Ajker Patrika

ন্যাশনাল ব্যাংকের ৯০৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ: বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ২০: ০৮
ন্যাশনাল ব্যাংকের ৯০৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ: বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ভুয়া নথি দেখিয়ে এবং জালিয়াতি করে ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড থেকে প্রায় ৯০৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

আজ রোববার বিকেলে সংস্থাটির উপপরিচালক জি এম আহসানুল কবীর কমিশনের ঢাকা কার্যালয়ে মামলাটি করেন।

দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।  

আক্তার হোসেন বলেন, ব্লুম সাকসেন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড নামে একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে সিভিল ওয়ার্ক কাজের ভুয়া চুক্তিপত্র ব্যবহার করে ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডে ঋণ আবেদন করা হয়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৬০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়। ঋণের টাকা উত্তোলন করে তা নগদ, পে-অর্ডার ও ক্লিয়ারিংয়ের মাধ্যমে স্থানান্তর করে ঋণের সম্পূর্ণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ভুয়া নথি সৃষ্টি ও জালিয়াতির মাধ্যমে নিজেরা লাভবান হয়ে বা অন্যকে লাভবান করার অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে ভুয়া সিভিল ওয়ার্ক চুক্তি দাখিলের মাধ্যমে ৬০০ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনাদায়ে যা সুদ ও অন্যান্য চার্জ বাবদ প্রাপ্য ৩০৩ কোটি ৬৭ লাখ ২ হাজার ৬২১ টাকাসহ মোট দেনা ৯০৩ কোটি ৬৭ লাখ ২ হাজার ৬২১ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর কবির আহম্মেদ ছাড়াও ঋণ নেওয়া ভুয়া প্রতিষ্ঠান ব্লুম সাকসেস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ জালাল খান মজলিশ, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক খাদিজা আক্তার, ন্যাশনাল ব্যাংকের সাবেক পরিচালক রন হক সিকদার, পারভীন হক সিকদার ও মনোয়ারা সিকদারকে আসামি করা হয়েছে।

এ ছাড়া ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) এ এস এম বুলবুল, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বিভাগীয় প্রধান আবু রাশেদ নওয়াব, সাবেক পরিচালক খলিলুর রহমান ও মাবরুর হোসেনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলায় আসামি করা হয় ব্যাংকটির সাবেক জ্যেষ্ঠ নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ও শাখা ব্যবস্থাপক মো. হাবিবুর রহমান, ডিএমডি আরীফ মো. শহীদুল হক, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক চৌধুরী মোসতাক আহমেদ ও সাবেক অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ ওয়াদুদক।  

ব্লুম সাকসেস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড সংশ্লিষ্ট জুপিটার বিজনেস লিমিটেডের পরিচালক মোসফেকুর রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মমতাজুর রহমান, এম এস কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপার্সের মালিক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দীন, টেক ইনটেলিজেন্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জামিল হুসাইন মজুমদার, ক্রিস্টাল কনস্ট্রাকশনের এমডি সালাহ উদ্দীন খান মজলিশ, পরিচালক আব্দুর রউফ, বেঙ্গল অ্যান্ড এম সার্ভিসের মালিক জন হক সিকদার, মেসার্স মাহবুব এন্টারপ্রাইজের মালিক সৈয়দ মাহবুব-ই-করিম, সিকোটেক হোল্ডিংস লিমিটেডের এমডি মো. মাহফুজুর রহমান, মো. শফিকুল ইসলাম ও কৌশিক কান্তি পণ্ডিতকে এ মামলায় আসামি করা হয়।

আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত