Ajker Patrika

মেরুদণ্ডহীন কমিশন দিয়ে নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না: পরওয়ার

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০: ১৭
মেরুদণ্ডহীন কমিশন দিয়ে নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না: পরওয়ার
মিয়া গোলাম পরওয়ার। ফাইল ছবি

‘উনি (স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী) যেটা বলেছেন, সেটা শিরোধার্য। তবে এ বিষয়ে পাল্টা কোনো মন্তব্য করার ধৃষ্টতা আমি দেখাব না’—স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, ‘এত নতজানু, এত মেরুদণ্ডহীন নির্বাচন কমিশন দিয়ে এই ইলেকশন তো কখনো সুষ্ঠু হতে পারে না।’

আজ বুধবার রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন পরওয়ার।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ১৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সাত ধাপে সম্পন্ন করার একটি প্রাথমিক রূপরেখা ঘোষণা করে। প্রথম ধাপের নির্বাচন ১২ নভেম্বর এবং শেষ ধাপের নির্বাচন আগামী ২৭ মে করার পরিকল্পনা জানানো হয়েছিল। কিন্তু মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম প্রকাশ্যে ওই সময়সূচি নিয়ে আপত্তি জানান। এরপরই নির্বাচন কমিশন তার ঘোষিত রূপরেখাকে ‘পুরোপুরি প্রাথমিক’ বলে পুনর্ব্যাখ্যা করে এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার কথা জানায়।

মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, ‘তফসিলের প্রাথমিক ঘোষণার পর মন্ত্রীর মন্তব্যের পরের দিনই ভোল পাল্টে ফেলা—এত নতজানু, এত মেরুদণ্ডহীন ইলেকশন কমিশন দিয়ে এই ইলেকশন তো কখনো সুষ্ঠু হতে পারে না। এটা আমি দেশবাসীর বিবেচনার জন্য পেশ করছি।’

জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এবং অতিরিক্ত সচিব শামসুল আলম নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করছেন। তিনি বলেন, ‘তাঁরা কোনো সাংবিধানিক দায়িত্বের প্রতিনিধিত্ব করছেন বলে তাঁদের আচরণে মনে হচ্ছে না। তাহলে কী করে একজন সিনিয়র সেক্রেটারি যিনি বললেন যে, মন্ত্রীর কথা শিরোধার্য, আমি তাঁর ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করার মতো ধৃষ্টতা দেখাতে পারব না—উনার মেরুদণ্ড কোথায়?’

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অযোগ্য করার উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, অতীতে এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা স্থানীয় সরকার ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। এখন তাঁদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ বন্ধ করার উদ্যোগকে তিনি সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী বলে দাবি করেন।

স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরে নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা এবং তাঁদের পদত্যাগের দাবিও জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি বলেন, প্রশাসকের দায়িত্বে থেকে সরকারি অর্থ ব্যয় করে কেউ নির্বাচনের আগে পরোক্ষভাবে প্রচারের সুযোগ পেলে নির্বাচনে সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ থাকবে না। তাঁদের নির্বাচনে অযোগ্য করতে হবে। আর তাঁদের এক্ষুনি পদত্যাগ করতে হবে। তা না হলে বোঝা যাচ্ছে, সরকার এদের প্রশাসক এ জন্য নিয়োগ করেছে যে, ইলেকশন ঘোষণা হলে ওরাই প্রার্থী হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কাছে আট দাবি জানান পরওয়ার। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নির্বাচনের সময়সূচি ও অন্যান্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া, কোনো মন্ত্রণালয়, মন্ত্রী বা রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ না করা, স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিলম্বিত না করা এবং দ্রুত একটি সুস্পষ্ট, চূড়ান্ত, সময়বদ্ধ ও বাস্তবায়নযোগ্য নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করে তা জনগণের সামনে প্রকাশ করা। একই সঙ্গে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ, নিরাপদ পরিবেশ ও কার্যকর লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

দাবিগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে—প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কোনো রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের নিশ্চয়তা দেওয়া এবং নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক মর্যাদা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা রক্ষায় সরকারের কার্যকর নিশ্চয়তা দেওয়া। স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরে বর্তমান সরকারের নিয়োগ করা প্রশাসকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার সিদ্ধান্ত বাতিলসহ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে দেওয়া নয় দফা দাবি বাস্তবায়নের কথাও বলেন পরওয়ার।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত