
বোস্টন স্টেডিয়ামে ম্যাচটি ঘিরে অন্যরকম এক আবহ তৈরি হয়েছিল। সবার চোখ ছিল কিলিয়ান এমবাপ্পে আর আর্লিং হালান্ডের আগুনে লড়াইয়ের দিকে। কিন্তু ম্যাচের শুরুতেই চমক দেখান নরওয়ের কোচ স্টোলে সোলবাকেন। একাদশে ১০টি পরিবর্তন এনে তিনি ডাগআউটে বসিয়ে রাখেন দলের সেরা তারকা হালান্ডকে। মা হারানোর শোকের কারণে প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশম অনুপস্থিত থাকলেও সহকারী কোচ গাই স্টিফানের অধীনে ফরাসিরা মাঠে নেমেছিল সম্পূর্ণ আক্রমণাত্মক এক রূপ নিয়ে। আর সেই আক্রমণের তোড়ে নীল ঝড় বয়ে গেল, যার সমাপ্তি ঘটল ফ্রান্সের ৪-১ ব্যবধানের এক দাপুটে জয়ে।
ম্যাচের বাঁশি বাজার পর দর্শকদের বসার আসনগুলো গরম হওয়ার আগেই ম্যাচের উত্তেজনা আকাশ ছুঁয়েছিল। মাত্র ২২ সেকেন্ডের মাথায় কিলিয়ান এমবাপ্পে নরওয়ের বক্সে ঢুকে এক জোরাল শট নেন, যা গোলরক্ষক সেলিভিকের হাতে লেগে পোস্টে গিয়ে আঘাত করে। তা হাতছাড়া হলেও ফ্রান্স যে ছেড়ে কথা বলবে না, সেই বার্তা তখনই পাওয়া গিয়েছিল।
ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই আসে প্রথম গোল। মাঝমাঠ থেকে এমবাপ্পের বাড়ানো বল ধরে ডান প্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢোকেন উসমান দেম্বেলে, নরওয়ের ডিফেন্ডার বিয়োরকানকে কাটিয়ে দারুণ এক বাঁকানো শটে বল জালে জড়ান তিনি।
গোলের সেই ধারা বজায় রেখে ২০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন দেম্বেলে। এবারও ডান দিক থেকে ভেতরে ঢুকে প্রায় একই রকম এক দর্শনীয় শটে নরওয়ের গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। তবে ফরাসিদের এই উল্লাস স্থায়ী হয়েছিল মাত্র ৭২ সেকেন্ড। গোল খাওয়ার পরপরই মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে কাউন্টার অ্যাটাকে ওঠে নরওয়ে। ফরাসি ডিফেন্ডার দায়ো উপামেকানোকে বোকা বানিয়ে নিচু শটে গোল করে ব্যবধান ২-১ করেন নরওয়ের থেলো আসগার্ড। এই গোল ম্যাচে প্রাণ ফিরিয়ে আনলেও দেম্বেলে যেন আজ অন্য এক মুডে ছিলেন। ৩২ মিনিটে ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকা পূর্ণ করেন চোখধাঁধানো হ্যাটট্রিক। এই গোলটি ছিল নিখুঁত দলীয় ফুটবলের এক অনন্য উদাহরণ, যেখানে গোল হওয়ার আগে ফ্রান্সের গোলরক্ষক মাইক ম্যানিয়াঁসহ মাঠের ১১ জন খেলোয়াড়ই পর পর ১৭টি পাসে বল স্পর্শ করেছিলেন। আর এই হ্যাটট্রিকের পথ ধরেই তিনি নাম লিখিয়েছেন ইতিহাসের পাতায়। ম্যাচ শুরুর মাত্র ৩২ মিনিটের মধ্যে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে দেম্বেলে গড়েছেন বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম সময়ে হ্যাটট্রিক করার কীর্তি; ১৯৫৪ সালে চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে অস্ট্রিয়ার এরিক প্রবস্ট ২৪ মিনিটের হ্যাটট্রিক করেছিলেন।
দেম্বেলের সেই হ্যাটট্রিক দেখে ডাগআউটে বসে থাকা হালান্ডের মুখে তখন কেবলই এক মলিন হাসি ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না। দ্বিতীয়ার্ধে একের পর এক সুযোগ হাতছাড়া করে নরওয়ে যখন ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে গেছে, তখন ফরাসিরা ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ধীরগতির পাসিং ফুটবলে সময় পার করতে থাকে। তবে নাটকের শেষ অঙ্ক তখনও বাকি ছিল। ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যখন অতিরিক্ত সময়ের খেলা চলছিল, ঠিক তখনই নরওয়ের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেয় ফ্রান্স। যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে বাঁ প্রান্ত দিয়ে বাইলাইনের কাছ থেকে বক্সে চমত্কার এক ক্রস বাড়ান ব্র্যাডলি বারকোলা। সেখানে ওত পেতে থাকা তরুণ দেজিরে দুয়ে লাফিয়ে উঠে নিখুঁত এক হেডে বল পাঠিয়ে দেন জালের কোণায়।
শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ফ্রান্স। একইসঙ্গে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে আই গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই নকআউটে পা রাখল তারা। ৬ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ হওয়া নরওয়ের শেষ বত্রিশে প্রতিপক্ষ আইভরি কোস্ট। আর ভুল কৌশলের চড়া মূল্য দিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় হালান্ডহীন নরওয়েকে। টরন্টোয় গ্রুপের অপর ম্যাচে ইরাককে ৫–০ গোলে উড়িয়ে তৃতীয় স্থানে থেকে নকআউটে যাওয়ার ক্ষণ গুনছে ৩ পয়েন্ট পাওয়া সেনেগাল।

এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে মিনিটের হিসেবে দ্বিতীয় দ্রুততম হ্যাটট্রিকের রেকর্ড গড়লেন পিএসজির এই ফরোয়ার্ড। এর আগে ১৯৫৪ বিশ্বকাপে চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে অস্ট্রিয়ার এরিক প্রোবস্ট মাত্র ২৪ মিনিটে হ্যাটট্রিক করে শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছিলেন। আজ বোস্টনের মাঠে ৩২ মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে সেই ৭২
৩ ঘণ্টা আগে
টিম টেক্টর লং অনে ক্যাচ ধরার পর মুষ্টিবদ্ধ উদযাপন শুরু করলেন। তাঁর উদযাপন যেন থামতেই চাইছে না। ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনার মধ্যে আজ যাঁরা বেলফাস্টে আয়ারল্যান্ড-ভারত প্রথম টি-টোয়েন্টি দেখেছেন, নিশ্চয়ই তাঁরা বুঝতে পেরেছেন টিম টেক্টরের এমন উচ্ছ্বাসের কারণ। ভারতকে ৩৪ রানে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে
৬ ঘণ্টা আগে
এই তো গত পরশু ৩৯ বছর পূর্ণ করেছেন লিওনেল মেসি। ক্যারিয়ার সায়াহ্নে এসে কী দুর্দান্ত পারফর্ম করছেন তিনি। এই বয়সেও তাঁর এমন তারুণ্য রীতিমতো অবাক করে সবাইকে। কিন্তু কাউকে কোনো না কোনো সময় তো ‘ফুলস্টপ’ টানতে হয়। মেসিও এখন সেই অবস্থাতেই আছেন।
৭ ঘণ্টা আগে
২০২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর যখন সূচি ঘোষণা করা হয়, তখনই বেজে যায় বিশ্বকাপের দামামা। ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার ম্যাচ নিয়েই মূলত বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থকদের আগ্রহ বেশি থাকে। যদি দুই দল বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হয়, তাহলে তো কথাই নেই। সমর্থকদের কথার লড়াই, হইচইয়ে তৈরি হবে অন্যরকম এক উন্মাদনা। সেই সুযোগ এবার...
৭ ঘণ্টা আগে