Ajker Patrika

মিরপুরে শেষ বিকেলে একই দৃশ্য, বাংলাদেশের লাভ না ক্ষতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৭: ৫৯
মিরপুরে শেষ বিকেলে একই দৃশ্য, বাংলাদেশের লাভ না ক্ষতি
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৪ উইকেট ফেলে দিয়েছে বাংলাদেশ। ছবি: এএফপি

মিরপুরে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম টেস্টের দুই দিনে ঘটল একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। বিশেষ করে দুপুরে আর বিকেলে আলোকস্বল্পতার সমস্যা দেখা দেয়। আজ দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ হতে যখন ২৫-৩০ মিনিটের মতো বাকি, তখন আবারও আলোর সমস্যা।

গতকাল প্রথম দিনের শেষ বিকেলে যখন আলোকস্বল্পতা দেখা দিল, তখন সাদমান ইসলাম ৯৯ রানে অপরাজিত ছিলেন। আজ সকালে তিনি সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন। তবে দ্বিতীয় দিনের শেষ বিকেলেও দেখা দিল আলোর সমস্যা। আজও তাই খেলা আগেভাগে শেষ করতে হয়েছে। বাংলাদেশের চেয়ে এখনো ১৩৮ রানে পিছিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। হাতে ৬ উইকেট।

৯৭.৪ ওভারে ২৭২ রানে গুটিয়ে যেতেই আজ দ্বিতীয় দিনের লাঞ্চ ঘোষণা করা হয়। প্রথম সেশনের পর ব্যাটিং শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দলীয় ২৯ রানে ভেঙে যায় ক্যারিবীয়দের উদ্বোধনী জুটি। পঞ্চম ওভারের পঞ্চম বলে হাসান মাহমুদকে খোঁচা দিতে যান ব্র্যান্ডন কিং। এজ হওয়া বল ক্যাচ ধরেন উইকেটরক্ষক জাকের আলী অনিক। লিটন দাস চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ায় উইকেটরক্ষকের গ্লাভস জাকেরের হাতে।

উইন্ডিজের উদ্বোধনী জুটি ভাঙতে পারত ১৪ রানেই। তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে হাসানকে কাট করতে যান ক্যাম্পবেল। ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ডাইভ দিয়েও বলের নাগাল পাননি নাঈম হাসান। ধারাভাষ্যকক্ষ থেকে আতহার আলী খান বলে উঠলেন, ‘ক্যাচটা অবশ্যই ধরা উচিত ছিল।’ তখন ক্যাম্পবেলের রান ৫। দ্বিতীয়বার যখন তিনি জীবন পান, তখন তাঁর রান ২২। এবার কট এন্ড বোল্ডের সুযোগ হাতছাড়া করেন শরীফুল ইসলাম।

১৫তম ওভারের শেষ বলে শরীফুলকে সজোরে স্ট্রেট ড্রাইভ করেন ক্যাম্পবেল। বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার কট এন্ড বোল্ডের সুযোগ হাতছাড়া করলে ২ রান নেন ক্যাম্পবেল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওপেনারের রান তখন ২২। ক্যারিবীয়রা ৫২ রানে হারাতে পারত দ্বিতীয় উইকেট। তাছাড়া কখনো কখনো বল হাওয়ায় ভাসলেও বাংলাদেশের ফিল্ডারদের হাতের নাগাল পর্যন্ত না যাওয়ায় কয়েক দফা বেঁচেছেন ক্যাম্পবেল।

বারবার বেঁচে যাওয়া ক্যাম্পবেল বাজে বল পেলে সেগুলো চার-ছক্কায় পরিণত করেছেন। তুলে নিয়েছেন ষষ্ঠ টেস্ট ফিফটি। তবে আলোকস্বল্পতার কারণে আগেভাগেই ফ্লাডলাইট জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। ২টা ১০ মিনিটে চা পানের বিরতি দেওয়ার কথা থাকলেও ১০ মিনিট আগেই দেওয়া হয় চা পানের বিরতি।

চা পানের বিরতির সময় নামে বৃষ্টি। বৃষ্টি বাগড়া দিলে মাঠ কাভার দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। তবে মাঠকর্মীরা বৃষ্টি থামার পর কাভার উঠিয়ে নিলেও খেলা শুরু করা যায়নি। কারণ, তখনো আলোকস্বল্পতার সমস্যা পুরোপুরি দূর হয়নি।

৭৮ মিনিট বন্ধ থাকার পর ৩টা ১৮ মিনিটে শুরু হয় শেষ বিকেলের খেলা। তৃতীয় সেশনের খেলা শুরুর চতুর্থ ওভারেই আঘাত হানেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ৩১তম ওভারের প্রথম বলে ক্যাম্পবেলের ব্যাটের কানা ছুঁয়ে হাওয়ায় ভাসা বল প্রথম স্লিপে বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে তালুবন্দী করেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ক্যাচ ধরার পর শান্ত যেমন উচ্ছ্বসিত, মিরাজের উচ্ছ্বাসও কম ছিল না। ক্যারিবীয় ওপেনার ৭৮ বলে ৬ চার ও ২ ছক্কায় ৫৪ রান করেন।

মুহূর্তেই ১ উইকেটে ৯০ রান থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪ উইকেটে ৯৭ রানে পরিণত হয়। যার মধ্যে ৩৬তম ওভারে তাইজুল ইসলাম নেন জোড়া উইকেট। সেই ওভারের তৃতীয় বলে কাভেম হজকে (৭) ফেরান তাইজুল। সিলি মিড অফে দুর্দান্ত ক্যাচ ধরেন মুমিনুল হক। একই ওভারের পঞ্চম বলে ফাঁদ পেতে তাইজুল নেন জাঙ্গুর উইকেট। স্লগ সুইপ করতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে তানজিদ হাসান তামিমের তালুবন্দী হয়েছেন জাঙ্গু। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাঁহাতি মিডল অর্ডার ব্যাটার ২ বল খেলেও রানের খাতা খুলতে পারেননি।

তিন নম্বরে নামা তেজনারায়ণ ঠাণ্ডা মাথায় খেলতে থাকেন। ঠিক যেমন বাবা শিবনারায়ণ চন্দরপলের প্রতিচ্ছবি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের স্কোর যখন ৪৮ ওভারে ৪ উইকেটে ১৩৪ রান, তখন আলোকস্বল্পতা দেখা দেয়। বিকেল ৪টা ৩৮ মিনিটে আলোর সমস্যায় খেলা বন্ধ হওয়ার পর সেখানেই দিনের খেলা শেষ হয়ে যায়। তেজনারায়ণ ১৪৫ বলে ৪৩ রানে অপরাজিত। মেরেছেন ৬ চার। জাস্টিন গ্রিভস ১৫ রানে ব্যাটিং করছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত