১১ জুন শুরু ফুটবল বিশ্বকাপ । যুক্তরাষ্ট্র , কানাডা ও মেক্সিকোয় শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে খেলছে ৪৮ দল । ‘ বিশ্বকাপের দল ' শীর্ষক এই ধারাবাহিকে কোন দল কেমন , সেটি তুলে ধরার প্রয়াস । আজকের পর্বে দক্ষিণ কোরিয়া

টানা ১১টি বিশ্বকাপ খেলা কোনো মামুলি ব্যাপার নয়। এশিয়ার ফুটবলে তাই ধারাবাহিকতার অন্য নাম দক্ষিণ কোরিয়া। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে তায়েগুক ওয়ারিয়রদের নিয়ে এখন মিশ্র সুর। একদিকে ২০০২ সালের সেই সোনালি অতীতকে ছোঁয়ার তাগিদ, অন্যদিকে বর্তমান দলের ফর্ম ও প্রজন্মের পরিবর্তন; সব মিলিয়ে কোচ হং মিউং-বো এক কঠিন সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে।
এশিয়ান বাছাইপর্বে ৬ জয় এবং ৪ ড্র নিয়ে অপরাজিত থেকে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে কোরিয়া। বিশেষ করে শেষ ম্যাচে কুয়েতকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়াটা ছিল তাদের শক্তিমত্তার মহড়া। কিন্তু বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে লড়াইটা হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন। গ্রুপ ‘এ’তে তাদের প্রতিপক্ষ মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা ও চেকিয়া। কোনো দলই খুব একটা দুর্বল নয়, আবার কেউই অজেয় নয়। এই ভারসাম্যপূর্ণ গ্রুপে কোরিয়াকে টিকে থাকতে হলে গতির সঙ্গে কৌশলের নিখুঁত সমন্বয় ঘটাতে হবে।
বাছাইপর্বের রেকর্ড বই দেখলে মনে হবে কোরিয়া অপ্রতিরোধ্য। তবে ইরাকের বিপক্ষে ঘাম ঝরানো জয় বা থাইল্যান্ডের কাছে পয়েন্ট হারানো; মাঠের ফুটবলে প্রতিপক্ষকে পুরোপুরি শেষ করে দেওয়ার মানসিকতায় কিছুটা ভাটা দেখা গেছে। বিশেষ করে প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিল ও আইভরি কোস্টের কাছে বড় ব্যবধানে হার প্রমাণ করেছে যে এশিয়ান ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্ব আর বিশ্বমঞ্চের লড়াইয়ের মধ্যে ব্যবধানটা এখনো বিশাল।
দলের বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা অধিনায়ক সন হিউং-মিন। মেজর লিগ সকারে টানা আট ম্যাচ গোলহীন থাকা সনকে নিয়ে শঙ্কা কাটছে না। পরিসংখ্যান বলছে, গত মৌসুমের তুলনায় তাঁর গোলমুখে শট নেওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে লি কাং-ইনের ফিটনেস সমস্যা। মাঝমাঠের এই দুই কান্ডারির ছন্দহীনতা আক্রমণভাগকে কিছুটা ভোঁতা করে দিয়েছে। রক্ষণভাগে কিম মিন-জে একাই লড়ে যাচ্ছেন।
হং মিউং-বো এখন এক কঠিন পালাবদলের মধ্যে আছেন। সনদের সোনালি যুগের সূর্য যখন অস্তমিত হতে চলেছে, তখন ইয়াং হিউন-জুনদের মতো তরুণদের ওপর ভরসা করা ছাড়া উপায় নেই। হংয়ের লক্ষ্য হলো সনের অভিজ্ঞতা আর তরুণদের উদ্যমকে এক সুতোয় গাঁথা। কোচ হিসেবে তাঁর ট্র্যাক রেকর্ডসমৃদ্ধ; ২০১২ অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ বা কে-লিগে উলসানকে শিরোপা জেতানো তাঁর ফুটবলীয় প্রজ্ঞারই প্রমাণ।
২০০২ বিশ্বকাপে ঘরের মাঠে কোরিয়া চতুর্থ হওয়া ছিল এক অবিশ্বাস্য রূপকথা। সেই রূপকথার পথে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন হং। ২০২৬ সালে সেই উচ্চতায় পৌঁছানো হয়তো বাস্তবসম্মত নয়, তবে কোরিয়া সব সময়ই অঘটন ঘটাতে পটু।
২০২৬ বিশ্বকাপে সনের অভিজ্ঞতার চেয়েও দক্ষিণ কোরিয়ার সফলতা নির্ভর করছে হংয়ের কৌশলের ওপর। তারা কি শুধু গতির ওপর ভরসা করবে, নাকি ইউরোপীয় ঘরানার পজেশনাল ফুটবলের সঙ্গে এশিয়ান ত্বরিত কাউন্টার-অ্যাটাকের মিশ্রণ ঘটাবে? যদি কোরিয়া তাদের সেই পুরোনো নির্ভীক ফুটবল স্টাইল ফিরিয়ে আনতে পারে, তবে ২০০২-এর রূপকথা আবারও ফিরে আসা সম্ভব। অন্যথায় অভিজ্ঞতার ঝুলি নিয়ে বিশ্বমঞ্চে টেকাটা তাদের জন্য পাহাড়সম কঠিন হবে। আন্ডারডগ কোরিয়ার সামনে তাই মিশন ইম্পসিবল।

কোচ: হং মিউং বো
দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবল ইতিহাসে হং মিউং-বোয়ের নাম এমনিতেই স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। ২০০২ বিশ্বকাপে অধিনায়ক হিসেবে দলকে সেমিফাইনালে তোলা এই কিংবদন্তি এখন ডাগআউটের মাস্টারমাইন্ড। কোচ হিসেবে ২০১৪ বিশ্বকাপের ব্যর্থতার ১০ বছর পর ২০২৪ সালে তিনি যখন পুনরায় দায়িত্ব নেন, তখন কোরীয় ফুটবল চরম অস্থিরতায়। তবে হংয়ের দর্শন আর খেলোয়াড়দের মনস্তত্ত্ব বোঝার অসাধারণ ক্ষমতা দলকে দ্রুত কক্ষপথে ফিরিয়েছে। অভিজ্ঞতার সঙ্গে তারুণ্যের সঠিক সংমিশ্রণে তিনি এখন বিশ্বকাপের মঞ্চে কোরিয়ার নতুন রূপকার।

তারকা: সন হিউং মিন
বয়স তেত্রিশ ছুঁলেও দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবলের হৃৎপিণ্ড এখনো সন হিউং-মিন। টটেনহ্যামের সোনালি ক্যারিয়ার শেষে লস অ্যাঞ্জেলেসে পাড়ি জমানো এই ফরোয়ার্ডের লক্ষ্য এখন চা বুম-কুনের ৫৮ গোলের রেকর্ড ভাঙা। প্রয়োজন আর মাত্র চারটি আন্তর্জাতিক গোল। উত্তর আমেরিকার কন্ডিশনের সঙ্গে সখ্য গড়া সন এবার নিজের ‘শেষ’ বিশ্বকাপে জ্বলে উঠতে মরিয়া। অভিজ্ঞতার ভার আর গোলক্ষুধা নিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ তাঁর জন্য অমরত্ব নিশ্চিত করার মঞ্চ।
বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাস
র্যাঙ্কিং : ২৫
অংশগ্রহণ: ১২
ডাকনাম: তায়েগুক ওয়ারিয়র্স
অঞ্চল: এশিয়া
সর্বোচ্চ সাফল্য: সেমিফাইনাল (২০০২)
বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়া
| ম্যাচ | জয় | ড্র | হার |
|---|---|---|---|
| ৩৮ | ৭ | ১০ | ২১ |
| তারিখ | প্রতিপক্ষ | ভেন্যু | শুরুর সময় (বাংলাদেশ সময়) |
|---|---|---|---|
| ১২ জুন | চেক প্রজাতন্ত্র | গুয়াদালাহারা | সকাল ৮টা |
| ১৯ জুন | মেক্সিকো | গুয়াদালাহারা | সকাল ৭টা |
| ২৫ জুন | দক্ষিণ আফ্রিকা | মন্তেরে | সকাল ৭টা |

পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ফাইনাল খেলতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) গতকাল অনুমতি দিয়েছে। আজ তিনি রওনা দিলেন পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে। ২ মে তাঁর দল পেশোয়ার জালমি খেলতে নামবে শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে।
৩৯ মিনিট আগে
২০২৪ সালের অক্টোবরের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আর ফিরতে পারেননি সাকিব আল হাসান। গত ১৮ মাসে তাঁর ফেরার ব্যাপারে অনেক কথাবার্তা শোনা গেছে। যদিও শেষ পর্যন্ত গুঞ্জন হিসেবেই থেকে গেছে। বাংলাদেশের তারকা অলরাউন্ডারের দাবি, তাঁকে দেশে ফেরাতে তেমন কোনো উদ্যোগই নেওয়া হয়নি।
১ ঘণ্টা আগে
বয়সের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পারফর্ম করছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ১০০০ গোলের মাইলফলককে তিনি ‘পাখির চোখ’ করেছেন বহু আগেই। যতই দিন যাচ্ছে, ততই সেই লক্ষ্যের কাছাকাছি চলে যাচ্ছেন তিনি।
২ ঘণ্টা আগে
সিলেটে গত পরশু সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশকে ২৫ রানে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা। সিরিজ জিততে এখন নিগার সুলতানা জ্যোতির দলের বাকি দুই ম্যাচ জয়ের কোনো বিকল্প নেই। আজ সিলেটে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা। উয়েফা ইউরোপা লিগ, উয়েফা কনফারেন্স লিগ, আইপিএলের ম্যাচও রয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে