
বার্সেলোনার হয়ে ২০ বছরেরও বেশি সময় খেলেছিলেন লিওনেল মেসি। দীর্ঘ এই ক্যারিয়ারে কত জনকে সতীর্থ হিসেবে পেয়েছেন সেটা হয়তো আর্জেন্টাইন ফুটবলারের হিসেব করে বের করা কঠিন। এবার মেসির সাবেক বার্সা সতীর্থ ক্রিশ্চিয়ান তেলো অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন।
২০১১ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত বার্সেলোনায় খেলেছেন তেলো। অর্থাৎ ৬ বছর মেসির সতীর্থ হিসেবে খেলার সৌভাগ্য হয়েছে তাঁর। আর মেসি ২০০৪ থেকে ২০২১ পর্যন্ত কাতালানদের জার্সিতে একের পর এক রেকর্ড গড়েছেন। রেকর্ডের বরপুত্র নামে পরিচিত আর্জেন্টাইন এই ফরোয়ার্ড জিতেছেন অসংখ্য শিরোপা। তাঁর সঙ্গে শিরোপা জয়ের উৎসব করার সুযোগও মিলেছিল তেলোর।
সামাজিকমাধ্যমে গত রাতে আবেগঘন এক বার্তায় ৩৫ বছরেই বুটজোড়া তুলে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সদ্য সাবেক এই স্প্যানিশ তারকা নিজের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এক বিবৃতিতে লিখেছেন, ‘আজ আমার জীবনের একটি অধ্যায়কে বিদায় জানানোর সময় এসেছে। এতগুলো বছর, এতগুলো ম্যাচ, এতগুলো ড্রেসিংরুম, অসংখ্য আনন্দের মুহূর্ত এবং কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর অবশেষে পেশাদার ফুটবলকে বিদায় জানানোর সময় এসেছে।’
২০১০ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত ফুটবল ক্যারিয়ারে ৫১২ ফুটবল ম্যাচ খেলেছেন তেলো। বার্সার হয়ে একটি করে লা লিগা, কোপা দেল রে, স্প্যানিশ সুপার কাপ জিতেছেন তিনি। রিয়াল বেতিসের জার্সিতে কোপা দেল রে এবং লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির হয়ে এমএলএস কাপ, সাপোর্টার্স শিল্ডে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। স্পেন অনূর্ধ্ব-২১ দলের হয়ে জিতেছেন ইউরোও।
ক্যারিয়ারে যা অর্জন করেছেন, তা এক সময় তেলোর কাছে মনে হতো অসম্ভব। গত রাতে আবেগঘন বার্তায় বিদায়ের ঘোষণা দিতে গিয়ে ৩৫ বছর বয়সী স্প্যানিশ বলেন, ‘ফুটবল আমাকে সবকিছু দিয়েছে। এটি আমাকে এমন কিছু স্বপ্ন পূরণ করার সুযোগ দিয়েছে, যেগুলো একসময় অসম্ভব বলে মনে হতো। এমন অনেক মানুষের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে, যাদের আমি সারাজীবন মনে রাখব। আর এমন অসংখ্য মুহূর্ত উপহার দিয়েছে, যা আজীবন আমার স্মৃতিতে থেকে যাবে।’
১৬ বছরের ফুটবল ক্যারিয়ারে ৫১২ ম্যাচ খেলেছেন তেলো। এসপানিওল, বার্সেলোনা, পোর্তো, ফিওরেন্তিনা, রিয়াল বেতিস, লস অ্যাঞ্জেলেস এফসি, সৌদি আরবের আল ফাতেহ, আল ওরোবাহ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাম সিটি—সব মিলিয়ে ক্লাব ক্যারিয়ারে ৪৯৪ ম্যাচ খেলেছেন। স্পেনের জাতীয় দলের হয়ে এক ম্যাচের পাশাপাশি দেশটির বিভিন্ন বয়সভিত্তিক ক্লাবের হয়ে খেলেছেন। সামাজিক মাধ্যমে আবেগঘন বার্তায় ৩৫ বছর বয়সী স্প্যানিশ ফুটবলার বলেন, ‘আমি সৌভাগ্যবান যে এমন কিছু দলের জার্সি পরার সুযোগ পেয়েছি। যেগুলো আমার কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। একই সঙ্গে সতীর্থ, কোচ, ক্লাবের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বন্ধু এবং সর্বোপরি আমার পরিবারের সঙ্গে এই পথচলা ভাগ করে নিতে পেরেছি।’
দীর্ঘ ১৬ বছরের ক্যারিয়ারে মনে রাখার মতো অনেক মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছেন তেলো। পেয়েছেন ভক্ত-সমর্থকদের অজস্র ভালোবাসা। বিদায় বেলায় তাই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়াটাই স্বাভাবিক। সদ্য সাবেক এই ফরোয়ার্ড লিখেছেন, ‘যারা আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন, সমর্থন করেছেন, সমালোচনা করেছেন, কিংবা শুধু পাশে থেকেছেন—সবাইকে ধন্যবাদ। অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে ধন্যবাদ। আমি এই মানসিক শান্তি নিয়ে বিদায় নিচ্ছি যে, এই খেলাটির জন্য নিজের সবটুকু দিয়েছি। আর যে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছি, তা নিয়ে আমার অপরিসীম গর্ব রয়েছে। আজ একজন পেশাদার ফুটবলার হিসেবে ক্যারিয়ারের ইতি টানলাম। কিন্তু ফুটবল আমাকে যা কিছু শিখিয়েছে, তা চিরকাল আমার সঙ্গে থাকবে। ধন্যবাদ ফুটবল।’
যে মেসির সঙ্গে তেলো বার্সেলোনার হয়ে ৬ বছর খেলেছেন, সেই মেসি গত ৩১ আগস্ট আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। ২০২১ সালে মেসি বার্সা পর্ব শেষ করে চলে যান প্যারিস সেইন্ট জার্মেইতে (পিএসজি)। ২০২৩ সালে পিএসজি ছেড়ে ইন্টার মায়ামিতে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাবটির হয়ে নিয়মিত খেলছেন। আর তেলো প্রতিযোগিতামূলক ক্যারিয়ারে ৪৯৪ ম্যাচে করেছেন ৯১ গোল ও অ্যাসিস্ট করেছেন ৭১ গোলে।

মাঠের পারফরম্যান্সের মতোই যেন ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। কখন যে কী ঘটে, সেটা আগে থেকে অনুমান করা মুশকিল। কখনো কখনো ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিলেও ঠিকই মাঠে নামেন ক্রিকেটাররা। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ছেলেরাও সেই দাবি করেছেন।
১৭ মিনিট আগে
ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে একই দলের হয়ে খেলতে দেখার অপেক্ষা এবার শেষ হতে যাচ্ছে। কার্লোস তেভেজের বিদায়ী ম্যাচে প্রথমবারের মতো একই দলের জার্সিতে মাঠে নামতে সম্মতি দিয়েছেন আর্জেন্টাইন ও পর্তুগিজ এই দুই তারকা।
১ ঘণ্টা আগে
পাকিস্তান ক্রিকেটে স্থানীয় ও বিদেশি কোচদের সঙ্গে একরকম আচরণ করা হয় না—এমন বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন দেশটির সাবেক টেস্ট অধিনায়ক ও সম্প্রতি জাতীয় নির্বাচকের পদ থেকে সরে দাঁড়ানো মিসবাহ উল হক।
৩ ঘণ্টা আগে
সুখস্মৃতির বদলে কিছু জয় পরবর্তী পথ বদলে দেয়। পাকিস্তান ক্রিকেটের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ ইউসুফের মতে, ২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ১০ উইকেটের সেই ঐতিহাসিক জয়ও পাকিস্তানের জন্য তেমনই এক ঘটনা।
৩ ঘণ্টা আগে