পাকিস্তান গোলাপি জার্সি পরে খেলছে কেন

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের ম্যাচে আজ সবুজের বদলে গোলাপি জার্সি পরে মাঠে নেমেছে পাকিস্তান। স্তন ক্যানসার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বিশেষ এই উদ্যোগ নিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।
বিশ্বব্যাপী স্তন ক্যানসার সচেতনতা মাস পিংকটোবার উপলক্ষে এই উদ্যোগ নিয়েছে পিসিবি। রোগটি দ্রুত শনাক্ত করা, নিয়মিত পরীক্ষা করানো এবং সময়মতো চিকিৎসা নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরাই এর মূল লক্ষ্য।
পিসিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশজুড়ে স্তন ক্যানসার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি রোগীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করা হচ্ছে।
এ উদ্যোগে শুধু পাকিস্তান দলই নয়, অংশ নিয়েছেন ইংল্যান্ড দলের সদস্য, ম্যাচ কর্মকর্তা ও ধারাভাষ্যকারেরাও। স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত রোগী এবং সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তিদের প্রতি সংহতি জানাতে তাঁরা গোলাপি ফিতা পরেছেন। ম্যাচের স্টাম্পেও ব্যবহার করা হয়েছে গোলাপি রং। এ ছাড়া স্টেডিয়ামজুড়ে সচেতনতামূলক গ্রাফিকস ও প্রচারণার ব্যবস্থা করেছে পিসিবি। ম্যাচের আগে ডিজিটাল মাধ্যমেও চালানো হয়েছে প্রচারণা।
পিসিবির বাণিজ্যিক বিভাগের পরিচালক আলী আদনান জাইদি বলেন, ‘ক্রিকেট লাখ লাখ মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা ক্রিকেটের সেই ব্যাপক জনপ্রিয়তাকে স্তন ক্যানসার সম্পর্কে অর্থবহ সচেতনতা তৈরি এবং মানুষের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর কাজে লাগাতে চাই।’
গোলাপি জার্সি পরে স্তন ক্যানসার সচেতনতায় অংশ নেওয়ার ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। দক্ষিণ আফ্রিকা প্রতি বছর জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে আয়োজন করে পিংক ডে ওয়ানডে। ওই ম্যাচে গোলাপি জার্সি পরে মাঠে নামে স্বাগতিক দল।
দক্ষিণ আফ্রিকা ও পাকিস্তানের মধ্যকার সর্বশেষ দুটি পিংক ডে ম্যাচও ছিল স্মরণীয়। ২০২৪ সালের ম্যাচে ৩৬ রানে জিতেছিল পাকিস্তান। আর ২০২১ সালের ম্যাচে ফখর জামানের ১৯৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস সত্ত্বেও ১৭ রানে জয় পেয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।
গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক সিরিজেও একই ধরনের গোলাপি দিবসের আয়োজন করেছিল পাকিস্তান।
অস্ট্রেলিয়াতেও ক্যানসার সচেতনতায় এমন উদ্যোগ রয়েছে। দেশটির গ্রীষ্মকালীন ক্রিকেট মৌসুমে প্রতি বছর সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে আয়োজন করা হয় পিংক টেস্ট। ক্যানসার আক্রান্ত ব্যক্তিদের সেবায় কাজ করা ম্যাকগ্রা ফাউন্ডেশনের প্রতি সমর্থন জানাতে এই ম্যাচ আয়োজন করা হয়। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার গ্লেন ম্যাকগ্রা ও তাঁর স্ত্রী জেন ম্যাকগ্রা এই দাতব্য সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন।









