Ajker Patrika

হাজার চেষ্টা করলেও ওই আওয়ামী লীগ হতে পারবেন না: বিএনপিকে জামায়াত আমির শফিক

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৬: ৩৬
হাজার চেষ্টা করলেও ওই আওয়ামী লীগ হতে পারবেন না: বিএনপিকে জামায়াত আমির শফিক
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ‘জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধা সমাবেশে’ বক্তব্য রাখছেন ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: ফেসবুক

জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘বিএনপির সঙ্গে আমরা একসময় একসঙ্গে মজলুম ছিলাম। আমি বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাই—আপনারা হাজার চেষ্টা করলেও ওই আওয়ামী লীগ হতে পারবেন না; বড়জোর দুর্বল আওয়ামী লীগ হতে পারবেন। যে আওয়ামী লীগ একসময় পুরো জাতিকে নিয়ে কিংবা বিরোধী দলকে নিয়ে ব্যঙ্গবিদ্রূপ করত, আজ তাদের কী দশা? আপনারা ঠিক একই কাজ শুরু করেছেন।’

আজ শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধা সমাবেশে এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান।

বিএনপি পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের রাস্তা ধরে হাঁটা শুরু করেছে মন্তব্য করে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা বিএনপিকে পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি—সম্প্রতি কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন জায়গায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমনকি এখান থেকে মাত্র কয়েক গজ দূরে থানার ভেতরে ঢুকে দুঃখজনকভাবে ডাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপরে হামলা করা হয়েছে। বার্তা পরিষ্কার, যেদিন তারা গণভোটের রায় অস্বীকার করেছেন, আমি বলেছিলাম বিএনপি আজ থেকে ফ্যাসিবাদের পথে যাত্রা শুরু করল। এটা ফ্যাসিবাদ।’

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘রাষ্ট্রের মৌলিক যে সমস্ত জায়গায় পরিবর্তন দরকার— সুশাসন কায়েমের জন্য, সত্যিকারের স্বাধীনতার স্বাদ জনগণকে দেওয়ার জন্য; প্রতিটি বিষয়ে বিএনপি বিরোধিতা করে চলেছে।’

বিএনপি তাদের ইশতেহারে দেওয়া ৩১ দফা কর্মসূচিরই বিরোধিতা করছে মন্তব্য করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমার মনে হয়, তারা যে বিরোধিতা করছে এই জ্ঞানটাও বোধ হয় তারা হারিয়ে ফেলেছে।’

বিএনপির উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, ‘ভুলে যাবেন না—এই জুলাই না হলে, এই মায়েদের, এই বাবাদের, এই ভাইদের, এই বোনদের সন্তান, স্বামী, ভাই, বোন জীবন না দিলে আজকে আপনারা ক্ষমতা এনজয় করতে পারতেন না। ক্ষমতায় আসার আগেই আপনারা ভুলে গিয়েছিলেন; শহীদ পরিবার যখন বুকে কষ্ট নিয়ে কান্নাকাটি করছিল, তখন তাদের কাছে আপনাদের ছুটে যাওয়ার সময় ছিল না।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আপনারা ৫ আগস্টের পর ৭ আগস্ট পার্টি অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন আমাদের নির্বাচন দাও, আমরা ক্ষমতায় বসতে চাই। শহীদ পরিবারের দুঃখ আপনাদের অন্তরকে স্পর্শ করেনি। আহত বন্ধুদের নিয়ে আপনাদের কোনো কর্মসূচি, ভাবনা জাতি দেখেনি। কিন্তু এই বিপ্লবের বেনিফিশিয়ারি আপনারা।’

সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বিএনপি কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে জনগণের মনভোলানোর চেষ্টা করছে। এ কার্ড দিতে গিয়ে বিএনপির তেল ফুরিয়ে গেছে, জ্বালানি ফুরিয়ে গেছে। অথচ মন্ত্রীরা সংসদে বলছেন, জ্বালানির সংকট নেই। তাঁরা বাস্তব সমস্যাকে অস্বীকার করছেন, অর্থনৈতিক সমস্যাকে অস্বীকার করছেন। দেশের আইনশৃঙ্খলার যে ক্রমান্বয়ে অবনতি হচ্ছে, সেটাকেও অস্বীকার করছে বর্তমান সরকার।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে বিএনপি যেভাবে আওয়ামী লীগের মতো দলীয়করণ শুরু করেছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে, তারা একই পথে এগোচ্ছে। বিএনপি যদি আওয়ামী লীগের মতো দেশকে পুরোনো স্বৈরাচারের পথে নিয়ে যেতে চায়, তাহলে আবারও দেশের জনগণ তাদের প্রতিহত করবে। বাংলাদেশের তরুণ সমাজ এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতা আবারও রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, নির্বাচনের আগে থেকেই তারা (বিএনপি) তলে তলে গণভোটে ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচার শুরু করেছিল। কিন্তু যখন তারা দেখল যে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে, তখন পরাজয়ের ভয়ে শেষ মুহূর্তে বিএনপির চেয়ারম্যান বাধ্য হয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে কথা বলেছেন। কিন্তু যেই তারা বৈতরণী পার হলেন, অমনি জাতির কাছে দেওয়া সেই অঙ্গীকার ভুলে গেলেন।

মামুনুল হক আরও বলেন, ‘মুনাফেকি করে, দ্বিচারিতা করে একবার গাঙ পার হতে পেরেছেন। ভবিষ্যতে আপনারা জাতির কাঠগড়ায় আসামি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে যাবেন। সুবিধাবাদের রাজনীতি বাদ দেন। গণভোটের রায় কার্যকর করুন।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

৭ দিনের গণভোট প্রচারণার জন্য ১ কোটি টাকা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক: রিফাত রশিদ

অধ্যক্ষকে জড়িয়ে আপত্তিকর কথা বলায় প্রথমে থাপ্পড় দেন প্রদর্শক

উত্তরায় মদের বারে অভিযান, নারীসহ ১৪০ জন গ্রেপ্তার

প্রচণ্ড গরম ও তাপপ্রবাহের মধ্যে সুখবর দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর

বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের জন্য মার্কিন অভিবাসী ভিসা স্থগিত

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত