আজকের পত্রিকা ডেস্ক

আধুনিক জীবনের অপরিহার্য একটি নির্মাণ উপাদান কংক্রিট। তবে এর দুর্বলতা একটিই—এতে খুব সহজেই ফাটল ধরে। কারণ খুব একটা টেনশন বা টান সইতে পারে না কংক্রিট। ফলে চাপে পড়লেই ফাটল দেখা দেয়। এই সমস্যার সমাধানে বহুদিন ধরেই বিজ্ঞানীরা খুঁজছেন কার্যকর কোনো উপায়। তবে এবার হয়তো সেই বহুল কাঙ্ক্ষিত সমাধানের পথ খুলে গেল।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস আ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার কনগ্রুই গ্রেস জিনের নেতৃত্বে একদল গবেষক এমন একধরনের কংক্রিট তৈরি করেছেন, যা নিজেই নিজের ফাটল সারিয়ে তুলতে পারে। আর কাজটি করতে তারা ব্যবহার করেছেন সিনথেটিক লাইকেন বা কৃত্রিমভাবে তৈরি একধরনের লাইকেন।
এর আগেও জীবাণু বা ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করে ফাটল সারানোর কংক্রিট তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে সব পদ্ধতিতেই কিছু সীমাবদ্ধতা দেখা গিয়েছিল। কারণ সেগুলোকে বাইরে থেকে পুষ্টি সরবরাহ করতে হতো, নইলে ব্যাকটেরিয়া সক্রিয় হতো না। কনগ্রুই গ্রেস জিন বলেন, ‘ব্যাকটেরিয়া-নির্ভর স্বনিরাময় কংক্রিট নিয়ে গবেষণা চলছে গত তিন দশক ধরে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো পদ্ধতিই পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় নয়। কারণ সবগুলোকেই বাইরে থেকে পুষ্টির সরবরাহ দিতে হয়।’
এই সীমাবদ্ধতা কাটাতে জিন ও তাঁর সহকর্মীরা একধরনের লাইকেন তৈরি করেছেন, যা দুটি জীবের সমন্বয়ে তৈরি। এ দুটি জীব হলো—ফাইলোসায়ানোব্যাকটেরিয়া ও একধরনের ফাঙ্গাস বা ছত্রাক। লাইকেন একক জীব নয়, বরং বাধ্যতামূলক পারস্পরিক সহাবস্থানের উদাহরণ। এ দুই প্রজাতি একে অপরের পরিপূরক—সায়ানোব্যাকটেরিয়া বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও নাইট্রোজেন সংগ্রহ করে। আর ফাঙ্গাস ক্যালসিয়াম আয়ন আকর্ষণ করে ক্যালসিয়াম কার্বোনেট তৈরি করে। ক্যালসিয়াম কার্বোনেট হলো সেই পদার্থ, যা ডিমের খোল, প্রবালে থাকে।
এসব লাইকেন কংক্রিটের ফাটলে অনেক পরিমাণ ক্যালসিয়াম কার্বোনেট জমিয়ে ফাটলগুলো জোড়া লাগাতে পেরেছে। এতে ফাটল বিস্তৃত হতে পারেনি এবং কংক্রিট আবার আগের মতো শক্ত হয়েছে। এই প্রক্রিয়া অনেকটা প্রাচীন রোমানদের তৈরি স্বনিরাময় কংক্রিটের মতো, যা রাসায়নিক বিক্রিয়া ব্যবহার করে ফাটল সারিয়ে তুলত।
ব্যাকটেরিয়ার চেয়ে এই পদ্ধতি অনেক বেশি টেকসই, কারণ এখানে কোনো বাইরের যত্ন বা পুষ্টি লাগে না। লাইকেন নিজেই নিজের মতো কাজ করে যায়, কোনো মানুষকে বাড়তি কিছুর প্রয়োজন হয় না। এখন গবেষকেরা যাচাই করে দেখছেন, এই লাইকেন পুরোনো ফাটলের ক্ষেত্রে কেমন কাজ করে।
গবেষকেরা বলেন, ‘ফোটোট্রফিক ও হেটেরোট্রফিক দুই প্রজাতিকে একসঙ্গে ব্যবহার করে একটি স্থিতিশীল ও স্বনির্ভর কংক্রিট মেরামতের পদ্ধতি গড়া সম্ভব হয়েছে, যেটি বাইরের পুষ্টি ছাড়াই কাজ করতে পারে।’
এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে ম্যাটেলিয়ালস টুডে কমিউনিশন সাময়িকীতে।
তথ্যসূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট

আধুনিক জীবনের অপরিহার্য একটি নির্মাণ উপাদান কংক্রিট। তবে এর দুর্বলতা একটিই—এতে খুব সহজেই ফাটল ধরে। কারণ খুব একটা টেনশন বা টান সইতে পারে না কংক্রিট। ফলে চাপে পড়লেই ফাটল দেখা দেয়। এই সমস্যার সমাধানে বহুদিন ধরেই বিজ্ঞানীরা খুঁজছেন কার্যকর কোনো উপায়। তবে এবার হয়তো সেই বহুল কাঙ্ক্ষিত সমাধানের পথ খুলে গেল।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস আ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার কনগ্রুই গ্রেস জিনের নেতৃত্বে একদল গবেষক এমন একধরনের কংক্রিট তৈরি করেছেন, যা নিজেই নিজের ফাটল সারিয়ে তুলতে পারে। আর কাজটি করতে তারা ব্যবহার করেছেন সিনথেটিক লাইকেন বা কৃত্রিমভাবে তৈরি একধরনের লাইকেন।
এর আগেও জীবাণু বা ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করে ফাটল সারানোর কংক্রিট তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে সব পদ্ধতিতেই কিছু সীমাবদ্ধতা দেখা গিয়েছিল। কারণ সেগুলোকে বাইরে থেকে পুষ্টি সরবরাহ করতে হতো, নইলে ব্যাকটেরিয়া সক্রিয় হতো না। কনগ্রুই গ্রেস জিন বলেন, ‘ব্যাকটেরিয়া-নির্ভর স্বনিরাময় কংক্রিট নিয়ে গবেষণা চলছে গত তিন দশক ধরে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো পদ্ধতিই পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় নয়। কারণ সবগুলোকেই বাইরে থেকে পুষ্টির সরবরাহ দিতে হয়।’
এই সীমাবদ্ধতা কাটাতে জিন ও তাঁর সহকর্মীরা একধরনের লাইকেন তৈরি করেছেন, যা দুটি জীবের সমন্বয়ে তৈরি। এ দুটি জীব হলো—ফাইলোসায়ানোব্যাকটেরিয়া ও একধরনের ফাঙ্গাস বা ছত্রাক। লাইকেন একক জীব নয়, বরং বাধ্যতামূলক পারস্পরিক সহাবস্থানের উদাহরণ। এ দুই প্রজাতি একে অপরের পরিপূরক—সায়ানোব্যাকটেরিয়া বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও নাইট্রোজেন সংগ্রহ করে। আর ফাঙ্গাস ক্যালসিয়াম আয়ন আকর্ষণ করে ক্যালসিয়াম কার্বোনেট তৈরি করে। ক্যালসিয়াম কার্বোনেট হলো সেই পদার্থ, যা ডিমের খোল, প্রবালে থাকে।
এসব লাইকেন কংক্রিটের ফাটলে অনেক পরিমাণ ক্যালসিয়াম কার্বোনেট জমিয়ে ফাটলগুলো জোড়া লাগাতে পেরেছে। এতে ফাটল বিস্তৃত হতে পারেনি এবং কংক্রিট আবার আগের মতো শক্ত হয়েছে। এই প্রক্রিয়া অনেকটা প্রাচীন রোমানদের তৈরি স্বনিরাময় কংক্রিটের মতো, যা রাসায়নিক বিক্রিয়া ব্যবহার করে ফাটল সারিয়ে তুলত।
ব্যাকটেরিয়ার চেয়ে এই পদ্ধতি অনেক বেশি টেকসই, কারণ এখানে কোনো বাইরের যত্ন বা পুষ্টি লাগে না। লাইকেন নিজেই নিজের মতো কাজ করে যায়, কোনো মানুষকে বাড়তি কিছুর প্রয়োজন হয় না। এখন গবেষকেরা যাচাই করে দেখছেন, এই লাইকেন পুরোনো ফাটলের ক্ষেত্রে কেমন কাজ করে।
গবেষকেরা বলেন, ‘ফোটোট্রফিক ও হেটেরোট্রফিক দুই প্রজাতিকে একসঙ্গে ব্যবহার করে একটি স্থিতিশীল ও স্বনির্ভর কংক্রিট মেরামতের পদ্ধতি গড়া সম্ভব হয়েছে, যেটি বাইরের পুষ্টি ছাড়াই কাজ করতে পারে।’
এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে ম্যাটেলিয়ালস টুডে কমিউনিশন সাময়িকীতে।
তথ্যসূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট

একটা নীল রঙের ফুল আছে, যার নাম ফরগেট-মি-নট (Forget-me-not)। এই ফুলের সঙ্গে একটা লোককথা জড়িত। মর্মস্পর্শী ওই কাহিনীটি এমন যে, জার্মানির এক নাইট তাঁর প্রেমিকাকে নিয়ে নদীর ধারে হাঁটছিলেন। নদীর পাড়ে ছোট সুন্দর নীল ফুলের সারি দেখতে পেয়ে ওই নাইট প্রেমিকাকে ফুল দিয়ে খুশি করতে চান।
২ দিন আগে
বিশ্বব্যাপী খাদ্যনিরাপত্তার ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হতে যাচ্ছে। চীনা কৃষিবিজ্ঞানীরা এমন এক বৈপ্লবিক হাইব্রিড ধান উদ্ভাবন করেছেন, যা বীজের মাধ্যমে নিজেকে ‘ক্লোন’ বা হুবহু প্রতিলিপি তৈরি করতে পারে। এই আবিষ্কারের ফলে প্রতিবছর কৃষকদের চড়া দামে নতুন হাইব্রিড বীজ কেনার চিরাচরিত বাধ্যবাধকতা ভেঙে
২ দিন আগে
সম্প্রতি অটোব্রুয়ারি সিনড্রোমে আক্রান্ত রোগীদের ওপর পরিচালিত এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় গবেষণায় নিশ্চিত করা হয়েছে, এই অবস্থার প্রধান হোতা আসলে ব্যাকটেরিয়া। নেচার মাইক্রোবায়োলজি সাময়িকীতে সম্প্রতি প্রকাশিত এই গবেষণা প্রতিবেদন রোগীদের অন্ত্রের অণুজীবের অ্যালকোহল বিপাক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন...
৬ দিন আগে
বাঙালি পাতে এক টুকরা বড় কার্পের পেটি কিংবা মুড়িঘণ্ট না হলে ভোজন যেন অসম্পূর্ণই থেকে যায়। কিন্তু এই সুস্বাদু অভিজ্ঞতার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় সূক্ষ্ম কাঁটা। কার্প মাছ নিয়ে ভোজনরসিকদের ধৈর্যের পরীক্ষা হয়। এক পরীক্ষায় দেখা গেছে, একটি সাধারণ কার্পে প্রায় ৮০টির বেশি ক্ষুদ্র ও ওয়াই-আকৃতির...
১৫ দিন আগে