রেলের ৩০২৫ একর জমি বেদখলে—সংসদীয় কমিটিকে মন্ত্রণালয়

রেলওয়ের মোট জমি আছে ৬৩ হাজার ৭২ একর। এর মধ্যে বেদখলে আছে ৩ হাজার ২৫ একর। ২৫ হাজার ৮৩ একর জমি ইজারা দিয়ে গত অর্থবছরে রেলের আয় হয়েছে ৮৭ কোটি ৭২ লাখ ৭ হাজার ৯০৫ টাকা।
আজ সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত রেলপথ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বেদখলে থাকা জমি উদ্ধারে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
মন্ত্রণালয় থেকে আরও জানানো হয়েছে, রেলের মোট জমি ৬৩ হাজার ৭২ দশমিক ৯০৯ একর। এর মধ্যে রেলওয়ে ব্যবহার করে ৪২ হাজার ৯ দশমিক ৫২ একর। লিজ দেওয়া হয়েছে ২৫ হাজার ৮৩ দশমিক ১৩৮৮ একর। বেদখলে আছে ৩ হাজার ২৪ দশমিক ৮৪ একর। ভূমিসংক্রান্ত ১ হাজার ৯৯১টি মামলা চলমান রয়েছে।
এদিকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে রেলের মোট ৬১ হাজার ৮৬০ দশমিক ২৮ একর জমি রয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে। সেখানে ৩ হাজার ৬৭৮ দশমিক ৮৩ একর জমি বেদখলের কথা বলা আছে। ইজারা দেওয়া আছে ১৪ হাজার ৪৭৩ দশমিক ২৪ একর জমি। তথ্যটি ২০২৫ সালের ১ মে হালানাগাদ করা হয়েছে।
বেদখল করা জমি উদ্ধারে মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনার কথা কমিটিকে জানানো হয়েছে। সেখানে বলা আছে, আবেদনের ধরন অনুযায়ী ভূমি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুযায়ী রেলওয়ের অব্যবহৃত জায়গা লিজ বা লাইসেন্সের মাধ্যমে পরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। বেদখল জমি উচ্ছেদপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অবৈধ স্থাপনাও উচ্ছেদপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপসারণপ্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মন্ত্রণালয় বৈঠকে জানিয়েছে, সুষ্ঠু ভূমি ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে সম্প্রতি রেলওয়ে স্টেট ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারের ব্যবহার শুরু হয়েছে। এটি অব্যবহৃত জায়গায় পরিকল্পিত ভূমির ব্যবহার নিশ্চিত করা ও বেদখল জমি উদ্ধারে বিশেষ সহায়ক হবে।
বৈঠকে জানানো হয়, রেলওয়ের ভূসম্পত্তি বিভাগ পশ্চিমাঞ্চলের আওতাধীন পাকশী ও লালমনিরহাট বিভাগে বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি করে রেলভূমির যথাযথ ব্যবহারের স্বার্থে আগামী তিন মাসের মধ্যে বেদখল হওয়া জমি চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে অবৈধ স্থাপনা অপসারণের ব্যবস্থা করা হবে। অন্যদিকে পশ্চিমাঞ্চলের আওতাধীন জেলাগুলোর জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে রেলভূমিতে সম্ভাব্য সংঘটিত মাদকসংশ্লিষ্ট অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
জানতে চাইলে কমিটির সদস্য মুহাম্মদ আজীজুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘দখল করা জমি দ্রুত উদ্ধার করতে বলেছি আমরা। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগামী তিন-চার মাসের মধ্যে দখল করা জমি উদ্ধার করবে। অনিয়মকারীদের নিয়মের মধ্যে আনার কথা বলেছে মন্ত্রণালয়।’
বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলে বিভক্ত। দেশের রেল যোগাযোগের আওতা বাড়ায় আরও একাধিক অঞ্চলে রেলওয়ে বিভক্ত করার পরামর্শ বৈঠকে এসেছে বলে জানা গেছে।
বর্তমানে আন্তনগর ট্রেনের টিকিট অনলাইনে দেওয়া হয়। টিকিট কারসাজি নিয়ে প্রায়ই অভিযোগের কথা শোনা যায়। ই-টিকিট নিয়ে বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়। মন্ত্রণালয়ের দাবি, গৃহীত পদক্ষেপের কারণে ভবিষ্যতে টিকিট কালোবাজারির সমস্যার সমাধান হবে। বর্তমানে যাত্রার ১০ দিন আগে আন্তনগর ট্রেনের টিকিট অনলাইনে ছাড়া হয়। বৈঠকে একাধিক সদস্য ১০ দিন আগে সব টিকিট একসঙ্গে অনলাইনে না দেওয়ার পক্ষে মত দেন বলে জানা গেছে। এ ক্ষেত্রে প্রতিদিন ১০ শতাংশ টিকিট অনলাইনে ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এর পক্ষে যুক্তি হিসেবে বলা হয়, ১০ দিন আগে যাত্রার পরিকল্পনা অনেকই করেন না। এতে ব্যবসায়ীরা সুযোগ কম পান।
কমিটির সদস্য মুহাম্মদ আজীজুর রহমান সাতক্ষীরা-নাভারণ রেললাইন দ্রুত শেষ করা, বেনাপোলে ট্রেন ওয়াশ পিটের ব্যবস্থা গ্রহণসহ একাধিক দাবি জানান বৈঠকে।
কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলী আসগারের সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও ছিলেন কমিটির সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, আব্দুল মহিত তালুকদার, ইসরাত সুলতানা ইলেন ভূট্টো, মুহাম্মদ আজীজুর রহমান।









