Ajker Patrika

জয়-পুতুলসহ আটজনের মামলায় সিআরআইয়ের আয়কর নথি জব্দের আদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৭: ০৯
জয়-পুতুলসহ আটজনের মামলায় সিআরআইয়ের আয়কর নথি জব্দের আদেশ
সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। ফাইল ছবি

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ আটজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলার তদন্তে সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) আয়কর নথি জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। ২০২৫-২৬ করবর্ষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির আয়কর নথি ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র জব্দ করা হবে।

আজ বুধবার ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক শাহজাহান কবির এই আদেশ দেন। দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজীর আহমেদ এ তথ্য জানিয়েছেন।

দুদকের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়, বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে অনুদান নেওয়া, আয়কর সুবিধা নেওয়া ও অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে সিআরআইয়ের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এসব অভিযোগের তদন্তে প্রতিষ্ঠানটির আয়কর নথি জব্দের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক এ কে এম মর্তুজা আলী সাগর। আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন সিআরআইয়ের ট্রাস্টি রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক, সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, সিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক শাব্বির বিন শামস, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও কর আপিলের সদস্য রওশন আরা আক্তার।

দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, ২৩টি কোম্পানির কাছ থেকে সিআরআইয়ের হিসাবে ৪৫ কোটি ৩৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা জমা হয়েছে। ২০১৩-১৪ থেকে ২০২৩-২৪ করবর্ষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির মোট আয় দেখানো হয়েছে ১০০ কোটি ৩১ লাখ ৪০ হাজার ৪৮৬ টাকা। এর মধ্যে ১৫ কোটি ৬৮ লাখ ৫৯ হাজার ৫২১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সিআরআইয়ের ২৫টি ব্যাংক হিসাবে ২৪৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকার বেশি জমা ও ১৯১ কোটি ২১ লাখ টাকার বেশি উত্তোলন করা হয়েছে। এসব হিসাবে মোট লেনদেনের পরিমাণ ৪৩৯ কোটি টাকার বেশি। এ ছাড়া ৩৬ লাখ ৫২ হাজার ৭৪২ টাকা আয়কর পরিশোধ না করে সরকারের আর্থিক ক্ষতি করার অভিযোগও রয়েছে।

দুদকের অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার করে সিআরআইকে আয়কর সুবিধা দেওয়ার জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে অনুদান সংগ্রহ, প্রতিষ্ঠানটিকে বিশেষ করসুবিধা দেওয়া ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগগুলোও তদন্ত করা হচ্ছে।

মামলাটি দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় করা হয়েছে।

তদন্তের স্বার্থে সিআরআইয়ের টিআইএন নম্বর ৫৭৫৯৪১৯১৬৩০৪-এর বিপরীতে ঢাকার কর অঞ্চল-৬-এর সার্কেল-১১৬-এ সংরক্ষিত আয়কর নথির স্থায়ী, বিবিধ অংশসহ সংশ্লিষ্ট সব রেকর্ডপত্র জব্দের আবেদন করা হয়েছিল। আদালত ওই নথি জব্দের আদেশ দিয়েছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত