতির ব্যাপারে কিছু বলব না। চাইছি সরাসরি সভাপতির সঙ্গে কথা বলতে। তবে যা রটে সেটার পুরোপুরি না হলেও অধিকাংশ তো ঘটে।
প্রশ্ন: নারী দলে একজন মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেছে। দল একটা পরিবারের মতো। নিজের পরিবারের মধ্যে কেউ যদি নিরাপদ বোধ না করে, নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে—এটা ভয়াবহ পরিস্থিতি বলতে হবে। এ পরিবেশে একজন ক্রিকেটার কীভাবে স্বস্তিতে খেলবেন?
রুমানা: শান্তিতে তো খেলতে পারিনি। ২০২১ সাল থেকে আমি, জাহানারা বিসিবির প্র্যাকটিস ফ্যাসিলিটিজ থেকে বঞ্চিত। খেলেছি নিজেদের প্রতিভা আর পরিশ্রমের জোরে। এমনও হয়েছে, ম্যাচে তিনি (মঞ্জু) আমাকে পুরোপুরি বোলিং করাননি, বলও দেননি।

প্রশ্ন: মঞ্জু এসব করতেন কোন চিন্তা থেকে?
রুমানা: তাঁর লক্ষ্যই ছিল সিনিয়রদের বাদ দেওয়া। কারণ, সিনিয়ররা ওনার বিষয়গুলো ধরে ফেলছিল, মুখ খুলছিল। শুধু ক্রিকেটারদের সঙ্গেই নয়, তখন ফিজিও সুরাইয়া ম্যাডামকে বাদ দিয়েছিলেন। ফিজিও ম্যাডাম যদি বলতেন, জ্যোতি আনফিট, এই ম্যাচটা খেলানো যাবে না। তিনি (মঞ্জু) তবু জোর করে ওকে খেলাতেন। ভিডিও অ্যানালিস্ট শাওন ভাইকে বাদ দিয়ে নিজের বন্ধু রাশেদ স্যারকে আনলেন। রাশেদ স্যার আমাদের সহযোগিতা করেননি। (মঞ্জু) আনকোরা ট্রেনার রাসেলকে নিয়ে বিশ্বকাপে গেলেন, যাতে ওনার হাত-পা টেপাতে পারেন।
প্রশ্ন: আপনি নিজে কখনো মঞ্জুর বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ করেছেন?
রুমানা: হ্যাঁ, ওনার বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ করেছি। এটাকে তারা (বিসিবি) কখনোই গুরুত্ব দেয়নি। একবার মনে হয় আপনাদের খেয়াল আছে, (ফেসবুকে) লিখেছিলাম নো মোর ক্রিকেট! টানা তিন-চারটা সিরিজ দলের বাইরে থাকায় ভেঙে পড়েছিলাম। তখন সিইওকে (নিজাম উদ্দিন চৌধুরী) ফোন দিয়ে বলেছিলাম, আপনার সঙ্গে বসতে চাই। আমার পারফরম্যান্স দেখেন। তিনি ওই সময়ে বললেন, ঠিক আছে সামনে প্রিমিয়ার লিগ আছে, ওখানে প্রমাণ করো। সিইও স্যার তৌহিদ ভাইয়ের কাছে জানতে চাইলেন, পরের টুর্নামেন্ট কত দিন পর? তৌহিদ ভাই বললেন, সাত মাস পর। সিইও স্যার বললেন, ও এই সাত মাস অপেক্ষা করবে? সে তো ভালো খেলোয়াড়। তৌহিদ ভাই বললেন, আমাদের দল হয়ে গেছে। ওই সময়ে বোর্ড রুমে বসে নির্বাচক (সাজ্জাদ আহমেদ) শিপন ভাইও অনেক অপমান করলেন। আমাকে বলেন, তুমি দেশের জন্য কী করেছ? তুমি মডার্ন ক্রিকেট খেলেছ? তুমি কি ১০ ওভার বোলিং করার যোগ্য? আমি বললাম, আপনি আমার রেকর্ড-পরিসংখ্যান দেখেন। তিনি পরামর্শ দিলেন, ক্লাব ক্রিকেটে ছোট দলে খেলতে। ভারতের হারমানপ্রীতের বয়স কি আমার চেয়ে কম? তাদের কি দল থেকে আমাদের মতো ছাঁটাই করা হয়েছে?
প্রশ্ন: একজন খেলোয়াড় তো সারা জীবন খেলবেন না, তবে সবাই চায় শেষটা হোক সম্মানের সঙ্গে।
রুমানা: দেখুন, আমার দায়িত্ব না একজন জুনিয়র খেলোয়াড়কে লালন-পালন করা। আমার দায়িত্ব দেশকে সেরাটা দেওয়া। কদিন আগে শেষ হওয়া বিশ্বকাপে দেখুন, অন্য দলগুলো তাদের সিনিয়র খেলোয়াড়দের কী সম্মানের সঙ্গে বিদায় দিয়েছে। আমাদের দেশে কোনো সিনিয়রকে এই সম্মান দেওয়া হয়? আমরা কদিন খেলব? সিনিয়রদের হুট করে ঝেড়ে ফেলে জাতীয় দল কি শিক্ষানবিশদের শেখানোর জায়গা করা যায়?
প্রশ্ন: বাংলাদেশের ক্রিকেট সংস্কৃতিতে সিনিয়রদের শেষ দিক আর জুনিয়রদের উঠে আসার যে ট্রানজিশনাল সময়, সেটা খুব একটা মসৃণ হয় না।
রুমানা: বোর্ডের কাছে কখনো দাবি করিনি—সিনিয়র বলেই দলে রাখেন। আমাকে রাখবেন পারফরম্যান্স দেখে। যোগ্যতা দেখে।
প্রশ্ন: যেসব নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে, আপনারা কি কখনো আইনের আশ্রয় নেওয়ার কথা ভাবেননি?
রুমানা: সে চেষ্টা করিনি, ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়েছি। আর নিজের মতো পরিশ্রম করে যাওয়ার চেষ্টা করেছি।
প্রশ্ন: তবে এটা ঠিক, আপনারা কি বিসিবিকে জানিয়েছেন?
রুমানা: হ্যাঁ, আমাদের অভিভাবক বিসিবি। বোর্ডের কর্মকর্তাদের জানালে তাঁরা বিষয়টি মানুষের সামনে অন্যভাবে উপস্থাপন করেন। ধরুন, তাঁদের জিজ্ঞেস করলেন, রুমানাকে কেন দলে রাখা হয়নি, তার পারফরম্যান্স তো ভালো। তখন তাঁরা উত্তর দেবেন, রুমানা আনফিট। কিন্তু যে পারফর্ম করে, সে আনফিট হয় কী করে? একদিন আমাকে বোর্ড রুমে বলা হলো, তুমি ক্রিকেট ছেড়ে অন্য কিছু করার চিন্তা করো। বললাম, এখনো আমার ধ্যানজ্ঞান সব ক্রিকেটজুড়ে। ক্রিকেটের জন্য জীবনে অনেক কিছু স্যাক্রিফাইস করেছি। ফ্যামিলি ছেড়ে দিনের পর দিন ঢাকায় প্র্যাকটিস করেছি। যদি পারফর্ম না করতে পারতাম, মেনে নিতাম।
প্রশ্ন: জাহানারার বিস্ফোরক সব অভিযোগের পর বিসিবি তদন্ত কমিটি গঠন করছে। তাদের এই তদন্তের ওপর কতটা আস্থা রাখছেন?
রুমানা: বোর্ডের প্রথম সাপোর্ট থাকবে (অধিনায়ক) জ্যোতির ওপর। শুরুতে দেখেছেন, ওকে আগলে রাখার চেষ্টা করেছে, বোর্ড অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। জাহানারার অভিযোগগুলো মিথ্যা প্রমাণের চেষ্টা থাকতে পারে যে এসব ঘটেনি, কেউ দেখেনি। মঞ্জু ভাইয়ের ডান হাত ছিল জ্যোতি। এখন জ্যোতি তো মঞ্জু ভাইকে নিয়ে নেতিবাচক কিছু বলবে না, সে বর্তমানে অধিনায়ক। আমি মনে করি, সুষ্ঠু তদন্ত করতে দুই পক্ষের সঙ্গেই কথা বলতে হবে। শাক দিয়ে মাছ ঢাকলে হবে না।
প্রশ্ন: আপনি ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবের নির্বাহী কমিটির সদস্য। নারী ক্রিকেটারদের নিরাপদ ক্যারিয়ার গঠনে আপনাদের চাওয়া কী থাকবে?
রুমানা: এরই মধ্যে কোয়াবের সভাপতি মিঠুন ভাইয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে, জোরালো আওয়াজ তোলা হবে।
আরও পড়ুন:
প্রশ্ন: জাহানারা আলমের বিস্ফোরক অভিযোগের পর যে প্রশ্ন সামনে চলে আসছে, বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটের ভেতরের ছবিটা তাহলে এতটাই করুণ?
রুমানা আহমেদ: এতটা খারাপ হতো না, যদি কথাগুলো তারা শুনত। যদি আমাদের বিষয়গুলো তারা দেখত, তাহলে এতটা খারাপ হতো না। অভিভাবকের কাছে সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়েছে। জাস্ট শোনার দরকার শুনেছে, কিন্তু কোনো প্রতিকার করা হয়নি। আমাদের কষ্টগুলো দেখেনি, এটা কোন ধরনের সংস্কৃতি?
প্রশ্ন: জাহানারা যেসব অভিযোগ সামনে এনেছে, সেগুলো নিয়ে আপনার মতামত কী?
রুমানা: এর মধ্যে দুই-একটি হালকা বিষয় আছে, যেমন—সালমাকে সাল্লু বলে ডেকেছে জ্যোতি। হয়তো খারাপ লাগা থেকে বলেছে জাহানারা। এগুলো বড় কোনো অভিযোগ না। তবে বেশির ভাগ অভিযোগ ভ্যালিড। এটা শুধু আমাদের কথা না, অনেকেরই। বর্তমানে জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা কেউ মুখ খুলতে চাইবে না। কারণ, তারা চুক্তিবদ্ধ, ক্যারিয়ার নষ্ট করতে চাইবে না। কিন্তু এর বাইরে অনেক ক্রিকেটার আছে তারা বলতে পারে।
প্রশ্ন: যদ্দূর জানি, আপনি এসব ব্যাপারে যথেষ্ট সোচ্চার ছিলেন, কথা বলেছেন।
রুমানা: আমি বরাবরই সোচ্চার ছিলাম, প্রতিবাদ করেছি। তাতে আমি ভুগেছি। আমাকে দল থেকে যেভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে, তা তো দেখেছেনই। বোর্ডের চোখে গুড ফর নাথিং হয়েছি! আমার সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়েছে, যেন দেশের নারী ক্রিকেটে আমার কোনো অবদানই নেই!

প্রশ্ন: জাহানারার অভিযোগের পর স্বাভাবিকভাবে যে প্রশ্ন আসবে, এ রকম আরও কত ভিকটিম আছে দলে?
রুমানা: দলে এমন অনেক খেলোয়াড় আছে, যারা নিজের ক্যারিয়ারের কথা বেশি চিন্তা করে, তারা সহজে বলবে না। তারা (ভিকটিম হলেও) মন খারাপ করে, সিনিয়রদের সঙ্গে শেয়ার করে যে আপু আমার সঙ্গে এমন হয়েছে...এই বিষয়টা ওভাবে সামনে আসে না বা আসেনি। জাহানারার প্রথম কথাগুলো কিন্তু বোর্ডের পক্ষ থেকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। একজন সিনিয়র ক্রিকেটার যে লম্বা সময় সার্ভিস দিয়েছে, তার কথাগুলো শোনা উচিত ছিল, গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল।
প্রশ্ন: নারী দলের সাবেক নির্বাচক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জুর আচরণগত সমস্যার কথা দুই বছর আগেই কিছুটা প্রকাশ্যে এসেছিল। এখন তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এসেছে, এটা তো ভয়ংকর!
রুমানা: ওনার একটা বাজে অভ্যাস ছিল। জুনিয়র-সিনিয়র (নারী ক্রিকেটারদের) যাকেই জিজ্ঞেস করবেন, বলবে, তিনি টাচ করে কথা বলতে পছন্দ করতেন।
প্রশ্ন: ওই সময় আপনারা তাঁর বিরুদ্ধে সবাই অভিযোগ করেননি?
রুমানা: কার কাছে অভিযোগ দেব? যাকে (নারী বিভাগের ইনচার্জ প্রয়াত তৌহিদ) দেব, তিনি তো ওনার কলিজার টুকরা ছিল! অভিযোগ দিয়ে লাভ নেই। আমাদের কেন দল থেকে সরাল, বলতে পারেন? কোন পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে আমাকে বাদ দিল? আমি নিয়মিত পারফর্ম করেছি, আমাকে দলে রাখল না অথচ একজন আনফিট মেয়েকে নিয়ে গেল খেলাতে। কারণ জানতে চাইলে তৌহিদ ভাই আমার সঙ্গে মশকারা করেন। হেসে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি মারা গেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে আর কিছু বলব না। তবে তিনি আমাদের জন্য ভালো কিছু করে যাননি। আমাদের গুহায় ফেলে দিয়েছেন, আমাদের পরিশ্রম মাটিতে মিশিয়ে দিয়ে গেছেন।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটের অন্ধকার দিক যেভাবে উন্মোচিত হচ্ছে, মেয়েদের ক্রিকেটের জন্য এটা বিরাট ধাক্কা।
রুমানা: এভাবেই তো চলছে। জাহানারা সিনিয়র ক্রিকেটার হিসেবে মুখ খুলেছে। কিন্তু যারা জুনিয়র ক্রিকেটার, অ্যাবিউজ হবে, ওরা কি মুখ খুলতে পারবে? অনেক জুনিয়র ক্রিকেটার তো অ্যাবিউজ হলে বুঝতেও পারবে না। দলে এখন এতটাই ক্রিকেটারের সংকট, দুধের শিশুকেও নিতে হচ্ছে!
প্রশ্ন: অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির বিরুদ্ধেও অনেক অভিযোগ এসেছে।
রুমানা: এই মুহূর্তে জ্যোতির ব্যাপারে কিছু বলব না। চাইছি সরাসরি সভাপতির সঙ্গে কথা বলতে। তবে যা রটে সেটার পুরোপুরি না হলেও অধিকাংশ তো ঘটে।
প্রশ্ন: নারী দলে একজন মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেছে। দল একটা পরিবারের মতো। নিজের পরিবারের মধ্যে কেউ যদি নিরাপদ বোধ না করে, নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে—এটা ভয়াবহ পরিস্থিতি বলতে হবে। এ পরিবেশে একজন ক্রিকেটার কীভাবে স্বস্তিতে খেলবেন?
রুমানা: শান্তিতে তো খেলতে পারিনি। ২০২১ সাল থেকে আমি, জাহানারা বিসিবির প্র্যাকটিস ফ্যাসিলিটিজ থেকে বঞ্চিত। খেলেছি নিজেদের প্রতিভা আর পরিশ্রমের জোরে। এমনও হয়েছে, ম্যাচে তিনি (মঞ্জু) আমাকে পুরোপুরি বোলিং করাননি, বলও দেননি।

প্রশ্ন: মঞ্জু এসব করতেন কোন চিন্তা থেকে?
রুমানা: তাঁর লক্ষ্যই ছিল সিনিয়রদের বাদ দেওয়া। কারণ, সিনিয়ররা ওনার বিষয়গুলো ধরে ফেলছিল, মুখ খুলছিল। শুধু ক্রিকেটারদের সঙ্গেই নয়, তখন ফিজিও সুরাইয়া ম্যাডামকে বাদ দিয়েছিলেন। ফিজিও ম্যাডাম যদি বলতেন, জ্যোতি আনফিট, এই ম্যাচটা খেলানো যাবে না। তিনি (মঞ্জু) তবু জোর করে ওকে খেলাতেন। ভিডিও অ্যানালিস্ট শাওন ভাইকে বাদ দিয়ে নিজের বন্ধু রাশেদ স্যারকে আনলেন। রাশেদ স্যার আমাদের সহযোগিতা করেননি। (মঞ্জু) আনকোরা ট্রেনার রাসেলকে নিয়ে বিশ্বকাপে গেলেন, যাতে ওনার হাত-পা টেপাতে পারেন।
প্রশ্ন: আপনি নিজে কখনো মঞ্জুর বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ করেছেন?
রুমানা: হ্যাঁ, ওনার বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ করেছি। এটাকে তারা (বিসিবি) কখনোই গুরুত্ব দেয়নি। একবার মনে হয় আপনাদের খেয়াল আছে, (ফেসবুকে) লিখেছিলাম নো মোর ক্রিকেট! টানা তিন-চারটা সিরিজ দলের বাইরে থাকায় ভেঙে পড়েছিলাম। তখন সিইওকে (নিজাম উদ্দিন চৌধুরী) ফোন দিয়ে বলেছিলাম, আপনার সঙ্গে বসতে চাই। আমার পারফরম্যান্স দেখেন। তিনি ওই সময়ে বললেন, ঠিক আছে সামনে প্রিমিয়ার লিগ আছে, ওখানে প্রমাণ করো। সিইও স্যার তৌহিদ ভাইয়ের কাছে জানতে চাইলেন, পরের টুর্নামেন্ট কত দিন পর? তৌহিদ ভাই বললেন, সাত মাস পর। সিইও স্যার বললেন, ও এই সাত মাস অপেক্ষা করবে? সে তো ভালো খেলোয়াড়। তৌহিদ ভাই বললেন, আমাদের দল হয়ে গেছে। ওই সময়ে বোর্ড রুমে বসে নির্বাচক (সাজ্জাদ আহমেদ) শিপন ভাইও অনেক অপমান করলেন। আমাকে বলেন, তুমি দেশের জন্য কী করেছ? তুমি মডার্ন ক্রিকেট খেলেছ? তুমি কি ১০ ওভার বোলিং করার যোগ্য? আমি বললাম, আপনি আমার রেকর্ড-পরিসংখ্যান দেখেন। তিনি পরামর্শ দিলেন, ক্লাব ক্রিকেটে ছোট দলে খেলতে। ভারতের হারমানপ্রীতের বয়স কি আমার চেয়ে কম? তাদের কি দল থেকে আমাদের মতো ছাঁটাই করা হয়েছে?
প্রশ্ন: একজন খেলোয়াড় তো সারা জীবন খেলবেন না, তবে সবাই চায় শেষটা হোক সম্মানের সঙ্গে।
রুমানা: দেখুন, আমার দায়িত্ব না একজন জুনিয়র খেলোয়াড়কে লালন-পালন করা। আমার দায়িত্ব দেশকে সেরাটা দেওয়া। কদিন আগে শেষ হওয়া বিশ্বকাপে দেখুন, অন্য দলগুলো তাদের সিনিয়র খেলোয়াড়দের কী সম্মানের সঙ্গে বিদায় দিয়েছে। আমাদের দেশে কোনো সিনিয়রকে এই সম্মান দেওয়া হয়? আমরা কদিন খেলব? সিনিয়রদের হুট করে ঝেড়ে ফেলে জাতীয় দল কি শিক্ষানবিশদের শেখানোর জায়গা করা যায়?
প্রশ্ন: বাংলাদেশের ক্রিকেট সংস্কৃতিতে সিনিয়রদের শেষ দিক আর জুনিয়রদের উঠে আসার যে ট্রানজিশনাল সময়, সেটা খুব একটা মসৃণ হয় না।
রুমানা: বোর্ডের কাছে কখনো দাবি করিনি—সিনিয়র বলেই দলে রাখেন। আমাকে রাখবেন পারফরম্যান্স দেখে। যোগ্যতা দেখে।
প্রশ্ন: যেসব নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে, আপনারা কি কখনো আইনের আশ্রয় নেওয়ার কথা ভাবেননি?
রুমানা: সে চেষ্টা করিনি, ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়েছি। আর নিজের মতো পরিশ্রম করে যাওয়ার চেষ্টা করেছি।
প্রশ্ন: তবে এটা ঠিক, আপনারা কি বিসিবিকে জানিয়েছেন?
রুমানা: হ্যাঁ, আমাদের অভিভাবক বিসিবি। বোর্ডের কর্মকর্তাদের জানালে তাঁরা বিষয়টি মানুষের সামনে অন্যভাবে উপস্থাপন করেন। ধরুন, তাঁদের জিজ্ঞেস করলেন, রুমানাকে কেন দলে রাখা হয়নি, তার পারফরম্যান্স তো ভালো। তখন তাঁরা উত্তর দেবেন, রুমানা আনফিট। কিন্তু যে পারফর্ম করে, সে আনফিট হয় কী করে? একদিন আমাকে বোর্ড রুমে বলা হলো, তুমি ক্রিকেট ছেড়ে অন্য কিছু করার চিন্তা করো। বললাম, এখনো আমার ধ্যানজ্ঞান সব ক্রিকেটজুড়ে। ক্রিকেটের জন্য জীবনে অনেক কিছু স্যাক্রিফাইস করেছি। ফ্যামিলি ছেড়ে দিনের পর দিন ঢাকায় প্র্যাকটিস করেছি। যদি পারফর্ম না করতে পারতাম, মেনে নিতাম।
প্রশ্ন: জাহানারার বিস্ফোরক সব অভিযোগের পর বিসিবি তদন্ত কমিটি গঠন করছে। তাদের এই তদন্তের ওপর কতটা আস্থা রাখছেন?
রুমানা: বোর্ডের প্রথম সাপোর্ট থাকবে (অধিনায়ক) জ্যোতির ওপর। শুরুতে দেখেছেন, ওকে আগলে রাখার চেষ্টা করেছে, বোর্ড অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। জাহানারার অভিযোগগুলো মিথ্যা প্রমাণের চেষ্টা থাকতে পারে যে এসব ঘটেনি, কেউ দেখেনি। মঞ্জু ভাইয়ের ডান হাত ছিল জ্যোতি। এখন জ্যোতি তো মঞ্জু ভাইকে নিয়ে নেতিবাচক কিছু বলবে না, সে বর্তমানে অধিনায়ক। আমি মনে করি, সুষ্ঠু তদন্ত করতে দুই পক্ষের সঙ্গেই কথা বলতে হবে। শাক দিয়ে মাছ ঢাকলে হবে না।
প্রশ্ন: আপনি ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবের নির্বাহী কমিটির সদস্য। নারী ক্রিকেটারদের নিরাপদ ক্যারিয়ার গঠনে আপনাদের চাওয়া কী থাকবে?
রুমানা: এরই মধ্যে কোয়াবের সভাপতি মিঠুন ভাইয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে, জোরালো আওয়াজ তোলা হবে।
আরও পড়ুন:

জাতীয় নারী দলের সাবেক নির্বাচক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু ও নারী বিভাগের সাবেক ইনচার্জ প্রয়াত তৌহিদ মাহমুদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলম। নিজের ক্যারিয়ার শেষ করে দেওয়ার পেছনে কোচিং স্টাফ এবং খেলোয়াড়ের ভূমিকা ছিল বলেও দাবি করেছেন জাহানারা। বছর দুয়েক আগে মঞ্জুর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন সাবেক অধিনায়ক রুমানা আহমেদও। কাল রাতে আজকের পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাহানারার বিস্ফোরক অভিযোগসহ বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের করুণ চিত্র তুলে ধরলেন রুমানা। তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রানা আব্বাস।
রানা আব্বাস, ঢাকা

প্রশ্ন: জাহানারা আলমের বিস্ফোরক অভিযোগের পর যে প্রশ্ন সামনে চলে আসছে, বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটের ভেতরের ছবিটা তাহলে এতটাই করুণ?
রুমানা আহমেদ: এতটা খারাপ হতো না, যদি কথাগুলো তারা শুনত। যদি আমাদের বিষয়গুলো তারা দেখত, তাহলে এতটা খারাপ হতো না। অভিভাবকের কাছে সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়েছে। জাস্ট শোনার দরকার শুনেছে, কিন্তু কোনো প্রতিকার করা হয়নি। আমাদের কষ্টগুলো দেখেনি, এটা কোন ধরনের সংস্কৃতি?
প্রশ্ন: জাহানারা যেসব অভিযোগ সামনে এনেছে, সেগুলো নিয়ে আপনার মতামত কী?
রুমানা: এর মধ্যে দুই-একটি হালকা বিষয় আছে, যেমন—সালমাকে সাল্লু বলে ডেকেছে জ্যোতি। হয়তো খারাপ লাগা থেকে বলেছে জাহানারা। এগুলো বড় কোনো অভিযোগ না। তবে বেশির ভাগ অভিযোগ ভ্যালিড। এটা শুধু আমাদের কথা না, অনেকেরই। বর্তমানে জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা কেউ মুখ খুলতে চাইবে না। কারণ, তারা চুক্তিবদ্ধ, ক্যারিয়ার নষ্ট করতে চাইবে না। কিন্তু এর বাইরে অনেক ক্রিকেটার আছে তারা বলতে পারে।
প্রশ্ন: যদ্দূর জানি, আপনি এসব ব্যাপারে যথেষ্ট সোচ্চার ছিলেন, কথা বলেছেন।
রুমানা: আমি বরাবরই সোচ্চার ছিলাম, প্রতিবাদ করেছি। তাতে আমি ভুগেছি। আমাকে দল থেকে যেভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে, তা তো দেখেছেনই। বোর্ডের চোখে গুড ফর নাথিং হয়েছি! আমার সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়েছে, যেন দেশের নারী ক্রিকেটে আমার কোনো অবদানই নেই!

প্রশ্ন: জাহানারার অভিযোগের পর স্বাভাবিকভাবে যে প্রশ্ন আসবে, এ রকম আরও কত ভিকটিম আছে দলে?
রুমানা: দলে এমন অনেক খেলোয়াড় আছে, যারা নিজের ক্যারিয়ারের কথা বেশি চিন্তা করে, তারা সহজে বলবে না। তারা (ভিকটিম হলেও) মন খারাপ করে, সিনিয়রদের সঙ্গে শেয়ার করে যে আপু আমার সঙ্গে এমন হয়েছে...এই বিষয়টা ওভাবে সামনে আসে না বা আসেনি। জাহানারার প্রথম কথাগুলো কিন্তু বোর্ডের পক্ষ থেকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। একজন সিনিয়র ক্রিকেটার যে লম্বা সময় সার্ভিস দিয়েছে, তার কথাগুলো শোনা উচিত ছিল, গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল।
প্রশ্ন: নারী দলের সাবেক নির্বাচক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জুর আচরণগত সমস্যার কথা দুই বছর আগেই কিছুটা প্রকাশ্যে এসেছিল। এখন তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এসেছে, এটা তো ভয়ংকর!
রুমানা: ওনার একটা বাজে অভ্যাস ছিল। জুনিয়র-সিনিয়র (নারী ক্রিকেটারদের) যাকেই জিজ্ঞেস করবেন, বলবে, তিনি টাচ করে কথা বলতে পছন্দ করতেন।
প্রশ্ন: ওই সময় আপনারা তাঁর বিরুদ্ধে সবাই অভিযোগ করেননি?
রুমানা: কার কাছে অভিযোগ দেব? যাকে (নারী বিভাগের ইনচার্জ প্রয়াত তৌহিদ) দেব, তিনি তো ওনার কলিজার টুকরা ছিল! অভিযোগ দিয়ে লাভ নেই। আমাদের কেন দল থেকে সরাল, বলতে পারেন? কোন পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে আমাকে বাদ দিল? আমি নিয়মিত পারফর্ম করেছি, আমাকে দলে রাখল না অথচ একজন আনফিট মেয়েকে নিয়ে গেল খেলাতে। কারণ জানতে চাইলে তৌহিদ ভাই আমার সঙ্গে মশকারা করেন। হেসে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি মারা গেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে আর কিছু বলব না। তবে তিনি আমাদের জন্য ভালো কিছু করে যাননি। আমাদের গুহায় ফেলে দিয়েছেন, আমাদের পরিশ্রম মাটিতে মিশিয়ে দিয়ে গেছেন।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটের অন্ধকার দিক যেভাবে উন্মোচিত হচ্ছে, মেয়েদের ক্রিকেটের জন্য এটা বিরাট ধাক্কা।
রুমানা: এভাবেই তো চলছে। জাহানারা সিনিয়র ক্রিকেটার হিসেবে মুখ খুলেছে। কিন্তু যারা জুনিয়র ক্রিকেটার, অ্যাবিউজ হবে, ওরা কি মুখ খুলতে পারবে? অনেক জুনিয়র ক্রিকেটার তো অ্যাবিউজ হলে বুঝতেও পারবে না। দলে এখন এতটাই ক্রিকেটারের সংকট, দুধের শিশুকেও নিতে হচ্ছে!
প্রশ্ন: অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির বিরুদ্ধেও অনেক অভিযোগ এসেছে।
রুমানা: এই মুহূর্তে জ্যোতির ব্যাপারে কিছু বলব না। চাইছি সরাসরি সভাপতির সঙ্গে কথা বলতে। তবে যা রটে সেটার পুরোপুরি না হলেও অধিকাংশ তো ঘটে।
প্রশ্ন: নারী দলে একজন মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেছে। দল একটা পরিবারের মতো। নিজের পরিবারের মধ্যে কেউ যদি নিরাপদ বোধ না করে, নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে—এটা ভয়াবহ পরিস্থিতি বলতে হবে। এ পরিবেশে একজন ক্রিকেটার কীভাবে স্বস্তিতে খেলবেন?
রুমানা: শান্তিতে তো খেলতে পারিনি। ২০২১ সাল থেকে আমি, জাহানারা বিসিবির প্র্যাকটিস ফ্যাসিলিটিজ থেকে বঞ্চিত। খেলেছি নিজেদের প্রতিভা আর পরিশ্রমের জোরে। এমনও হয়েছে, ম্যাচে তিনি (মঞ্জু) আমাকে পুরোপুরি বোলিং করাননি, বলও দেননি।

প্রশ্ন: মঞ্জু এসব করতেন কোন চিন্তা থেকে?
রুমানা: তাঁর লক্ষ্যই ছিল সিনিয়রদের বাদ দেওয়া। কারণ, সিনিয়ররা ওনার বিষয়গুলো ধরে ফেলছিল, মুখ খুলছিল। শুধু ক্রিকেটারদের সঙ্গেই নয়, তখন ফিজিও সুরাইয়া ম্যাডামকে বাদ দিয়েছিলেন। ফিজিও ম্যাডাম যদি বলতেন, জ্যোতি আনফিট, এই ম্যাচটা খেলানো যাবে না। তিনি (মঞ্জু) তবু জোর করে ওকে খেলাতেন। ভিডিও অ্যানালিস্ট শাওন ভাইকে বাদ দিয়ে নিজের বন্ধু রাশেদ স্যারকে আনলেন। রাশেদ স্যার আমাদের সহযোগিতা করেননি। (মঞ্জু) আনকোরা ট্রেনার রাসেলকে নিয়ে বিশ্বকাপে গেলেন, যাতে ওনার হাত-পা টেপাতে পারেন।
প্রশ্ন: আপনি নিজে কখনো মঞ্জুর বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ করেছেন?
রুমানা: হ্যাঁ, ওনার বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ করেছি। এটাকে তারা (বিসিবি) কখনোই গুরুত্ব দেয়নি। একবার মনে হয় আপনাদের খেয়াল আছে, (ফেসবুকে) লিখেছিলাম নো মোর ক্রিকেট! টানা তিন-চারটা সিরিজ দলের বাইরে থাকায় ভেঙে পড়েছিলাম। তখন সিইওকে (নিজাম উদ্দিন চৌধুরী) ফোন দিয়ে বলেছিলাম, আপনার সঙ্গে বসতে চাই। আমার পারফরম্যান্স দেখেন। তিনি ওই সময়ে বললেন, ঠিক আছে সামনে প্রিমিয়ার লিগ আছে, ওখানে প্রমাণ করো। সিইও স্যার তৌহিদ ভাইয়ের কাছে জানতে চাইলেন, পরের টুর্নামেন্ট কত দিন পর? তৌহিদ ভাই বললেন, সাত মাস পর। সিইও স্যার বললেন, ও এই সাত মাস অপেক্ষা করবে? সে তো ভালো খেলোয়াড়। তৌহিদ ভাই বললেন, আমাদের দল হয়ে গেছে। ওই সময়ে বোর্ড রুমে বসে নির্বাচক (সাজ্জাদ আহমেদ) শিপন ভাইও অনেক অপমান করলেন। আমাকে বলেন, তুমি দেশের জন্য কী করেছ? তুমি মডার্ন ক্রিকেট খেলেছ? তুমি কি ১০ ওভার বোলিং করার যোগ্য? আমি বললাম, আপনি আমার রেকর্ড-পরিসংখ্যান দেখেন। তিনি পরামর্শ দিলেন, ক্লাব ক্রিকেটে ছোট দলে খেলতে। ভারতের হারমানপ্রীতের বয়স কি আমার চেয়ে কম? তাদের কি দল থেকে আমাদের মতো ছাঁটাই করা হয়েছে?
প্রশ্ন: একজন খেলোয়াড় তো সারা জীবন খেলবেন না, তবে সবাই চায় শেষটা হোক সম্মানের সঙ্গে।
রুমানা: দেখুন, আমার দায়িত্ব না একজন জুনিয়র খেলোয়াড়কে লালন-পালন করা। আমার দায়িত্ব দেশকে সেরাটা দেওয়া। কদিন আগে শেষ হওয়া বিশ্বকাপে দেখুন, অন্য দলগুলো তাদের সিনিয়র খেলোয়াড়দের কী সম্মানের সঙ্গে বিদায় দিয়েছে। আমাদের দেশে কোনো সিনিয়রকে এই সম্মান দেওয়া হয়? আমরা কদিন খেলব? সিনিয়রদের হুট করে ঝেড়ে ফেলে জাতীয় দল কি শিক্ষানবিশদের শেখানোর জায়গা করা যায়?
প্রশ্ন: বাংলাদেশের ক্রিকেট সংস্কৃতিতে সিনিয়রদের শেষ দিক আর জুনিয়রদের উঠে আসার যে ট্রানজিশনাল সময়, সেটা খুব একটা মসৃণ হয় না।
রুমানা: বোর্ডের কাছে কখনো দাবি করিনি—সিনিয়র বলেই দলে রাখেন। আমাকে রাখবেন পারফরম্যান্স দেখে। যোগ্যতা দেখে।
প্রশ্ন: যেসব নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে, আপনারা কি কখনো আইনের আশ্রয় নেওয়ার কথা ভাবেননি?
রুমানা: সে চেষ্টা করিনি, ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়েছি। আর নিজের মতো পরিশ্রম করে যাওয়ার চেষ্টা করেছি।
প্রশ্ন: তবে এটা ঠিক, আপনারা কি বিসিবিকে জানিয়েছেন?
রুমানা: হ্যাঁ, আমাদের অভিভাবক বিসিবি। বোর্ডের কর্মকর্তাদের জানালে তাঁরা বিষয়টি মানুষের সামনে অন্যভাবে উপস্থাপন করেন। ধরুন, তাঁদের জিজ্ঞেস করলেন, রুমানাকে কেন দলে রাখা হয়নি, তার পারফরম্যান্স তো ভালো। তখন তাঁরা উত্তর দেবেন, রুমানা আনফিট। কিন্তু যে পারফর্ম করে, সে আনফিট হয় কী করে? একদিন আমাকে বোর্ড রুমে বলা হলো, তুমি ক্রিকেট ছেড়ে অন্য কিছু করার চিন্তা করো। বললাম, এখনো আমার ধ্যানজ্ঞান সব ক্রিকেটজুড়ে। ক্রিকেটের জন্য জীবনে অনেক কিছু স্যাক্রিফাইস করেছি। ফ্যামিলি ছেড়ে দিনের পর দিন ঢাকায় প্র্যাকটিস করেছি। যদি পারফর্ম না করতে পারতাম, মেনে নিতাম।
প্রশ্ন: জাহানারার বিস্ফোরক সব অভিযোগের পর বিসিবি তদন্ত কমিটি গঠন করছে। তাদের এই তদন্তের ওপর কতটা আস্থা রাখছেন?
রুমানা: বোর্ডের প্রথম সাপোর্ট থাকবে (অধিনায়ক) জ্যোতির ওপর। শুরুতে দেখেছেন, ওকে আগলে রাখার চেষ্টা করেছে, বোর্ড অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। জাহানারার অভিযোগগুলো মিথ্যা প্রমাণের চেষ্টা থাকতে পারে যে এসব ঘটেনি, কেউ দেখেনি। মঞ্জু ভাইয়ের ডান হাত ছিল জ্যোতি। এখন জ্যোতি তো মঞ্জু ভাইকে নিয়ে নেতিবাচক কিছু বলবে না, সে বর্তমানে অধিনায়ক। আমি মনে করি, সুষ্ঠু তদন্ত করতে দুই পক্ষের সঙ্গেই কথা বলতে হবে। শাক দিয়ে মাছ ঢাকলে হবে না।
প্রশ্ন: আপনি ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবের নির্বাহী কমিটির সদস্য। নারী ক্রিকেটারদের নিরাপদ ক্যারিয়ার গঠনে আপনাদের চাওয়া কী থাকবে?
রুমানা: এরই মধ্যে কোয়াবের সভাপতি মিঠুন ভাইয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে, জোরালো আওয়াজ তোলা হবে।
আরও পড়ুন:
প্রশ্ন: জাহানারা আলমের বিস্ফোরক অভিযোগের পর যে প্রশ্ন সামনে চলে আসছে, বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটের ভেতরের ছবিটা তাহলে এতটাই করুণ?
রুমানা আহমেদ: এতটা খারাপ হতো না, যদি কথাগুলো তারা শুনত। যদি আমাদের বিষয়গুলো তারা দেখত, তাহলে এতটা খারাপ হতো না। অভিভাবকের কাছে সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়েছে। জাস্ট শোনার দরকার শুনেছে, কিন্তু কোনো প্রতিকার করা হয়নি। আমাদের কষ্টগুলো দেখেনি, এটা কোন ধরনের সংস্কৃতি?
প্রশ্ন: জাহানারা যেসব অভিযোগ সামনে এনেছে, সেগুলো নিয়ে আপনার মতামত কী?
রুমানা: এর মধ্যে দুই-একটি হালকা বিষয় আছে, যেমন—সালমাকে সাল্লু বলে ডেকেছে জ্যোতি। হয়তো খারাপ লাগা থেকে বলেছে জাহানারা। এগুলো বড় কোনো অভিযোগ না। তবে বেশির ভাগ অভিযোগ ভ্যালিড। এটা শুধু আমাদের কথা না, অনেকেরই। বর্তমানে জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা কেউ মুখ খুলতে চাইবে না। কারণ, তারা চুক্তিবদ্ধ, ক্যারিয়ার নষ্ট করতে চাইবে না। কিন্তু এর বাইরে অনেক ক্রিকেটার আছে তারা বলতে পারে।
প্রশ্ন: যদ্দূর জানি, আপনি এসব ব্যাপারে যথেষ্ট সোচ্চার ছিলেন, কথা বলেছেন।
রুমানা: আমি বরাবরই সোচ্চার ছিলাম, প্রতিবাদ করেছি। তাতে আমি ভুগেছি। আমাকে দল থেকে যেভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে, তা তো দেখেছেনই। বোর্ডের চোখে গুড ফর নাথিং হয়েছি! আমার সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়েছে, যেন দেশের নারী ক্রিকেটে আমার কোনো অবদানই নেই!

প্রশ্ন: জাহানারার অভিযোগের পর স্বাভাবিকভাবে যে প্রশ্ন আসবে, এ রকম আরও কত ভিকটিম আছে দলে?
রুমানা: দলে এমন অনেক খেলোয়াড় আছে, যারা নিজের ক্যারিয়ারের কথা বেশি চিন্তা করে, তারা সহজে বলবে না। তারা (ভিকটিম হলেও) মন খারাপ করে, সিনিয়রদের সঙ্গে শেয়ার করে যে আপু আমার সঙ্গে এমন হয়েছে...এই বিষয়টা ওভাবে সামনে আসে না বা আসেনি। জাহানারার প্রথম কথাগুলো কিন্তু বোর্ডের পক্ষ থেকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। একজন সিনিয়র ক্রিকেটার যে লম্বা সময় সার্ভিস দিয়েছে, তার কথাগুলো শোনা উচিত ছিল, গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল।
প্রশ্ন: নারী দলের সাবেক নির্বাচক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জুর আচরণগত সমস্যার কথা দুই বছর আগেই কিছুটা প্রকাশ্যে এসেছিল। এখন তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এসেছে, এটা তো ভয়ংকর!
রুমানা: ওনার একটা বাজে অভ্যাস ছিল। জুনিয়র-সিনিয়র (নারী ক্রিকেটারদের) যাকেই জিজ্ঞেস করবেন, বলবে, তিনি টাচ করে কথা বলতে পছন্দ করতেন।
প্রশ্ন: ওই সময় আপনারা তাঁর বিরুদ্ধে সবাই অভিযোগ করেননি?
রুমানা: কার কাছে অভিযোগ দেব? যাকে (নারী বিভাগের ইনচার্জ প্রয়াত তৌহিদ) দেব, তিনি তো ওনার কলিজার টুকরা ছিল! অভিযোগ দিয়ে লাভ নেই। আমাদের কেন দল থেকে সরাল, বলতে পারেন? কোন পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে আমাকে বাদ দিল? আমি নিয়মিত পারফর্ম করেছি, আমাকে দলে রাখল না অথচ একজন আনফিট মেয়েকে নিয়ে গেল খেলাতে। কারণ জানতে চাইলে তৌহিদ ভাই আমার সঙ্গে মশকারা করেন। হেসে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি মারা গেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে আর কিছু বলব না। তবে তিনি আমাদের জন্য ভালো কিছু করে যাননি। আমাদের গুহায় ফেলে দিয়েছেন, আমাদের পরিশ্রম মাটিতে মিশিয়ে দিয়ে গেছেন।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটের অন্ধকার দিক যেভাবে উন্মোচিত হচ্ছে, মেয়েদের ক্রিকেটের জন্য এটা বিরাট ধাক্কা।
রুমানা: এভাবেই তো চলছে। জাহানারা সিনিয়র ক্রিকেটার হিসেবে মুখ খুলেছে। কিন্তু যারা জুনিয়র ক্রিকেটার, অ্যাবিউজ হবে, ওরা কি মুখ খুলতে পারবে? অনেক জুনিয়র ক্রিকেটার তো অ্যাবিউজ হলে বুঝতেও পারবে না। দলে এখন এতটাই ক্রিকেটারের সংকট, দুধের শিশুকেও নিতে হচ্ছে!
প্রশ্ন: অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির বিরুদ্ধেও অনেক অভিযোগ এসেছে।
রুমানা: এই মুহূর্তে জ্যোতির ব্যাপারে কিছু বলব না। চাইছি সরাসরি সভাপতির সঙ্গে কথা বলতে। তবে যা রটে সেটার পুরোপুরি না হলেও অধিকাংশ তো ঘটে।
প্রশ্ন: নারী দলে একজন মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেছে। দল একটা পরিবারের মতো। নিজের পরিবারের মধ্যে কেউ যদি নিরাপদ বোধ না করে, নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে—এটা ভয়াবহ পরিস্থিতি বলতে হবে। এ পরিবেশে একজন ক্রিকেটার কীভাবে স্বস্তিতে খেলবেন?
রুমানা: শান্তিতে তো খেলতে পারিনি। ২০২১ সাল থেকে আমি, জাহানারা বিসিবির প্র্যাকটিস ফ্যাসিলিটিজ থেকে বঞ্চিত। খেলেছি নিজেদের প্রতিভা আর পরিশ্রমের জোরে। এমনও হয়েছে, ম্যাচে তিনি (মঞ্জু) আমাকে পুরোপুরি বোলিং করাননি, বলও দেননি।

প্রশ্ন: মঞ্জু এসব করতেন কোন চিন্তা থেকে?
রুমানা: তাঁর লক্ষ্যই ছিল সিনিয়রদের বাদ দেওয়া। কারণ, সিনিয়ররা ওনার বিষয়গুলো ধরে ফেলছিল, মুখ খুলছিল। শুধু ক্রিকেটারদের সঙ্গেই নয়, তখন ফিজিও সুরাইয়া ম্যাডামকে বাদ দিয়েছিলেন। ফিজিও ম্যাডাম যদি বলতেন, জ্যোতি আনফিট, এই ম্যাচটা খেলানো যাবে না। তিনি (মঞ্জু) তবু জোর করে ওকে খেলাতেন। ভিডিও অ্যানালিস্ট শাওন ভাইকে বাদ দিয়ে নিজের বন্ধু রাশেদ স্যারকে আনলেন। রাশেদ স্যার আমাদের সহযোগিতা করেননি। (মঞ্জু) আনকোরা ট্রেনার রাসেলকে নিয়ে বিশ্বকাপে গেলেন, যাতে ওনার হাত-পা টেপাতে পারেন।
প্রশ্ন: আপনি নিজে কখনো মঞ্জুর বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ করেছেন?
রুমানা: হ্যাঁ, ওনার বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ করেছি। এটাকে তারা (বিসিবি) কখনোই গুরুত্ব দেয়নি। একবার মনে হয় আপনাদের খেয়াল আছে, (ফেসবুকে) লিখেছিলাম নো মোর ক্রিকেট! টানা তিন-চারটা সিরিজ দলের বাইরে থাকায় ভেঙে পড়েছিলাম। তখন সিইওকে (নিজাম উদ্দিন চৌধুরী) ফোন দিয়ে বলেছিলাম, আপনার সঙ্গে বসতে চাই। আমার পারফরম্যান্স দেখেন। তিনি ওই সময়ে বললেন, ঠিক আছে সামনে প্রিমিয়ার লিগ আছে, ওখানে প্রমাণ করো। সিইও স্যার তৌহিদ ভাইয়ের কাছে জানতে চাইলেন, পরের টুর্নামেন্ট কত দিন পর? তৌহিদ ভাই বললেন, সাত মাস পর। সিইও স্যার বললেন, ও এই সাত মাস অপেক্ষা করবে? সে তো ভালো খেলোয়াড়। তৌহিদ ভাই বললেন, আমাদের দল হয়ে গেছে। ওই সময়ে বোর্ড রুমে বসে নির্বাচক (সাজ্জাদ আহমেদ) শিপন ভাইও অনেক অপমান করলেন। আমাকে বলেন, তুমি দেশের জন্য কী করেছ? তুমি মডার্ন ক্রিকেট খেলেছ? তুমি কি ১০ ওভার বোলিং করার যোগ্য? আমি বললাম, আপনি আমার রেকর্ড-পরিসংখ্যান দেখেন। তিনি পরামর্শ দিলেন, ক্লাব ক্রিকেটে ছোট দলে খেলতে। ভারতের হারমানপ্রীতের বয়স কি আমার চেয়ে কম? তাদের কি দল থেকে আমাদের মতো ছাঁটাই করা হয়েছে?
প্রশ্ন: একজন খেলোয়াড় তো সারা জীবন খেলবেন না, তবে সবাই চায় শেষটা হোক সম্মানের সঙ্গে।
রুমানা: দেখুন, আমার দায়িত্ব না একজন জুনিয়র খেলোয়াড়কে লালন-পালন করা। আমার দায়িত্ব দেশকে সেরাটা দেওয়া। কদিন আগে শেষ হওয়া বিশ্বকাপে দেখুন, অন্য দলগুলো তাদের সিনিয়র খেলোয়াড়দের কী সম্মানের সঙ্গে বিদায় দিয়েছে। আমাদের দেশে কোনো সিনিয়রকে এই সম্মান দেওয়া হয়? আমরা কদিন খেলব? সিনিয়রদের হুট করে ঝেড়ে ফেলে জাতীয় দল কি শিক্ষানবিশদের শেখানোর জায়গা করা যায়?
প্রশ্ন: বাংলাদেশের ক্রিকেট সংস্কৃতিতে সিনিয়রদের শেষ দিক আর জুনিয়রদের উঠে আসার যে ট্রানজিশনাল সময়, সেটা খুব একটা মসৃণ হয় না।
রুমানা: বোর্ডের কাছে কখনো দাবি করিনি—সিনিয়র বলেই দলে রাখেন। আমাকে রাখবেন পারফরম্যান্স দেখে। যোগ্যতা দেখে।
প্রশ্ন: যেসব নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে, আপনারা কি কখনো আইনের আশ্রয় নেওয়ার কথা ভাবেননি?
রুমানা: সে চেষ্টা করিনি, ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়েছি। আর নিজের মতো পরিশ্রম করে যাওয়ার চেষ্টা করেছি।
প্রশ্ন: তবে এটা ঠিক, আপনারা কি বিসিবিকে জানিয়েছেন?
রুমানা: হ্যাঁ, আমাদের অভিভাবক বিসিবি। বোর্ডের কর্মকর্তাদের জানালে তাঁরা বিষয়টি মানুষের সামনে অন্যভাবে উপস্থাপন করেন। ধরুন, তাঁদের জিজ্ঞেস করলেন, রুমানাকে কেন দলে রাখা হয়নি, তার পারফরম্যান্স তো ভালো। তখন তাঁরা উত্তর দেবেন, রুমানা আনফিট। কিন্তু যে পারফর্ম করে, সে আনফিট হয় কী করে? একদিন আমাকে বোর্ড রুমে বলা হলো, তুমি ক্রিকেট ছেড়ে অন্য কিছু করার চিন্তা করো। বললাম, এখনো আমার ধ্যানজ্ঞান সব ক্রিকেটজুড়ে। ক্রিকেটের জন্য জীবনে অনেক কিছু স্যাক্রিফাইস করেছি। ফ্যামিলি ছেড়ে দিনের পর দিন ঢাকায় প্র্যাকটিস করেছি। যদি পারফর্ম না করতে পারতাম, মেনে নিতাম।
প্রশ্ন: জাহানারার বিস্ফোরক সব অভিযোগের পর বিসিবি তদন্ত কমিটি গঠন করছে। তাদের এই তদন্তের ওপর কতটা আস্থা রাখছেন?
রুমানা: বোর্ডের প্রথম সাপোর্ট থাকবে (অধিনায়ক) জ্যোতির ওপর। শুরুতে দেখেছেন, ওকে আগলে রাখার চেষ্টা করেছে, বোর্ড অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। জাহানারার অভিযোগগুলো মিথ্যা প্রমাণের চেষ্টা থাকতে পারে যে এসব ঘটেনি, কেউ দেখেনি। মঞ্জু ভাইয়ের ডান হাত ছিল জ্যোতি। এখন জ্যোতি তো মঞ্জু ভাইকে নিয়ে নেতিবাচক কিছু বলবে না, সে বর্তমানে অধিনায়ক। আমি মনে করি, সুষ্ঠু তদন্ত করতে দুই পক্ষের সঙ্গেই কথা বলতে হবে। শাক দিয়ে মাছ ঢাকলে হবে না।
প্রশ্ন: আপনি ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবের নির্বাহী কমিটির সদস্য। নারী ক্রিকেটারদের নিরাপদ ক্যারিয়ার গঠনে আপনাদের চাওয়া কী থাকবে?
রুমানা: এরই মধ্যে কোয়াবের সভাপতি মিঠুন ভাইয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে, জোরালো আওয়াজ তোলা হবে।
আরও পড়ুন:

হতাশার বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে আবাহনী লিমিটেড। ফুটবল লিগের পর এবার ফেডারেশন কাপেও হারল ব্রাদার্স ইউনিয়নের কাছে। কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে আজ ১-০ গোলের জয় পেয়েছে ব্রাদার্স। ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়েও ছিল আবাহনী। তবে একের পর এক সুযোগ নষ্ট করা মাশুল দিতে হয়।
২ ঘণ্টা আগে
পূর্বাচলে নির্মাণাধীন স্টেডিয়ামে মাটি চুরির অভিযোগ উঠেছে। এমন অভিযোগের পর আজ পূর্বাচল পরিদর্শনে যান বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান খালেদ মাসুদ পাইলট। এই ঘটনায় তদন্ত কমিটি চান বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার।
৩ ঘণ্টা আগে
নিজেদের কাজটা গতকালই সেরে রেখেছিল রংপুর। কেবল তাদের চোখ ছিল সিলেট-বরিশাল ম্যাচের দিকে। সে ম্যাচের ফলাফল আকবর আলীর দলের পক্ষে এসেছে। জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) ২৭তম আসরের শিরোপা জিতেছে উত্তরের দলটি।
৭ ঘণ্টা আগে
তিন দিনের সিরিজের মতো সাদা বলের ক্রিকেটেও বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৭ দলের লড়াইটা হচ্ছে সমানে সমানে। এক ম্যাচ বাংলাদেশ জেতে তো পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ায় শ্রীলঙ্কা। আজ দ্বিতীয় ওয়ানডে জিতে তিন ম্যাচের সিরিজে সমতায় ফিরল শ্রীলঙ্কা।
৭ ঘণ্টা আগেনিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

হতাশার বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে আবাহনী লিমিটেড। ফুটবল লিগের পর এবার ফেডারেশন কাপেও হারল ব্রাদার্স ইউনিয়নের কাছে। কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে আজ ১-০ গোলের জয় পেয়েছে ব্রাদার্স।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়েও ছিল আবাহনী। তবে একের পর এক সুযোগ নষ্ট করা মাশুল দিতে হয়। ম্যাচের ২৭ মিনিটে প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত এক লং-রেঞ্জ শটে গোল করেন মনির আলম। সেই এক গোলেই শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিতে নেয় ব্রাদার্স।
এই গোলের পর যেন ছন্দ হারায় আবাহনী। টুর্নামেন্টের শুরুতে ফকিরেরপুল ইয়াংমেনস ক্লাবকে ৪-২ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস নিয়ে নামলেও এদিন আবারও হতাশ হতে হয় আকাশি-নীলদের। লিগে পাঁচ ম্যাচে মাত্র একটি জয় পাওয়া দলটির জন্য এই হার চাপ আরও বাড়াল।
দ্বিতীয়ার্ধে সুলাইমান দিয়াবাতে, আল আমিন ও মোহাম্মদ ইব্রাহিম সমতায় ফেরাতে মরিয়া হয়ে উঠলেও ব্রাদার্সের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি তারা। ফলে টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম জয় নিশ্চিত করে ব্রাদার্স ইউনিয়ন। এর আগে তারা রহমানগঞ্জ এমএফএসের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেছিল।
দুটি ম্যাচে এক জয় ও এক ড্র নিয়ে চার পয়েন্ট সংগ্রহ করে ‘এ’ গ্রুপের শীর্ষে উঠে গেছে ব্রাদার্স ইউনিয়ন।
দিনের অপর ম্যাচে বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় ফকিরেরপুল ইয়াংমেনস ক্লাবকে ২-০ গোলে হারিয়েছে পিডব্লিউডি স্পোর্টস ক্লাব। এক ম্যাচে তিন পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে তারা। অন্যদিকে, দুই ম্যাচে এক জয় ও এক হারে তিন পয়েন্ট থাকলেও একটি ম্যাচ বেশি খেলার কারণে গ্রুপের তৃতীয় স্থানে রয়েছে আবাহনী।

হতাশার বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে আবাহনী লিমিটেড। ফুটবল লিগের পর এবার ফেডারেশন কাপেও হারল ব্রাদার্স ইউনিয়নের কাছে। কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে আজ ১-০ গোলের জয় পেয়েছে ব্রাদার্স।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়েও ছিল আবাহনী। তবে একের পর এক সুযোগ নষ্ট করা মাশুল দিতে হয়। ম্যাচের ২৭ মিনিটে প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত এক লং-রেঞ্জ শটে গোল করেন মনির আলম। সেই এক গোলেই শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিতে নেয় ব্রাদার্স।
এই গোলের পর যেন ছন্দ হারায় আবাহনী। টুর্নামেন্টের শুরুতে ফকিরেরপুল ইয়াংমেনস ক্লাবকে ৪-২ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস নিয়ে নামলেও এদিন আবারও হতাশ হতে হয় আকাশি-নীলদের। লিগে পাঁচ ম্যাচে মাত্র একটি জয় পাওয়া দলটির জন্য এই হার চাপ আরও বাড়াল।
দ্বিতীয়ার্ধে সুলাইমান দিয়াবাতে, আল আমিন ও মোহাম্মদ ইব্রাহিম সমতায় ফেরাতে মরিয়া হয়ে উঠলেও ব্রাদার্সের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি তারা। ফলে টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম জয় নিশ্চিত করে ব্রাদার্স ইউনিয়ন। এর আগে তারা রহমানগঞ্জ এমএফএসের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেছিল।
দুটি ম্যাচে এক জয় ও এক ড্র নিয়ে চার পয়েন্ট সংগ্রহ করে ‘এ’ গ্রুপের শীর্ষে উঠে গেছে ব্রাদার্স ইউনিয়ন।
দিনের অপর ম্যাচে বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় ফকিরেরপুল ইয়াংমেনস ক্লাবকে ২-০ গোলে হারিয়েছে পিডব্লিউডি স্পোর্টস ক্লাব। এক ম্যাচে তিন পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে তারা। অন্যদিকে, দুই ম্যাচে এক জয় ও এক হারে তিন পয়েন্ট থাকলেও একটি ম্যাচ বেশি খেলার কারণে গ্রুপের তৃতীয় স্থানে রয়েছে আবাহনী।

জাতীয় নারী দলের সাবেক নির্বাচক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু ও নারী বিভাগের সাবেক ইনচার্জ প্রয়াত তৌহিদ মাহমুদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলম। নিজের ক্যারিয়ার শেষ করে দেওয়ার পেছনে কোচিং স্টাফ এবং খেলোয়াড়ের ভূমিকা ছিল বলেও দাবি করেছেন জাহানারা।
০৭ নভেম্বর ২০২৫
পূর্বাচলে নির্মাণাধীন স্টেডিয়ামে মাটি চুরির অভিযোগ উঠেছে। এমন অভিযোগের পর আজ পূর্বাচল পরিদর্শনে যান বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান খালেদ মাসুদ পাইলট। এই ঘটনায় তদন্ত কমিটি চান বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার।
৩ ঘণ্টা আগে
নিজেদের কাজটা গতকালই সেরে রেখেছিল রংপুর। কেবল তাদের চোখ ছিল সিলেট-বরিশাল ম্যাচের দিকে। সে ম্যাচের ফলাফল আকবর আলীর দলের পক্ষে এসেছে। জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) ২৭তম আসরের শিরোপা জিতেছে উত্তরের দলটি।
৭ ঘণ্টা আগে
তিন দিনের সিরিজের মতো সাদা বলের ক্রিকেটেও বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৭ দলের লড়াইটা হচ্ছে সমানে সমানে। এক ম্যাচ বাংলাদেশ জেতে তো পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ায় শ্রীলঙ্কা। আজ দ্বিতীয় ওয়ানডে জিতে তিন ম্যাচের সিরিজে সমতায় ফিরল শ্রীলঙ্কা।
৭ ঘণ্টা আগেনিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

পূর্বাচলে নির্মাণাধীন স্টেডিয়ামে মাটি চুরির অভিযোগ উঠেছে। এমন অভিযোগের পর আজ পূর্বাচল পরিদর্শনে যান বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান খালেদ মাসুদ পাইলট। এই ঘটনায় তদন্ত কমিটি চান বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার।
দরদাতা প্রতিষ্ঠান উইন্ডস্টার রিসোর্স কাছ থেকে ২০ হাজার বর্গফুট মাটি বুঝে পাওয়ার কথা ছিল বিসিবির। সেখানে ৭ হাজার বর্গফুট মাটি বুঝে পেয়েছে দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ৩৬ লাখ টাকার পরিবর্তে ১৪ লাখ টাকারও কম মাটি পেয়েছে বিসিবি। এর পেছনে কারা জড়িত সেটা বের করতে তদন্তের পথে এগোচ্ছেন পাইলট।
সাংবাদিকদের পাইলট বলেন, ‘প্রায় ২০ হাজার বর্গফুট মাটি এখানে আসার কথা, কিন্তু মাটি মেপে দেখা গেছে সাড়ে ৭ হাজার বর্গফুটের মতো মাটি আছে এখানে। আমাদের আসার আগে এই ঘটনা। খুব দ্রুত তদন্ত করতে চাই। মাটিটা এখনই ব্যবহার করতে চাই না। এই মাটি ব্যবহার করতে ডকুমেন্টস থাকবে না। এখানে অনেক নিম্নমানের মাটি আছে। এই কমিটিতে হয়তো একজন-দু’জন আমাদের ডিরেক্টর থাকবেন, আর বাইরের একজন-দু’জন থাকবেন যারা গোয়েন্দা সংস্থার লোক। আমি মনে করি, এমন মানুষ রাখব যারা এসব ধরনের কাজ করতে অভ্যস্ত। তো তিন সদস্যের একটা কমিটি করব-এটাই আমার পরিকল্পনা। আমি প্রেসিডেন্ট মহোদয়কে তা দেব এবং জানাবো যেন তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি করে বিষয়টির তদন্ত করা হয়।’
তদন্ত শেষে দোষীদের বিচার চান পাইলট, ‘মাটি সংক্রান্ত যে জটিলতা আছে তার সুন্দর সমাধান এবং বিচার হওয়া দরকার। তার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করব। তদন্ত কমিটির মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উঠে আসবে। কারা কারা এর সঙ্গে জড়িত তা জানতে পারব। কে স্বাক্ষর করেছে, কেনো করেছে, তা দেখতে চাই।’

