
ব্রাজিলের সমর্থক হলে এই পরিসংখ্যান আপনার অজানা থাকার কথা নয়। তাই ম্যাচের আগে মনের কোথাও না কোথাও একটু শঙ্কা থাকতেই পারে। তবে আপনার মনে যা-ই থাকুক, নিশ্চয় চাইবেন, মাঠে নামার সময় নেইমার-ভিনিসিয়ুসদের মনে যেন নরওয়েকে কখনো হারাতে না পারার সেই পুরোনো দুঃস্মৃতি একবারের জন্যও ফিরে না আসে।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ব্রাজিলের নাম মানেই শিরোপার স্বপ্ন, আর নরওয়ের জন্য ইতিহাস গড়ার সুযোগ। ভিন্ন বাস্তবতায় দুটি দল এবার মুখোমুখি হচ্ছে শেষ ষোলোয়। বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত ২টায় নিউইয়র্ক-নিউজার্সি স্টেডিয়ামে শুরু হবে এই লড়াই।
পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ২০০২ বিশ্বকাপের পর থেকে ষষ্ঠ শিরোপার পেছনে ছুটছে। গত ছয় আসরে মাত্র একবার সেমিফাইনালে উঠতে পেরেছে সেলেসাওরা। তাই কার্লো আনচেলত্তির অধীনে এবার প্রত্যাশার চাপও অনেক বেশি।
এবারের বিশ্বকাপে অবশ্য সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে ব্রাজিলের খেলায়। গ্রুপপর্বে মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে সাত পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থেকে নকআউটে উঠেছে তারা। শেষ ষোলো নিশ্চিত করতে জাপানের বিপক্ষে লড়তে হয়েছে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত। পিছিয়ে পড়েও নির্ধারিত সময়ের যোগ করা মিনিটে বদলি হিসেবে নামা গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির গোলে ২-১ ব্যবধানে জিতে স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখে ব্রাজিল।
ব্রাজিলের আক্রমণের মূল ভরসা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। গ্রুপপর্বেই চার গোল করে নিজের দুর্দান্ত ছন্দের প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। গতি, ড্রিবলিং এবং একের বিপরীতে এক লড়াইয়ে প্রতিপক্ষকে হারিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য ব্রাজিলকে আলাদা শক্তি দিচ্ছে। তবে নকআউট পর্বে সুযোগ নষ্ট করলে তার মূল্য চোকাতে হতে পারে—জাপানের বিপক্ষে সেই সতর্কবার্তাও পেয়েছে আনচেলত্তির দল।
নরওয়ে যেন এই বিশ্বকাপের অন্যতম অনুপ্রেরণার গল্প। ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে এসে সরাসরি শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছে তারা। এই উত্থানের কেন্দ্রে আছেন আর্লিং হালান্ড। ইউরোপিয়ান বাছাইপর্বের সর্বোচ্চ গোলদাতা বিশ্বকাপেও একই ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন। গ্রুপপর্বে ইরাক ও সেনেগালের বিপক্ষে চার গোল করার পর শেষ ষোলোতে আইভরি কোস্টের বিপক্ষেও জয়সূচক গোল করেছেন ম্যানচেস্টার সিটির এই স্ট্রাইকার।
নরওয়ের যাত্রাপথ অবশ্য পুরোপুরি মসৃণ ছিল না। গ্রুপপর্বে ফ্রান্সের কাছে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হেরেছিল তারা। তবে সেই ম্যাচে কোচ স্টেল সোলবাকেন নিয়মিত খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দিয়েছিলেন। ফলে সেই হারকে খুব বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে না তারা; বরং তাদের বিশ্বাস, পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে ব্রাজিলের বিপক্ষে চমক দেখানো সম্ভব।
এই ম্যাচে ইতিহাসও নরওয়েকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিতে পারে। বিশ্বকাপে দুই দলের একমাত্র আগের দেখা ১৯৯৮ সালে। ফ্রান্স বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে বেবেতোর গোলে পিছিয়ে পড়েও ২-১ ব্যবধানে ব্রাজিলকে হারিয়েছিল নরওয়ে। সেই দলের সদস্য ছিলেন বর্তমান কোচ স্টালে সোলবাকেন। ২৮ বছর পর সেই স্মৃতি নতুন করে উজ্জীবিত করছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দলটিকে।
ম্যাচের আগে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি বলেছেন, ‘আমরা ভালো খেলছি, কিন্তু তাতেও সন্তুষ্ট নই। আমরা আরও ভালো খেলতে চাই; কারণ, সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোই আমাদের লক্ষ্য।’
বিশ্বকাপের বাইরে বাকি ৩ ম্যাচেও নরওয়েকে হারাতে পারেনি ব্রাজিল। তবু নামেভারে নরওয়ের চেয়ে ঢের এগিয়ে সেলেসাওরা। সোলবাকেন তাই বাস্তবতা মেনেই লড়াইয়ে নামবেন। তাঁর ভাষায়, ‘ব্রাজিল অবশ্যই ফেবারিট। কিন্তু আমরা আনন্দভ্রমণে আসিনি। আমরা জিততে এবং কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতেই মাঠে নামছি।’
কাগজে-কলমে ব্রাজিল এগিয়ে। অভিজ্ঞতা, গভীরতা আর তারকায়ও তারা নরওয়ের চেয়ে অনেক সমৃদ্ধ। কিন্তু নকআউট পর্বে অতীতের পরিসংখ্যান খুব বেশি গুরুত্ব পায় না। একদিকে ভিনিসিয়ুসের পায়ে চড়ে ব্রাজিলের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন, অন্যদিকে হালান্ডকে সামনে রেখে নরওয়ের ইতিহাস গড়ার আকাঙ্ক্ষা। সব মিলিয়ে অপেক্ষা করছে শেষ ষোলোর দারুণ এক লড়াই।

রীতিমতো এক নাটকই মঞ্চস্থ হলো মেক্সিকো সিটির আসতেকা স্টেডিয়ামে। ইংল্যান্ড-মেক্সিকোর ম্যাচে কী ছিল না! ফাউল, লাল কার্ড, পেনাল্টি। এমন নাটকীয় ম্যাচে শেষ হাসি হেসেছে টমাস টুখেলের দল। রাউন্ড অব সিক্সটিনের ম্যাচে মেক্সিকোকে ৩-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটল ইংলিশরা।
১৫ মিনিট আগে
ক্লাব পর্যায়ে গোলের ঝুলঝুরি ছুটিয়ে অনেক আগেই গোলমেশিন তকমা পেয়েছেন আরলিং হালান্ড। এবারের বিশ্বকাপেও ধারাবাহিকভাবে জালের দেখা পাচ্ছেন। শেষ ষোলো থেকে ব্রাজিলকে বিদায় করার পথে দুইবার পেয়েছেন জালের দেখা। এরপর সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এই স্ট্রাইকার।
২৭ মিনিট আগে
বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের পর আক্ষেপের নাম হয়ে থাকল পেনাল্টি মিস। স্পট কিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হয়ে ভক্তদের তোপের মুখে পড়েছেন ব্রুনো গিমারেস। একই সঙ্গে সামনে উঠে আসছে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের নাম।
১ ঘণ্টা আগে
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে ব্রাজিলের। সেই হারের অন্যতম মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া মুহূর্ত ছিল প্রথমার্ধে ব্রুনো গিমারেসের পেনাল্টি মিস। ম্যাচ শেষে সেই ব্যর্থতার দায় নিজের কাঁধে নিয়ে সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইলেন নিউক্যাসল ইউনাইটেডের এই মিডফিল্ডার।
২ ঘণ্টা আগে