এক পেসার কেন কম খেলাল বাংলাদেশ, তাসকিনের ব্যাখ্যা

শুরুতেই বাংলাদেশের আগুনে বোলিংয়ে চোখে সর্ষেফুল দেখতে থাকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মুড়ি মুড়কির মতো উইকেট তুলে নিতে থাকে বাংলাদেশ। যদিও দিনের শেষটা উইন্ডিজ এগিয়ে থেকে শেষ করেছে। সিলেটে আজ দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনের খেলা শেষে তাসকিন আহমেদের কণ্ঠে ঝরেছে আক্ষেপও।
প্রথম দিনের খেলা শেষ করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪ উইকেটে ২৩৫ রানে। যদিও ৮.৪ ওভারে ২৭ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে উইন্ডিজ। তাসকিন-হাসান মাহমুদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে সাময়িক চাপে পড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ উদ্ধার হয় আমির জাঙ্গু, কেভিন উইকহাম, জাস্টিন গ্রিভসের ব্যাটিংয়ে। দিনের খেলা যে অবস্থাতেই ক্যারিবীয়রা শেষ করুক না কেন, প্রশ্ন উঠেছে বাংলাদেশের একাদশ নির্বাচন নিয়ে। তাসকিন আর হাসানই দুই স্বীকৃত পেসার। তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে আছেন নাঈম হাসান।
দিনের খেলা শেষেও দেখা গেছে পেসাররা সফল। প্রতিপক্ষের চার উইকেটের চারটিই পেসারদের। দিনের খেলা শেষে তাসকিন যখন সংবাদ সম্মেলনে আসেন, তখন জিজ্ঞেস করা হয়েছে এক পেসার কম খেলানোর প্রসঙ্গ। ৩১ বছর বয়সী পেসার বলেন, ‘হ্যাঁ, এক পর্যায়ে মনে হয়েছে যে আরেক পেসার থাকলে হয়তো ভালো হতো। কারণ, সকালের এক ঘণ্টার আর্দ্রতা, যেটা আমরা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারছিলাম। তখন মনে হচ্ছিল যে আরেক পেসার থাকলে হয়তো আরেকটু লম্বা সময় বোলিং করা যেত। তখন যেভাবে মুভ করছিল, আরও ২-১টা উইকেট যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল।’
শুধু এই ম্যাচেই নয়, মিরপুর টেস্টেও বাংলাদেশ দুই পেসার ও তিন স্পিনার খেলিয়েছে। তবে যদি কয়েকমাস আগে পেছনে যাওয়া যায়, তখন চিত্রটা ভিন্ন। পাকিস্তানের বিপক্ষে মে মাসে দুই টেস্টেই বাংলাদেশের একাদশে তিন পেসার ও দুই স্পিনার ছিল। নাহিদ রানা, শরীফুল ইসলামের আগুনে বোলিংয়ের পাশাপাশি তাইজুল-মিরাজরা দেখিয়েছেন ঘূর্ণিজাদু। আর রানা এবার না থাকলেও তাঁর পরিবর্তে শরীফুলকে খেলানো যেত এবার সিলেটে। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই স্পিনবান্ধব একাদশ খেলানো শুরু করল বাংলাদেশ।
সিলেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্টে পেসার একজন কম থাকার আক্ষেপ তাসকিন করলেও তাঁর মতে, টিম ম্যানেজমেন্ট দলের ভালোর কথা চিন্তা করেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজ প্রথম দিনের খেলা শেষে তিনি বলেন, ‘প্রথমত, দলের বাছাইটা পুরোপুরি ম্যানেজমেন্টের অংশ। তারা আসলে উইকেট এবং কন্ডিশন বিবেচনা করে যেটা চিন্তা করেছে, ওটা আসলে দলের সেরা অবস্থা চিন্তা করেই করা হয়েছে। কারণ, ম্যাচ মাত্র শুরু হলো। আজ প্রথম দিন। আপনার কিন্তু যেটা মানে উইকেট যে ধরনের, এটা তৃতীয় দিন, চতুর্থ দিন, পঞ্চম দিন ম্যাচের ফল নির্ধারণ হওয়ার জন্য সবচেয়ে ভালো দিন আসবে।’
সম্প্রতি বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের জয়জয়কার দেখা যাচ্ছে। পাকিস্তান সিরিজের পর অস্ট্রেলিয়াতেও দাপট দেখিয়েছেন বাংলাদেশের পেসাররা। হাসান মাহমুদ ডারউইনে বাংলাদেশের ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক জয়ে হয়েছেন ম্যাচসেরা। হাসানও নিয়েছেন ৯ উইকেট। ম্যাকাইতে শরীফুল যে এক ইনিংস বোলিংয়ের সুযোগ পেয়েছেন, সেখানেই পেয়েছেন ৭ উইকেট। পেসারদের দাপট বেশি থাকলেও তাসকিন স্পিনারদেরও কৃতিত্ব দিচ্ছেন। আজ প্রথম দিনের খেলা শেষে তাসকিন বলেন, ‘সেখানে কিন্তু এভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে যে ফল বের করার ক্ষেত্রে স্পিনারদের সহায়তা আসতে পারে। তবে এটাও সত্য যে সম্প্রতি আমাদের বেশির ভাগ সময় বোলিংয়ে পেসাররা অনেক সফল। স্পিনাররাও নিঃসন্দেহে ভালো।’
প্রথম দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুটি করে উইকেট নিয়েছেন হাসান-তাসকিন। আরেক পেসার থাকলে কাজটা সহজ হতো বলে মনে করেন তাসকিন। আজ দিনের খেলা শেষে তিনি বলেন, ‘যেটা আসলে সকালের পরিস্থিতি দেখে এবং সব মিলিয়ে দিনের ব্যাপার মনে হয়েছে। আমার কাছেও ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়েছে যে যদি আরেক পেসার থাকত, তাহলে বোলিং ইউনিটের জন্য আরেকটু ভালো হতো। কিন্তু ম্যানেজমেন্টের প্রতি সম্মান রেখে বলছি, যেভাবে তাঁরা দল নির্বাচন করেছেন, তা নিয়েই আমাদের জিততে হবে।’










