Ajker Patrika

সীতাকুণ্ডে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
সীতাকুণ্ডে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
প্রতীকী ছবি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সাত বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার ঘটনায় দ্রুত, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে শিশু অধিকার সংগঠনগুলো। একই সঙ্গে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আজ বুধবার নেটওয়ার্ক চাইল্ড রাইটস অ্যাডভোকেসি কোয়ালিশন বাংলাদেশ, জয়েনিং ফোর্সেস বাংলাদেশ ও ন্যাশনাল গার্লস চাইল্ড অ্যাডভোকেসি ফোরাম যৌথ বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে তারা গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে, এ ঘটনা দেশের শিশু সুরক্ষাব্যবস্থার গুরুতর দুর্বলতাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। শিশুদের প্রতি এমন নৃশংসতা কেবল একটি ফৌজদারি অপরাধ নয়, বরং এটি শিশুদের মৌলিক মানবাধিকার ও নিরাপত্তার প্রতি সরাসরি আঘাত।

গণমাধ্যমের তথ্য তুলে ধরে বিবৃতিতে বলা হয়, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার একটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় সাত বছর বয়সী শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। এরপর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, এই মর্মান্তিক ঘটনা দেশের শিশুদের নিরাপত্তা, মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা এবং স্বাভাবিক বিকাশের ওপর ক্রমবর্ধমান হুমকির বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে বলে সংগঠনগুলো আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

চাইল্ড রাইটস অ্যাডভোকেসি কোয়ালিশন বাংলাদেশ, জয়েনিং ফোর্সেস বাংলাদেশ ও ন্যাশনাল গার্লস চাইল্ড অ্যাডভোকেসি ফোরাম বলেছে, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের জঘন্য অপরাধ করার সাহস না পায়। বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধে দ্রুত আইনিপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি শিশু সুরক্ষাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধি এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ারও তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

সংগঠনগুলো আরও বলেছে, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে শিশু অধিকার এবং শিশু সুরক্ষা বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতা গড়ে তুলতে সরকারের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন। শিশুদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সমন্বিত সামাজিক উদ্যোগ ছাড়া টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।

তারা আশা প্রকাশ করেছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এবং শিশুদের নিরাপত্তা ও অধিকার সুরক্ষায় দৃঢ় অবস্থান নিশ্চিত করবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত