Ajker Patrika

ভারতীয়দের হৃদয় ভাঙতেও আপত্তি নেই নিউজিল্যান্ড অধিনায়কের

ক্রীড়া ডেস্ক    
ভারতীয়দের হৃদয় ভাঙতেও আপত্তি নেই নিউজিল্যান্ড অধিনায়কের
ভারতীয়দের হৃদয় ভেঙে শিরোপা জেতার অঙ্গীকার করেছেন মিচেল স্যান্টনার। ছবি: ক্রিকইনফো

‘ভারত’, ‘ভারত’ চিৎকারে মাঠ প্রকম্পিত করবে দর্শকেরা, থাকবে হর্ষধ্বনিতে কান ঝালাপালা করার চেষ্টা। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে আজকের ফাইনাল নিয়ে এমন দৃশ্য সহজেই কল্পনা করতে পারছেন মিচেল স্যান্টনার। কিন্তু প্রবল সেই চিৎকার আর হর্ষধ্বনি থামিয়েই এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিততে চান নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক।

মোদি স্টেডিয়ামের দর্শক ধারণক্ষমতা ১ লাখ ৩২ হাজার। আশা করা হচ্ছে, এদিন পুরো গ্যালারিই ভরে যাবে দর্শকে। এত দর্শকের সমর্থন নিয়েই খেলবে ভারত। বিশ্বকাপ জিততে হলে নিউজিল্যান্ডকে এত সব মানুষের হৃদয় ভেঙেই জিততে হবে। এর আগে একবার ২০২১ সালে নিউজিল্যান্ড ফাইনাল খেললেও সে ফাইনালে তারা হেরে গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার কাছে। প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিততে তাই হাজার হাজার ভারতীয়ের হৃদয় ভাঙতেও আজ আপত্তি নেই নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনারের, ‘একটি ট্রফি জিততে পারলে (হৃদয় ভাঙার ব্যাপারটা) মোটেও কিছু মনে করব না! একবারের জন্য ট্রফি জেতার স্বার্থে যদি কিছু হৃদয় ভাঙতেও হয়, আমার আপত্তি নেই।’

গ্যালারি-ভর্তি দর্শক; সন্দেহ নেই ফাইনালে উৎসাহ জোগাবে তারা। কিন্তু স্যান্টনার এর উল্টো পিঠও দেখছেন। মাঠে উপস্থিতি লাখেরও বেশি দর্শক এবং টিভি সেটে চোখ রাখা কোটি মানুষের প্রত্যাশা উল্টো ভারতকেই চাপে রাখবে বলে মনে করেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক, ‘ঘরের মাঠে জেতার জন্য চাপে থাকবে ভারত। আমরা এই সুযোগটাই নিতে চাই।’

তবে আজকের ফাইনাল ভারতই যে ফেবারিট, এটা স্বীকার করতে আপত্তি নেই স্যান্টনারের। বললেন, ‘জানি, আমরা ফেবারিট নই, তবে তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না। যদি আমরা ছোট ছোট বিষয়গুলো ঠিকঠাক করতে পারি এবং দলগতভাবে খেলতে পারি, তবে ট্রফি জিততে পারব।’

কিউই দলের ওপেনার ফিন অ্যালেন দুর্দান্ত ফর্মে আছেন। অপর ওপেনার টিম সেইফার্টও রানে। দুই ওপেনারের একজন দাঁড়িয়ে গেলে দলের বড় স্কোরের পথ তরান্বিত হবে। তবে টি-টোয়েন্টিতে কোনো স্কোরকেই নিরাপদ মনে করেন না স্যান্টনার। আর ভারতের তো রয়েছেই আগ্রাসী সব ব্যাটার। তাই ভারতকে আটকানোর স্যান্টনারের পরিকল্পনা, ‘ইনিংসের শুরু থেকে আগ্রাসী খেলে ভারত। যেকোনো দলকে থামানোর একমাত্র উপায় হলো শুরুতেই উইকেট নেওয়া। উইকেট নিতে না পারলে বাউন্ডারি আটকানো খুব কঠিন হয়ে পড়ে। (ফাইনালের) উইকেট যদি ফ্ল্যাট হয়, তবে লক্ষ্য থাকবে ভারতকে ২৫০ রানের বদলে ২২০-এর মধ্যে আটকে রাখা। আর ব্যাটিংয়ের ক্ষেত্রে লক্ষ্য থাকবে ৬ ওভারে উইকেট না হারিয়ে যত বেশি রান তোলা যায়।’

সাদা বলের ক্রিকেটে নিউজিল্যান্ড আগে আইসিসির চারটি ইভেন্টের বৈশ্বিক ফাইনালে খেললেও একবারও শিরোপা জিততে পারেনি। ড্রেসিংরুমের মানসিকতায় এবার কী কোনো পরিবর্তন এসেছে? এমন প্রশ্নে স্যান্টনারের উত্তর, ‘মানসিকতা একই আছে। মুখে বলা সহজ যে এটি আর পাঁচটা সাধারণ ম্যাচের মতো, কিন্তু সবাই জানে তা নয়। তবুও প্রস্তুতির প্রক্রিয়া একই রাখতে হবে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট মূলত কয়েকটা বিশেষ মুহূর্তের খেলা। আপনি যদি সেই মুহূর্তগুলো কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষকে চেপে ধরতে পারেন, তবেই জেতা সম্ভব। শুধু নিজেদের কাজটা করে যেতে হবে।’

আজকের ফাইনালে সেই কাজটাই করতে চায় নিউজিল্যান্ড।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত