
স্পেনের এই বিশ্বকাপ অভিযান নিয়ে আলোচনা হলেই সামনে চলে আসে লামিনে ইয়ামাল। কেউ মুগ্ধ হন রদ্রির নিখুঁত নিয়ন্ত্রণে, কেউ প্রশংসা করেন বিশ্বকাপের সেরা রক্ষণভাগের। মিকেল ওইয়ারসাবালের পাঁচ গোলও আলোচনায় কম নয়। কিন্তু এই স্পেনের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়তো এমন একজন, যিনি মাঠের বাইরে থাকেন। ক্যামেরার আলো তাঁর ওপর খুব একটা পড়ে না। অথচ তিনিই স্পেনের রূপকার, নাম যাঁর লুইস দে লা ফুয়েন্তে।
বিশ্বকাপে স্পেনের সবচেয়ে বড় সাফল্য শুধু জেতা নয়, নিজেদের বদলে ফেলতে পারা। ইউরো জয়ের সময় যে দলটি দুই উইঙ্গারের গতির ওপর ভর করে দ্রুত আক্রমণে প্রতিপক্ষকে নাচিয়ে ছাড়ত, বিশ্বকাপে এসে সেই দলই হয়ে উঠেছে ধৈর্যের প্রতীক। ইয়ামাল চোট কাটিয়ে আগের মতো ধারালো নন। তাই ফুয়েন্তে বদলে ফেলেছেন পুরো দর্শন। এখন স্পেন আগে বল দখলে রাখে, সুযোগের অপেক্ষা করে, আর বল হারালেই মুহূর্তের মধ্যে জমাট রক্ষণে ফিরে যায়। হাই ইনটেনসিটি আর নিখুঁত কৌশলের এই স্পেনকে ভাঙা যেন অসম্ভব হয়ে উঠেছে।
কারণ তাদের কোচ যে বেশ সাহসী। রদ্রিকে ধীরে ধীরে সেরা ছন্দে ফিরিয়ে আনা, দানি অলমোকে আরও বাড়তি দায়িত্ব দেওয়া কিংবা মিকেল মেরিনোর জন্য সঠিক সময় খুঁজে বের করা—প্রায় প্রতিটি সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত স্পেনের পক্ষেই গেছে।
তাই এই দলকে শুধু ইয়ামাল, রদ্রি বা ওইয়ারসাবালের স্পেন বললে গল্পের বড় একটি অংশ বাদ পড়ে যায়। এই দলের প্রতিটি কলকাঠি নড়েছে ফুয়েন্তের ইশারায়। দলের অনেক ফুটবলারের কৈশোর নিজের চোখে দেখেছেন।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার পথে ফ্রান্স করেছিল ১৬ গোল। তাদের আক্রমণভাগকে দেখে মনে হচ্ছিল, থামানোর কোনো উপায় নেই। কিন্তু স্পেন দেখিয়ে দিল, সঠিক পরিকল্পনা থাকলে সেই আক্রমণও থামানো যায়।
ডালাসে ফ্রান্সকে ২–০ গোলে হারানোর মধ্য দিয়ে আরেকটি ইতিহাস গড়েছে স্পেন। কোচ ফুয়েন্তের অধীনে টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত তারা। এর পেছনে ঘাম ঝরানোর গল্প নিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা কোনো কাকতালীয় বিষয় নয়। এর পেছনে আছে প্রতিভা, কঠোর পরিশ্রম, ত্যাগ, চেষ্টা আর প্রতিনিয়ত নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার মানসিকতা। এগুলো বিনা মূল্যে আসে না।’
নিউজার্সিতে ১৯ জুলাই ফাইনালে প্রতিপক্ষ হতে পারে তা এতক্ষণে জানা হয়ে গেছে। কিন্তু প্রতিপক্ষ নিয়ে স্পেন কোচের ভাবনায় নেই কোনো বাড়তি হিসাব। যদিও আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনির সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের কথা গোপন করেননি। ফুয়েন্তে বলেন, ‘আমাদের কোনো পছন্দ নেই। আর্জেন্টিনা আর ইংল্যান্ড—দুই দলেরই নিজস্ব বৈশিষ্ট্য আছে। স্কালোনির সঙ্গে আমার বন্ধুত্বের কারণে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলতে পারলে ভালো লাগবে। তবে ইংল্যান্ডও বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা দল। যে-ই আসুক, আমরা দুই হাত খুলে তাকে স্বাগত জানাব।’
ফুটবলে বড় তারকারা খবরের শিরোনাম হন, গোলদাতারা নায়ক হয়ে ওঠেন। কিন্তু একটি দলকে চ্যাম্পিয়নের পথে নিয়ে যেতে যে পরিশ্রম করতে হয়, তা প্রায়ই আড়ালেই থেকে যায়। এই বিশ্বকাপে স্পেনের গল্পও অনেকটা তেমন। ইয়ামালদের আলো-ঝলমলে মঞ্চের পেছনে দাঁড়িয়ে আছেন একজন কোচ, যিনি প্রয়োজন অনুযায়ী নিজের দলকে বদলেছেন, নতুনভাবে গড়েছেন এবং এখন তাদের বিশ্বকাপ জয়ের দুয়ারে পৌঁছে দিয়েছেন। তবে কাজটা যে শেষ হয়নি এখনো। তাঁর হাত ধরে ১৬ বছর পর আবারও বিশ্ব জয়ের আনন্দে মাততে চায় স্পেন। রোববার নিউজার্সিতে ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলতে নামবে স্প্যানিশরা।

ডালাস স্টেডিয়ামে উত্তেজনা তখন চরমে। লামিনে ইয়ামালকে বক্সের ভেতর ভুলবশত ফাউল করে বসলেন ফরাসি ডিফেন্ডার লুকা দিনিয়েঁ। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজাতে এক সেকেন্ডও দেরি করেননি। স্পেনের ড্রেসিংরুমে আছেন চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী তারকা। আছেন রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনার ফুটবলারও। অথচ স্পট-কিকে যিনি দাঁড়ালেন, তাঁর
১৮ মিনিট আগে
এজবাস্টনে গত পরশু সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ইংল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে ভারত। এই নিয়ে ভারতের কাছে টানা ছয়টি ওয়ানডে হেরেছে ইংলিশরা। সবশেষ জয় ইংল্যান্ড পেয়েছিল ২০২২ সালে। আজ জিতলে যেমন চার বছরের অপেক্ষা ফুরোবে ইংল্যান্ডের, একই সঙ্গে টিকে থাকবে সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ে। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টায় কার্ডিফে শ
১ ঘণ্টা আগে
ভক্ত-সমর্থকদের হৃৎস্পন্দনের পরীক্ষা নিয়ে জেতা এখন আর্জেন্টিনা অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছে। কেপ ভার্দে, মিসর, সুইজারল্যান্ডের পর গত রাতে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে লিওনেল স্কালোনির দল নিশ্চিত করেছে ফাইনালের টিকিট। এবার আর্জেন্টিনার সামনে ব্রাজিল-ইতালির রেকর্ডে ভাগ বসানোর সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
আটলান্টায় গত রাতে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে সব আলো নিজের দিকে কেড়ে নিয়েছেন লিওনেল মেসি। গোল না করলেও দুটি গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। যা ঘুরিয়ে দেয় ম্যাচের মোড়। আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তোলার পর যে উপহার পেয়েছেন, তা তিনি প্রয়াত কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনাকে উৎসর্গ করেছেন।
৩ ঘণ্টা আগে