
চীনা বিজ্ঞানীরা বিশ্বের প্রথম এমন এক ধরনের রাবার ব্যান্ড তৈরি করেছেন, যা শরীরের তাপকে বিদ্যুতে রূপান্তর করতে পারে। এর ফলে, ভবিষ্যতে স্মার্টওয়াচসহ বিভিন্ন পরিধানযোগ্য ডিভাইস শরীর থেকেই চার্জ নিয়ে থেকেই চলতে পারবে। এই গবেষণা গত মাসে বিজ্ঞান বিষয়ক সাময়িকী নেচারে প্রকাশিত হয়েছে। খবর সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের।
গবেষকেরা জানিয়েছেন, নতুন উপাদানে তৈরি এই রাবার ব্যান্ডে ইলাস্টিসিটি বা স্থিতিস্থাপকতার সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর তাপবিদ্যুৎ রূপান্তরের ক্ষমতা মিলেছে। তাঁরা গবেষণাপত্রে লিখেছেন, ‘এখন পর্যন্ত যেসব উচ্চক্ষমতার থার্মোইলেকট্রিক (তাপবৈদ্যুতিক) উপাদান তৈরি হয়েছে, সেগুলোতে কেবল নমনীয়তা পাওয়া গেছে, ইলাস্টিসিটি নয়।’
বর্তমানে পরিধানযোগ্য ডিভাইসগুলোর ব্যাটারি ভারী বা বারবার চার্জ দেওয়ার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এই উদ্ভাবন সহজ আর স্থায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহের সম্ভাবনা দেখাচ্ছে, যা চার্জ দেওয়ার ঝামেলা দূর করতে পারে।
গবেষকেরা বলেছেন, এই প্রযুক্তি কাজ করে থার্মোইলেকট্রিক নীতির ভিত্তিতে। যেখানে তাপমাত্রার পার্থক্য বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে। মানুষের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা প্রায় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৯৮.৬ ফারেনহাইট)। আর বাইরের তাপমাত্রা সাধারণত ২০ থেকে ৩০ ডিগ্রির মধ্যে থাকে। এই পার্থক্যকে কাজে লাগিয়ে গবেষকেরা তাপকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার চেষ্টা করেছেন।
থার্মোইলেকট্রিক উপাদান আগে থেকেই ব্যবহার হয়ে আসছে। যেমন—মহাকাশযানে, যেখানে সূর্যের আলো পাওয়া যায় না, সে ক্ষেত্রে রেডিওঅ্যাকটিভ আইসোটোপ থার্মোইলেকট্রিক জেনারেটর ব্যবহার করা হয়।
পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের বস্তু বিজ্ঞানী লেই টিং বলেন, ‘আমরাই প্রথমবার বিশ্বের সামনে থার্মোইলেকট্রিক রাবারের ধারণা হাজির করেছি।’ তাঁর মতে, এর আগে ব্যবহৃত উপকরণ হয় খুব শক্ত ছিল, নয়তো নরম হলেও প্রসারণের ক্ষেত্রে অকার্যকর।
তিনি আরও জানান, তাঁর দল এমন একটি উপাদান বানানোর চেষ্টা করেছে যা বাঁকানো যাবে, টেনে লম্বা করা যাবে এবং যেটি ত্বকে লেগে থাকার মতো হবে। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের থারমাল ডিভাইস আরামে পরা যায় এবং শরীরের তাপশক্তিকে কার্যকরভাবে বিদ্যুতে রূপান্তর করে। একই সঙ্গে, এটি শরীর থেকে তাপ গ্রহণ করলেও দেহের তাপমাত্রার ভারসাম্যে কোনো তারতম্য দেখা দেবে না।’
লেই দাবি করেন, তাত্ত্বিকভাবে যদি উপাদানটি নষ্ট না হয় বা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তবে এটি অনির্দিষ্টকাল ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম।
এই উদ্ভাবনের মূলে রয়েছে এক ধরনের হাইব্রিড গঠন—যেখানে সেমিকন্ডাক্টিং বা অর্ধপরিবাহী পলিমারের সঙ্গে রাবারকে মিলিয়ে জটিল কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। উপাদানের ভেতরে ন্যানোফাইবার নেটওয়ার্ক তৈরি করে তারা এক অভূতপূর্ব প্রসারণ ক্ষমতা অর্জন করেছে, যা বৈদ্যুতিক পরিবাহিতায় কোনো প্রভাব ফেলে না।
গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, এই উপাদান আসল দৈর্ঘ্যের তুলনায় ৮৫০ শতাংশ পর্যন্ত টেনে লম্বা করা সম্ভব। ১৫০ শতাংশ পর্যন্ত টানার পরও এটি ৯০ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে। এই স্থিতিস্থাপকতা প্রাকৃতিক রাবারের সমতুল্য।
বিশেষ ধরনের ডোপ্যান্ট বা খাদ যোগ করার ফলে উপাদানটির কার্যক্ষমতা আরও বেড়েছে। ফলে কক্ষ তাপমাত্রায় এর তাপবিদ্যুৎ রূপান্তরের ক্ষমতা প্রচলিত অজৈব উপাদানের সমান হয়ে গেছে। এ বিষয়ে লেই বলেন, ‘এটি শুধু পরিধানযোগ্য ডিভাইস চার্জ করার জন্য নয়, এর আরও অনেক সম্ভাবনা রয়েছে।’ উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, কোনো প্রত্যন্ত অঞ্চলে কেবল আগুন জ্বালিয়েই যোগাযোগ ডিভাইস চালানো সম্ভব হতে পারে।
গবেষক দল উপাদানটি পোশাকের মধ্যেও ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছে। এর ফলে জামার ভেতরেই মোবাইল চার্জ করা যাবে, একই সঙ্গে পোশাকের সেমিকন্ডাক্টর শরীরের ভেতরের তাপ বাইরে ছড়িয়ে দিয়ে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করবে।
চিকিৎসাক্ষেত্রেও এর ব্যবহার হতে পারে। যেমন কার্ডিওভাসকুলার পরীক্ষায় রোগীদের এক সপ্তাহ ধরে ইলেকট্রনিক ডিভাইস পরতে হয় তথ্য সংগ্রহের জন্য। এতে বড় ব্যাটারি ও অতিরিক্ত সার্কিট লাগে। কিন্তু নতুন এই উপাদান ব্যবহার করলে শরীরের সঙ্গে সরাসরি লাগানো সেন্সরে আর বাড়তি ব্যাটারি লাগবে না।

শহরের পাখিরা পুরুষদের তুলনায় নারীদের বেশি ভয় পায় এবং নারীদের কাছ থেকে তুলনামূলক বেশি দূরত্ব বজায় রাখে—সম্প্রতি এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। বিজ্ঞান সাময়িকী ‘পিপল অ্যান্ড নেচার’-এ প্রকাশিত এই গবেষণাপত্রটি বিজ্ঞানীদের যেমন চমকে দিয়েছে, তেমনি তৈরি করেছে নতুন রহস্য।
২ দিন আগে
মহাকাশে ধীরে ধীরে নিচে নেমে আসা নাসার গুরুত্বপূর্ণ ‘সুইফট’ মহাকাশ দূরবীক্ষণ যন্ত্রকে রক্ষায় এক নজিরবিহীন উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) নাসার অর্থায়নে তৈরি ‘লিংক’ নামের একটি রোবোটিক মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করা হয়েছে, যার লক্ষ্য তিনটি যান্ত্রিক বাহুর সাহায্যে সুইফটকে ধরে আবার নিরাপদ কক্ষপথে
৩ দিন আগে
দীর্ঘদিন ধরেই বিজ্ঞানীদের মধ্যে একটি বিতর্ক রয়েছে—এক গ্রহ থেকে অন্য গ্রহে প্রাণের বীজ বা জীবাণু কি মহাকাশের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে? ‘প্যানস্পারমিয়া’ নামে পরিচিত এই তত্ত্ব অনুযায়ী, কোনো গ্রহে প্রাণের মৌলিক উপাদান তৈরি হলে বৃহৎ উল্কাপাত বা মহাজাগতিক সংঘর্ষের ফলে সেই গ্রহের পৃষ্ঠের কিছু অংশ...
৭ দিন আগে
আধুনিক কোয়ান্টাম বলবিদ্যার অন্যতম পথিকৃৎ এবং ১৯১৮ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেলজয়ী জার্মান বিজ্ঞানী ম্যাক্স প্লাংকের ১৯৪০-এর দশকে লেখা দুটি ঐতিহাসিক গবেষণা প্রবন্ধ প্রত্যাহার করেছে বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা সংস্থা ‘স্প্রিংগার নেচার’ (Springer Nature)।
১০ দিন আগে