
আনন্দের জন্য বই পড়ার সঙ্গে ভালো মানসিক স্বাস্থ্য, বেশি সহমর্মিতা এবং ডিমেনশিয়ায় বা স্মৃতিভ্রংশে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে যাওয়ার সম্পর্ক রয়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা। যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা ‘দ্য কুইন্স রিডিং রুমের’ সঙ্গে যৌথভাবে আনন্দের জন্য বই পড়ার উপকারিতা নিয়ে কাজ করেছেন। ‘দ্য কুইন্স রিডিং রুম’ একটি দাতব্য সংস্থা।
বিজ্ঞান বিষয়ক সাময়িকী মেডিকেল এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক বারবারা সাহাকিয়ান ও ড. ক্রিস্টেল ল্যাংলি ‘ব্রেইন বুস্ট: হেলদি হ্যাবিটস ফর আ হ্যাপিয়ার লাইফ’ বইটি প্রকাশ করেন। বইটি লেখার সময় তারা আনন্দের জন্য বই পড়ার বিস্তৃত উপকারিতা সম্পর্কে জানতে পারেন। একই সঙ্গে এ বিষয়ে গবেষণার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম বলেও তারা দেখতে পান।
‘সাইকোলজিক্যাল মেডিসিন’ জার্নালে প্রকাশিত এক পর্যালোচনায় সাহাকিয়ান, ল্যাংলি এবং ‘দ্য কুইন্স রিডিং রুমে’র প্রধান নির্বাহী ভিকি পেরিন বলেন, কী পড়া হচ্ছে বা কীভাবে পড়া হচ্ছে, তা বিবেচ্য নয়। আনন্দের জন্য পড়ার মাধ্যমেই বড় ধরনের উপকার পাওয়া যায়। অন্যদের সঙ্গে বই পড়লে, যেমন বুক ক্লাবে অংশ নেওয়া বা বাবা-মায়ের সন্তানকে বই পড়ে শোনানোর ক্ষেত্রে, উপকার আরও বাড়তে পারে।
অধ্যাপক সাহাকিয়ান বলেন, বই পড়া মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে, গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানীয় দক্ষতা তৈরি করতে এবং ভালো থাকার অনুভূতি বাড়াতে সহায়তা করে। ছোটবেলা থেকেই বই পড়তে উৎসাহ দেওয়া উচিত, কারণ বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এর উপকারিতার পক্ষে প্রমাণ বাড়ছে। তবে যেকোনো বয়সেই বই পড়া শুরু করা সম্ভব এবং এর সুফল সারা জীবন ও বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত পাওয়া যেতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, শিশু ও কিশোরদের মধ্যে বই পড়ার হার রেকর্ড রাখা শুরুর পর থেকে বর্তমানে সবচেয়ে কম। বিশেষ করে কিশোর ছেলে এবং সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের শিশুদের মধ্যে এ হার কমেছে। তবে যারা সবচেয়ে কম বই পড়তে পছন্দ করে, তারাও বই পড়ার শিক্ষাগত গুরুত্ব স্বীকার করে। তাদের প্রায় অর্ধেক জানিয়েছে, বই পড়া তাদের নতুন শব্দ বা নতুন বিষয় শিখতে সাহায্য করে। আনন্দের জন্য বই পড়ার উপকারিতার অন্যতম শক্তিশালী প্রমাণ এসেছে সাহাকিয়ান, ল্যাংলি ও তাদের সহকর্মীদের ১০ হাজারের বেশি তরুণকে নিয়ে করা একটি গবেষণা থেকে।
গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশু অল্প বয়সে আনন্দের জন্য বই পড়া শুরু করেছিল, তাদের মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি ও নির্বাহী কার্যক্ষমতা ভালো ছিল। তাদের শিক্ষাগত সাফল্যও বেশি ছিল। পাশাপাশি তাদের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা কম এবং জীবনযাপনও স্বাস্থ্যকর ছিল। এর মধ্যে বেশি ঘুম এবং কম সময় স্ক্রিন ব্যবহারের বিষয়টি ছিল।
ল্যাংলি বলেন, অল্প বয়সে আনন্দের জন্য বই পড়ার এত উপকার থাকায় শিশু ও তরুণদের বই পড়ার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। শিশুদের পছন্দের বিষয় খুঁজে বের করা গুরুত্বপূর্ণ। সেটি কোনো টেলিভিশন অনুষ্ঠান বা গেমও হতে পারে এবং সেখান থেকে বই পড়ার দিকে তাদের আগ্রহ তৈরি করা যেতে পারে। তিনি বলেন, কমিকস ও গ্রাফিক নভেলও বই পড়ার ভালো মাধ্যম হতে পারে। কারণ এগুলো উপন্যাসের তুলনায় কম ভীতিকর এবং কম বিরক্তিকর মনে হতে পারে।
বই পড়ার সঙ্গে জ্ঞানগত দক্ষতা উন্নতির শক্তিশালী সম্পর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে এর সঙ্গে গণিতে ভালো ফল করারও সম্পর্ক পাওয়া গেছে। কারণ পড়া ও গণিতের ক্ষেত্রে ভাষাগত দক্ষতা, স্মৃতি এবং নির্বাহী কার্যক্ষমতার মতো একই ধরনের জ্ঞানীয় প্রক্রিয়া ব্যবহৃত হয়। বই পড়ার উপকার শিশু ও তরুণদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন জরিপে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রেও এর একাধিক উপকার পাওয়া গেছে। বিশেষ করে মানসিক চাপ কমানো, ভালোভাবে বিশ্রাম নেওয়া, অন্যের প্রতি বেশি সহমর্মিতা ও বোঝাপড়া তৈরি এবং ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি বেশি সহনশীলতার সঙ্গে বই পড়ার সম্পর্ক রয়েছে।
মানসিক চাপ কমানোর সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি হিসেবে বই পড়ার কথা উঠে এসেছে। প্রায় পাঁচজন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে দুজন, অর্থাৎ ৩৮ শতাংশ, মানসিক চাপ থেকে মুক্ত হতে বই পড়াকে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে বেছে নিয়েছে। ২০২৪ সালে ‘দ্য কুইন্স রিডিং রুমে’র উদ্যোগে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র পাঁচ মিনিট কল্পকাহিনি পড়লে মানসিক চাপ ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। একই সঙ্গে এটি মনোযোগ ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়াতে এবং পাঠকদের কম একাকী বোধ করতে সহায়তা করতে পারে।
অন্য একটি জরিপে দেখা গেছে, সান্ত্বনার জন্য ওয়াইন বা গরম পানিতে গোসলের চেয়ে বেশি মানুষ বইয়ের দিকে ঝোঁকে। বইয়ের কথা বলেছেন ৩৫ শতাংশ মানুষ, ওয়াইনের ক্ষেত্রে এ হার ৩১ শতাংশ এবং গরম পানিতে গোসলের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ।
আনন্দের জন্য বই পড়ার উপকারিতার কারণ খুঁজতে মস্তিষ্কের ছবি নিয়ে করা গবেষণায় মস্তিষ্কের গঠনের বিভিন্ন পরিবর্তনের সঙ্গে বই পড়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। গবেষণায় ভাষা, শেখা, আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বাহী নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যুক্ত মস্তিষ্কের অংশে বড় আয়তন ও কর্টিক্যাল এলাকা দেখা গেছে। ভাষা প্রক্রিয়াকরণে সহায়তাকারী সাদা পদার্থের সংযোগও শক্তিশালী হয়েছে। এ ছাড়া ভাষার সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ মস্তিষ্কের অংশে কর্টেক্সের পুরুত্ব বাড়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তবে বেশিরভাগ গবেষণায় এখন পর্যন্ত শুধু পারস্পরিক সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে বই পড়া ও মস্তিষ্কের গঠনগত পরিবর্তনের মধ্যে কারণগত সম্পর্কের প্রমাণও এখন পাওয়া যাচ্ছে। বই পড়ার প্রশিক্ষণের পর মস্তিষ্কের গঠনে পরিবর্তনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ৭ থেকে ১১ বছর বয়সী ডিসলেক্সিয়ায় আক্রান্ত ১১ শিশুকে নিয়ে করা একটি ছোট গবেষণায় আট সপ্তাহের একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি দেওয়া হয়। এতে মানসিকভাবে ছবি বা দৃশ্য কল্পনা, উচ্চারণ এবং অক্ষর, অক্ষরগুচ্ছ ও শব্দ অনুসরণ করে লেখার অনুশীলন অন্তর্ভুক্ত ছিল।
প্রশিক্ষণের পর শিশুদের পড়ার দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়। একই সঙ্গে মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অংশে ধূসর পদার্থের পরিমাণও বৃদ্ধি পায়।

২০২২ সালের ১২ ডিসেম্বর মঙ্গল গ্রহের দক্ষিণাঞ্চলের উঁচু ভূমির ওপর দিয়ে ২৫১ কিলোমিটার উচ্চতায় উড়ছিল একটি অরবিটার। সেখান থেকে মঙ্গল গ্রহের একটি পাহাড়ের ছবি তোলে সেটি। ছবিটি সাধারণই হওয়ার কথা ছিল। ২০০৬ সাল থেকে নাসার মার্স রিকনেসান্স অরবিটারের হাইরাইজ (HiRISE) ক্যামেরা মঙ্গলের পৃষ্ঠের হাজার...
২ দিন আগে
বাংলাদেশের আধুনিক শিল্পের জনক শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন। চিত্রশিল্পে তাঁর অসামান্য অবদানের কথা বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। তবে পৃথিবীর গণ্ডি ছাড়িয়ে মহাকাশেও যে তাঁর নাম খোদাই করা রয়েছে, তা হয়তো অনেকেরই অজানা।
২ দিন আগে
নতুন একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল এবং হাজার হাজার এআই বট কয়েক দশক ধরে অমীমাংসিত থাকা এক জটিল গাণিতিক সমস্যার সমাধান খুঁজে পেয়েছে। তাও আবার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এ সমাধান খুঁজে পাওয়ার দাবি করেছে চ্যাটজিপিটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য
৬ দিন আগে
আপনি কত বছর বয়স পর্যন্ত বাঁচবেন বলে মনে করেন? এই প্রশ্নের উত্তর আপনার সম্পর্কে এমন কিছু তথ্য প্রকাশ করতে পারে, যা আপনি হয়তো ভাবতেও পারেননি। জাপানে বয়স্ক মানুষদের নিয়ে ২৮ বছর ধরে চালানো এক গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ নিজের আয়ু সম্পর্কে আশ্চর্যজনকভাবে সঠিক ধারণা রাখে।
১৩ দিন আগে