Ajker Patrika

সংবিধান ও কার্যপ্রণালি-বিধি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে: ডেপুটি স্পিকার

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
সংবিধান ও কার্যপ্রণালি-বিধি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে: ডেপুটি স্পিকার
জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে সংসদ সদস্যদের জন্য আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘সংবিধান, কার্যপ্রণালি-বিধি ও সংসদীয় কার্যক্রম’-বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠান। ছবি: জাতীয় সংসদ

সংবিধান ও সংসদের কার্যপ্রণালি-বিধি সম্পর্কে সংসদ সদস্যদের গভীর ও সম্যক জ্ঞান সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী, কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করে বলে মন্তব্য করেছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে সংসদ সদস্যদের জন্য আয়োজিত ‘সংবিধান, কার্যপ্রণালি-বিধি ও সংসদীয় কার্যক্রম’-বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং নির্বাহী বিভাগের কার্যক্রমের ওপর কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে সংসদ সদস্যদের সাংবিধানিক ও সংসদীয় বিধিব্যবস্থা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা অপরিহার্য।

বক্তব্যে কায়সার কামাল উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সংবিধান রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ আইন ও সংসদীয় গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। সংবিধানের ৬৪, ৭৪, ৭৬ ও ৭৮ অনুচ্ছেদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদের তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব বিধান সংসদীয় কাঠামো, কমিটি ব্যবস্থা, সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব ও জবাবদিহি এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় সংসদের ভূমিকা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ব‌্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, সংসদের কার্যপ্রণালি-বিধি কেবল আনুষ্ঠানিক নিয়মকানুনের সমষ্টি নয়; বরং এটি সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনার একটি কার্যকর পথনির্দেশক। আইন প্রণয়ন, প্রশ্নোত্তর কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, নোটিশ প্রদান, প্রস্তাব ও সংশোধনী উত্থাপন, ভোটদান পদ্ধতি এবং বিভিন্ন সংসদীয় উপকরণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কার্যপ্রণালি-বিধি সম্পর্কে সংসদ সদস্যদের সুস্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ওরিয়েন্টেশন কোর্সে ডেপুটি স্পিকার সংবিধানের মৌলিক বিষয়াবলি, সংসদীয় রীতি-নীতি, সংসদে আলোচনার পদ্ধতি, বিভিন্ন ধরনের নোটিশ ও প্রস্তাবের ব্যবহার, প্রশ্নোত্তর পর্বের গুরুত্ব, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কার্যাবলি এবং নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহি নিশ্চিতকরণে সংসদের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে কায়সার কামাল বলেন, সংসদে উপস্থিতি, সক্রিয় অংশগ্রহণ ও গঠনমূলক বিতর্কের মাধ্যমে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ যথাযথভাবে উপস্থাপন করা একজন জনপ্রতিনিধির অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। সংসদীয় বিতর্ক ও আলোচনার মাধ্যমে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং সমস্যা-সম্ভাবনার প্রতিফলন ঘটাতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, সংসদের কাছে সরকার, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ দায়বদ্ধ। এ কারণে সংসদের কার্যকারিতা ও মর্যাদা রক্ষায় কোরাম নিশ্চিতকরণ, সংসদীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সংসদীয় কমিটিগুলোকে আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোর তদারকি ও পর্যালোচনামূলক ভূমিকার ওপরও তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

সংসদ সদস্যদের বিশেষ অধিকার ও দায়দায়িত্ব সম্পর্কেও আলোচনা করেন ডেপুটি স্পিকার। তিনি বলেন, সংসদ সদস্যদের বিশেষ অধিকার রক্ষা করা যেমন প্রয়োজন, তেমনি সেই অধিকার দায়িত্বশীল ও গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমে প্রয়োগ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, সংসদ কেবল আইন প্রণয়নের স্থান নয়; এটি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা, মতামত ও স্বার্থের প্রতিনিধিত্বকারী সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান। সংসদ সদস্যদের দায়িত্বশীল, জ্ঞানভিত্তিক ও কার্যকর ভূমিকা সংসদের মর্যাদা বৃদ্ধি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

এ ধরনের ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচি নবনির্বাচিত ও বর্তমান সংসদ সদস্যদের সংসদীয় কার্যক্রম সম্পর্কে আরও দক্ষ ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে এবং সংসদের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক অবদান রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন কায়সার কামাল।

অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের সচিব, ইউএনডিপির প্রতিনিধি, সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত