সৌরেন চক্রবর্ত্তী

বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর প্রয়াত শংকর গোবিন্দ চৌধুরী দেশ ও জাতির কল্যাণে মনুষ্যত্ব ও মহত্ত্বের যে নিদর্শন রেখে গেছেন, তা কখনোই ভোলার নয়। তিনি ছিলেন রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালির স্বাধীন-সার্বভৌম অস্তিত্ব, বাঙালির ভাষা, বাংলার মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় দীপ্ত চেতনা নিয়ে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় অংশ নিতে ১৯৫৪ সালে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।
উত্তরাঞ্চলীয় জনপদ নাটোরের সর্বজন শ্রদ্ধেয় নেতা ছিলেন শংকর গোবিন্দ চৌধুরী। বেনারস বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট বাবা জ্ঞানদা গোবিন্দ চৌধুরী ছিলেন নাটোরের ভবানীর প্রজাহিতৈষী জমিদার। শিক্ষিত ও সাংস্কৃতিক পরিবারে শংকর গোবিন্দ চৌধুরী জন্মগ্রহণ করেন ১৯২৬ সালের ৪ মার্চ। তিনি নাটোর, বগুড়ায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক এবং কলকাতায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। বিদ্যাসাগর কলেজে পড়ার সময়ই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমেই তাঁর রাজনৈতিক জীবনের শুরু।
১৯৫৮ সালের আইয়ুব খানের সামরিক শাসন জারির পর থেকে সব ধরনের আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি ছিলেন সক্রিয়। রাজপথ থেকে সংসদ—সব জায়গায় তাঁর উপস্থিতি ছিল সরব।
সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, আবার নিজে একজন সাধারণ কর্মীর মতো কাজ করেছেন। ১৯৭৫ সালের পরবর্তী শাসনামলে প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ১৯৮১ সালে দুর্বৃত্তরা তাঁকে চলন্ত ‘সীমান্ত এক্সপ্রেস’ ট্রেন থেকে ফেলে দিয়েছিল হত্যার উদ্দেশ্যে। সাক্ষাৎ মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন, তবে প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছিলেন।
১৯৬৬ সালে ছয় দফা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য এক বছর কারাবরণ করেন। এ ছাড়াও তিনি রাজনৈতিক কারণে অনেকবার কারাবরণ করেন। ১৯৬৯-৮৪ সাল পর্যন্ত তিনি একাধিকবার ঐতিহ্যবাহী নাটোর পৌরসভার (১৮৬৯ সালে সৃষ্ট) চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি নাটোর সদর আসন থেকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ৭ নম্বর সেক্টরের জোনাল কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন।
মনুষ্যত্ব, নীতি ও আদর্শের পথিক শংকর গোবিন্দ চৌধুরী রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি নাটোর রানী ভবানী মহিলা কলেজের (বর্তমানে সরকারি মহিলা কলেজ) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। এ ছাড়া নাটোর বনলতা হাইস্কুল, বড়গাছা হাইস্কুল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাইস্কুল, দিঘাপতিয়া বালিকা শিশুসদন (এতিমখানা)-সহ নাটোরের ডায়াবেটিক হাসপাতাল, আধুনিক বাস টার্মিনাল, নাটোর সুগার মিল তাঁর অক্লান্ত প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠে।
১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু সরকার কর্তৃক জমির সিলিং নির্ধারণের পরপরই তিনি ১০০ বিঘা জমি নিজে রেখে অনেক জমিজমা তাঁর এলাকার সাধারণ গরিব মানুষের মধ্যে রেজিস্ট্রি করে দেন, যাতে তাঁরা চাষবাস করে খেতে পারেন। অবশিষ্ট জমি সরকার বরাবর সারেন্ডার করেন।
‘সবার ওপরে মানুষ সত্য’–তিনি এ নীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন। কোনো গোঁড়ামি বা সংকীর্ণতা তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি। আজও তিনি নাটোরবাসীর কাছে সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।
দীর্ঘদিন নানা রোগে ভুগে তিনি ১৯৯৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) পরলোকগমন করেন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য ২০১৮ সালে তাঁকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার (মরণোত্তর)’ প্রদান করেন।
লেখক: সাবেক সিনিয়র সচিব, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর প্রয়াত শংকর গোবিন্দ চৌধুরী দেশ ও জাতির কল্যাণে মনুষ্যত্ব ও মহত্ত্বের যে নিদর্শন রেখে গেছেন, তা কখনোই ভোলার নয়। তিনি ছিলেন রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালির স্বাধীন-সার্বভৌম অস্তিত্ব, বাঙালির ভাষা, বাংলার মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় দীপ্ত চেতনা নিয়ে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় অংশ নিতে ১৯৫৪ সালে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।
উত্তরাঞ্চলীয় জনপদ নাটোরের সর্বজন শ্রদ্ধেয় নেতা ছিলেন শংকর গোবিন্দ চৌধুরী। বেনারস বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট বাবা জ্ঞানদা গোবিন্দ চৌধুরী ছিলেন নাটোরের ভবানীর প্রজাহিতৈষী জমিদার। শিক্ষিত ও সাংস্কৃতিক পরিবারে শংকর গোবিন্দ চৌধুরী জন্মগ্রহণ করেন ১৯২৬ সালের ৪ মার্চ। তিনি নাটোর, বগুড়ায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক এবং কলকাতায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। বিদ্যাসাগর কলেজে পড়ার সময়ই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমেই তাঁর রাজনৈতিক জীবনের শুরু।
১৯৫৮ সালের আইয়ুব খানের সামরিক শাসন জারির পর থেকে সব ধরনের আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি ছিলেন সক্রিয়। রাজপথ থেকে সংসদ—সব জায়গায় তাঁর উপস্থিতি ছিল সরব।
সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, আবার নিজে একজন সাধারণ কর্মীর মতো কাজ করেছেন। ১৯৭৫ সালের পরবর্তী শাসনামলে প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ১৯৮১ সালে দুর্বৃত্তরা তাঁকে চলন্ত ‘সীমান্ত এক্সপ্রেস’ ট্রেন থেকে ফেলে দিয়েছিল হত্যার উদ্দেশ্যে। সাক্ষাৎ মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন, তবে প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছিলেন।
১৯৬৬ সালে ছয় দফা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য এক বছর কারাবরণ করেন। এ ছাড়াও তিনি রাজনৈতিক কারণে অনেকবার কারাবরণ করেন। ১৯৬৯-৮৪ সাল পর্যন্ত তিনি একাধিকবার ঐতিহ্যবাহী নাটোর পৌরসভার (১৮৬৯ সালে সৃষ্ট) চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি নাটোর সদর আসন থেকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ৭ নম্বর সেক্টরের জোনাল কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন।
মনুষ্যত্ব, নীতি ও আদর্শের পথিক শংকর গোবিন্দ চৌধুরী রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি নাটোর রানী ভবানী মহিলা কলেজের (বর্তমানে সরকারি মহিলা কলেজ) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। এ ছাড়া নাটোর বনলতা হাইস্কুল, বড়গাছা হাইস্কুল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাইস্কুল, দিঘাপতিয়া বালিকা শিশুসদন (এতিমখানা)-সহ নাটোরের ডায়াবেটিক হাসপাতাল, আধুনিক বাস টার্মিনাল, নাটোর সুগার মিল তাঁর অক্লান্ত প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠে।
১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু সরকার কর্তৃক জমির সিলিং নির্ধারণের পরপরই তিনি ১০০ বিঘা জমি নিজে রেখে অনেক জমিজমা তাঁর এলাকার সাধারণ গরিব মানুষের মধ্যে রেজিস্ট্রি করে দেন, যাতে তাঁরা চাষবাস করে খেতে পারেন। অবশিষ্ট জমি সরকার বরাবর সারেন্ডার করেন।
‘সবার ওপরে মানুষ সত্য’–তিনি এ নীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন। কোনো গোঁড়ামি বা সংকীর্ণতা তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি। আজও তিনি নাটোরবাসীর কাছে সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।
দীর্ঘদিন নানা রোগে ভুগে তিনি ১৯৯৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) পরলোকগমন করেন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য ২০১৮ সালে তাঁকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার (মরণোত্তর)’ প্রদান করেন।
লেখক: সাবেক সিনিয়র সচিব, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

‘বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে’ প্রবাদটিই যেন সত্যে প্রমাণিত হতে চলেছে খুলনা নগরের উপকণ্ঠে রূপসা সেতুর নিকটবর্তী মাথাভাঙ্গা মৌজার ৩২টি দরিদ্র ও শ্রমজীবী পরিবারের মানুষের কাছে। কারণ, এখানে বসবাসরত পরিবারগুলোর জমি জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে। জায়গাটি একসময় বিরান ভূমি ছিল।
১ দিন আগে
নির্বাচনের আমেজে ভাসছে দেশ। তারপরও কেমন যেন একটা চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে মানুষের মনে। কী হবে সামনে, তা নিয়ে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ চিন্তকও নির্দ্বিধায় কোনো মন্তব্য করতে পারবেন বলে মনে হয় না। নির্বাচন কি সেই হতাশাজনক পরিস্থিতিকে পেছনে ফেলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে?
১ দিন আগে
জানুয়ারি মাস চলছে নতুন বছরের। আর ২৭ দিন পরেই ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের দাবি, এই নির্বাচন হবে ইতিহাসের অন্যতম একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। সুষ্ঠু তো বটেই। তাদের আরও দাবি হলো, বিগত ১৭ বছরে যা হয়নি এক বছর কয়েক মাসে সেটা করে দেখিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
১ দিন আগে
মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে গৃহবধূ ধর্ষণের ঘটনার পর প্রশ্ন ওঠে—দেশের কোথায় আজ নারীরা নিরাপদ? শুধু কি নারী? কোন কারণে কোথায় কে কখন হবেন গণপিটুনির শিকার, কাকে রাস্তায় ধরে কারও দোসর নাম দিয়ে হত্যা করা হবে, তা নিয়ে শঙ্কিত দেশের মানুষ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এমন এক অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে, যখন কোথাও...
২ দিন আগে