বিরোধী দলের আপত্তির মুখে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল-২০২৬ এবং সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল, ২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদর সভাপতিত্বে আজ বৃহস্পতিবারের বৈঠকে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল-২০২৬ উত্থাপন করলে তা পাস হয়।
এর আগে এনসিপির সংসদ সদস্য (কুমিল্লা-৪) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর আপত্তি কণ্ঠভোটে এটি নাকচ হয়। এই বিলটি পাসের ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে জারিকৃত অধ্যাদেশ বাতিল হয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কালে প্রণীত ২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার আইন পুনঃপ্রচলন হচ্ছে।
বিলটি উত্থাপনের পর এতে আপত্তি তুলে এনসিপির সংসদ সদস্য (কুমিল্লা-৪) ক্ষোভ প্রকাশ করে হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, আজকে যারা সরকারি বেঞ্চ রয়েছেন তারা চব্বিশের জুলাইয়ের আগে হলে এই বিল পাসের বিরোধিতা করতেন। এই অধ্যাদেশকে ল্যাপস করার মধ্য দিয়ে মানবাধিকার কমিশনকে রাজনৈতিক দমন-পীড়নের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আমরা ইতিহাস থেকে কোনো শিক্ষা নিই না। এটা এই বছর পাস না করি, আগামী বছর পাস না করি, সংখ্যাগরিষ্ঠতার দোহাই দিয়ে হয়ত ল্যাপস করা যাবে। কিন্তু এই সংসদে জাতীয় মানবাধিকর কমিশন বিল অবশ্যই পাস হবেই হবে।
তিনি আরও বলেন, সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা, সরকারি বেঞ্চে যাঁরা উপস্থিত আছেন—প্রত্যেকে এই সংসদে আসার পথে ক্রান্তিকালীন পর্যায় অতিক্রম করে এখানে এসেছেন। এই পুরো জার্নির পেছনে যে আইনটি জড়িত তা নিয়ে আপত্তি উত্থাপন করছি। এটার আলোচনার জন্য দুই মিনিট সময় অপ্রতুল। সংসদে বিভিন্ন বিষয়ে, প্রশংসা, অন্য বিষয়ে অনেক সময় অপচয় হয়। মাননীয় স্পিকারের কাছে অনুরোধ করব—এই সময় সীমাবদ্ধতা না করে সময় যেন বাড়িয়ে দেওয়া হয়।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আজকে যে আইনটি পাস করার কথা বলা হচ্ছে—তার মধ্য দিয়ে ২০০৯ সালের মানবাধিকার কমিশনকে রিস্টোর (পুনঃপ্রচলন) করবে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ২০০৯ সালের যে আইনটি রয়েছে, সেই আইনের প্রয়োগ দীর্ঘ ১৭ বছরে হয়েছে, আমরা তা দেখেছি। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে বিরোধী দল ও মতকে দমন কমিশন হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। বিএনপিকে দমন করার বৈধতা মানবাধিকার কমিশন উৎপাদন করেছে। আমরা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে বলতে শুনেছি—জামায়াতের নেতা-কর্মীদের গুলি করা বৈধ মানবাধিকার টিকিয়ে রাখার স্বার্থে। আমরা যদি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ২০০৯-এ যদি চলে যাই, আজকে যদি ২০২৫-এর অধ্যাদেশকে ল্যাপস করে দেওয়া হয়, তাহলে আমরা যে ফরওয়াডিং মুভে ছিলাম সেখান থেকে জাতি আবারো ব্যাকওয়ার্ডে যাবে। জাতি পিছিয়ে পড়ার একটি টেক্সটবুক এক্সজাম্পল (উদাহরণ) হিসেবে এই সংসদে এটি থাকবে।
তিনি বলেন, ২০০৯ সালের মানবাধিকার কমিশন আদতে কোনো আইন নয়, এটিতে সরকারি আরেকটি দপ্তর বানানো হয়েছিল। সেখানে স্পিকারের নেতৃত্বে যে সিলেকশন কমিটি করা হয়েছে—সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, সরকারদলীয় এমপি ও একজন সচিব থাকেন। ৬ সদস্যবিশিষ্ট বোর্ডের ৫ জনই সরকারদলীয়।
হাসনাত বলেন, আমাদের এলজিআরডি মন্ত্রী (মির্জা ফখরুল ইসলাম) বলেছিলেন, এটা বিরোধী দল দমন কমিশন হিসেবে ফাংশন করে। মানবাধিকার কমিশন যখন বিরোধী দল ও মত দমন কমিশন হিসেবে ফাংশন করে। আমরা যদি দেখি আদতে মানবাধিকার যেসব ক্ষেত্রে ক্ষুণ্ন হয়েছে তা সরকারি সংশ্লিষ্ট সংস্থা করেছে। সেখানে বিডিআর, র্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনীর সরাসরি সংযুক্ততা আমরা দেখেছি। মানবাধিকারকে তারা ক্ষুণ্ণ করেছে। ২০০৯ সালের মানবাধিকার কমিশন আমরা দেখেছি, যদি বাহিনীর বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত পরিচালনা করতে চাইলে সেই বাহিনীর পূর্বানুমতি লাগবে, সরকারের পূর্বানুমতি লাগবে। সরকারের পূর্বানুমতি নিয়ে সরকার যে মানবাধিকার ক্ষুণ্ণ করবে—সেই মানবাধিকারের তদন্ত কতটা স্বচ্ছ হবে তা এই সংসদের প্রতিটি সদস্যরা তা জানেন।
