Ajker Patrika

নির্বাচনে প্রার্থিতা: বিদ্রোহে ভুগছে বিএনপি

  • বোঝানোর পরও মাঠ ছাড়ছেন না অনেক নেতা।
  • শরিকদের ছেড়ে দেওয়া আসনেও এই সমস্যা।
  • শেষ পর্যন্ত বোঝানো হবে, না বুঝলে ব্যবস্থা নেবে দল।
‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
নির্বাচনে প্রার্থিতা: বিদ্রোহে ভুগছে বিএনপি

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করতে দলীয় ও মিত্র দলের প্রার্থীদের পক্ষে ভোটের মাঠে সর্বশক্তি নিয়োগ করতে চায় বিএনপি। কিন্তু কোথাও কোথাও এই পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন দলের মনোনয়নবঞ্চিত নেতারা। দলের সমর্থন না পেলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের লড়াইয়ে থেকে যাওয়ার বিষয়ে অনড় অবস্থান নিয়েছেন তাঁরা। এসব প্রার্থীকে বিদ্রোহী বিবেচনা করে অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেওয়ার কৌশল নিয়েছে দল। এই নীতিতে বিদ্রোহীদের নির্বাচন থেকে সরাতে আলোচনায় সমঝোতা ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা দুই-ই চালু রাখা হয়েছে।

দলীয় সূত্র বলছে, আলোচনার মাধ্যমে বুঝিয়ে বিদ্রোহীদের অনেককে এরই মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করানো সম্ভব হয়েছে। আবার অনেককে বুঝিয়েও লাভ হচ্ছে না। প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় এরই মধ্যে অনেককে বহিষ্কার করা হয়েছে। এরপরও এখন পর্যন্ত বিভিন্ন আসনে অন্তত অর্ধশত স্বতন্ত্র বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। শরিকদের জন্য ছাড় দেওয়া আসনগুলোতেও একই চিত্র।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২০ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। এই সময়ের আগে বিদ্রোহীদের সরানো না গেলে বেশ অস্বস্তিতে পড়তে পারে বিএনপি।

দলীয় সূত্র বলছে, বিদ্রোহী প্রার্থীদের মাঠ থেকে সরানোর বিষয়ে সহজে আশা ছাড়ছেন না বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা। নিজেদের ভুল বুঝে দলের সিদ্ধান্ত মেনে বিদ্রোহী প্রার্থীরা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবেন বলে তাঁদের প্রত্যাশা। তবে সবাই যে সরবে না, সে বিষয়টিও উঠে এসেছে তাঁদের কথায়।

বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে দলের ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান গতকাল রোববার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সময় আছে। চেষ্টা করা হবে তাঁদের (বিদ্রোহী প্রার্থী) বোঝানোর জন্য। তারপর দল থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা, অধিকাংশ বিদ্রোহী প্রার্থীই সরে যাবেন। কিছু হয়তো থাকবেন, থেকে যাবেন। তাঁদের বিষয়ে দল ব্যবস্থা নেবে।’

বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কঠোরতার পাশাপাশি আনুগত্যের পুরস্কার দেওয়ার কৌশলও নিয়েছে বিএনপি। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও দলের সিদ্ধান্ত মেনে ভোলা-৪ আসনে প্রার্থী না হওয়া নাজিম উদ্দিন আলমকে বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য করা হয়েছে। দল এটিকে আনুগত্যের স্বীকৃতি হিসেবে দেখালেও মাঠপর্যায়ে এটিকে সান্ত্বনা পুরস্কার হিসেবে দেখছেন তাঁর অনুসারীদের একটি অংশ।

শরিকদের আসনেও সংকট

বিদ্রোহী-সংকট শুধু বিএনপির ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রভাব পড়েছে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর ওপরও। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, গণতন্ত্র মঞ্চ, জাতীয় সমমনা জোট ও গণঅধিকার পরিষদকে ছেড়ে দেওয়া ১৪ আসনে বিএনপির তৃণমূল নেতা-কর্মীদের অসহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে।

এর বাইরে কৌশলগত কারণে দল বিলুপ্ত করে এবং সংগঠন ছেড়ে বিএনপির নির্বাচনী মার্কা ধানের শীষ প্রতীকে লড়তে যাচ্ছেন আরও পাঁচ নেতা। তাঁরা হলেন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ, এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের আরেকাংশের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মুফতি রশীদ বিন ওয়াক্কাস। এসব আসনের কোনো কোনোটিতে বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা দলীয় প্রার্থীর বাইরে অন্য কোনো প্রার্থীকে মানতে পারছেন না।

বিএনপির মিত্র দলের নেতারা বলছেন, আসন ছাড় দেওয়া হলেও তৃণমূল বিএনপিকে এ বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা না দেওয়ায় মাঠপর্যায়ে দ্বিধা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। বিএনপি যেসব আসন শরিকদের ছেড়ে দিয়েছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই স্থানীয় পর্যায়ে দলটির সাংগঠনিক সহযোগিতা পাচ্ছেন না মিত্র দলের প্রার্থীরা। অনেক এলাকায় বিএনপির স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থীদের সক্রিয়তায় জোট প্রার্থীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে মিত্র দলের নেতারা সরাসরি বিএনপির চেয়ারম্যান ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির হস্তক্ষেপ চাইছেন।

বিএনপির ঢাকা-১২ আসনে ছাড় পাওয়া প্রার্থী বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমার আসনে যিনি আগে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ছিলেন, তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবুও তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। এটা নিয়ে কিছুটা অস্বস্তি ও বিরক্তি আছে। কোনো কোনো এলাকায় চাপ ও হুমকিও দেওয়া হচ্ছে মানুষজনকে। তবে আশা করি, কয়েক দিনের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’

শরিকদের আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় এরই মধ্যে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক রুমিন ফারহানা, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম (নীরব), কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন, মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, মোহাম্মদ শাহ আলম, আবদুল খালেক, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহাসচিব তরুণ দে, সিলেট জেলা বিএনপির সহসভাপতি মামুনুর রশিদ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্চারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসানকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘প্রত্যাহারের সময় শেষ হয়নি। আমরা আহ্বান জানিয়েছি দলের সিদ্ধান্তের প্রতি যেন তাঁরা শ্রদ্ধাশীল হয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। আশা করছি, তাঁরা প্রত্যাহার করবেন। অনেকে ইতিমধ্যে প্রত্যাহারের কথা জানিয়েছেন। প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই এই পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হবে বলে আশা করছি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

নির্বাচনের পর কী করবেন ড. ইউনূস, জানাল প্রেস উইং

বাংলাদেশে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক’ নির্বাচনের নতুন ব্যাখ্যা দিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন

৫১ বছর পর মার্কিন আকাশে ডুমসডে প্লেন, পারমাণবিক যুদ্ধের শঙ্কায় কাঁপছে সোশ্যাল মিডিয়া

নিজের চরকায় তেল দাও—মামদানিকে ভারতের তিরস্কার

বিদেশে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসীর নির্দেশে খুন হন মুছাব্বির, পাঠানো হয় ১৫ লাখ টাকা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত