Ajker Patrika

সংসদে মাঝেমধ্যে পল্টনের বক্তৃতাও দিতে হয়: জামায়াতের এমপি নাজিবুর

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
সংসদে মাঝেমধ্যে পল্টনের বক্তৃতাও দিতে হয়: জামায়াতের এমপি নাজিবুর
নাজিবুর রহমান মোমেন। ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১২তম দিনে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) সংশোধন বিলের আলোচনায় জামায়াতে ইসলামীর এমপি নাজিবুর রহমান বলেন, ‘আইনমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তিনি তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করেছেন, কেন তিনি একই ইস্যুতে ভিন্ন ভিন্ন জায়গায়, যখন তিনি অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন, একটি পজিশন নিয়েছিলেন, আর এখন আইনমন্ত্রী হিসেবে ভিন্ন পজিশন নিচ্ছেন, সেটা ব্যাখ্যা করেছেন। আসলে আইনজীবী হিসেবে আপনিও জানেন, আইনমন্ত্রীও জানেন, আমিও জানি, আমরা আমাদের ক্লায়েন্টকে বিশ্বাস না করলেও আমাদের বেস্ট অ্যাবিলিটি দিয়ে তাঁকে প্রেজেন্ট করতে হয়। সে ক্ষেত্রে মাঝেমধ্যে পল্টনের বক্তৃতাও দিতে হয়। এ বিষয়টা প্রাসঙ্গিক। প্রাসঙ্গিক বলেই বলেছি।’

স্থানীয় সরকার প্রশাসক নিয়োগের অধ্যাদেশটি সংবিধানবহির্ভূত এবং রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে অধ্যাদেশগুলো জোর করে জারি করানো হয়েছিল—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্য উল্লেখ করে নাজিবুর রহমান বলেন, ‘যে অধ্যাদেশটি এখন আইন হিসেবে পরিগণিত করার জন্য বিল আনা হয়েছে, সেটিও আসলে রাষ্ট্রপতি পারতেন না, তাঁকে দিয়ে জোর করে করানো হয়েছে।’

রাষ্ট্রপতি সংবিধানের বিধান পরিবর্তনের কোনো অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন না বলে উল্লেখ করে নাজিবুর রহমান বলেন, ‘এই যে বিলে বিশেষ পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকারে যাঁরা রয়েছেন, মেয়র কিংবা কাউন্সিলর রয়েছেন, সেখানে ৩২ক ধারায় সরকারকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে তাঁদেরকে বিশেষ পরিস্থিতিতে অপসারণের। আবার ৪২ক ধারায় বলা হয়েছে, বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রশাসক নিয়োগের ক্ষমতা সরকারের থাকবে।’

স্থানীয় সরকারের অনির্বাচিত প্রশাসক বসানোর বিধান কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না বলে উল্লেখ করে নাজিবুর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার বিশেষ পরিস্থিতিতে অধ্যাদেশটি করেছিল। বিলটির মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিকে সরিয়ে দিয়ে অনির্বাচিত প্রশাসক বসানোর ভবিষ্যৎ রাস্তা খোলা হয়। সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদে নিয়োগ পাওয়া একাধিক প্রশাসক জাতীয় নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিল।

বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে নাজিবুর রহমান বলেন, ‘আজকে দুইটা উপনির্বাচন হয়েছে। মানুষজন বলছে, ১৯৯৬-এ ছিল মাগুরা, আজকে হলো বগুড়া। একই কাহিনি আমরা দেখছি। যদি এটা চলতে থাকে, তাহলে বিশ্বাসের জায়গাটা কোথায় থাকবে? বিশ্বাসের জায়গা নষ্ট হয়ে গেলে সরকারের ভিত নড়ে উঠবে।’

জামায়াতের এই এমপি আরও বলেন, ‘স্থানীয় সরকারের প্রতিটি স্তরে নির্বাচিত প্রতিনিধি দেওয়ার কথা কিন্তু বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, মৃত্যু ছাড়া অন্য কোনো কারণে অনির্বাচিত প্রশাসক বসানো হবে না। ৩১ দফাতেও একই কথা বলা হয়েছে। সেই ইশতেহার দেখিয়ে, সেই পরিপ্রেক্ষিতে এই সরকার ক্ষমতায় এসেছে। এখন সেই সরকারই নির্বাচনী ইশতেহার ভঙ্গ করছে। আজকে বলা হয়েছে, “জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ” নাকি অন্তঃসারশূন্য প্রতারণার দলিল। এখন কি সেই ৩১ দফাও অন্তঃসারশূন্য প্রতারণার দলিল হয়ে যাবে?’

আইনটি পাস না হলে আওয়ামী লীগ আমলের নির্বাচিত স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিরা আবারও নিজ নিজ দায়িত্বে বসবেন উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘এই বিলটি মহান সংসদে পাস না হলে আসলে কারা আবার ক্ষমতায় ফিরে আসবে, সেটা বিবেচনার বিষয়। তাঁরা কাদেরকে আবার ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে চাচ্ছেন? জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে যারা রক্তপিপাসু ভূমিকা নিয়েছিল, পুলিশের সঙ্গে থেকে হামলা করেছে, অস্ত্র ব্যবহার করেছে, আমাদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল, সেই সব জনপ্রতিনিধি এই আইনটি পাস না হলে আবার পৌরসভার মেয়র এবং কাউন্সিলর পদে ফিরে আসবে। এই কারণেই অধ্যাদেশ জারি করে নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে এবং ওই জায়গাগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে।’

স্থানীয় সরকারের দ্রুত নির্বাচন দেওয়া হবে বলে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আগে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হতো। এই আইনের মাধ্যমে জাতীয় ও দলীয় প্রতীক বাতিল করে সাধারণ প্রতীকে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই কারণে আইনটি পাস করা অত্যন্ত জরুরি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

জামুকা সংশোধনে বিল পাস, জামায়াতের আপত্তি, এনসিপির সমর্থন

নীরবতার চরম মূল্য: ভারতের উচ্চাকাঙ্ক্ষা যেভাবে হারিয়ে গেল উপসাগরীয় অঞ্চলে

কর্মস্থল খাগড়াছড়ির পানছড়ি, চিকিৎসাসেবা দেন টাঙ্গাইলের ক্লিনিকে ক্লিনিকে

‘বিসিবিতে স্ত্রী কোটায় রাখা হয়েছে রাশনা ইমামকে’

নির্যাতনে স্ত্রীর আত্মহনন, স্বামী গ্রেপ্তার

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত