Ajker Patrika

রাজনীতি ও বিতর্কে শেষ পিরলোর স্বপ্ন

ক্রীড়া ডেস্ক    
রাজনীতি ও বিতর্কে শেষ পিরলোর স্বপ্ন
ইতালির কোচ হচ্ছেন না আন্দ্রেয়া পিরলো। ছবি: সংগৃহীত

আন্দ্রেয়া পিরলোকে ঘিরে ইতালির জাতীয় দলের কোচ নিয়োগের জল্পনা কয়েক দিনের মধ্যেই নাটকীয় মোড় নিল। কোচ হওয়ার প্রার্থিতায় একসময় যিনি ছিলেন সবচেয়ে এগিয়ে, তিনিই শেষ পর্যন্ত দৌড় থেকে ছিটকে পড়লেন। ফুটবলীয় যোগ্যতার চেয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক এবং একটি বাণিজ্যিক চুক্তিই শেষ পর্যন্ত পিরলোর স্বপ্ন ভেঙে দিল বলে মনে করা হচ্ছে।

২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী ইতালির কিংবদন্তি মিডফিল্ডার সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, তিনি আর জাতীয় দলের কোচ পদের প্রার্থী নন। একই সঙ্গে এই পুরো ঘটনায় নিজের হতাশাও প্রকাশ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, খেলাধুলার ভিত্তিতে নেওয়ার কথা ছিল যে সিদ্ধান্ত, সেটি অল্প সময়েই জনসমক্ষে বিতর্কে পরিণত হয়েছে। এমনকি তাঁর ব্যক্তিত্ব ও বিশ্বাসের সঙ্গে অসংগত নানা ব্যাখ্যাও তুলে ধরা হয়েছে।

ইতালির গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর এবং পিরলোর সাবেক সতীর্থ পাওলো মালদিনি তাঁকে কোচ করার পক্ষেই ছিলেন। মালদিনির উপদেষ্টা লিওনার্দোও একই মত পোষণ করছিলেন। কিন্তু ফেডারেশনের নতুন প্রধান জিওভান্নি মালাগো শুরু থেকেই এই নিয়োগের বিরোধিতা করেন।

বিতর্কের বড় কারণ ছিল রাশিয়ান বেটিং প্রতিষ্ঠান ফনবেট-এর সঙ্গে পিরলোর বাণিজ্যিক চুক্তি। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইতালির কয়েকজন রাজনীতিক বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলেন। তাঁদের মতে, এমন একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি জাতীয় দলের কোচ হলে সেটি ইতালির রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

তবে পিরলো বরাবরই দাবি করে এসেছেন, এটি কেবল সংযুক্ত আরব আমিরাতে তাঁর পেশাগত কর্মকাণ্ডের অংশ এবং এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। তাঁর ভাষায়, এই চুক্তিকে রাজনৈতিক রং দেওয়া মানে তাঁর ওপর এমন মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়া, যা তিনি কখনো সমর্থন করেননি।

কোচ হিসেবে পিরলোর অভিজ্ঞতা অবশ্য খুব সমৃদ্ধ নয়। জুভেন্টাসে এক মৌসুমে ইতালিয়ান কাপ ও সুপার কাপ জিতলেও পরবর্তী সময়ে সাম্পদোরিয়া, তুরস্কের কারাগুমরুক এবং বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ইউনাইটেডে প্রত্যাশিত সাফল্য পাননি। তবু পেপ গার্দিওলা প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার পর এবং কার্লো আনচেলত্তির সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাওয়ায়, ইতালির ডাগআউটে তাঁর নামই সবচেয়ে জোরালোভাবে আলোচনায় ছিল।

পিরলো সরে যাওয়ায় আবারও সামনে চলে এসেছে পরিচিত দুটি নাম—রবার্তো মানচিনি ও আন্তোনিও কন্তে। মানচিনি ইতালিকে ২০২০ ইউরো চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন। আর কন্তে জুভেন্টাস, ইন্টার মিলান ও নাপোলিকে সিরি ‘আ’ এবং চেলসিকে প্রিমিয়ার লিগ জেতানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে এখন অনেকের কাছেই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত