Ajker Patrika

বিসিবির দিকে সবার কৌতূহলী নজর

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০: ৩২
বিসিবির দিকে সবার কৌতূহলী নজর
পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেশ ছেড়েছেন বিসিবি প্রধান। অনলাইনে সবকিছু দেখভাল করবেন তিনি: ফাইল ছবি

‘আমি তো পালিয়ে গেলাম!’—কথাটা বলেই বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের অট্টহাসি। গতকাল বিকেলে যখন ফোনে বিসিবি সভাপতির সঙ্গে কথা হয়, তখন তিনি ব্যাংককে, অস্ট্রেলিয়ার যাওয়ার পথে ট্রানজিটে ছিলেন। বিসিবি সভাপতির পরিবার থাকে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে। গত ৮ মাসে বিসিবি সভাপতি হওয়ার পর নিয়মিত ঢাকা-মেলবোর্ন করেছেন বুলবুল। তবু তাঁর পরিবারের কাছে যাওয়া যেন অনেকের কাছে ‘চাঞ্চল্যকর’ এক খবর! সে কারণে কিছুদিন আগে একাধিকবার তাঁর অস্ট্রেলিয়ায় পরিবারের কাছে যাওয়ার বিষয়টি ছড়িয়েছে।

পরিবারের কাছে যাওয়ার বিষয়ে গতকাল আজকের পত্রিকাকে বুলবুল বললেন, ‘বিসিবি সভাপতিকে তো প্রতিদিন অফিসে আসতে হয় না। কারও কাছে ছুটিও নিতে হয় না। সেখানে গত দুই মাস টানা প্রতিদিন অফিস করেছি। আর আমি আমার পরিবারের কাছে যেতেই পারি। (পরিচালকদের) সবার কাছে বলে এসেছি।’

গত বছরের ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পর টানা দুই মাস কাজ করেছেন বুলবুল। এই সময়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল), অদম্য টি-টোয়েন্টি কাপ—অল্প সময়ে দুটি ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছেন। তবে তাঁর বেশি ব্যস্ত সময় কাটাতে হয়েছে জাতীয় দল নিয়ে। বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা না-খেলা নিয়ে বিনিদ্র রাত কেটেছে প্রায় দেড় মাস। সরকারের সিদ্ধান্তে দল পাঠাতে পারেননি বিশ্বকাপে। তবে সেটির খেসারত দিয়ে যেন বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি কিংবা অন্য কোনো শাস্তি না পেতে হয়, সে লক্ষ্যে আইসিসি ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সঙ্গে একাধিক সভা করেছেন।

গত অক্টোবরে বিসিবির নির্বাচনের পর থেকে শোনা গেছে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করলে বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ছিল তখনকার ক্রীড়া উপদেষ্টা এনসিপি নেতা আসিফ মাহমুদের সমর্থিত। যদিও বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল কদিন আগে আজকের পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘একটা নির্বাচিত ক্রিকেট বোর্ড, যারা চার বছরের জন্য ম্যান্ডেট নিয়ে এসেছে। (জাতীয়) নির্বাচনের সঙ্গে এটার তো কোনো সম্পর্ক দেখি না। আর সরকারি হস্তক্ষেপ কখনোই হয় না বাংলাদেশ ক্রিকেটে, হবেও না। আইসিসির যে রেগুলেশনস আছে, সেটির মধ্যেই আমাদের থাকা উচিত।’

বুলবুলের কথায় পরিষ্কার, নতুন সরকার নির্বাচিত বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিতে চাইলে আইসিসির নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। যেমনটা দেখা গিয়েছিল ২০২৩ সালে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের (এসএলসি) ক্ষেত্রে। কিন্তু বিসিবিতে সরকারি হস্তক্ষেপের কোনো বিষয় যদি আইসিসিতে যায়, ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে কতটা সমর্থন পাবেন বুলবুল ও তাঁর বোর্ড? আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহর সমর্থন কি থাকবে বুলবুলের বোর্ডের দিকে? কদিন আগে সরকারি সিদ্ধান্তে বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশ দলকে ভারতে না পাঠানোর ঘটনায় জয় শাহর নেতৃত্বাধীন আইসিসির বিরাগভাজনই হয়ে পড়েছিলেন বুলবুল। তবে বিসিবির একাধিক পরিচালকের সঙ্গে গত কয়েক দিনে কথা বলে যা বোঝা গেছে, সর্বশেষ লাহোর সফরে ভালোভাবেই জয় শাহর আইসিসির সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের কাজটি সেরে রেখেছেন বুলবুল। বর্তমান মেয়াদ শেষে জয় শাহকে পুনরায় আইসিসির চেয়ারম্যান হতে হলে বাংলাদেশের ভোটটি খুব দরকার হবে। জয় শাহ যদি বুলবুলের কাছ থেকে ভোটটা নিশ্চিত করতে চান, তাহলে বিসিবি সভাপতির ভবিষ্যতের সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টি এসে যাবে।

শেষ পর্যন্ত ‘খেলাটা কোন লেভেলে’ যাবে, সেটির একটি পূর্বাভাস মিলবে আজকের মন্ত্রিসভা দেখে। ক্রীড়ামন্ত্রী কে হচ্ছেন, সেটির ওপর নির্ভর করছে অনেক কিছু। বর্তমান বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের অধিকাংশ সদস্যের বিশ্বাস, বিএনপি সরকার এসেই বোর্ড ভাঙার মতো ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে চাইবে না। আপাতত জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) কোটায় দুজন পরিচালক সংযোজন-বিয়োজন হতে পারে তাদের সর্বোচ্চ পদক্ষেপ।

সব মিলিয়ে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সবার কৌতূহলী নজর বিসিবির দিকে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত