Ajker Patrika

সরকারের ১০০ দিন: আশা-উদ্বেগ দুটিই দেখছে টিআইবি

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৭ জুন ২০২৬, ১৪: ১৩
সরকারের ১০০ দিন: আশা-উদ্বেগ দুটিই দেখছে টিআইবি
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। ছবি: আজকের পত্রিকা

নির্বাচনের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম ১০০ দিনের কার্যক্রমে যেমন কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ দেখা গেছে; তেমনি সুশাসন, জবাবদিহি ও দুর্নীতি প্রতিরোধের ক্ষেত্রে বেশ কিছু উদ্বেগও রয়েছে বলে মনে করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

আজ রোববার রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘নির্বাচন-পরবর্তী সরকারের ১০০ দিন: সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন’ শীর্ষক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন উপস্থাপন করে সংস্থাটি।

টিআইবি বলছে, জুলাই অভ্যুত্থান ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যাশা করেছিল, যা হবে সুশাসিত, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত। বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসা সরকার রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কার ও দুর্নীতি প্রতিরোধের প্রতিশ্রুতি দিলেও সেই লক্ষ্য অর্জনে আরও দৃশ্যমান পদক্ষেপ প্রয়োজন।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। বিশেষ করে সিটি করপোরেশন ও ৪২টি জেলা পরিষদে দলীয় লোকজনদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ঋণের চাপ, দুর্বল ব্যাংকিং খাত, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটসহ নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেই নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। এসব সংকট মোকাবিলায় কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও সুশাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অগ্রগতি এখনো সীমিত।

সরকারের কয়েকটি পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেছে টিআইবি। এর মধ্যে শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট সুবিধা গ্রহণ না করা, রাষ্ট্রীয় প্রটোকল পরিহার, মন্ত্রীদের কাজের মূল্যায়নের ঘোষণা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে নজরদারি জোরদারের উদ্যোগ রয়েছে। সংস্থাটির মতে, এসব উদ্যোগ সরকারের সদিচ্ছার প্রতিফলন।

তবে একই সঙ্গে সরকারের কিছু সিদ্ধান্ত ও উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের বক্তব্য নির্বাচনী ইশতেহার এবং রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেছে টিআইবি। এতে সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৭ টিকে আইনে রূপ দেওয়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও টিআইবি বলছে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার সুরক্ষা, গুম প্রতিরোধ এবং দুর্নীতি দমন-সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইন বাতিল বা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত উদ্বেগজনক। এতে এসব ক্ষেত্রে পিছিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

সংস্থাটি আরও বলেছে, সরকারের ১০০ দিনের মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন ও তথ্য কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও আইনগত প্রতিষ্ঠানে নতুন নেতৃত্ব নিয়োগে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়া দীর্ঘ মেয়াদে ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

প্রতিবেদনে ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন স্তরে ‘এবার আমাদের পালা’ ধরনের মানসিকতার সমালোচনা করা হয়েছে। পুলিশ, প্রশাসন, ব্যাংক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সরকারব্যবস্থায় দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ ও পদায়নের অভিযোগও তুলে ধরা হয়েছে, যা নির্বাচনী অঙ্গীকারের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছে টিআইবি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর অবস্থানের ঘোষণার পরও চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, চুরি-ছিনতাই এবং বিভিন্ন খাতে প্রভাব বিস্তারের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে বলে পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়। এসব ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগও রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

টিআইবি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের ওপর হামলার ঘটনাগুলো নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির মতে, সাম্প্রদায়িক ও অসহিষ্ণু প্রবণতার বিস্তার দেশের বহুত্ববাদী ঐতিহ্যের জন্য অশনিসংকেত।

সবশেষে টিআইবি বলেছে, সরকারের প্রথম ১০০ দিন একদিকে সম্ভাবনাময় ও আশাব্যঞ্জক, অন্যদিকে সুশাসন, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ঘাটতি উদ্বেগের কারণ হয়ে রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত