
প্রার্থীদের হাতে বন্দুক বা বন্দুকের লাইসেন্স দিলে আফ্রিকান সিনড্রোম বা আফ্রিকার মতো সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক সাইফুল হক।
আজ সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘অভ্যুত্থান উত্তর বাংলাদেশে নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির চ্যালেঞ্জ: রাজনৈতিক দল নিবন্ধন আইন ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক আলোচনা সভাটি আয়োজন করে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। এ সময় মাফিয়াদের মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির পরিবর্তে দেশ বদলের নির্বাচনে পরিণত করার কথাও জানানো হয়।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে অতিকথন, বাড়াবাড়ি, ভুল ও আত্মঘাতী পদক্ষেপ থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে সাইফুল হক বলেন, সন্ত্রাসীদের তৎপরতা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেছেন যে, যাঁরা নির্বাচন করতে চান, তাঁদের অস্ত্রের লাইসেন্স চাইলে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে তা দেওয়া হবে। সাধারণত নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয় এবং বৈধ অস্ত্রও থানায় জমা দিতে বলা হয়। প্রার্থী ও নেতাদের সংখ্যাতাত্ত্বিক হিসাব করে তিনি বলেন, ‘নতুন করে ১০-১৫ বা ২০ হাজার অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হলে প্রার্থীরা বন্দুক ঘাড়ে করে নির্বাচনের প্রচারণায় যুক্ত হবেন, যা খুবই ভয়াবহ চিন্তা ও আফ্রিকায় যেভাবে যুদ্ধ চলে, তারই নামান্তর। এই খবরটাও আমাকে উদ্বিগ্ন করেছে। এটি দেশে প্রায় ‘‘আফ্রিকান সিনড্রোম’’ বা সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।’
গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক সাইফুল হক বলেন, ‘যেখানে আমাদের জনগণের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন, সেখানে আমরাই, যাঁরা রাজনৈতিক নেতা, প্রার্থী হবেন, তাঁদের বন্দুক ঘাড়ে করে নিয়ে দেশব্যাপী তাঁদেরকে এখন যোগাযোগ করতে হবে, গণসংযোগ করতে হবে, নির্বাচনে তাদেরকে পাহারা বসাতে হবে তাদের নিরাপত্তা বা ভোটারদের নিরাপত্তার জন্য; এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। আমি আজকে দাবি করতে চাই, অবিলম্বে এই হঠকারী ও আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত আপনি প্রত্যাহার করুন। বরং সরকারের উচিত হবে দেশব্যাপী ছড়িয়ে থাকা হাজার হাজার অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কার্যকর, দৃশ্যমান ও বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া।’
সাইফুল হক আরও বলেন, ‘একদিকে সেনাবাহিনী ভোটকেন্দ্রের মধ্যে পাহারা দিচ্ছে, বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে এক লাখ সেনাবাহিনী-পুলিশ, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থারা আর অন্যদিকে প্রার্থীরা বন্দুকবাজ, তাঁরা সশস্ত্র প্রহরা নিয়ে দেশব্যাপী ঘুরবেন। তার মানে এটা প্রায় একটা আফ্রিকান সিনড্রোম হওয়ার জায়গা। আফ্রিকার কোনো কোনো দেশে আমরা এই ধরনের একটা জিনিস দেখি। যেখানে পদে পদে মৃত্যু, পদে পদে সংঘাত, পদে পদে সেখানে বন্দুকের লড়াই। আপনারা (সরকার) কোন জায়গায় নিয়ে যাচ্ছেন, চিন্তা করুন।’
কোনোভাবেই আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ঝুঁকির মধ্যে নেওয়া যাবে না উল্লেখ করে সাইফুল হক বলেন, ‘কোনোভাবেই আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মনস্তাত্ত্বিকভাবে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করতে চাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে নিয়ে যাওয়া যাবে না। এটা করা মানে হচ্ছে, ভোটারদের পরোক্ষভাবে অনুৎসাহিত করা। ভোটাররা এ রকম একটা আধা যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ভোটকেন্দ্রে আসতে উৎসাহ বোধ করবে না। তখন ইতিহাসের সেরা নির্বাচন দূরের কথা, একটা সাধারণ ভালো নির্বাচন করা যাবে কি না, সেটাও সন্দেহ। সুতরাং, নতুন একটা তাৎপর্যে বাংলাদেশ হাজির হয়েছে। আগামী নির্বাচনকে কোনোভাবেই ঝুঁকির মধ্যে নেওয়া যাবে না। আপনাদের অতিকথন, বাড়াবাড়ি, ভুল পদক্ষেপ, আত্মঘাতী পদক্ষেপের জন্য অনেকগুলো বড় সংকট তৈরি হতে পারে। সে জন্য বলব—চলেন, আমরা সে ব্যাপারে উদ্যোগ নিই।’

কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, গণভোটের মাধ্যমে ৬৮ শতাংশ জনগণ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, সংবিধানের কোন কোন জায়গায় পরিবর্তন প্রয়োজন।
৪৩ মিনিট আগে
প্রবাসীদের সংকটে সহায়তার লক্ষ্যে গঠন করা হয়েছে ‘এনসিপি প্রবাসী সংকট ব্যবস্থাপনা সেল’। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও এনসিপি ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্সের সমন্বয়ে এই সেল গঠন করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার এক বিবৃতির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।
১ ঘণ্টা আগে
দেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের এসএমই ঋণ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বনির্ভর করে তোলার আশ্বাস দিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
২ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী অক্সফোর্ড ইউনিয়ন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমকে বিতর্ক সভায় বক্তব্য দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে। অক্সফোর্ড ইউনিয়ন সোসাইটির প্রেসিডেন্ট আরওয়া হানিন এলরায়েস স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ আমন্ত্রণ জানানো হয়।
২ ঘণ্টা আগে