Ajker Patrika

মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ প্রধানমন্ত্রীর কাছে হেফাজতের ৯ দফা দাবি

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 
আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ২০: ৫০
মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ প্রধানমন্ত্রীর কাছে হেফাজতের ৯ দফা দাবি
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও

নির্বাচনের সময় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নির্বাচনের সময় সবাই একসঙ্গে থেকে যে ভূমিকা রেখেছেন এবং দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে একটি বড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা করেছেন, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আজ রোববার চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে মাদ্রাসায় আলেমদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘আপনাদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। নির্বাচনের সময় সবাই একসঙ্গে থেকে যে ভূমিকা রেখেছেন এবং দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে একটি বড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা করেছেন, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

তারেক রহমান আরও বলেন, ‘একসঙ্গে যে কাজটা আমরা করেছি, হুজুরের (হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী) নির্দেশে আপনারা সবাই কাজ করেছেন। আল্লাহর রহমতে আমরা সফল হয়েছি।’

তবে সমস্যা এখনো শেষ হয়নি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদের সময়ে সারা দেশে মানুষের ওপর অত্যাচার হয়েছে, মানুষের দুঃখ-কষ্ট বেড়েছে এবং দেশের মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল। দেশের ভেতরের পাশাপাশি দেশের বাইরের বিভিন্ন পরিস্থিতিরও এর প্রভাব পড়েছে।

নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন এলাকার মানুষের সমস্যার ধরন ভিন্ন হলেও কষ্টের জায়গাগুলো অনেকটা একই। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মসংস্থান এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে আরও কাজ করতে হবে।

দেশ গঠনে আলেমদের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী

দেশ গঠনে আলেমদের সহযোগিতা চেয়ে তারেক রহমান বলেন, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি শান্তি, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করে একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। এ কাজে দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে চান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে হেফাজতের আমিরের কাছে দোয়া নিতে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। নির্বাচনের পর আল্লাহর রহমতে সরকার গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ সম্পন্ন করেছে। এরপর রমজান, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন, সংস্কার কার্যক্রম ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যস্ততার কারণে আসতে কিছুটা দেরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি ও অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব বিষয় সামাল দিতে সরকারকে সময় দিতে হয়েছে। তবে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

নারী-পুরুষ নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি মানুষ যেন শান্তি, নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করতে পারে, এমন একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ে তোলার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সন্তানদের জন্য নিরাপদ ও সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরকার কাজ করবে বলেও জানান তিনি।

হেফাজতের ৯ দাবি

মতবিনিময় সভায় হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর কাছে সংগঠনের পক্ষ থেকে লিখিত নয় দফা দাবি তুলে ধরেন।

দাবিগুলো হলো—

১. মহান আল্লাহ, রাসুলুল্লাহ (সা.), পবিত্র কোরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাস করা।

২. কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন পাস না করা।

৩. ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনা, ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা।

৪. দাওরায়ে হাদিসের মাস্টার্সের সমমানের স্বীকৃতি কার্যকর করে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের দেশ-বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা।

৫. প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা।

৬. কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা এবং হিজবুত তাওহিদকে নিষিদ্ধ করা।

৭. পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে দেশি-বিদেশি মিশনারিদের কথিত ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতা বন্ধ করা।

৮. আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আলেমদের বিরুদ্ধে করা কথিত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে আলেম-ওলামাকে রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠনে অংশীদার করা।

৯. টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ও তাবলিগ জামাতের কার্যক্রম ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে পরিচালনা এবং ভারতের মাওলানা সাদকে বাংলাদেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা ও টঙ্গী ময়দানে সাদপন্থীদের ইজতেমার অনুমতি না দেওয়া।

এর আগে বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে আলেমদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মতবিনিময় সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মুহাম্মদ হেলালউদ্দিন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, রাউজানের সংসদ সদস্য গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর, মীরসরাইয়ের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন, রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান ও বিচারপতি ফয়সল মাহমুদ ফয়েজীসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

হেফাজতে ইসলামের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও হেফাজত আমিরের ছেলে মাওলানা আইয়ুব বাবুনগরী, মাওলানা মহিউদ্দিন এবং কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা আজিজুল হক ইসলামীবাদী।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত