Ajker Patrika

ভূমিকম্প বলে-কয়ে আসে না, বাংলাদেশ ঝুঁকিতে রয়েছে: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪: ২৮
ভূমিকম্প বলে-কয়ে আসে না, বাংলাদেশ ঝুঁকিতে রয়েছে: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী
‘প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত ভূমিকম্প বিষয়ক প্রশিক্ষণের’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। ছবি: আজকের পত্রিকা

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, ভূমিকম্প বলে-কয়ে আসে না। আচমকা ভূমিকে কাঁপিয়ে এটি বিস্তীর্ণ জনপদে ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারে। বাংলাদেশ ভূমিকম্পের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তাই ভূমিকম্প আসার আগেই প্রস্তুতি নিতে হবে, যাতে দুর্যোগের পর দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা যায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব হয়।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর মহাখালীতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে ‘প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত ভূমিকম্প বিষয়ক প্রশিক্ষণের’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

ভূমিকম্প মোকাবিলায় দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ শুরু করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকা মহানগর ও আশপাশের এলাকায় এক লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ। এখানে সাইক্লোন, বন্যা, বজ্রপাত, শিলাবৃষ্টিসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি মানবসৃষ্ট দুর্ঘটনাও ঘটে। অন্যান্য অনেক দুর্যোগের ক্ষেত্রে আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া সম্ভব হলেও ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে তা অত্যন্ত কঠিন। পৃথিবীতে এখনো ভূমিকম্পের সঠিক পূর্বাভাস দেওয়ার মতো প্রযুক্তি তৈরি হয়নি। ফলে প্রস্তুতিই ক্ষয়ক্ষতি কমানোর অন্যতম উপায়।

আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, এক লাখ স্বেচ্ছাসেবক তৈরির পাশাপাশি ভূমিকম্পের পর মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৪৪৫টি অ্যাসেম্বলি পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। স্কুলের মাঠ, খেলার মাঠ ও বিভিন্ন খোলা জায়গাকে এসব স্থান হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। ভূমিকম্পে ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হলে মানুষ যাতে দ্রুত সেখানে আশ্রয় নিতে পারে, সে ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, উদ্ধারকাজে সরকারি ব্যবস্থার বাইরে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা নিশ্চিত করতে বড় কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে থাকা প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। একইভাবে ঢাকার বেসরকারি হাসপাতাল ও বেসরকারি খাতে থাকা হেলিকপ্টারের তালিকাও করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে এসব প্রতিষ্ঠানকে উদ্ধার ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় কাজে লাগানো হবে।

মন্ত্রী বলেন, মানুষকে সচেতন ও প্রশিক্ষিত করা গেলে দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানো সম্ভব। বিশেষ করে পুরান ঢাকার পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোতে এখনো অনেকে বসবাস করছেন। এসব ভবনে ভূমিকম্পের ঝুঁকি বেশি হওয়ায় সচেতনতা ও প্রস্তুতি আরও জরুরি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন বলেন, প্রশিক্ষণ ব্যক্তিকে পরিপূর্ণ করে। প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবীরা সুযোগ পাওয়া মাত্রই আর্তমানবতার সেবায় ঝাঁপিয়ে পড়বেন বলে তিনি আশা করেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে ভূমিকম্প পরবর্তী উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষকদের দুদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত