
যা দেখেছেন তা সত্যিই ঘটেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিপক্ষে গোল করেছে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে আসা দেড় লাখ জনসংখ্যার দেশ কুরাসাও। ডেভিড বনাম গোলিয়াথের লড়াইয়ে এমন দৃশ্য দেখার জন্য হয়তো আপনি প্রস্তুত ছিলেন না। প্রস্তুতি ছিলেন না বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারও। যাঁকে ফাঁকি দিয়ে জালে বল জড়িয়েছেন লিভানো কোমেনেনসিয়া নামক ২২ বছরের এক তরুণ মিডফিল্ডার।
ম্যাচের ২১ মিনিটে জার্মানির বক্সে কুরাসাওয়ের আক্রমণ থেকে ইয়ুর্গেন লোকাদিয়ার নেওয়া প্রথম শটটি জার্মান ডিফেন্ডাররা ব্লক করে দেয়। বক্সের ভেতর সেই ছিটকে আসা বলটি পেয়েই সঙ্গে সঙ্গে গোলে লক্ষ্য করে শট নেন কোমেনেনসিয়া। সেই শট ইয়োশুয়া কিমিখের পায়ে লেগে সরাসরি আশ্রয় নেয় জার্মানির জালে।
বিশ্বকাপের মঞ্চে কুরাসাওয়ের ফুটবল ইতিহাসের প্রথম গোলদাতা হিসেবে কোমেনেনসিয়ার নাম যখন স্বর্ণাক্ষরে লেখা হচ্ছে, তখন হিউস্টন থেকে হাজার মাইল দূরের এক দক্ষিণ ক্যারিবিয়ান দ্বীপরাষ্ট্রে যেন আনন্দের সুনামি বয়ে যাচ্ছে।
অথচ এই অবিশ্বাস্য স্বপ্নযাত্রার শুরুটা হতে পারত অন্যরকম। মাত্র বছর দুয়েক আগের এক অলস বিকেলে তুরিনের নিজের ফ্ল্যাটের সোফায় শুয়ে যখন মোবাইল স্ক্রিনে চোখ রাখছিলেন কোমেনেনসিয়া, তখন একটি অজানা নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনের অপর প্রান্তে কুরাসাও জাতীয় দলের টিম ম্যানেজার, যিনি সরাসরি প্রস্তাব দেন বিশ্বকাপে যাওয়ার লড়াইয়ে অংশ হতে। কোমেনেনসিয়ার প্রথমে মনে হয়েছিল তাঁর জুভেন্তাসের কোনো সতীর্থ হয়তো মজা করছেন।।
নেদারল্যান্ডসে জন্ম নেওয়া এই তরুণ ডাচ অনূর্ধ্ব-১৮ দলের অধিনায়ক ছিলেন, চাইলে অপেক্ষা করতে পারতেন কমলা রংয়ের জার্সির জন্য। কিন্তু হৃদয়ের টান আর বাবার সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর তিনি বেছে নেন বাবা-মায়ের জন্মভূমিকে। সেইদিনের সেই একটা ‘হ্যাঁ’ আজ তাঁর জীবনকে তো বটেই, বদলে দিয়েছে গোটা কুরাসাওয়ের ফুটবল ইতিহাসকে।
এই সাফল্যের পেছনের গল্পটা কিন্তু মোটেও মসৃণ ছিল না। ডাচ ক্লাব পিএসভি আইন্দহোভেনের একাডেমিতে যখন তাঁর ফুটবল দীক্ষা হচ্ছিল, তখন কোমেনেনসিয়ার পরিবারের কোনো গাড়ি ছিল না। প্রতিদিন খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে ট্রেনের জন্য দৌড়াতে হতো তাঁকে। ট্রেনে একটু যান্ত্রিক গোলযোগ মানেই ক্লাবে পৌঁছাতে দেরি, আর অবধারিতভাবেই কোচের বকুনি। সেই কঠিন দিনগুলোই তাঁকে মানসিকভাবে ইস্পাতকঠিন করে গড়ে তোলে।
দেড় বছর পর যখন পিএসভি স্টেডিয়ামে বসে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পেশাদার চুক্তি স্বাক্ষর করেন, তাঁর বাবা-মায়ের চোখে তখন জল চলে এসেছিল। সেই ট্রেনের নিত্যযাত্রী আজ বিশ্বমঞ্চের তারকা। পিএসভি থেকে এরপর তাঁর ঠিকানা হয় ইতালিয়ান জায়ান্ট জুভেন্তাসের ‘নেক্সট জেন’ দলে। জুভেন্তাসের মূল দলে মাসিমিলিয়ানো আলেগ্রির অধীনে অনুশীলনের অভিজ্ঞতা তাঁকে ভয়ডরহীন মিডফিল্ডারে রূপান্তরিত করে।
বর্তমানে সুইস ক্লাব জুরিখে খেলা এই মিডফিল্ডার কুরাসাওকে মূল পর্বে তুলতে বাছাইপর্বে জ্যামাইকার বিপক্ষেও করেছিলেন জয়সূচক গোল।
বাছাইপর্বের সেই বন্ধুর পথ আর প্রতিকূলতার গল্পও কম রোমাঞ্চকর নয়। ভাঙা মাঠ, যাতায়াতের সমস্যা কিংবা হোটেলের বুকিং বাতিল—কোনো কিছুই দমাতে পারেনি কুরাসাসওকে। কোমেনেনসিয়ার ভাষায়, ‘আমাদের বেশ কিছু বাধা-বিপত্তির মুখোমুখি হতে হয়েছিল; মাঠগুলো সবসময় ভালো ছিল না, ফ্লাইট ও যাতায়াত নিয়ে সমস্যা ছিল, হোটেল বুকিং বাতিল হয়ে যাওয়ার মতো যোগাযোগহীনতা ছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা পেরেছি। এখনও এটা ভাবলে আমার গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যায়।’
জার্মানির বিপক্ষে মাঠে নামার আগে কুরাসাওয়ের ফুটবলারদের স্কুল বাসে করে স্টেডিয়ামে যাওয়ার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল। তা নিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে স্বভাবসুলভ চনমনে হাসিতে এই তরুণ জানান, ‘যদি পারতাম! সেই ছবিগুলো ভাইরাল হয়েছিল, তবে আমরা এমনই এবং সবসময় এমনই থাকব।’ নেইমারকে আদর্শ মেনে বড় হওয়া ট্রেনের সেই সাধারণ কিশোরটি আজ নিজেই দ্বীপরাষ্ট্রের লাখো মানুষের স্বপ্নের বাতিঘর, ‘ নেইমার আমার আদর্শ, আমি তাঁর মতো হতে চেয়েছিলাম। কুরাসাও না থাকলে আমি কখনই এটি অর্জন করতে পারতাম না।’
কুরাসাও হয়তো মানচিত্রে ছোট, কিন্তু কোমেনেনসিয়ার হাত ধরে তাদের ফুটবলের আকাশটা আজ সীমানাহীন। জার্মানির কাছে ম্যাচটিতে হয়তো শেষ পর্যন্ত তারা হারতে পারে, কিন্তু প্রথমবার বিশ্বকাপে নেমেই গোলের যে অনাবিল আনন্দে ভাসল দ্বীপরাষ্ট্রটি, তার জন্য যে ভাগ্যের ছোঁয়া লাগে—সেই ভাগ্যটা নিজের সাহসের জোরেই ঠিকঠাক কাজে লাগিয়েছেন লিভানো কোমেনেনসিয়া।

চলতি শতাব্দীতে জার্মানির বাইরে কেবল দুটি দল বিশ্বমঞ্চে এক ম্যাচে সাত বা তার বেশি গোল দেওয়ার স্বাদ পেয়েছে—২০১০ বিশ্বকাপে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে পর্তুগাল (৭-০) এবং ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে কোস্টারিকার বিপক্ষে স্পেন (৭-০)।
১৭ মিনিট আগে
মাঠে বল গড়ানোর আগে দুই কোচের বয়সের বিশাল ব্যবধান নিয়ে আলোচনা হয়েছিল ঢের। তবে মাঠের লড়াই শুরু হতেই জার্মানি ও কুরাসাওয়ের মধ্যকার ফুটবলীয় দূরত্বের ব্যবধানটাই ফুটে উঠল স্পষ্ট। ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই নবাগত কুরাসাওকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে বিধ্বংসী সূচনা করেছে ইউলিয়ান নাগেলসমানের দল।
১ ঘণ্টা আগে
মেটলাইফ স্টেডিয়ামে কাল ৮০ হাজার ৬৬৩ জন দর্শকের ৭০ শতাংশই ছিল ব্রাজিলিয়ান। হলুদের মাঝে ফুটে উঠল ছোপ ছোপ রক্তরাঙা মরক্কোর লাল জার্সি। ব্রাজিল অনেকটা ঘরের পরিবেশে খেলেও বিশ্বকাপে নিজেদের শুরুটা করেছে পয়েন্ট খুইয়ে।
২ ঘণ্টা আগে
আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর আগে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে সেন্টার ফরোয়ার্ড পজিশন। বুধবার আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে লিওনেল স্কালোনি কাকে শুরুর একাদশে রাখবেন—হুলিয়ান আলভারেজ নাকি লাউতারো মার্তিনেজ?
৩ ঘণ্টা আগে