Ajker Patrika
সাক্ষাৎকার

আমরা কেন এমসিকিউ আর লিখিত পরীক্ষায় আটকে থাকব: কাজী মারুফুল ইসলাম

আমরা কেন এমসিকিউ আর লিখিত পরীক্ষায় আটকে থাকব: কাজী মারুফুল ইসলাম

কাজী মারুফুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের একজন সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট ও নীতিবিষয়ক কেন্দ্রের সিনিয়র ফেলো। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক। তিনি ইউনিভার্সিটি অব বার্গেন, নরওয়ে থেকে এমফিল, ডিএএডি স্কলারশিপসহ জার্মানির হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক জার্নালের পর্যালোচনাকারী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি পরিবর্তন এবং ডাকসুর কর্মকাণ্ড নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন আজকের পত্রিকার মাসুদ রানা

আপডেট : ১৪ জুন ২০২৬, ০৮: ২৬

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিনদের এক সভায় প্রস্তাব এসেছে, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তির জন্য দক্ষতা যাচাইয়ের মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়া কি প্রকৃত মেধাবীদের বাছাই করতে সাহায্য করবে বলে মনে করেন?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা যেভাবে স্নাতক শিক্ষার্থীদের ভর্তি করে থাকি, সেটা নিয়ে আমাদের দীর্ঘদিনের একটা পর্যবেক্ষণ আছে। এখন পর্যন্ত আমরা যে প্রক্রিয়ায় ভর্তি পরীক্ষা নিই, সেটা কোনোভাবেই বিজ্ঞানভিত্তিক না। আবার সেটা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সহজ ব্যাপারও না। এভাবে যে ধরনের শিক্ষার্থী আমরা চাই, সেটাও পাই না। ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে ধরনের ভোগান্তি থাকে, সেটাও দূর করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পদ্ধতিগতভাবেই এটাতে ত্রুটি রয়ে গেছে।

সেই ত্রুটির অন্যতম জায়গাটা হলো, যেভাবে আমরা পরীক্ষা নিয়ে থাকি, তাতে শুধু কোচিংনির্ভর এবং মুখস্থবিদ্যায় পারদর্শীদের বেশি সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধা যাচাই করার এবং তাদের মধ্যে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আগ্রহ তৈরি করা এবং তাদের মধ্যে অন্তর্নিহিত মেধার ধী শক্তি আছে—সেসব যাচাই করার জন্য এটা কোনো পদ্ধতিই না। এটাকে বড়জোর আমরা স্ক্রিনিং পদ্ধতি বলতে পারি। মানে বাদ দেওয়ার পদ্ধতি। যত পরীক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে, তাদের মধ্য থেকে কতজনকে বাদ দেওয়া যায়, সেটাই ঘটে এ প্রক্রিয়ায়।

এই ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে সমালোচনা ও ত্রুটি নিয়ে আলোচনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবারের মধ্যেই দীর্ঘদিন ধরে চলছে। ফলে এই পদ্ধতির পরিবর্তন নিয়ে যে প্রস্তাব—যেটাতে কী ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে এবং সেটা পরিবর্তন করে কোন পদ্ধতিতে যাওয়া হবে—সেটা নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট আলোচনা কিন্তু হয়নি। আবার সেটা কিন্তু ডিন কমিটির বৈঠকেরও বিষয় না। এটা নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা হওয়া দরকার। ডেটা ও গবেষণা করে একটা সিদ্ধান্তে আসা দরকার। তবে সেই সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য কোনো আগ্রহ ও ইচ্ছে কিন্তু সেই মিটিংয়ের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়নি।

এত বছর ধরে কীভাবে একটা ভুল প্রক্রিয়া চলতে পারল? কেন সেই পদ্ধতি পরিবর্তন করা গেল না?

একটা সময় পর্যন্ত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা ভর্তি হতে চেয়েছে, তারাই ভর্তি হতে পেরেছে। অর্থাৎ একটা সময় পর্যন্ত আমাদের আগ্রহী প্রার্থী খুব কম ছিল। এসএসসি ও এইচএসসিতে শুধু প্রথম বিভাগ পেলেই যে কেউ এখানে ভর্তি হতে পারত। সেই সময় ভর্তি হওয়ার প্রার্থী খুব কম থাকায় কঠোরভাবে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার তাগাদা তৈরি হয়নি। কিন্তু যত দিন যাচ্ছে, বছরের পর বছর ধরে প্রার্থীর সংখ্যা বিপুলভাবে বেড়ে যাচ্ছে। এখন প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটেছে এবং এসব বিষয়ের জ্ঞানের ধারণারও প্রসার হচ্ছে। ফলে নতুন করে এ প্রসঙ্গটা এসেছে।

নতুন প্রস্তাব এসেছে—প্রথমে এমসিকিউ, তারপর লিখিত এবং সবশেষে ভাইভার মাধ্যমে প্রার্থী ভর্তির জন্য মনোনীত করা হবে। এই তিনভাবে পরীক্ষা নিলে সময়ের ব্যাপারের সঙ্গে সঙ্গে প্রার্থীদের দূরদূরান্ত থেকে ঢাকায় এসে পরীক্ষা দিতে খরচের ব্যাপার আছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এসব নিয়ে কোনো ভাবনা আছে কি?

সেটা তো সমস্যা বটে। আমি শুরুতেই বলেছিলাম, শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমানো নিয়েও সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার আগে কিন্তু ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। যেমন, প্রার্থী অনলাইনের মাধ্যমে ভর্তি ফরম পূরণ করে অনলাইনের মাধ্যমে টাকা দিতে পারে। সরাসরি কিন্তু ক্যাম্পাসে আর আসতে হয় না। আবার সারা দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা একই দিনে একই সময়ে চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের আসলে ঢাকায় না আসার সুবিধা দেওয়ার জন্য এটা করা হয়েছে। পরিবর্তন যে হয়নি, ব্যাপারটা তা না। কিন্তু নতুন যে পদ্ধতির কথা বলা হলো, সেখানে প্রথমে স্ক্রিনিং করে লিখিত, তারপর সেখান থেকে বাছাই করে ভাইভা নেওয়া হবে।

নতুন পদ্ধতি প্রবর্তনের প্রস্তাবটা নিয়ে আরও বিস্তারিতভাবে ভাবা দরকার। এটা দিয়েই যে সমস্যার সমাধান হবে, বিষয়টা সে রকমও না। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ‘ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ (আইবিএ) আছে, তারা শিক্ষার্থীর অ্যাপটিটিউড টেস্ট (একজন প্রার্থী কতটা দ্রুত নতুন তথ্য বুঝতে পারে এবং সমস্যা সমাধান করতে পারে) করে ভর্তি করে থাকে।

বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি করার সময় শিক্ষার্থীদের ‘স্ট্যান্ডার্ড অ্যাপটিটিউড টেস্ট’ (এসএটি) পরীক্ষা দিতে হয়। একজন শিক্ষার্থী পদার্থ, রসায়ন, গণিত, সাহিত্য, দর্শন, ইতিহাস পড়তে চায়। সেই শিক্ষার্থী যদি ‘স্ট্যান্ডার্ড অ্যাপটিটিউড টেস্ট’-এ নির্দিষ্ট পরিমাণ স্কোর অর্জন করতে পারে, তবেই সে ভর্তি হওয়ার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবে। অর্থাৎ শিক্ষার্থীর মধ্যে থাকা অ্যাপটিটিউড বের করার পদ্ধতি তো পৃথিবীজুড়ে ব্যবহার করা হচ্ছে। আমরা কেন সেদিকে যাব না? আমরা কেন চিরাচরিত এমসিকিউ আর লিখিত পরীক্ষার মধ্যে আটকে থাকব, যেগুলোর ইতিমধ্যে অনেক ধরনের দুর্বলতা বের হয়েছে।

বিগত বছরগুলোতে দেখা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে আসন খালি থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে যায়। ভর্তি পরীক্ষার কাঠামোগত পরিবর্তনের মাধ্যমে এই আসন শূন্য থাকার সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব কি?

বিভিন্ন বিভাগে আসন শূন্য থাকার বিষয়টা আমি জানি না। যদিও আসন শূন্য থাকার কথা না। আবার আসন শূন্য থাকা অযৌক্তিকও না। কারণ, যে শিক্ষার্থী যে বিষয়ে পড়তে চায়, সে বিষয়ে ভর্তি হতে পারে না। ধরুন, একজন শিক্ষার্থী মেডিকেলে অপেক্ষমাণ তালিকায় আছে। সে আবার আমাদের এখানে কোনো একটি বিষয়ে ভর্তি হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। সে এখানে ভর্তি হওয়ার পর আবার সেই মেডিকেলের অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে ভর্তি হওয়ার ডাক পেলে তো সে সেখানে চলে যাবে।

এখন সেই শূন্য আসন পূরণের একটা প্রক্রিয়া আছে। কিন্তু সেই প্রক্রিয়াটা একটা নির্দিষ্ট সময়ের পর বন্ধ করে দিতে হয়। তত দিনে শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের ক্লাস পরীক্ষা ও মিড টার্মের পরীক্ষাও শুরু হয়ে যায়। ফলে একটা সময়ের পর আসন খালি থাকলেও সেটা পূরণ করা সম্ভব হয় না। অনেকে ভর্তি হলেও সময় চলে যাওয়ার কারণে খাপ খাওয়াতে পারে না।

তবে বিভিন্ন বিভাগে আসন শূন্য থাকার সংখ্যাটা খুব বেশি না। আবার সব সময় সব আসনে ভর্তি করা সম্ভবও হয় না। তবে আসন শূন্য থাকার সংখ্যাটা অনেক বেশি না। তাই সেটা এখন পর্যন্ত উদ্বেগজনক নয়।

ডিন কমিটির সভায় ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে যেসব প্রস্তাব এসেছে, সেগুলো কতটুকু বাস্তবায়ন হবে বলে মনে করেন?

এই প্রস্তাব আগামী ভর্তি পরীক্ষায় কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের যে নির্দেশনায় আমরা কাজকর্ম করি, সেখানে ডিন কমিটি কোনো বৈধ সিদ্ধান্ত গ্রহণের কোনো ফোরাম না। তারা শুধু পরামর্শ দিতে পারে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল তারপর সেটা সিন্ডিকেট মিটিংয়ে আগে আপিল করবে। কিন্তু একাডেমিক কাউন্সিলে সেই প্রস্তাবগুলো এখনো আসেনি। ফলে এগুলো এখন প্রস্তাব আকারেই আছে। সেটা যে খুব তাড়াতাড়ি বাস্তবায়িত হবে, সেই সম্ভাবনা আমি দেখছি না। তবে এটা অনস্বীকার্য যে আমরা যে প্রক্রিয়ায় ভর্তি পরীক্ষা নিচ্ছি, সেটা পরিবর্তনের সময় এসেছে। সেটাকে আমরা কীভাবে করব—যথেষ্ট বিজ্ঞানভিত্তিক এবং শিক্ষার্থীদের জন্য যথেষ্ট সহযোগিতামূলক।

উচ্চমাধ্যমিক কারিকুলাম পরিবর্তিত হয়েছে। প্রচুর শিক্ষার্থী ইংরেজি মাধ্যমে পড়ছে। যারা এই মাধ্যমে পড়ে আমাদের এখানে ভর্তি হতে চায়, আমাদের ভর্তি পরীক্ষা তাদের জন্য সহায়ক না। আমাদের আর যেসব ধর্মীয় শিক্ষা কারিকুলাম উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে চালু আছে, তাদের সুযোগ দেওয়ার মতো যথেষ্ট সহায়ক না। এই পরিস্থিতিগুলো আমাদের বিবেচনায় নিতে হবে। ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি নতুন করে ঢেলে সাজাতে হবে।

অনেক বছর পর ডাকসু নির্বাচন হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়েছে। তাদের সময়ও প্রায় আট মাস পেরিয়ে গেছে। এ সময়ের মধ্যে তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?

আমি আসলে শিক্ষক হিসেবে তাদের কর্মকাণ্ড দূর থেকে দেখতে পাই। ফলে তারা হলগুলোতে কীভাবে কাজ করছে বা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কীভাবে কাজ করছে, সে সম্পর্কে আমার ধারণা স্পষ্ট না।

কিন্তু দূর থেকে দেখলেও প্রথম কথা হলো, ডাকসু নির্বাচনের আগে বা নির্বাচনের সময় যেসব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিল, সেখানে আমি পরিষ্কারভাবে দেখতে পেয়েছি তারা যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেসব তাদের কাজের আওতার বাইরে। কারণ, সেসব করার জন্য ডাকসুর কোনো ম্যান্ডেট নেই।

ডাকসু চাইলেও নতুন হল নির্মাণ করে দিতে পারবে না। নতুন করে পরিবহন রুটও চালু করতে পারবে না। এসব ডাকসুর কাজের মধ্যে পড়ে না। যারা নির্বাচিত হয়েছে, তারা কিন্তু এ রকম প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু তাদের সেসব কাজ করার ম্যান্ডেট ও সুযোগ নেই।

ডাকসুর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় যে বাজেট বরাদ্দ দেয়, সেটা খুব সামান্য। ডাকসুর কাজের ক্ষেত্র হলো—তারা সাহিত্য-সংস্কৃতি, ক্রীড়া, শিক্ষার্থীদের জন্য সহযোগিতামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করবে। তাদের কর্মপরিধি আসলে খুবই সামান্য।

কিন্তু তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এসবের বাইরে। সেই জায়গা থেকে আমি ধারণা করতে পারি, প্রতিশ্রুতিগুলো রক্ষা করা আসলে তাদের কাছে সম্ভব হবে না। বরং আমরা তাদের কাছ থেকে কিছু উল্টো কাজ করতে দেখেছি। ডাকসু নেতারা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় হকার ও দোকানপাট উচ্ছেদ করেছে। আসলে এসব তাদের কাজ ছিল না। এসব যদি শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো অসুবিধার ব্যাপার হয়, তারা প্রথমে প্রক্টরকে অবহিত করবে। তারপর প্রক্টর প্রশাসনিকভাবে যা করার তা করবেন। এগুলো ডাকসুর কাজ নয়। কিন্তু তারা সেসব কাজই করেছে। ফলে ডাকসুর নির্বাচিত নেতৃত্ব শিক্ষার্থীদের কল্যাণ করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেসব বাদ দিয়ে বরং তারা ক্যাম্পাসের বাইরের অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নে অনেক বেশি ব্যস্ত ছিল। তারা মূল ফোকাস থেকে দূরে সরে গেছে। ফলে এই নির্বাচিত ডাকসু তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করতে পারেনি বলে শিক্ষার্থীরা যে মূল্যায়ন করছে, তাতে অবাক হব না।

আপনি যে ডাকসুর কর্মপরিধির কথা বললেন, সে জায়গায় কোনো কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন হয়েছে কি?

আমি আসলে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন দেখিনি। আমরা কি তাহলে বলতে পারি, এই ডাকসুর নেতৃত্ব শিক্ষার্থীবান্ধব তেমন কোনো কাজ করতে পারেনি এখন পর্যন্ত?

সেটা আমার পক্ষে বলা সম্ভব না। কিন্তু আমি মনে করি, ডাকসুর নির্বাচন হওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। কারণ, যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের অন্যতম কাজ হচ্ছে, শিক্ষার্থীদের হয়ে একটা কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করা। বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, সেসব জায়গায় শিক্ষার্থীদের পক্ষে ছাত্র সংসদ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কথা বলার একটা জায়গা।

ডাকসু হলো আমাদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি হওয়ার একটা স্কুল। এখন যে নেতৃত্ব এসেছে, তারা যদি ব্যর্থ হয় তাহলে ভবিষ্যতে অন্য নেতৃত্ব আসবে। তবে ডাকসু নির্বাচনের চর্চাটা জরুরি। নিয়মিত নির্বাচন হওয়া এ কারণে জরুরি, এখানে নেতৃত্ব তৈরির এবং সামাজিকীকরণের যে প্রশিক্ষণটা হয়ে থাকে, সে জন্য এটা সচল বা চালু রাখাটা জরুরি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত