Ajker Patrika

মোটরযান স্ক্র্যাপিং ও রিসাইক্লিং নীতিমালা জারি, বিক্রি করা যাবে যন্ত্রাংশ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
মোটরযান স্ক্র্যাপিং ও রিসাইক্লিং নীতিমালা জারি, বিক্রি করা যাবে যন্ত্রাংশ
ফাইল ছবি

অকেজো ও পুরোনো মোটরযান স্ক্র্যাপিংয়ের পুরো প্রক্রিয়া নির্ধারণ করে নতুন নীতিমালা জারি করেছে সরকার। স্ক্র্যাপ করার পর পুনর্ব্যবহারযোগ্য যন্ত্রাংশ ও উপাদান বাজারজাত করা যাবে। তবে ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর এমনভাবে নষ্ট করতে হবে, যাতে সেগুলো অন্য কোনো গাড়িতে ব্যবহার করা না যায়। স্ক্র্যাপিং শেষে মালিককে দেওয়া হবে ‘ভেহিক্যাল স্ক্র্যাপিং সার্টিফিকেট’।

এ ছাড়া ইকোনমিক লাইফ শেষ হওয়া গাড়ি স্ক্র্যাপ না করে একই মালিক নতুন বা পুরোনো কোনো মোটরযান নিবন্ধন করতে পারবেন না। তবে স্ক্র্যাপ সার্টিফিকেটের বিপরীতে নতুন বাণিজ্যিক গাড়ি কেনায় সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে ঋণ বা আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

এসব বিধান রেখে ‘মোটরযান স্ক্র্যাপিং ও রিসাইক্লিং নীতিমালা, ২০২৬’ জারি করেছে সরকার। গতকাল মঙ্গলবার সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। নীতিমালাটি অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে। তবে ওয়েবসাইটে প্রজ্ঞাপনটি আজ বুধবার প্রকাশ করা হয়েছে।

এর আগে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি মোটরযান স্ক্র্যাপিং ও রিসাইক্লিং নীতিমালা জারি করা হয়েছিল। নতুন নীতিমালায় আগেরটি রহিত করে গাড়ি স্ক্র্যাপিং, মূল্য নির্ধারণ, ভেন্ডর নিয়োগ, নিলাম ও সার্টিফিকেট দেওয়ার প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

যেসব গাড়ি স্ক্র্যাপ হবে

নীতিমালা অনুযায়ী, ইকোনমিক লাইফ অতিক্রান্ত ও চলাচলের অযোগ্য গাড়ি স্ক্র্যাপ করা যাবে। কোনো সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গাড়িকে অকেজো ঘোষণা করলেও সেটি স্ক্র্যাপযোগ্য হবে।

এ ছাড়া আগুন, বিস্ফোরণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মেরামত অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক না হলে এবং আদালত বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের আদেশে নিষ্পত্তির জন্য নির্ধারিত গাড়িও স্ক্র্যাপের আওতায় আসবে।

অননুমোদিতভাবে উৎপাদিত গাড়ি, অনুমোদন ছাড়া আকৃতি বা প্রকৃতি পরিবর্তন করা গাড়ি এবং পাঁচ বছরের বেশি সময় ফিটনেসবিহীন থাকা গাড়িও স্ক্র্যাপযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে। কোনো গাড়ির নির্গমন নির্ধারিত মান এক মাসে তিনবার অতিক্রম করলেও সেটি স্ক্র্যাপের আওতায় আসবে।

মালিক পাবেন স্ক্র্যাপের টাকা

স্ক্র্যাপযোগ্য গাড়ির মালিককে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সংশ্লিষ্ট মোটরযান নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের কাছে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে। স্ক্র্যাপ ভেন্ডর গাড়ির মূল্য মালিকের ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়ার পরই গাড়িটি স্ক্র্যাপ করতে পারবে।

মালিকানা নির্ধারণ করা সম্ভব না হলে স্ক্র্যাপের অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হবে। স্ক্র্যাপের আগে গাড়িটির বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা দায় আছে কি না, সেটিও যাচাই করতে হবে।

ইকোনমিক লাইফের মধ্যে বকেয়া কর ও ফি থাকলে তা মালিককে পরিশোধ করতে হবে। তবে ইকোনমিক লাইফ অতিক্রান্ত হওয়ার পরের সময়ের কর ও ফি আদায় করা হবে না। বকেয়া কর-ফি পরিশোধ না করলে স্ক্র্যাপ বা নিলামমূল্য থেকে তা আদায় করা যাবে।

ভেন্ডর করবে স্ক্র্যাপিং

বিআরটিএ উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এক বা একাধিক স্ক্র্যাপ ভেন্ডর নিয়োগ করবে। ভেন্ডরকে বিআরটিএতে নিবন্ধিত হতে হবে। থাকতে হবে গ্যাস কাটার, ক্রেন, শ্রেডার, রেকার ও হাইড্রোলিক প্রেসসহ প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জাম।

এ ছাড়া অন্তত ৫০টি মোটরযান রাখার উপযোগী জায়গা, প্রয়োজনীয় জনবল ও আর্থিক সক্ষমতা থাকতে হবে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ছাড়পত্রও বাধ্যতামূলক।

বিআরটিএর কার্যাদেশ পাওয়ার ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব উপায়ে স্ক্র্যাপিং শেষ করতে হবে ভেন্ডরকে। পুনর্ব্যবহারযোগ্য অংশ শনাক্ত করে নির্ধারিত নিয়মে সংরক্ষণ করতে হবে।

পুনঃপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবহারযোগ্য যন্ত্রাংশ বাজারজাত করা যাবে। তবে ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর এমনভাবে নষ্ট করতে হবে, যাতে তা অন্য কোনো মোটরযানে ব্যবহার করা না যায়।

সাত দিনের মধ্যে স্ক্র্যাপ সার্টিফিকেট

স্ক্র্যাপিং শেষ হলে সংশ্লিষ্ট মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন নম্বর বাতিল করবে নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ। পরে তা বিআরটিএর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার সাত দিনের মধ্যে মালিককে ‘ভেহিক্যাল স্ক্র্যাপিং সার্টিফিকেট’ দিতে হবে। স্ক্র্যাপিং-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালের মাধ্যমে পরিচালনা করা হবে।

স্ক্র্যাপ ভেন্ডরের কার্যক্রম যেকোনো সময় অডিট বা পরিদর্শন করতে পারবে বিআরটিএ।

স্ক্র্যাপের দাম নির্ধারণ করবে কমিটি

স্ক্র্যাপ করা গাড়ির মূল্য নির্ধারণে আট সদস্যের কমিটি থাকবে। এতে বিআরটিএর পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং), পরিবহন কমিশনারের প্রতিনিধি, পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, সরকারি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন যন্ত্র প্রকৌশলী এবং পরিবহন মালিক ও মেরামত কারখানা মালিক সমিতির প্রতিনিধিরা থাকবেন।

বিআরটিএর নির্দেশ পাওয়ার সাত কার্যদিবসের মধ্যে গাড়ির শ্রেণি ও ক্ষয় বিবেচনা করে স্ক্র্যাপমূল্য নির্ধারণ করবে কমিটি। একই সঙ্গে কোন কোন অংশ রিসাইকেল করে বাজারজাত করা যাবে, তাও নির্ধারণ করবে।

এরপর নিবন্ধিত স্ক্র্যাপ ভেন্ডরদের অংশগ্রহণে তিন কার্যদিবসের মধ্যে নিলাম শেষ করবে নিলাম কমিটি। সর্বোচ্চ দরদাতা ভেন্ডর গাড়ি স্ক্র্যাপের দায়িত্ব পাবে।

স্ক্র্যাপ না করলে নতুন গাড়ি নয়

নীতিমালার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিধান হলো, ইকোনমিক লাইফ শেষ হওয়া গাড়ি স্ক্র্যাপ না করে একই ব্যক্তি নতুন বা পুরোনো কোনো মোটরযান নিবন্ধন করতে পারবেন না। তবে স্ক্র্যাপের জন্য মালিকের আবেদন বিআরটিএ গ্রহণ করলে প্রয়োজনে নতুন বা পুরোনো গাড়ি নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া যাবে।

অন্যদিকে স্ক্র্যাপ সার্টিফিকেটের বিপরীতে নতুন বাণিজ্যিক যাত্রী ও পণ্যবাহী গাড়ি নিবন্ধনে সরকার বিশেষ সুবিধা দিতে পারবে। এর মধ্যে সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে ঋণ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আর্থিক প্রণোদনার সুযোগ রাখা হয়েছে।

নীতিমালা লঙ্ঘন করলে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ১০৪ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত