পৃথিবীর শত শত ভাষার মধ্যে এক অভিন্ন ও সর্বজনীন ব্যাকরণগত নিয়মের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। মানুষের চিন্তা করার ধরন কীভাবে যোগাযোগব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে, এই আবিষ্কার মূলত সেই সত্যকে সামনে নিয়ে এসেছে। গবেষণার এই ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে, ভাষাগুলো এলোমেলোভাবে নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট এবং অনুমানযোগ্য উপায়ে বিবর্তিত হয়।
ভাষাবিজ্ঞানীরা দীর্ঘকাল ধরে মানুষের ভাষার মধ্যে পুনরাবৃত্তিমূলক নিদর্শন বা ‘সর্বজনীন’ ব্যাকরণগত নিয়মের অস্তিত্ব নিয়ে বিতর্ক করে আসছেন। এই বিতর্কিত সত্যটি প্রমাণের লক্ষ্যে গবেষকেরা বিশ্বের ১ হাজার ৭০০-এর বেশি ভাষার ওপর নতুন করে বিশ্লেষণ চালিয়েছেন। গবেষণাপত্রটি সম্প্রতি বিখ্যাত সাময়িকী ‘নেচার হিউম্যান বিহেভিয়ার’-এ প্রকাশিত হয়েছে।
বিজ্ঞানীরা বিশ্বজুড়ে ভাষার ব্যাকরণগত বৈশিষ্ট্যের একটি বিস্তৃত ডেটাবেস ‘গ্রামব্যাংক’ মূল্যায়ন করেছেন। এতে দেখা গেছে, আগে প্রস্তাবিত ভাষাগত সর্বজনীন নিয়মের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের সপক্ষে পরিসংখ্যানগত সমর্থন রয়েছে। এই গবেষণার অন্যতম লেখক অ্যানেমারি ভারকার্ক বলেন, ‘বিশাল ভাষাগত বৈচিত্র্যের মুখে ভাষাগুলো যে এলোমেলোভাবে বিবর্তিত হয় না, তা খুঁজে পাওয়া সত্যিই কৌতূহলোদ্দীপক।’
গবেষণায় দেখা গেছে, শত শত সম্পর্কহীন ভাষার মধ্যে নির্দিষ্ট শব্দবিন্যাসের ধরনে মিল রয়েছে; যেমন:
শব্দক্রম: যদি কোনো ভাষায় ক্রিয়া বাক্যের শেষে থাকে, তবে সাধারণত সেখানে ক্রিয়ার পরে অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।
বিন্যাসগত পছন্দ: বাক্যে ক্রিয়াটি কর্মের আগে আসবে নাকি পরে এবং বাক্যের ভেতর ব্যাকরণগত সম্পর্কগুলো কীভাবে চিহ্নিত করা হয়, তার মধ্যে একধরনের মিল বা ‘হায়ারার্কিক্যাল স্ট্রাকচার’ লক্ষ করা গেছে।
গবেষক রাসেল গ্রের মতে, অভিন্ন বোধশক্তি এবং যোগাযোগের চাপ ভাষাগুলোকে একটি সীমিত ও পছন্দের ব্যাকরণগত সমাধানের দিকে ঠেলে দেয়। এর মানে হলো, নতুন ভাষার উদ্ভবের ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ বাধ্যবাধকতা বা সীমাবদ্ধতা কাজ করে, যা মানুষের চিন্তা ও যোগাযোগের শক্তির দ্বারা তৈরি।
তবে এই সীমাবদ্ধতাগুলোর সুনির্দিষ্ট প্রকৃতি ঠিক কী, তা বর্তমান গবেষণায় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, তাঁদের এই বিশ্লেষণ বিভিন্ন সম্ভাব্য কারণের মধ্যে পার্থক্য করতে না পারলেও ভবিষ্যতে গবেষণার জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিসর তৈরি করে দিয়েছে।

প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় মস্তিষ্কে নতুন কোষ তৈরির প্রক্রিয়া ‘নিউরোজেনেসিস’ মানবদেহে কেন সীমিত, তার একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা দিয়েছে সাম্প্রতিক এক গবেষণা। গান গাওয়া পাখি বা ‘সঙবার্ড’-এর ওপর করা এই গবেষণায় উঠে এসেছে—নতুন নিউরন তৈরির একটি অপ্রত্যাশিত নেতিবাচক দিকও থাকতে পারে। আর এই কারণেই হয়তো....
৭ ঘণ্টা আগে
ব্রিটিশ সংগীত তারকা এড শিরানের মতো লালচে চুলের মানুষের সংখ্যা ইউরোপে বাড়ছে, এমনটি উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক বৈজ্ঞানিক গবেষণায়। একসময় স্কুলগুলোতে এমন বৈশিষ্ট্যের শিক্ষার্থীদের ‘জিঞ্জার’ বলে ঠাট্টা করা হতো, এখন তারাই যেন বিবর্তনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
১ দিন আগে
কানের কাছে আমরা যে শব্দ শুনি, তা মূলত মশার ডানা ঝাপটানোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। মশা যখন ওড়ে, তখন তার ডানা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে নড়াচড়া করে, যা একটি তরঙ্গের সৃষ্টি করে। এই শব্দের সীমা খুব বেশি বড় নয়, তাই মশা যখন কানের একদম কাছে চলে আসে, তখনই আমরা সেই তীক্ষ্ণ শব্দ শুনতে পাই।
৩ দিন আগে
হরমুজ প্রণালি অবরোধের মার্কিন হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে এক নজিরবিহীন প্রতিক্রিয়া দিয়েছে ইরান। কোনো গতানুগতিক রাজনৈতিক বিবৃতির বদলে এবার গাণিতিক সূত্রের মাধ্যমে বিশ্ববাজার ও যুক্তরাষ্ট্রে জন্য চরম বিপদের সতর্কতা দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
৫ দিন আগে