পূর্বাচলে নির্মাণাধীন স্টেডিয়ামে মাটি চুরির অভিযোগ উঠেছে। এমন অভিযোগের পর আজ পূর্বাচল পরিদর্শনে যান বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান খালেদ মাসুদ পাইলট। এই ঘটনায় তদন্ত কমিটি চান বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার।
দরদাতা প্রতিষ্ঠান উইন্ডস্টার রিসোর্স কাছ থেকে ২০ হাজার বর্গফুট মাটি বুঝে পাওয়ার কথা ছিল বিসিবির। সেখানে ৭ হাজার বর্গফুট মাটি বুঝে পেয়েছে দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ৩৬ লাখ টাকার পরিবর্তে ১৪ লাখ টাকারও কম মাটি পেয়েছে বিসিবি। এর পেছনে কারা জড়িত সেটা বের করতে তদন্তের পথে এগোচ্ছেন পাইলট।
সাংবাদিকদের পাইলট বলেন, ‘প্রায় ২০ হাজার বর্গফুট মাটি এখানে আসার কথা, কিন্তু মাটি মেপে দেখা গেছে সাড়ে ৭ হাজার বর্গফুটের মতো মাটি আছে এখানে। আমাদের আসার আগে এই ঘটনা। খুব দ্রুত তদন্ত করতে চাই। মাটিটা এখনই ব্যবহার করতে চাই না। এই মাটি ব্যবহার করতে ডকুমেন্টস থাকবে না। এখানে অনেক নিম্নমানের মাটি আছে। এই কমিটিতে হয়তো একজন-দু’জন আমাদের ডিরেক্টর থাকবেন, আর বাইরের একজন-দু’জন থাকবেন যারা গোয়েন্দা সংস্থার লোক। আমি মনে করি, এমন মানুষ রাখব যারা এসব ধরনের কাজ করতে অভ্যস্ত। তো তিন সদস্যের একটা কমিটি করব-এটাই আমার পরিকল্পনা। আমি প্রেসিডেন্ট মহোদয়কে তা দেব এবং জানাবো যেন তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি করে বিষয়টির তদন্ত করা হয়।’
তদন্ত শেষে দোষীদের বিচার চান পাইলট, ‘মাটি সংক্রান্ত যে জটিলতা আছে তার সুন্দর সমাধান এবং বিচার হওয়া দরকার। তার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করব। তদন্ত কমিটির মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উঠে আসবে। কারা কারা এর সঙ্গে জড়িত তা জানতে পারব। কে স্বাক্ষর করেছে, কেনো করেছে, তা দেখতে চাই।’

জাতীয় নারী দলের সাবেক নির্বাচক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু ও নারী বিভাগের সাবেক ইনচার্জ প্রয়াত তৌহিদ মাহমুদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলম। নিজের ক্যারিয়ার শেষ করে দেওয়ার পেছনে কোচিং স্টাফ এবং খেলোয়াড়ের ভূমিকা ছিল বলেও দাবি করেছেন জাহানারা।
০৭ নভেম্বর ২০২৫
হতাশার বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে আবাহনী লিমিটেড। ফুটবল লিগের পর এবার ফেডারেশন কাপেও হারল ব্রাদার্স ইউনিয়নের কাছে। কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে আজ ১-০ গোলের জয় পেয়েছে ব্রাদার্স। ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়েও ছিল আবাহনী। তবে একের পর এক সুযোগ নষ্ট করা মাশুল দিতে হয়।
২ ঘণ্টা আগে
নিজেদের কাজটা গতকালই সেরে রেখেছিল রংপুর। কেবল তাদের চোখ ছিল সিলেট-বরিশাল ম্যাচের দিকে। সে ম্যাচের ফলাফল আকবর আলীর দলের পক্ষে এসেছে। জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) ২৭তম আসরের শিরোপা জিতেছে উত্তরের দলটি।
৭ ঘণ্টা আগে
তিন দিনের সিরিজের মতো সাদা বলের ক্রিকেটেও বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৭ দলের লড়াইটা হচ্ছে সমানে সমানে। এক ম্যাচ বাংলাদেশ জেতে তো পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ায় শ্রীলঙ্কা। আজ দ্বিতীয় ওয়ানডে জিতে তিন ম্যাচের সিরিজে সমতায় ফিরল শ্রীলঙ্কা।
৭ ঘণ্টা আগেনিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

নিজেদের কাজটা গতকালই সেরে রেখেছিল রংপুর। কেবল তাদের চোখ ছিল সিলেট-বরিশাল ম্যাচের দিকে। সে ম্যাচের ফলাফল আকবর আলীর দলের পক্ষে এসেছে। জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) ২৭তম আসরের শিরোপা জিতেছে উত্তরের দলটি। এর আগে সবশেষ ২০২২ সালের আসরে এনসিএলের শিরোপা জিতেছিল রংপুর।
ষষ্ঠ রাউন্ডে চট্টগ্রামের কাছে হেরে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছিল রংপুর। শিরোপা জেতার জন্য তাই শেষ রাউন্ডে খুলনাকে হারানোর বিকল্প ছিল না তাদের সামনে। এমন সমীকরণে শুরুটা ভালো হয়নি রংপুরের। তবে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে রূপসাপাড়ের দলটিকে ৭ উইকেট হারায় তারা। তাতে শিরোপার সমীকরণ কঠিন হয়ে যায় সিলেটের জন্য।
শেষ রাউন্ডে রংপুর জেতায় বরিশালের বিপক্ষে জিততেই হতো সিলেটকে। এই সমীকরণ মেলাতে পারেনি জাকির হাসানের দল। রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে ড্র হয়েছে দুই দলের লড়াই। তাই রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে সিলেটকে। ৩২০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ড্র হওয়ার আগে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮৭ রান তোলে তারা। ৬১ রান করেন আসাদুল্লা আল গালিব। ৫৩ রান আসে মুশফিকুর রহিমের ব্যাট থেকে।
প্রথম ইনিংসে বরিশালের ৩১২ রানের জবাবে ২৮৭ রানে অলআউট হয় সিলেট। ইফতেখার হোসেন ইফতির সেঞ্চুরিতে ২৯৪ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে বরিশাল। ১২৮ রানে অপরাজিত থাকেন ইফতি। ৪৩ রান আসে হাফিজুর রহমানের ব্যাট থেকে। সবকটি রাউন্ড শেষে সিলেটের সংগ্রহ ২৮ পয়েন্ট। ৩১ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন রংপুর।
২৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে দুইয়ে থেকে শেষ রাাউন্ডে মাঠে নামে নবাগত ময়মনসিংহ। শিরোপা জেতার ভালো সম্ভাবনা ছিল তাদের সামনেও। কিন্তু সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রাজশাহীর বিপক্ষে ন্যূনতম লড়াই করতে পারেনি তারা। ১৪৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরেছে ময়মনসিংহ। ৪২৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ২৮১ রানে থামে তাদের ইনিংস।
১৪১ রানে অপরাজিত ছিলেন আবু হায়দার রনি। দল হারায় বৃথা গেল তাঁর সেঞ্চুরি। আরও একবার বল হাতে জাদু দেখালেন সানজামুল ইসলাম। প্রথম ইনিংসের মতো এবারও তাঁর শিকার ৫ উইকেট। ৮৮ রান খরচ করেছেন এই বাঁহাতি স্পিনার।

নিজেদের কাজটা গতকালই সেরে রেখেছিল রংপুর। কেবল তাদের চোখ ছিল সিলেট-বরিশাল ম্যাচের দিকে। সে ম্যাচের ফলাফল আকবর আলীর দলের পক্ষে এসেছে। জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) ২৭তম আসরের শিরোপা জিতেছে উত্তরের দলটি। এর আগে সবশেষ ২০২২ সালের আসরে এনসিএলের শিরোপা জিতেছিল রংপুর।
ষষ্ঠ রাউন্ডে চট্টগ্রামের কাছে হেরে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছিল রংপুর। শিরোপা জেতার জন্য তাই শেষ রাউন্ডে খুলনাকে হারানোর বিকল্প ছিল না তাদের সামনে। এমন সমীকরণে শুরুটা ভালো হয়নি রংপুরের। তবে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে রূপসাপাড়ের দলটিকে ৭ উইকেট হারায় তারা। তাতে শিরোপার সমীকরণ কঠিন হয়ে যায় সিলেটের জন্য।
শেষ রাউন্ডে রংপুর জেতায় বরিশালের বিপক্ষে জিততেই হতো সিলেটকে। এই সমীকরণ মেলাতে পারেনি জাকির হাসানের দল। রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে ড্র হয়েছে দুই দলের লড়াই। তাই রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে সিলেটকে। ৩২০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ড্র হওয়ার আগে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮৭ রান তোলে তারা। ৬১ রান করেন আসাদুল্লা আল গালিব। ৫৩ রান আসে মুশফিকুর রহিমের ব্যাট থেকে।
প্রথম ইনিংসে বরিশালের ৩১২ রানের জবাবে ২৮৭ রানে অলআউট হয় সিলেট। ইফতেখার হোসেন ইফতির সেঞ্চুরিতে ২৯৪ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে বরিশাল। ১২৮ রানে অপরাজিত থাকেন ইফতি। ৪৩ রান আসে হাফিজুর রহমানের ব্যাট থেকে। সবকটি রাউন্ড শেষে সিলেটের সংগ্রহ ২৮ পয়েন্ট। ৩১ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন রংপুর।
২৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে দুইয়ে থেকে শেষ রাাউন্ডে মাঠে নামে নবাগত ময়মনসিংহ। শিরোপা জেতার ভালো সম্ভাবনা ছিল তাদের সামনেও। কিন্তু সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রাজশাহীর বিপক্ষে ন্যূনতম লড়াই করতে পারেনি তারা। ১৪৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরেছে ময়মনসিংহ। ৪২৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ২৮১ রানে থামে তাদের ইনিংস।
১৪১ রানে অপরাজিত ছিলেন আবু হায়দার রনি। দল হারায় বৃথা গেল তাঁর সেঞ্চুরি। আরও একবার বল হাতে জাদু দেখালেন সানজামুল ইসলাম। প্রথম ইনিংসের মতো এবারও তাঁর শিকার ৫ উইকেট। ৮৮ রান খরচ করেছেন এই বাঁহাতি স্পিনার।

জাতীয় নারী দলের সাবেক নির্বাচক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু ও নারী বিভাগের সাবেক ইনচার্জ প্রয়াত তৌহিদ মাহমুদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলম। নিজের ক্যারিয়ার শেষ করে দেওয়ার পেছনে কোচিং স্টাফ এবং খেলোয়াড়ের ভূমিকা ছিল বলেও দাবি করেছেন জাহানারা।
০৭ নভেম্বর ২০২৫
হতাশার বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে আবাহনী লিমিটেড। ফুটবল লিগের পর এবার ফেডারেশন কাপেও হারল ব্রাদার্স ইউনিয়নের কাছে। কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে আজ ১-০ গোলের জয় পেয়েছে ব্রাদার্স। ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়েও ছিল আবাহনী। তবে একের পর এক সুযোগ নষ্ট করা মাশুল দিতে হয়।
২ ঘণ্টা আগে
পূর্বাচলে নির্মাণাধীন স্টেডিয়ামে মাটি চুরির অভিযোগ উঠেছে। এমন অভিযোগের পর আজ পূর্বাচল পরিদর্শনে যান বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান খালেদ মাসুদ পাইলট। এই ঘটনায় তদন্ত কমিটি চান বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার।
৩ ঘণ্টা আগে
তিন দিনের সিরিজের মতো সাদা বলের ক্রিকেটেও বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৭ দলের লড়াইটা হচ্ছে সমানে সমানে। এক ম্যাচ বাংলাদেশ জেতে তো পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ায় শ্রীলঙ্কা। আজ দ্বিতীয় ওয়ানডে জিতে তিন ম্যাচের সিরিজে সমতায় ফিরল শ্রীলঙ্কা।
৭ ঘণ্টা আগেক্রীড়া ডেস্ক

তিন দিনের সিরিজের মতো সাদা বলের ক্রিকেটেও বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৭ দলের লড়াইটা হচ্ছে সমানে সমানে। এক ম্যাচ বাংলাদেশ জেতে তো পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ায় শ্রীলঙ্কা। আজ দ্বিতীয় ওয়ানডে জিতে তিন ম্যাচের সিরিজে সমতায় ফিরল শ্রীলঙ্কা।
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে গত রোববার প্রথম ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৭ দলকে ৭৮ রানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। সেবার ব্যাটারদের ব্যর্থতায় শ্রীলঙ্কা ২০০ রানও করতে পারেনি। একই মাঠে আজ দ্বিতীয় ওয়ানডেতে অবস্থাটা মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠের মতো। ব্যাটারদের ব্যর্থতায় স্কোরবোর্ডে পর্যাপ্ত রান তুলতে পারেনি বাংলাদেশ। ৬ উইকেটে জিতে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ এখন ১-১ সমতায় নিয়ে এল শ্রীলঙ্কা।
চট্টগ্রামে আজ দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১৯৫ রানের লক্ষ্যে নেমে প্রথম ৩ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৩১ রান করে শ্রীলঙ্কা। চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে লঙ্কান অধিনায়ক রেহান পেইরিসকে ফেরান জারিফ সিয়াম। ১১ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় ১৮ রান করেন পেইরিস। বিস্ফোরক শুরু করলেও পরে ধীরস্থির গতিতে এগিয়েছেন লঙ্কানরা। দ্বিতীয় উইকেটে আরোশা সিথুমিনা ও হিরুন মাথিসা গড়েন ৮০ রানের জুটি। ২৩তম ওভারের শেষ বলে সিথুমিনাকে (৫০) বোল্ড করে জুটি ভাঙেন মোহাম্মদ রাকিবুল হোসেন।
তৃতীয় উইকেটে এরপর ৪৫ রানের জুটি গড়েন মাথিসা ও জ্যাসন ফার্নান্দো। ৩৬তম ওভারের শেষ বলে ফার্নান্দোকে (২৪) বোল্ড করেন সিয়াম। পরের ওভারের (৩৭তম) পঞ্চম বলে পুলজিত ওয়াথসুকাকে ফেরান রাকিবুল। ওয়াথসুকা ৪ বল খেলেও রানের খাতা খুলতে পারেননি। দ্রুত ২ উইকেট হারিয়ে ৩৬.৫ ওভারে ৪ উইকেটে ১৫৯ রানে পরিণত হন লঙ্কানরা। যদিও সেটা সফরকারীদের ম্যাচ জয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। পঞ্চম উইকেটে ৩৬ রানের অবিচ্ছেদ্য জুটি গড়েন মাথিসা ও সানুল বীরারত্নে। ২৫ বল হাতে রেখে পাওয়া শ্রীলঙ্কার ৬ উইকেটের জয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন মাথিসা। ১৩৬ বলের ইনিংসে ৬ চারে ৮০ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। বাংলাদেশের সিয়াম ও রাকিবুল দুটি করে উইকেট নিয়েছেন।
টস জিতে আজ দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ দলের অধিনায়ক রাকিবুল। ৪৬.৫ ওভারে ১৯৪ রানে গুটিয়ে গেছেন স্বাগতিকেরা। ইনিংস সর্বোচ্চ ৫২ রান করেছেন ওপেনার জারিফ সিয়াম। শ্রীলঙ্কার হিমারু দিশান ও মিনুগা নেথসারা নিয়েছেন তিনটি করে উইকেট। সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডে ১২ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে হবে।

তিন দিনের সিরিজের মতো সাদা বলের ক্রিকেটেও বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৭ দলের লড়াইটা হচ্ছে সমানে সমানে। এক ম্যাচ বাংলাদেশ জেতে তো পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ায় শ্রীলঙ্কা। আজ দ্বিতীয় ওয়ানডে জিতে তিন ম্যাচের সিরিজে সমতায় ফিরল শ্রীলঙ্কা।
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে গত রোববার প্রথম ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৭ দলকে ৭৮ রানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। সেবার ব্যাটারদের ব্যর্থতায় শ্রীলঙ্কা ২০০ রানও করতে পারেনি। একই মাঠে আজ দ্বিতীয় ওয়ানডেতে অবস্থাটা মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠের মতো। ব্যাটারদের ব্যর্থতায় স্কোরবোর্ডে পর্যাপ্ত রান তুলতে পারেনি বাংলাদেশ। ৬ উইকেটে জিতে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ এখন ১-১ সমতায় নিয়ে এল শ্রীলঙ্কা।
চট্টগ্রামে আজ দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১৯৫ রানের লক্ষ্যে নেমে প্রথম ৩ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৩১ রান করে শ্রীলঙ্কা। চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে লঙ্কান অধিনায়ক রেহান পেইরিসকে ফেরান জারিফ সিয়াম। ১১ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় ১৮ রান করেন পেইরিস। বিস্ফোরক শুরু করলেও পরে ধীরস্থির গতিতে এগিয়েছেন লঙ্কানরা। দ্বিতীয় উইকেটে আরোশা সিথুমিনা ও হিরুন মাথিসা গড়েন ৮০ রানের জুটি। ২৩তম ওভারের শেষ বলে সিথুমিনাকে (৫০) বোল্ড করে জুটি ভাঙেন মোহাম্মদ রাকিবুল হোসেন।
তৃতীয় উইকেটে এরপর ৪৫ রানের জুটি গড়েন মাথিসা ও জ্যাসন ফার্নান্দো। ৩৬তম ওভারের শেষ বলে ফার্নান্দোকে (২৪) বোল্ড করেন সিয়াম। পরের ওভারের (৩৭তম) পঞ্চম বলে পুলজিত ওয়াথসুকাকে ফেরান রাকিবুল। ওয়াথসুকা ৪ বল খেলেও রানের খাতা খুলতে পারেননি। দ্রুত ২ উইকেট হারিয়ে ৩৬.৫ ওভারে ৪ উইকেটে ১৫৯ রানে পরিণত হন লঙ্কানরা। যদিও সেটা সফরকারীদের ম্যাচ জয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। পঞ্চম উইকেটে ৩৬ রানের অবিচ্ছেদ্য জুটি গড়েন মাথিসা ও সানুল বীরারত্নে। ২৫ বল হাতে রেখে পাওয়া শ্রীলঙ্কার ৬ উইকেটের জয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন মাথিসা। ১৩৬ বলের ইনিংসে ৬ চারে ৮০ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। বাংলাদেশের সিয়াম ও রাকিবুল দুটি করে উইকেট নিয়েছেন।
টস জিতে আজ দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ দলের অধিনায়ক রাকিবুল। ৪৬.৫ ওভারে ১৯৪ রানে গুটিয়ে গেছেন স্বাগতিকেরা। ইনিংস সর্বোচ্চ ৫২ রান করেছেন ওপেনার জারিফ সিয়াম। শ্রীলঙ্কার হিমারু দিশান ও মিনুগা নেথসারা নিয়েছেন তিনটি করে উইকেট। সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডে ১২ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে হবে।

জাতীয় নারী দলের সাবেক নির্বাচক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু ও নারী বিভাগের সাবেক ইনচার্জ প্রয়াত তৌহিদ মাহমুদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলম। নিজের ক্যারিয়ার শেষ করে দেওয়ার পেছনে কোচিং স্টাফ এবং খেলোয়াড়ের ভূমিকা ছিল বলেও দাবি করেছেন জাহানারা।
০৭ নভেম্বর ২০২৫
হতাশার বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে আবাহনী লিমিটেড। ফুটবল লিগের পর এবার ফেডারেশন কাপেও হারল ব্রাদার্স ইউনিয়নের কাছে। কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে আজ ১-০ গোলের জয় পেয়েছে ব্রাদার্স। ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়েও ছিল আবাহনী। তবে একের পর এক সুযোগ নষ্ট করা মাশুল দিতে হয়।
২ ঘণ্টা আগে
পূর্বাচলে নির্মাণাধীন স্টেডিয়ামে মাটি চুরির অভিযোগ উঠেছে। এমন অভিযোগের পর আজ পূর্বাচল পরিদর্শনে যান বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান খালেদ মাসুদ পাইলট। এই ঘটনায় তদন্ত কমিটি চান বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার।
৩ ঘণ্টা আগে
নিজেদের কাজটা গতকালই সেরে রেখেছিল রংপুর। কেবল তাদের চোখ ছিল সিলেট-বরিশাল ম্যাচের দিকে। সে ম্যাচের ফলাফল আকবর আলীর দলের পক্ষে এসেছে। জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) ২৭তম আসরের শিরোপা জিতেছে উত্তরের দলটি।
৭ ঘণ্টা আগে