হাসনাত আবদুল্লাহকে দেওয়া ৪ মিনিট সময় শেষ হয়ে যাওয়ার পর বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই বিষয়টি স্বচ্ছ রাজনীতি ও মানুষের জীবনের নিরাপত্তার সাথে অঙ্ঘাঙ্গিভাবে জড়িত। এ জন্য এ বিষয়ে আলোচনার জন্য আরও সময় দেয়া দরকার।
জবাবে স্পিকার বলেন, আমরা অতীতে ৬টি সংসদ দেখেছি। এই বিষয়ের ওপর দুই মিনিট করে সময় দেওয়া হতো। যা হোক আপনি (হাসনাত) আরও দুই মিনিট বলতে পারেন।
পরে হাসনাত বলেন, আজকে যদি ২০২৪ সালের মে মাস হতো, আর এই বিলটি যদি উত্থাপন হতো; তাহলে এই সংসদে এমন কোনো সদস্য নেই যে এর বিরোধিতা করতেন। প্রত্যেকে এটাকে সাদরে গ্রহণ করতেন। আজকে সময় পাল্টিয়েছে। ২০০৮ সাল, ২০১৮ সালে আপনারা এই পাশে ছিলেন। আজকে আপনারা ওই পাশে (সরকারি দলে) গিয়েছেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়েছেন। আজকে এই বিলের বিরুদ্ধে আপনারা অবস্থান নিয়েছেন। চব্বিশ সালের জুলাইয়ের কোন মাসে এটা ফেব্রুয়ারি-জানুয়ারি-মার্চ; তৎকালীন ফ্যাসিবাদ সময়কালে যদি এই বিলটি ২০২৫ সালের অধ্যাদেশটি এই সংসদে তোলা হতো—সবাই চাইতেন বিলটি যেন পাস করা হয়। সময় পাল্টিয়েছে, ঋতু পরিবর্তন হয়েছে। চেয়ার পরিবর্তন হয়েছে। দিক পরিবর্তন হয়েছে। আজকে জাতীয় মানবাধিকর কমিশনের বিরুদ্ধে আমরা অবস্থান নিয়েছি। আমাদের এই অবস্থান নৈতিককতার দিক থেকে টেক্সবুক এক্সজাম্পল হিসেবে থাকবে।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, এই আইনটি শুধু মানবাধিকার কমিশনের সাথে সম্পৃক্ত নয়। আরো দুটি অধ্যাদেশ এর সাথে সম্পর্কিত। এটা গুম অধ্যাদেশ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান দায়মুক্তির অধ্যাদেশের সাথে সম্পর্কিত। ২০২৫ সালের মানবাধিকার কমিশন ল্যাপস করার মধ্য দিয়ে আদতে বাকি দুটি অধ্যাদেশকে অর্নামেন্টাল করে ফেলা হবে। সরকার পরবর্তীতে এই অধ্যাদেশকে রাজনৈতিক দমন-পীড়নের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করবে না—সেটার কোনো নিশ্চয়তা নেই। আমরা ইতিহাস থেকে কোনো শিক্ষা নিই না। এটা এই বছর পাস না করি, আগামী বছর পাস না করি, সংখ্যাগরিষ্ঠতার দোহাই দিয়ে হয়ত ল্যাপস করা যাবে। কিন্তু এই সংসদে জাতীয় মানবাধিকর কমিশন অবশ্যই পাস হবেই হবে।
এ ছাড়া বিরোধী দলের আপত্তির মুখে সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল, ২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
বিরোধী দলের আপত্তির মুখে সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল পাস

বাংলাদেশে রেলওয়ের অধীনে এই বছরে ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্টের ব্যাংকের অর্থায়নে ভারত থেকে ২০০ ব্রডগেজ কোচের সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
১ ঘণ্টা আগে
হানজালা বলেন, গত ৩০ তারিখে (৩০ মার্চ) সংসদ এলাকায় তাঁকে প্রকাশ্যে ‘জঙ্গি এমপি’ বলা হয়। পরে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে তিনি সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছেন এবং সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁর বিশেষ অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মনে করেন।
১ ঘণ্টা আগে
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. এ কে এম শামছুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার এইচ ই সারাহ কুক। আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ঢাকা সেনানিবাসের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
১ ঘণ্টা আগে
সড়কমন্ত্রী বলেন, সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী প্রতিটি মহানগর, বিভাগ ও জেলায় একটি করে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটি গঠন এবং তাদের কর্মপরিধি নির্ধারণের বিধান রয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে