
মানুষ ভাবে এক, হয় আরেক—বহুল প্রচলিত এই প্রবাদটি গতকাল সঞ্জু স্যামসনকে দেখে অনেকের মনে পড়াটাই স্বাভাবিক। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্টের পুরস্কার পাবেন, এটা কি কখনো কল্পনা করতে পেরেছিলেন? ভারত তাঁকে নিয়ে ঘরের মাঠের এই আইসিসি ইভেন্ট খেললেও একাদশে সুযোগ পাওয়া নিয়ে ছিল তাঁর অনিশ্চয়তা। তবে সুযোগের সদ্ব্যবহার দারুণভাবে করে দেখালেন। তাঁর এই বদলে যাওয়ার কারিগর ভারতীয় ব্যাটিং কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারও।
২০১৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথচলা শুরু স্যামসনের। দীর্ঘ ১১ বছরে ভারতের হয়ে ১৬ ওয়ানডে ও ৬২ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। যে ভারত গড়ে বছরে ৫০-এর বেশি ম্যাচ খেলেছে, সেখানে এক দশকেরও বেশি সময় খেলে তিনি খেলেন ৭৮ ম্যাচ। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের ৯ ম্যাচের মধ্যে পাঁচটিতে একাদশে সুযোগ পেয়েছেন। ৮০.২৫ গড় ও ১৯৯.৩৭ স্ট্রাইকরেটে ৩২১ রান করে টুর্নামেন্ট সেরা হয়েছেন।
পরিসংখ্যান দিয়ে অবশ্য স্যামসনের ইমপ্যাক্ট পুরোটা বোঝা যাবে না। যে তিনটি পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের ইনিংস খেলেছেন, আদতে সবগুলো নকআউট পর্বেরই ম্যাচ। কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে ১ মার্চ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ‘ভার্চুয়াল কোয়ার্টার ফাইনালে’ ৯৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ভারতকে তুলেছেন সেমিফাইনালে। পরবর্তী সেমিফাইনাল ও ফাইনালে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি ৮৯ রানের ইনিংস খেলে চ্যাম্পিয়ন করেছেন ভারতকে।
আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে গত রাতে টুর্নামেন্টসেরার পুরস্কার পেয়ে স্যামসনের মনে হচ্ছিল তিনি যেন ঘোরের মধ্যে আছেন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর তিনি স্মরণ করেছেন ব্যাটিং কিংবদন্তি শচীনকে। স্যামসন বলেন, ‘আমি নিয়মিতই শচীন টেন্ডুলকার স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলাম। অস্ট্রেলিয়ায় বাইরে বসেছিলাম।কোনো ম্যাচ পাচ্ছিলাম না। মনে হচ্ছিল, ঠিক আছে। এখন কী ধরনের মানসিকতা দরকার? তাই আমি স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তাঁর সঙ্গে আমার দীর্ঘ কথাবার্তা হয়েছে।’
২০২৫ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরে বৃষ্টিবিঘ্নিত পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের দুই ম্যাচে একাদশে সুযোগ পেয়েছিলেন স্যামসন। শুধু তা-ই নয়, বিশ্বকাপের আগে এ বছরের জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভারত ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতলেও তাঁর ব্যাট হাসেনি। সেই কিউইদের দুমড়েমুচড়ে ভারত গত রাতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম জয় ভারত পেয়েছে চূড়ান্ত মঞ্চেই। টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার পাওয়ার পর স্যামসন বলেন, ‘নিউজিল্যান্ড সিরিজের পর ভেঙে পড়েছিলাম। আমার স্বপ্নগুলো পুরোপুরি চুরমার হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ওপরওয়ালার পরিকল্পনা ছিল ভিন্ন। স্বপ্ন দেখার মতো সাহসী হওয়ার পুরস্কার আমি পেয়েছি।’
বার্বাডোজের পর আহমেদাবাদ—ভারতের টানা দুই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয় মাঠে থেকে উদযাপন করেছেন স্যামসন। তবে ২০২৪ সালের সঙ্গে ২০২৬ বিশ্বকাপের তো পার্থক্য রয়েছে। সেবার দলে থেকেও একাদশে সুযোগ মেলেনি। তখনই তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, ঘরের মাঠে বিশ্বকাপে সুযোগ পেলে তিনি বিশেষ কিছু করে দেখাবেন। নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন ভারতের স্যামসন বলেন, ‘২০২৪ বিশ্বকাপে দলে থেকেও খেলার সুযোগ পাইনি। তখন থেকে কল্পনা করতাম এবং কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছিলাম; আজ (গতকাল) যা হয়েছে, ঠিক এটাই করতে চেয়েছিলাম।’
২০২৪ ও ২০২৬ সালে দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি—গত ২১ মাসে আইসিসির সাদা বলে তিন ইভেন্টের তিনটিতেই চ্যাম্পিয়ন ভারত। এবার তাদের লক্ষ্য আরও বড়। ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক ক্রিকেটে স্বর্ণপদক জয়ের অঙ্গীকার করেছেন ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব।

এই হারের গ্লানি ভুলে বাংলাদেশকে এখন তাকাতে হবে সামনে। ৩১ মার্চ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে সিঙ্গাপুরের। হ্যানয়ের এই ব্যর্থতা ঝেড়ে ফেলে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
১ ঘণ্টা আগে
এনিয়ে গ্রুপ পর্বে দুই ম্যাচের দুটিতেই হেরে বিদায় নিল পাকিস্তান। এর আগে তাদের ২–০ গোলে হারায় বাংলাদেশ। দুটো গোলই করেন রোনান সুলিভান। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ২৮ মার্চ ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য বাংলাদেশের সামনে জয়ের বিকল্প নেই। এক ম্যাচে তিন পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুইয়ে আছে
২ ঘণ্টা আগে
দুই গোলে এগিয়ে থাকায় ভিয়েতনাম কিছুটা ধীরগতিতে খেলার চেষ্টা করছিল, ঠিক তখনই তারা সুযোগের সদ্ব্যবহার করে করে। বাংলাদেশের রক্ষণভাগের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে গুয়েন হাই লং বল নিয়ে পেনাল্টি বক্সে ঢুকে পড়েন। ফাহমিদুল ইসলাম ও তারিক কাজিকে কাটিয়ে ৩৮ মিনিটে ডান কোনা দিয়ে দলের তৃতীয় গোলটি করেন তিনি।
২ ঘণ্টা আগে
২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচনের পর থেকেই বর্তমান বোর্ডকে অবৈধ দাবি করছেন তামিম ইকবাল ও তাঁর সমমনা সংগঠকেরা। এই বোর্ড টিকবে তো— বিসিবি পরিচালকদের এমন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে হরহামেশাই। তবে বিসিবি সহসভাপতি ফারুক আহমেদ বোর্ড ভাঙার কোনো আশঙ্কা দেখছেন না।
৩ ঘণ্টা আগে