
বিশ্বকাপে হাইড্রেশন ব্রেক নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। কেউ বলছেন, এতে ফুটবলের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হচ্ছে; আবার কেউ মনে করছেন, এটি খেলোয়াড়দের সুরক্ষার জন্য জরুরি। তবে টুর্নামেন্ট যত এগোচ্ছে, একটি বিষয় ততই স্পষ্ট হচ্ছে—এই তিন মিনিটের বিরতি এখন আর শুধু পানি পান করার সময় নয়, বরং কোচদের জন্য ম্যাচের ভেতরেই কৌশল বদলে দেওয়ার এক মূল্যবান সুযোগ। অনেক ম্যাচের ফলই যেন নির্ধারিত হচ্ছে এই সংক্ষিপ্ত বিরতিতে নেওয়া সিদ্ধান্তে।
এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ সুইজারল্যান্ড-বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা ম্যাচ। প্রথম এক ঘণ্টা শারীরিকভাবে শক্তিশালী বসনিয়ার বিপক্ষে আক্রমণে ধার খুঁজে পাচ্ছিল না সুইসরা। চার ডিফেন্ডার ও বক্স মিডফিল্ড নিয়ে খেলার কারণে বারবার উইং দিয়ে ওঠার চেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছিল। ৬০ মিনিটে তাদের প্রত্যাশিত গোল (এক্সজি) ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ২৫, শটও নিতে পেরেছিল মাত্র সাতটি। ঠিক তখনই আসে দ্বিতীয় হাইড্রেশন ব্রেক। বিরতি শেষে কোচ মুরাত ইয়াকিন একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন আনেন। উইংয়ে নামানো হয় জোহান মানজাম্বি ও রুবেন ভার্গাসকে, মাঝমাঠে আসেন জিব্রিল সাও। পরিকল্পনা ছিল ক্লান্ত ডিফেন্ডারদের বিপক্ষে গতি বাড়ানো। ফল পেতে সময় লাগে মাত্র তিন মিনিট। মানজাম্বি গোল করেন, পরে একই ধরনের আক্রমণ থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলও করেন। ভার্গাসও গোলের দেখা পান। বিরতির তিন মিনিটই যেন সুইজারল্যান্ডের পুরো ম্যাচ বদলে দেয়।
সুইডেন-নেদারল্যান্ডস ম্যাচে হাইড্রেশন ব্রেকের আরেকটি ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। শুরুতে ব্রায়ান ব্রবির শক্তিশালী উপস্থিতি ও নেদারল্যান্ডসের ৪-৩-৩ ছকের সামনে ছন্নছাড়া হয়ে পড়ে সুইডেন। প্রথম ১৭ মিনিটেই দুই গোল হজম করে তারা। সমস্যা বুঝতে দেরি করেননি কোচ গ্রাহাম পটার। হাইড্রেশন ব্রেকেই পাঁচ ডিফেন্ডারের রক্ষণ ছেড়ে চার ডিফেন্ডারের বিন্যাসে ফেরেন তিনি। এতে দুই উইংয়ের ফাঁকা জায়গা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে। শেষ পর্যন্ত ৫-১ ব্যবধানে হার এড়ানো না গেলেও ম্যাচ বিশ্লেষণে স্পষ্ট দেখা যায়, বিরতির পর সুইডেনের রক্ষণ আগের তুলনায় অনেক বেশি সংগঠিত ছিল। হাফটাইম পর্যন্ত অপেক্ষা করলে হয়তো ক্ষতিটা আরও বড় হতো।
আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচেও হাইড্রেশন ব্রেকের প্রভাব ছিল স্পষ্ট। অস্ট্রিয়ার সংকুচিত ৪-৪-২ প্রেসিংয়ে শুরুতে মাঝমাঠে জায়গাই পাচ্ছিল না আর্জেন্টিনা। বিরতির সময় কোচ লিওনেল স্কালোনি দুই সেন্টারব্যাককে আরও চওড়া হয়ে খেলতে নির্দেশ দেন। এতে প্রতিপক্ষের প্রেসিং ছড়িয়ে পড়ে, মাঝমাঠে তৈরি হয় বাড়তি জায়গা। সেই ফাঁক কাজে লাগিয়ে আর্জেন্টিনা দ্রুত বলের দখল প্রতিষ্ঠা করে এবং আক্রমণে ধার ফিরে পায়।
স্কালোনির অবশ্য হাইড্রেশন ব্রেক নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি বেশ ভারসাম্যপূর্ণ। তাঁর ভাষায়, ‘এই বিরতি দুর্বল দলকে সাহায্য করে; কারণ, তারা নিজেদের ভুল শুধরে নেওয়ার সময় পায়। তবে একই যুক্তিতে শক্তিশালী দলও প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে পারে। এই নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া অদ্ভুত লাগছে।’ অবশ্য শেষ বত্রিশের ম্যাচে প্রথম হাইড্রেশন ব্রেকের পরই লিওনেল মেসির গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। এর আগে রীতিমতো বোতলবন্দী হয়ে ছিল তারা।
বিরতি কারও জন্য আলাদা সুবিধা নয়, বরং যে দল মুহূর্তটি ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারবে, তারাই এগিয়ে থাকবে। ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশমও এই বিরতিকে কোচদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, ‘কোচদের জন্য এটি ভালো ব্যাপার।’ তবে তিনি এটিও মনে করিয়ে দিয়েছেন, ম্যাচের ছন্দ কোন দলের পক্ষে আছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। যে দল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে থাকে, তারা স্বাভাবিকভাবেই খেলা থেমে যাক, তা চায় না।
ফুটবলের নিয়মে ছোট একটি পরিবর্তন হয়তো এত বড় প্রভাব ফেলবে, তা অনেকে ভাবেননি। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপ দেখিয়ে দিচ্ছে, হাইড্রেশন ব্রেক এখন আর শুধুই পানির বিরতি নয়, এটি এমন এক কৌশলগত মুহূর্ত, যেখানে তিন মিনিটের সিদ্ধান্তই কখনো কখনো বদলে দিচ্ছে পুরো ৯০ মিনিটের গল্প।

হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে ইনিংস ও ৮৫ রানে হেরে সফর শুরু করেছে বাংলাদেশ। আফ্রিকার দলটির বিপক্ষে ২৫ বছর পর টেস্টে ইনিংসে হারল বাংলাদেশ। লাল বলের সংস্করণ থেকে এবার আরেক সংস্করণে খেলতে নামার আগে ঘুরেফিরে আসছে সেই ভরাডুবির প্রসঙ্গ। যদিও মেহেদী হাসান মিরাজ এটা নিয়ে চিন্তিত নন।
১০ মিনিট আগে
কেপ ভার্দের রাজধানী প্রাইয়া এখন উৎসবের নগরী। উৎসবটা বিশ্বকাপ জয়ের জন্য নয়; বরং আফ্রিকার দলটি বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে এসে রূপকথার মতো যে পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে, তাতে মুগ্ধ ফুটবলপ্রেমীরা। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হেরেও তাদের লড়াকু মানসিকতা দেখে অনেক কিংবদন্তি ফুটবলারদেরও রীতিমতো অবাক করে দি
৪০ মিনিট আগে
ক্লাব ফুটবলে গোলের বন্যা বইয়ে দিতে ওস্তাদ আর্লিং হালান্ড। কেন যে তাঁকে ‘গোলমেশিন’ বলা হয়, সেটা ম্যানচেস্টার সিটিতে তাঁর পারফরম্যান্স দেখলেই বুঝতে পারবেন। ভেঙেচুরে দিচ্ছেন একের পর এক রেকর্ড। তবে আজ রাতে হালান্ডকে আটকাতে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি বিশেষ এক অস্ত্র প্রয়োগের পরিকল্পনা করেছেন।
৩ ঘণ্টা আগে
মেক্সিকো-ইংল্যান্ড ম্যাচ শুরু হতে আর বেশি সময় বাকি নেই। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত অপরাজিত দুই দল। তবে মাঠের পারফরম্যান্স ছাপিয়ে ম্যাচের আগে ফুটবলারদের ‘ভায়াগ্রা’ গ্রহণের চমকপ্রদ খবর ছড়িয়েছে। যদিও ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল তা হেসে উড়িয়ে দিয়েছেন।
৪ ঘণ্টা আগে