ঢাকা থেকে অল্প কিছুদিনের জন্য কুলাউড়ায়। রাজধানীর জীবনধারা থেকে প্রান্তের এই ছোট্ট লোকালয়ের জীবনধারা যে এতটা বদলে যেতে পারে, সেটা জানা ছিল না। করোনা যখন ছড়াচ্ছিল তার ভয়াল থাবা, তখন কিছু সময়ের জন্য ঢাকা ছিল যানজটমুক্ত। কিন্তু সেটা যে আসল ঢাকা নয়, তা তো বোঝা যাচ্ছে আবার জ্যামে আটকে থাকার সময় শুরু হয়ে যাওয়ায়। এক সিগন্যালে বিশ মিনিট-আধা ঘণ্টা আটকে থাকা এখন কোনো আশ্চর্য সংবাদ নয়। ঠিক এ রকম এক বাস্তবতা থেকে হঠাৎ করে নির্জন এক জীবনে আসার অভিজ্ঞতা একেবারেই আলাদা। হঠাৎ করেই বোঝা যায়, কোলাহলমুখর রাজধানীতে পৃথিবীর তাবৎ বিষয়বস্তু নিয়ে মাথা বোঝাই করার বিপরীতে এই বাংলাদেশেই এমন হাজারো লোকালয় আছে, যেখানে জীবন বয়ে চলে মৃদু-মন্দ গতিতে।
চা-খানার আড্ডা এখনো সে রকমই জমজমাট, কিন্তু তাতে মনেই হয় না, সময়ের খুব বেশি একটা মূল্য আছে জীবনে।
ওই যে, গাড়ি বা বাসের পেছনে লেখা দেখা যায়, ‘সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য বেশি’, একটু আলাদাভাবে সে কথারই পুনরাবৃত্তি যেন চা-খানার আড্ডা। কোলাহলবিমুখ যে আবাসটিতে এখন আমরা আছি, তাতে ভোরে ঘুম ভাঙে মোরগের ডাকে। মোরগের এই সুতীব্র চিৎকার বহুদিন শোনা যায় না ঢাকায়। এখানে মোরগ-মুরগির চলনে-বলনে একধরনের জেদি সৌন্দর্য ফুটে ওঠে; বিশেষ করে শ্রীমঙ্গল থেকে কুলাউড়া পর্যন্ত আসার পথের দুই পাশে যে দৃশ্য দেখা যায়, তা আবহমান কালের ইতিহাসকে নিয়েই এগিয়ে চলে। ধার করা কোনো জীবনযাপন পদ্ধতির কাছে জীবনকে বন্ধক না দিলেও চলে। তবে কি নেই ভিলেজ-পলিটিকস? সে-ও আছে নিশ্চয়ই। কিন্তু এখানে জীবনের একটা প্রবহমানতা আছে, যার মধ্যে অনাবিল শান্তির খোঁজ পাওয়া যায়।
রবীন্দ্রনাথ যখন তাঁর চিঠিপত্রগুলো লিখছিলেন পতিসর, শিলাইদহ কিংবা শাহজাদপুর থেকে, পরে যা ‘ছিন্নপত্র’ নামে বই আকারে বের হয়েছে, সেখানে গ্রামীণ জীবনের বয়ে চলার যে বর্ণনা আছে, বাংলাদেশের অনেক জায়গায় এখনো তার রেশ রয়ে গেছে। আর হ্যাঁ, দেশের বহু এলাকায়ই অসাধু ধর্মব্যবসায়ীদের মাধ্যমে যে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়েছে, এক ধর্মের মানুষ আরেক ধর্মের মানুষকে ঘৃণা করতে শুরু করেছে—এ রকম নির্জন প্রাকৃতিক এলাকায় তা দেখা যায় কম। কুলাউড়া থেকে জুড়ী পার হয়ে বড়লেখায় একটি গ্রামে গিয়েছিলাম প্রকৃতিবিদ দ্বিজেন শর্মার বাড়িতে। সেখানে হিন্দু-মুসলমান ভেদাভেদ একেবারেই চোখে পড়ল না।
দ্বিজেন শর্মাকে নিয়ে কবিতা লিখেছেন শিমুলিয়া গ্রামের মখলিছুর রহমান সিদ্দেকী। প্রয়াত প্রভাত শর্মা-দ্বিজেন শর্মার বাড়িতে এসেই সে কবিতা শুনিয়ে গেলেন তিনি। শীর্ণ নিকুড়ি নদীর ধারের গ্রামটিতে এখনো মানবতার হৃৎস্পন্দন শোনা যায়। চা-বাগানের দীর্ঘশ্বাস অবশ্য আরেকটি ব্যাপার। মানুষ কতটা কষ্টের মধ্যেও বেঁচে থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছে, কত কম খাবার দিয়ে শরীরকে টিকিয়ে রাখছে, অসুখ-বিসুখ করলে এখনো সুচিকিৎসার সুযোগ কম, এগুলো রয়েছে। এটা অবশ্য দারিদ্র্যের আরেকটি মানচিত্র। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পথের পাঁচালী’ যার চিরায়ত পোস্টার। এখানে একটি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখে এলাম ছিন্নমূল মানুষের মুখে তারা দিনে এক বেলার আহার তুলে দিচ্ছে। বাংলাদেশের বহু জায়গায় নিশ্চয়ই এ রকম আয়োজন আছে।
করোনাকালে অনেকেই এগিয়ে এসেছেন দুস্থ মানুষের সাহায্যার্থে।
এটা অন্য এক বাংলাদেশ। যে বাংলাদেশে হাজার কোটি টাকা স্রেফ চুরি হয়ে যায়, ঘুষ-বাণিজ্য যেখানে মানুষের মনে কোনো প্রতিরোধ বা আলোড়ন তুলতে ব্যর্থ হয়, সেখানে দুস্থ মানুষের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছে সাধারণ মানুষই—এটা আশাবাদী হওয়ার একটা সুযোগ করে দেয়। এ কারণেই হতাশ হতে হতেও একটা সময় আশাবাদী হতে ইচ্ছে জাগে।
লেখক: উপসম্পাদক, আজকের পত্রিকা

গান ছেড়ে দিয়ে লিখতে বসেছিলাম। লোপামুদ্রা মিত্রের গান। আমার প্রিয় শিল্পী। লিখতে লিখতে টের পাই, পরিচিত গানগুলো শিল্পী গেয়ে ফেলেছেন। এই যেমন ‘মালতী বালিকা বিদ্যালয়’ কিংবা ‘সাঁকো’ অথবা ‘দুবোনের গল্প’। শুনতে থাকি, তিনি পেরিয়ে যাচ্ছেন ‘যে যায়, সে যায়’ কিংবা ‘তর্কে মাতো, তর্কে মাতো’ অথবা ‘এ ঘর যখন ছোট্ট
৬ ঘণ্টা আগে
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ আজ আর শুধু স্বচ্ছ নীল নয়, সেখানে গর্জে উঠছে আধুনিক যুদ্ধবিমান; নিখুঁত লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র ন্যানো সেকেন্ডে ছুটে চলে, আর নিঃশব্দে আকাশে ভেসে থাকা নজরদারি ড্রোন সুযোগ বুঝে প্রাণঘাতী আঘাত হানে। স্যাটেলাইট, রাডার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জিপিএস—এসব অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে গড়ে
৬ ঘণ্টা আগে
বিষাক্ত ধাতু বলতে এমন ক্ষতিকর ধাতুকে বোঝায়, যেসবের সামান্য পরিমাণও মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক। যেমন আর্সেনিক, সিসা, পারদ, ক্যাডমিয়াম, ক্রোমিয়াম, নিকেল প্রভৃতি। এসব ধাতু শুধু মানবদেহ নয়, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্যও ক্ষতিকর। এসব ভারী ধাতুর কারণে শ্বাসকষ্ট, কিডনিজনিত সমস্যা, স্নায়বিক সমস্যা এমনকি ক্যান
৬ ঘণ্টা আগে
হতভাগা এই জাতির ললাটে সারা জীবনের জন্য দুর্ভোগ লেখা আছে, এ কথাই কি তাহলে সত্য বলে ধরে নিতে হবে? একটি বড় গণ-অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতায় এসে বিশাল ইতিবাচক পরিবর্তনের রূপকার হবেন বলে যাঁদের মনে করা হয়েছিল, তাঁরা তাঁদের ১৮ মাসের শাসনামলে দেশটাকে এমন এক অস্থিরতার মধ্যে নিয়ে গেছেন, যা থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে
৬ ঘণ্টা আগে